জান্নাতীদের প্রাসাদসমূহ

জান্নাতীদের জন্য আল্লাহ সুবহানু তা‘য়ালা জান্নাতে সুউচ্চ মনোরম চমৎকার প্রাসাদ সমূহ তৈরী করে রেখেছেন। যে প্রাসাদের ভিতর থেকে বাহিরে এবং বাহির থেকে ভিতরে পরিস্কার দেখা যাবে। বসবাসের জন্যে কতইনা আনন্দদায়ক সে প্রাসাদ সমূহ। রাসূল সা: এর বাণী,  
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ فِي الْجَنَّةِ كَمَا تَرَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ فِي السَّمَاءِ.
 সাহল ইবনে সা‘দ রা: থেকে বর্ণিত। রাসূল সা: বলেনঃ বেহেশতবাসীরা তাদের নিজ নিজ কক্ষ থেকে একে অপরকে এমনভাবে দেখতে পাবে যেভাবে তোমরা আকাশের তারকাগুলিকে দেখতে পাও। (বুখারী ও মুসলীম)। আর জান্নাতের প্রাসাদ সমূহের নীচ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহিত থাকবে। আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী,
لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَبْنِيَّةٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ.
“যারা তাদের রবকে ভয় করে চলেছে তাদের জন্যে রয়েছে বহুতল সু উচ্চ বৃহৎ প্রাসাদ যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ কখনো তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না”। ( যুমার-২০)। যে প্রাসাদের একটি ইট হবে স্বর্ণের আর একটি ইট হবে রৌপ্যের। সিমেন্ট,বালু ও সূরকী ইত্যাদি হবে লুলু,ইয়াকুত ও জাফরান। রাসূল সা: এর বাণী,
 عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْجَنَّةِ ، كَيْفَ بِنَاؤُهَا ؟ قَالَ : ” لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ , وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ ، مِلاطُهَا الْمِسْكُ الأَذْفَرُ ، وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ ، وَتُرَابُهَا الزَّعْفَرَانُ .
ইবনে ওমর রা:থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন: জান্নাতের প্রাসাদ তৈরীর ব্যাপারে রাসূল সা:কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জান্নাতের প্রাসাদের একটি ইট হবে স্বর্ণের আর একটি ইট হবে রৌপ্যের।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ قَالَ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ فَإِذَا امْرَأَةٌ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ قَالُوا لِعُمَرَ فَذَكَرْتُ غَيْرَتَهُ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا فَبَكَى عُمَرُ وَقَالَ أَعَلَيْكَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللَّهِ.
আবু হুরায়রা রা: বলেনঃ একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সা:-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, আমি ঘুমের মাঝে (স্বপ্নে) দেখলাম, আমি যেন জান্নাতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ সেখানে আমার নজরে পড়ল একজন মেয়েলোক একটি প্রাসাদের পাশে বসে অযু করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতারা বললেনঃ উমরের। তখন (প্রাসাদে প্রবেশের ইচ্ছা হলেও) উমরের আত্মসম্মান বোধের কথা আমার মনে পড়ে গেল। তাই আমি ফিরে চলে এলাম। এ কথা শুনে উমর রা: কেঁদে ফেললেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার কাছেও আত্মসম্মান বোধ দেখাতে পারি? (বুখারী)।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ، فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي، وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهِ وَلَا نَصَبَ.
আবু হুরায়রা রা:-থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ( একদা) জিবরাইল নবী কারীম সা:-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! এই যে খাদীজা একটা পাত্র নিয়ে আসছেন যাতে তরকারী কিংবা খাবার অথবা কোন পানীয় দ্রব্য রয়েছে। যখন তিনি আপনার নিকট আসবেন তখন আপনি তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম বলুন এবং তাঁকে জান্নাতের মধ্যে মণি-মুক্তাখচিত এমন একটা প্রাসাদের সুসংবাদ দিন যেখানে না কোন শোরগোল এবং না কোন কষ্ট-ক্লেশ থাকবে। (বুখারী)।
تَبَارَكَ الَّذِي إِنْ شَاءَ جَعَلَ لَكَ خَيْرًا مِنْ ذَٰلِكَ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَيَجْعَلْ لَكَ قُصُورًا.
বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি যিনি চাইলেই তাঁর নির্ধারিত জিনিস থেকে অনেক বেশী ও উৎকৃষ্টতর জিনিস তোমাকে দিতে পারেন, (একটি নয়) অনেকগুলো বাগান যেগুলোর নীচ দিয়ে নদী প্রবাহিত এবং বড় বড় প্রাসাদ। (ফুরকান-১০)। শুধুই কি প্রাসাদ আর নদী? না, সেখানে থাকবে সুউচ্চ তাবু যা তৈরী করা হয়েছে মুক্তা দিয়ে। সে তাবুর প্রতিটি কোণে স্বাগতম জানানোর জন্য অপেক্ষায় থাকবে হুরগণ।
عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ  إِنَّ لِلْمُؤْمِنِ فِي الْجَنَّةِ لَخَيْمَةً مِنْ لُؤْلُؤَةٍ وَاحِدَةٍ مُجَوَّفَةٍ طُولُهَا سِتُّونَ مِيلًا لِلْمُؤْمِنِ فِيهَا أَهْلُونَ يَطُوفُ عَلَيْهِمْ الْمُؤْمِنُ فَلَا يَرَى بَعْضُهُمْ بَعْضًا.
আবু মুসা আশা‘রী রা: থেকে বর্ণিত। নবী সা: বলেনঃ বেহেশতের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একক একটি ফাঁপা মুক্তার তৈরী তাঁবু থাকবে। তার উচ্চতা হবে আকাশের দিকে ষাট মাইল। তার প্রতিটি কোণে প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির জন্য একজন হুর থাকবে। মু‘মিন ব্যক্তি তাদের নিজ নিজ হুরের সাথে দেখা-সাক্ষাত করবে, কিন্তু একজনের হুর অপরজন দেখতে পাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)। উল্লেখিত প্রাসাদ সমূহে বসবাসের জন্য প্রয়োজন খাঁটি ও নিষ্ঠাবান ঈমানদার হওয়া।  ঈমানের মৌখিক দাবীই যথেষ্ট নয়, বরং যে বিষয়ের প্রতি ঈমানের দাবী করা হয়েছে,তার জন্য সব রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত হওয়া। যেমনিভাবে মানুষ ব্যবসায় মুনাফা অর্জন করার জন্য তার অর্থ, সময়, শ্রম এবং মেধা ও যোগ্যতা নিয়োজিত করে । ব্যবসায় অর্জিত বিপুল পরিমাণ মুনাফার মাধ্যমে দুনিয়ায় সে বিলাসবহুল প্রাসদ তৈরী করে। ঠিক পরকালের প্রাসাদ নির্মাণে তাকে ব্যবসা করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ + تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ + يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
“হে ঈমানদারগণ ! আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি ব্যবসায়ের সন্ধান দেবো যা তোমাদেরকে কঠিন আযাব থেকে মুক্তি দেবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং আল্লাহর পথে অর্থ-সম্পদ ও জান-প্রাণ দিয়ে জেহাদ করো এটাই তোমাদের জন্য অতিব কল্যাণকর যদি তোমরা তা জান। আল্লাহ তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমনসব বাগানে প্রবেশ করাবেন যার নীচে দিয়ে ঝর্ণাধারা বয়ে চলবে। আর চিরস্থায়ী বসবাসের জায়গা জান্নাতের মধ্যে তোমাদেরকে সর্বোত্তম ঘর দান করবেন। এটাই মহা সফলতা। (সূরা সাফ্ফ ১০-১২) ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *