শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসুন

ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম

হযরত ঈসা (আ)আল্লাহর নবীও রাসুল عيسى عليه السلام نبي الله ورسوله

হযরত ঈসা (আ)আল্লাহর নবীও রাসুল عيسى عليه السلام نبي الله ورسوله

হযরত ঈসা (আ)
আল্লাহ বলেন,

নি

শ্চয়ই তারা কুফরী করেছে, যারা বলেছে, মরিয়ম–পুত্র মসীহ খোদা ; তাদেরকে বলো যে, আল্লাহ যদি মরিয়ম পুত্র মসীহকে এবং তার মা ও সমস্ত পৃথিবীবাসীকে ধ্বংস করতে চান তবে তার ইচ্ছা হতে তাকে বিরত রাখার মত শক্তি কার আছে? আল্লাহ তো আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যে অবস্থিত সমস্ত জিনিসেরই মালিক; তিনি যা কিছু চান, তাই পয়দা করেন; তাঁর শক্তি প্রতিটি জিনিসেরই ওপর পরিব্যাপ্ত রয়েছে; ইহুদী ও নাসারাগণ (খৃষ্ট্রান) বলে যে, আমরা আল্লাহর সন্তান ও প্রিয় পাত্র; তাদেরকে জিজ্ঞেস করো তাহলে তিনি তোমাদের পাপের কারণে তোমাদেরকে কেন শাস্তি দান করেন? প্রকৃত ব্যাপার যে, তোমরাও আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্ট মানুষের মতোই সমান মর্যাদার মানুষ; তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দান করেন; আকাশ ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যে অবস্থিত যাবতীয় সৃষ্টি তাঁরই মালিকাধীন, সব কিছুকে তাঁর দিকেই ফিরে যেতে হবে।
সুরা মায়েদা ৫-৬
যখন ফেরেশতারা বললঃ ‘‘হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে তাঁর একটি ফরমানের সুসংবাদ দান করেছেন তার নাম হবে মসীহ ঈসা ইবনে মারয়াম৷ সে দুনিয়ায় ও আখেরাতে সম্মানিত হবে ৷ আল্লাহর নৈকট্যলাভকারী বান্দাদের অন্তরভুক্ত হবে ৷দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সেও মানুষের সাথে কথা বলবে এবং সে হবে সৎব্যক্তিদের অন্যতম৷’’একথা শুনে মারয়াম বললোঃ ‘‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার সন্তান কেমন করে হবে? আমাকে তো কোন পুরুষ স্পর্শও করেনি৷’’ জবাব এলোঃ ‘‘এমনটিই হবে ৷ আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন ৷তিনি যখন কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তখন কেবল এতটুকুই বলেন,হয়ে যাও,তাহলেই তা হয়ে যায়৷’’ইমরান ৪৫-৪৭
এবং তাদের “আমরা আল্লাহর রসূল মারয়াম পুত্র ঈসা মসীহ্‌কে হত্যা করেছি”,এই উক্তির জন্য (তারা অভিশপ্ত হয়েছিল) ৷ অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা তাকে হত্যাও করেনি এবং শূলেও চড়ায়নি বরং ব্যাপারটিকে তাদের জন্য সন্দিগ্ধ করে দেয়া হয়েছে৷আর যারা এ ব্যাপারে মতবিরোধ করেছে তারাও আসলে সন্দেহের মধ্যে অবস্থান করছে৷ তাদের কাছে এ সম্পর্কিত কোন জ্ঞান নেই,আছে নিছক আন্দাজ-অনুমানের অন্ধ অনুসৃতি৷ নিসন্দেহে তারা ঈসা মসীহকে হত্যা করেনি৷বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন ৷আল্লাহ জবরদস্ত শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময়৷নিসা ১৫৭-১৫৮
আর(হে মুহাম্মাদ)!এই কিতাবে মারয়ামের অবস্থা বর্ণনা করো৷যখন সে নিজের লোকদের থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব দিকে নির্জনবাসী হয়ে গিয়েছিল
এবং পর্দা টেনে তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিল৷এ অবস্থায় আমি তার কাছে নিজের রূহকে অর্থাৎ(ফেরেশতাকে)পাঠালাম এবং সে তার সামনে একটি পূর্ণ মানবিক কায়া নিয়ে হাযির হলো৷
মারয়াম অকস্মাৎ বলে উঠলো, ”তুমি যদি আল্লাহকে ভয় করে থাকো তাহলে আমি তোমার হাত থেকে করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি”৷
সে বললো, “আমি তো তোমার রবের দূত এবং আমাকে পাঠানো হয়েছে এ জন্য যে, আমি তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র দান করবো?”
মারয়াম বললো,“আমার পুত্র হবে কেমন করে যখন কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শও করেনি এবং আমি ব্যভিচারিনীও নই?”
ফেরেশতা বললো,“এমনটিই হবে,তোমার রব বলেন,এমনটি করা আমার জন্য অতি সহজ আর আমি এটা এ জন্য করবো যে,এই ছেলেকে আমি লোকদের জন্য একটি নির্দশন ও নিজের পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহে পরিণত করবো এবং এ কাজটি হবেই”৷
মারয়াম এ সন্তানকে গর্ভে ধারণ করলো এবং এ গর্ভসহ একটি দূরবর্তী স্থানে চলে গেলো৷
তারপর প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের তলে পৌছে দিল৷ সে বলতে থাকলো, “হায়! যদি আমি এর আগেই মরে যেতাম এবং আমার নাম-নিশানাই না থাকতো”৷
ফেরেশতা পায়ের দিক থেকে তাকে ডেকে বললো,“দুঃখ করো না,তোমার রব তোমার নীচে একটি নহর প্রবাহিত করেছেন
এবং তুমি এ গাছের কাণ্ডটি একটু নাড়া দাও,তোমার ওপর তরতাজা খেজুর ঝরে পড়বে৷
তারপর তুমি খাও,পান করো এবং নিজের চোখ জুড়াও৷তারপর যদি তুমি মানুষের দেখা পাও তাহলে তাকে বলে দাও,আমি করুণাময়ের জন্য রোযার মানত মেনেছি, তাই আজ আমি কারোর সাথে কথা বলবো না”৷
তারপর সে এই শিশুটি নিয়ে নিজের সম্প্রদায়ের মধ্যে এলো৷ লোকেরা বলতে লাগলো, “হে মারয়াম! তুমি তো মহা পাপ করে ফেলেছো৷
হে হারুণের বোন! না তোমার বাপ কোন খারাপ লোক ছিল,না তোমার মা ছিল কোন ব্যভিচারিনী”৷
মারয়াম শিশুর প্রতি ইশারা করলো৷লোকেরা বললো,“কোলের শিশুর সাথে আমরা কি কথা বলবো?
শিশু বলে উঠলো,“আমি আল্লাহর বান্দা,তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন ও নবী করেছেন
এবং রবকতময় করেছেন যেখানেই আমি থাকি না কেন আর যতদিন আমি বেঁচে থাকবো ততদিন নামায ও যাকাত আদায়ের হুকুম দিয়েছেন৷
আর নিজের মায়ের হক আদায়কারী করেছেন,এবং আমাকে অহংকারী ও হতভাগা করেননি৷
শান্তি আমার প্রতি যখন আমি জন্ম নিয়েছি ও যখন আমি মরবো এবং যখন আমাকে জীবিত করে উঠানো হবে”৷
এ হচ্ছে মারয়ামের পুত্র ঈসা এবং এ হচ্ছে তার সম্পর্কে সত্য কথা,যে ব্যাপারে লোকেরা সন্দেহ করছে৷
কাউকে সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়৷তিনি পবিত্র সত্তা৷তিনি যখন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন তখন বলেন,হয়ে যাও,অমনি তা হয়ে যায়৷
আর (ঈসা বলেছিল)আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব৷কাজেই তোমরা তার বন্দেগী করো৷ এটিই সোজা পথ৷মারিয়াম ১৬-৩৬
আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন-
আমি ঈসা(আ) এর সর্বাধিক নিকটতম; নবীরা একে অপরের আল্লাতি ভাই, তাদের মাতা ভিন্ন কিন্তু ধর্ম এক। বোখারী শরীফ হাদীস নং ১৯৭১)
ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণিত, তিনি ওমর(রা)-কে মিম্বরে দন্ডায়মান হয়ে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে,
আমি রাসুলুল্লাহ(স)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সাবধান আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না; যেমন মারইয়ামের পুত্র ঈসা (আ) সম্পর্কে নাছারারা করেছিলো; আমি শুধু আল্লাহর বান্দা, তবে তোমরা বলবে, আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply