জান্নাতে প্রবেশের আদেশ
আর যারা নিজেদের রবের ভয়ে তাকওয়া অবলম্বন করেছিল তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছে যাবে, তাদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে এবং তার ব্যবস্থাপক তাদেরকে বলবে তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা আল্লাহর হুকুম পালন করেছো,এখন এসো, এর মধ্যে চিরকাল থাকার জন্য প্রবেশ করো।
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ. وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ ۖ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ.
“আর যারা তাদের রবের অবধ্যতা থেকে বিরত থাকতো তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে পৌঁছবে তখন দেখবে জান্নাতের দরজাসমূহ পূর্বেই খুলে দেয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপকরা তাদের বলবেঃ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমর সুখী হও এবং চিরকালের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। আর তারা বলবেঃ সেই মহান আল্লাহর প্রশংসা যিনি আমাদের সাথে কৃত তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করলেন এবং আমাদেরকে যমীনের উত্তরাধিকারী করে দিয়েছেন। এখন জান্নাতের মধ্যে যেখানে ইচ্ছা আমরা স্থান গ্রহণ করতে পারি। সৎকর্মশীলদের জন্য এটা সর্বোত্তম প্রতিদান।” ( যুমার-৭৩,৭৪)।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ – رضى الله عنه – قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّىٍّ فِى السَّمَاءِ إِضَاءَةً ، لاَ يَبُولُونَ وَلاَ يَتَغَوَّطُونَ وَلاَ يَتْفِلُونَ وَلاَ يَمْتَخِطُونَ ، أَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ ، وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ ، وَمَجَامِرُهُمُ الأَلُوَّةُ الأَنْجُوجُ عُودُ الطِّيبِ ، وَأَزْوَاجُهُمُ الْحُورُ الْعِينُ ، عَلَى خَلْقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ ، سِتُّونَ ذِرَاعًا فِى السَّمَاءِ .(متفق عليه).
আবু হুরায়রা (রা: ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল হবে। এরপর যারা তাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা ঝিকমিক করা তারকার মত আলোকিত হবে। তাদেরকে পেশাব-পায়খানা করতে হবে না, মুখে থু থু আসবে না, আর নাকে ময়লা হবে না। তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণের তৈরী। তাদের ঘাম হবে মিশকের মত সুগন্ধ। তাদের ধূপদানী সুগন্ধ কাঠ দিয়ে জ্বালানো হবে। আয়তলোচনা হুর হবে তাদের স্ত্রী। তাদের দৈহিক গঠন হবে একই ধরনের। শারীরিক অভ্যাস একই রকম হবে। উচ্চতায় তারা তাদের আদিপিতা আদম (আ:) এর মত ষাট হাত লম্বা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)।
জান্নাতের দরজা আটটি
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوَضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ : أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، إِلا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ. مسلم.
উমর (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,তোমাদের যে কেহ অযু করবে সে যদি (নিয়ম নীতি অনুযায়ী ভালো করে) পূর্ণ অযু করে এবং অযুর পর সে যদি পাঠ করে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাহলে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে এবং সে, যে কোন দরজা দিয়েই উহাতে প্রবেশ করতে পারবে। ( মুসলিম)।
عن سهل بن سعد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:”في الجنة ثمانية أبواب منها باب يسمى الريان لا يدخله إلا الصائمون
সাহ্ল বিন সায়া‘দ (রা: ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে আটটি দরজা রয়েছে। তন্মধ্যে একটির নাম রাইয়্যান। একমাত্র রোজাদার ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ بأبي أنت وأمي يا رسول الله.مَا عَلَى أَحَدٍ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ.
আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে এক জোড়া ( দুটি জিনিস) খরচ করবে তাকে জান্নাতের সবগুলো দরজা থেকে ডেকে বলা হবে, হে আল্লাহর বান্দা ! এই দরজাটি উত্তম। যে নামাযী, তাকে নামাযের দরজা থেকে ডাকা হবে, যে মুজাহিদ, তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে, যে রোজাদার, তাকে রাইয়্যান নামক দরজা থেকে ডাকা হবে, আর যে সদকাকারী তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে। আবু বকর (রা:) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক। কাউকে বেহেশতের ঐ সবগুলো দরজা থেকে ডাকার তো কোন প্রয়োজন নেই। তবে প্রকৃতই কি কাউকে সবগুলো দরজা থেকে ডাকা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আর আমি আশাকরি, তুমি হবে তাদেরই একজন। (বুখারী)।
