শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসুন

ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম

নিশ্চয় শিরক বড় ধরনের পাপ

নিশ্চয় শিরক বড় ধরনের পাপ

সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত দান করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আরো ইরশাদ করেন :- হে মানব সমাজ ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্ঝা করে থাক এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবল¤¦ন কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। (সূরা নিসা-১)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরো ইরশাদ করেন :- হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭০/৭১)
মু’মিন ভাইয়েরা !   আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন জাতিকে সূষ্টি করেছেন এক মাত্র তার এবাদত করার জন্য। এই এবাদতের মধ্যে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। (আয যারিয়াত-৫৬)
আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে সকল ইসলামী মৌলিক বিষয়সমূহের নির্দেশ দিয়েছেন, তার মধ্যে কিছু বিষয় হচ্ছে ভালো কাজের আদেশ, যা আমাদের সকলের জন্য করণীয়। আর কিছু বিষয় হচ্ছে নিষেধ, যা সকলের জন্যই বর্জনীয়। এই নিষেধের মধ্যে কিছু বিষয় হচ্ছে বড় ধরণের পাপ,যা করার কারণে ঈমান থাকেনা আবার কিছু পাপ আছে ঈমান যায়না কিন্তু বড় ধরনের গুনা হয়। যা তাওবা করা ছাড়া মাপ পাওয়া যায়না। আবার কিছু পাপ আছে নেক আমল করার কারনে এই সব ছোট ছোট পাপগুলি মুছে যায়। যেই পাপ করার কারণে ঈমান চলে যায় বা মুসলমান থেকে বহিস্কার হয়ে যায় তার একটির নাম হলো শিরক।  শিরক সব্দের অর্থ অংশিদার করা, আর পরিভাষায় বলা হয় আল্লাহর তা’আলার সাথেএবাদত করার ক্ষেত্রে কাউকে শরিক করা।
এ প্রসঙ্গে হযরত লুকমান (আঃ) তার ছেলেকে নসিয়ত করতে গিয়ে বলেছিলেন যা কুরআনুল কারিমের বর্ণনায় এসেছে।

আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  যখন লোকমান উপদেশচছলে তার পুত্রকে বলল: হে বৎস, আল্লাহ্র সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্র সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। (সুরা লুকমান-১৩)
আর শিরকের বিপরীত হচ্ছে তাওহিদ। আর এ তাওহীদ তিন প্রকার। তাওহীদে রুবুবিয়্যাত, তাওহীদে উলুহিহিয়্যা  ও তাওহীতে আসমাউস সিফাত।
  ১) তাওহীদে রুবুবিয়্যাত : আল্লাহর কার্যাবলীতে কাউকে অংশিদার না করা। অর্থাৎ একমাত্র তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, জীবন-মৃত্যু ও উপকার-অপকারের মালিক ইত্যাদি।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- “সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য।” সূরা আল-ফাতেহা : ২
তাওহীদে উলুহিহিয়্যা: ইবাদতের মালিক শুধু আল্লাহকেই জ্ঞান করা এবং সকল ইবাদত তাঁর জন্য উৎসর্গ করা। যেমন : দুআ, জবেহ্, মান্নত, বিনয়াবনত অবস্থা, প্রার্থনা, নামাজ, তাওয়াক্কুল ও ফয়সালা ইত্যাদির মালিক আল্লাহকে স্বীকার করা এবং শুধু তাঁর জন্যই সম্পাদন করা।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- “আর তোমাদের ইলাহ একজন-ই, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনি দয়াময় অতি দয়ালু।” সূরা আল-বাকারাহ্ : ১৬৩
তাওহীতে আসমাউস সিফাত: আল্লাহ্ তাআলা তাঁর কিতাবে নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ হাদীসে তাঁর যেসব গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা প্রকৃত অর্থে, কোনরূপ অপব্যাখ্যা, তাঁর কোন সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন, তাঁর প্রকৃত গুণকে নিষ্ক্রিয় করা এবং কোন বিশেষ আকৃতি ধারনা করা ব্যতীত যথাযথ রূপেই বর্ণিত গুণাবলি তাঁর জন্য স্থির করা বুঝায়। যেমন : আরশে আসীন হওয়া, অবতরণ করা, হাত ইত্যাদি আল্লাহ্র পরিপূর্ণ শানের উপযোগী পর্যায়ে সাব্যস্ত করা বুঝা যায়।
পবিত্র কুরআনের বাণী: “কোন কিছুই তাঁর সাদৃশ্য নয়, তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” সূরা আশ-শুরা : ১১
আবার কিছু লোক আছে তারা ঈমানের সাথে শিরককে মিস্ত্রিত করে জীবন জাপন করতে অভস্থ্য। যেমন ঈমানের কাজও করে আবার শিরকের মত কাজের মধ্যে লিপ্ত হয়ে যায়। এখন যারা ঈমানের সাথে শিরিককে মিস্ত্রিত করে চলা থেকে বিরত থাকবে তাদের জন্য আল্ল¬াহ তা’আলা হেদায়েত ও নিরাপত্তার সুসংবাদ দিয়েছেন।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  যারা ঈমান আনে এবং ¯¦ীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। (সুরা আনআম-৮২)
আর আল্ল¬াহ তা’আলার যুগে যুগে যত নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন তারা সকলেই এক আল্লাহর দিকে আহব্বান বা ডাকার জন্য এবং তাগুতের অনুস্বরণ না করার জণ্য সদা সর্বদায় তাকিদ করেছেন।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- আমি প্রত্যেক উ¤মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অত:পর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। (সুরা নাহল-৩৬)
আবার যারা শিরক করবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আমাদের নবী (সঃ) এবং পূর্ববর্তী নবী রাসুলগণকে উদ্দেস্য করে বলেছেন আপনারা যদি শিরিক কররেন তাহলে আপনাদের আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহ্র সাথে শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নি®ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন। (সুরা যুমার-৬৫)
ব্যখ্যাঃ-এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নবী রাসুলদেরকে সতর্ক করেছেন, তাহলে সাধারণ উম্মতের অবস্থা কি হবে।
 নি¤েœ  শিরিরেক ভয়াবহ পরিনাম সম্পর্কে কয়েকটি আয়াত পেশ করা হল।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-
নি:সšেদহে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহ্র সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল। (সুরা আন নিসা ৪৮)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরও ইরশাদ করেন :- নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহ্র সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। (নিসা ১১৬)
আল্ল¬াহ তা’আলা আরও  ইরশাদ করেন :-  তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ্; অথচ মসীহ বলেন, হে বণী-ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহ্র এবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ্ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।( সুরা মায়েদা-৭২)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে শিরিকের মত ধ্বংশ প্রাপ্ত আমল থেকে  থেকে বেচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন”

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply