জান্নাতীদের খাদ্য

জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাওয়াইতো সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। আর এ সৌভাগ্যের অধিকারী তারাই হবে, যারা দুনিয়ার জীবনে আখেরাতকে  ভুলে যায়নি। বরং একদিন তাদেরকে আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে সব কৃতকর্মের হিসেব দিতে হবে এ বিশ্বাস নিয়ে জীবন যাপন করেছে তারাই সেদিন জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাবে। পরিবার-পরিজন সহকারে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া, সে সৌভাগ্যকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে। আল্লাহর তা‘য়ালার বাণী,
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْواجُكُمْ تُحْبَرُونَ * يُطافُ عَلَيْهِمْ بِصِحافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوابٍ وَفِيها ما تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيها خالِدُونَ * وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوها بِما كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ* لَكُمْ فِيها فاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْها تَأْكُلُونَ.
তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করা হবে। তাদের সামনে স্বর্ণের প্লেটসমূহ আনা-নেয়া করানো হবে এবং মনের মতো ও দৃষ্টি পরিতৃপ্তকারী প্রতিটি জিনিস সেখানে থাকবে। তাদেরকে বলা হবে, “ এখন তোমরা এখানে চিরদিন থাকবে। দুনিয়াতে তোমরা যেসব কাজ করেছো। তার বিনিময়ে এ জান্নাতের অধিকারী হয়েছো। তোমাদের জন্য এখানে প্রচুর ফল-মূল মওজুদ রয়েছে যা তোমরা খাবে। ( যুখরুফ, ৭০-৭৩)। তদের সাথে সামিল হবে তাদের সৎকর্মশীল সন্তানেরা। আল্লাহর পাকের ঘোষণা,
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِنْ عَمَلِهِمْ مِنْ شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ.
যারা ঈমান গ্রহণ করেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানসহ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে আমি তাদের সেসব সন্তানকেও তাদের সাথে (জান্নাতে) একত্রিত করে দেব। আর তাদের আমলের কোন ঘাটতি আমি তাদেরকে দেব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জিত কর্মের জন্যে দায়ী। (তূর-২১)।                                                                                                                           সন্তানরা যদি যে কোন মাত্রার ঈমান ও সৎকর্মশীলদের আনুগত্য দ্বারা নিজেরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারে, তাহলে আল্লাহ তা‘য়ালা জান্নাতে তাদেরকে নি¤œ মর্যাদা থেকে উচ্চ মর্যাদা দিয়ে বাপ-দাদার সাথে একত্রিত করে দেবেন। এটা নিছক আল্লাহ তাআলার মেহেরবানী ও দয়া। সন্তানরা বাপ-দাদার সৎকাজের এ সুফলটুকু অন্তত লাভ করতে পারে। তবে তারা যদি নিজেদের কর্মদ্বারা নিজেরাই নিজেদেরকে জাহান্নামের উপযোগী বানায় তাহলে এটা কোনক্রমেই সম্ভব নয় যে, বাপ- দাদার কারণে তাদেরকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়া হবে। তাদের মন খুশী করার জন্য সন্তানদেরকেও তাদের সাথে একত্রিত করা হবে। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা মর্যাদা হ্রাস করে তাদেরকে তাদের সন্তানদের কাছে নিয়ে যাবেন না। বরং সন্তানদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে তাদের কাছে নিয়ে যাবেন, যাতে নিজ সন্তানদের থেকে দূরে অবস্থানের কারণে মনকষ্ট না হয় এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দেয়ার ক্ষেত্রে এ কমতিটুকু না থেকে যায়।
সবাই মিলে জান্নাতে আনন্দেরসাথে আহার করবে ভূনা গোশত। তাদেরকে সবরকমের গোশত সরবরাহ করা হবে। আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী,
وَأَمْدَدْنَاهُم بِفَاكِهَةٍ وَلَحْمٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ.
আমি তাদেরকে সব রকমের ফল, গোশত এবং তাদের মন যা চাইবে তাই প্রচুর পরিমাণে দিতে থাকবো। ( সূরা তূর-২২)। সূরা ওয়াকিয়ায় ২১ আয়াতে বলা হয়েছে যে, তাদেরকে পাখির গোশত দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। আল্লাহ তা‘য়ালার ঘোষণা,
 وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ* وَلَحْمِ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ.
“তারা তাদের সামনে নানা রকমের সুস্বাদু ফল-মূল পরিবেশন করবে যাতে তারা পছন্দমত বেছে নিতে পারে। পাখির গোশত পরিবেশন করবে যে পাখীর গোশত ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারবে”। তারা এগুলো তৃপ্তির সাথে খাবে এবং পান করবে তাদের মনের ইচ্ছামত।
كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ.
“অতীত দিনগুলোতে তোমরা যা করে এসেছো তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তির সাথে খাও এবং পান করো”। (হাককাহ-২৪)। এখন কারো মনে প্রশ্ন হতে পারে যে, শুধুই কি ফল-মূল আর গোশত দেয়া হবে? দুনিয়ায় তো কত ধরণের খাবার খেতাম যেমন, কুরমা,পোলাও, বিরিয়ানী, হালুয়া, রুটি ইত্যাদি। আল্লাহ ছোবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার ভান্ডারে কি কম আছে? বান্দার মনে যে কোন ইচ্ছা- আকাংখা হওয়ার সাথেই সেখানে তা হাজির পাবে। এমন অনেক ধরণের খাবার আছে যা হয়ত অনেকেরই জানা নেই। তাও সেখানে পরিবেশন করা হবে।
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ*نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ.
“সেখানে তোমরা যা চাবে তাই পাবে। আর যে জিনিসেরই আকাংখা করবে তাই লাভ করবে। এটা সেই মহান সত্তার পক্ষ থেকে মেহমানদারীর আয়োজন যিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান”। ( হা- মীম আস সাজদাহ-৩১,৩২)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *