প্রকৃত সফলতা ও চরম ব্যর্থতা
জান্নাতের নাম সমূহ
জান্নাত, এমন এক অনাবিল শান্তিময় যায়গা, যেখানে রয়েছে শুধু সুখ,শান্তি,নিরাপত্তা ও প্রশান্তি। জান্নাত অর্থ বাগান, উদ্যান। ফল-মূলে পরিপূর্ণ এক মনোরম দৃশ্যময় স্থান। আল্লাহ তায়া‘লার বাণী,
لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ ۖ جَنَّتَانِ عَن يَمِينٍ وَشِمَالٍ ۖ كُلُوا مِن رِّزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ ۚ بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ.
সাবা‘র জন্য তাদের নিজেদের আবাসেই ছিল একটি নিদর্শন। দু‘টি বাগান ডাইনে ও বাঁমে। খাও তোমাদের রবের দেয়া রিযিক থেকে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। উত্তম ও পরিচ্ছন্ন দেশ এবং ক্ষমাশীল রব। (সূরা সা‘বা -১৫)।
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا حَدَائِقَ وَأَعْنَابًا.
অবশ্যই মুত্তাকীদের জন্য সাফল্যের একটি স্থান রয়েছে। বাগ- বাগিচা, আঙুর। (আন নাবা ৩১-৩২)।
দারুস- সালাম
দার-অর্থ ঘর। সালাম- আল্লাহ তায়া‘লার একটি গুণবাচক নাম অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা। দারুস-সালামের অর্থ শান্তির আলয়। শান্তির আলয় বলে একথাই বুঝানো হয়েছে যে, যেখানে মানুষ যাবতীয় বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।
لَهُمْ دَارُ السَّلَامِ عِندَ رَبِّهِمْ ۖ وَهُوَ وَلِيُّهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ.
তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের কাছে শান্তির আবাস এবং তিনি তাদের অভিভাবক। কারণ, তারা সঠিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে। (আন্ আম-১২৭)।
وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَىٰ دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ .
(তোমরা এ অস্থায়ী জীবনের প্রতারণা জালে আবদ্ধ হচ্ছো) আর আল্লাহ তোমাদের শান্তির ভুবনের দিকে আহবান জানাচ্ছেন। (হেদায়েত তার ইখতিয়ারভুক্ত) যাকে তিনি চান সোজা পথ দেখান। ( ইউনুস -২৫)।
দারুল- খুল্দ
দারুল-খুল্দ অর্থ স্থায়ী বসবাসের যায়গা। এর বিলুপ্তি অথবা সেখান থেকে বহিস্কৃত হওয়ার কোনও আশংকা নেই।
وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ ۖ عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ.
আর যারা ভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে যাবে এবং সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন পৃথিবী ও আকাশ প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তবে যদি তোমার রব অন্য কিছু করতে চান। এমন পুরস্কার তারা পাবে যার ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হবে না। ( হুদ-১০৮)।
ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ ۖ ذَٰلِكَ يَوْمُ الْخُلُودِ.
বেহেশতে ঢুকে পড় শান্তির সাথে। সেদিন অনন্ত জীবনের দিন হবে। (ক্বাফ-৩৪)।
إِنَّ هَٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِن نَّفَادٍ. এ হচ্ছে আমার রিযিক,যা কখনো শেষ হবে না। ( সাদ-৫৪)।
জান্নাতুল মাক্বাম স্থায়ী জান্নাত। যেখান থেকে বের হয়ে আর কোথাও যেতে হবে না।
الَّذِي أَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِن فَضْلِهِ لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ.
যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাসস্থল দিয়েছেন। এখন এখানে আমাদের না কোন কষ্ট হয় এবং না আসে কোন ক্লান্তি। ( ফাতির-৩৫)।
জান্নাতুল মা‘ওয়া মা‘ওয়া শব্দের অর্থ ঠিকানা। জান্নাতকে মা‘ওয়া বলার কারণ এই যে, এটাই মানুষের আসল ঠিকানা। (মায়া‘রেফুল কুরআন)। এ জান্নাত আসমানে অবস্থিত। কাতাদা (রাঃ) বলেন, এটাই সে জান্নাত যেখানে শহীদদের রূহসমূহ রাখা হয়। আখেরাতে যে জান্নাত পাওয়া যাবে এটা সে জান্নাত নয়। ইবনে আব্বাসও (রাঃ)একথাই বলেন। তাফহীমুল কুরআন।
عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ. (আন নাজম-১৫)। যার সন্নিকটেই জান্নাতুল মা‘ওয়া ৷
জান্নাতু আদন (চিরস্থায়ী বাসস্থান)
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
আল্লাহ তোমাদের গুনাহ সমূম ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে এমনসব জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা বয়ে চলবে। আর চিরস্থায়ী বসবাসের যায়গা জান্নাতের মধ্যে তোমাদেরকে সর্বোত্তম ঘর দান করবেন। এটাই মহা সফলতা। ( সূরা সাফ্ফ-১২)।
جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدَ الرَّحْمَٰنُ عِبَادَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّهُ كَانَ وَعْدُهُ مَأْتِيًّا.
তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি করুণাময় নিজের বান্দাদের কাছে অদৃশ্য পন্থায় দিয়ে রেখেছেন। আর অবশ্যই এ প্রতিশ্রুতি পালিত হবেই। (মারয়াম-৬১)।
জান্নাতুন্ নায়ীম (অনুগ্রহের উদ্যান)
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيمِ
তবে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত। (লুকমান-৮)।
মাক্বামীন আমীন (শান্তি ও নিরাপত্তার যায়গা) শান্তি ও নিরাপত্তার যায়গা অর্থ এমন যায়গা যেখানে কোন প্রকার আশংকা থাকবে না। কোন দুঃখ,অস্থিরতা,বিপদাপদ إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ. এবং পরিশ্রম ও কষ্ট থাকবে না।
আল্লাহভীরু লোকেরা শান্তি ও নিরাপত্তার যায়গায় থাকবে। (আদ দুখান-৫১)।
মাক্বয়া‘দে সিদ্ক (যোগ্য আসন)
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ. فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِر.
আল্লাহর নাফরমানী থেকে আত্মরক্ষাকারীরা নিশ্চিতরূপে বাগান ও ঝর্নাসমূহের মধ্যে অবস্থান করবে, সত্যিকার মর্যাদার স্থানে, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে। (আল্ ক্বামার -৫৪.৫৫)।
জান্নাতুল ফেরদাউস (শ্রেষ্ঠ জান্নাত)
أُولَٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ. الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ.
তারাই এমন ধরনের উত্তরাধিকারী যারা নিজেদের উত্তরাধিকার হিসেবে ফিরদাউস লাভ করবে এবং সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। (মু‘মিনুন-১০,১১)।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا. خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا.
যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের অভ্যর্থনার জন্যে থাকবে ফেরদাউসের বাগান। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং কখনো সে স্থান ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে তাদের মন চাইবে না। (কাহ্ফ-১০৭,১০৮)। ফেরদাউস জান্নাহ হলো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জান্নাত। কাজেই রাসূল (সা:) তাঁর উম্মতদেরকে জান্নাতুল ফেরদাউসের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে বলেছেন,
فإذا سألتم الله فسلوه الفردوس ، فإنه أوسط الجنة ، وأعلى الجنة أرا ه ، وفوقه عرش الرحمن ، ومنه تفجر أنهار الجنة رواه البخاري.
“কাজেই তোমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে ফেরদাউসের জন্য প্রার্থনা করো। কেননা,আমাকে দেখানো হয়েছে-সেটিই হচ্ছে জান্নাতের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম জান্নাত। এরই উপরে রয়েছে মহান করূণাময় (আল্লাহর) সিংহাসন,,যেখান থেকে জান্নাতের ঝর্ণা সমূহ প্রবাহিত হচ্ছে। বুখারী
