নিশ্চয় শিরক বড় ধরনের পাপ

সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত দান করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আরো ইরশাদ করেন :- হে মানব সমাজ ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্ঝা করে থাক এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবল¤¦ন কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। (সূরা নিসা-১)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরো ইরশাদ করেন :- হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭০/৭১)
মু’মিন ভাইয়েরা !   আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন জাতিকে সূষ্টি করেছেন এক মাত্র তার এবাদত করার জন্য। এই এবাদতের মধ্যে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। (আয যারিয়াত-৫৬)
আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে সকল ইসলামী মৌলিক বিষয়সমূহের নির্দেশ দিয়েছেন, তার মধ্যে কিছু বিষয় হচ্ছে ভালো কাজের আদেশ, যা আমাদের সকলের জন্য করণীয়। আর কিছু বিষয় হচ্ছে নিষেধ, যা সকলের জন্যই বর্জনীয়। এই নিষেধের মধ্যে কিছু বিষয় হচ্ছে বড় ধরণের পাপ,যা করার কারণে ঈমান থাকেনা আবার কিছু পাপ আছে ঈমান যায়না কিন্তু বড় ধরনের গুনা হয়। যা তাওবা করা ছাড়া মাপ পাওয়া যায়না। আবার কিছু পাপ আছে নেক আমল করার কারনে এই সব ছোট ছোট পাপগুলি মুছে যায়। যেই পাপ করার কারণে ঈমান চলে যায় বা মুসলমান থেকে বহিস্কার হয়ে যায় তার একটির নাম হলো শিরক।  শিরক সব্দের অর্থ অংশিদার করা, আর পরিভাষায় বলা হয় আল্লাহর তা’আলার সাথেএবাদত করার ক্ষেত্রে কাউকে শরিক করা।
এ প্রসঙ্গে হযরত লুকমান (আঃ) তার ছেলেকে নসিয়ত করতে গিয়ে বলেছিলেন যা কুরআনুল কারিমের বর্ণনায় এসেছে।

আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  যখন লোকমান উপদেশচছলে তার পুত্রকে বলল: হে বৎস, আল্লাহ্র সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্র সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। (সুরা লুকমান-১৩)
আর শিরকের বিপরীত হচ্ছে তাওহিদ। আর এ তাওহীদ তিন প্রকার। তাওহীদে রুবুবিয়্যাত, তাওহীদে উলুহিহিয়্যা  ও তাওহীতে আসমাউস সিফাত।
  ১) তাওহীদে রুবুবিয়্যাত : আল্লাহর কার্যাবলীতে কাউকে অংশিদার না করা। অর্থাৎ একমাত্র তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, জীবন-মৃত্যু ও উপকার-অপকারের মালিক ইত্যাদি।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- “সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য।” সূরা আল-ফাতেহা : ২
তাওহীদে উলুহিহিয়্যা: ইবাদতের মালিক শুধু আল্লাহকেই জ্ঞান করা এবং সকল ইবাদত তাঁর জন্য উৎসর্গ করা। যেমন : দুআ, জবেহ্, মান্নত, বিনয়াবনত অবস্থা, প্রার্থনা, নামাজ, তাওয়াক্কুল ও ফয়সালা ইত্যাদির মালিক আল্লাহকে স্বীকার করা এবং শুধু তাঁর জন্যই সম্পাদন করা।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- “আর তোমাদের ইলাহ একজন-ই, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনি দয়াময় অতি দয়ালু।” সূরা আল-বাকারাহ্ : ১৬৩
তাওহীতে আসমাউস সিফাত: আল্লাহ্ তাআলা তাঁর কিতাবে নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ হাদীসে তাঁর যেসব গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা প্রকৃত অর্থে, কোনরূপ অপব্যাখ্যা, তাঁর কোন সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন, তাঁর প্রকৃত গুণকে নিষ্ক্রিয় করা এবং কোন বিশেষ আকৃতি ধারনা করা ব্যতীত যথাযথ রূপেই বর্ণিত গুণাবলি তাঁর জন্য স্থির করা বুঝায়। যেমন : আরশে আসীন হওয়া, অবতরণ করা, হাত ইত্যাদি আল্লাহ্র পরিপূর্ণ শানের উপযোগী পর্যায়ে সাব্যস্ত করা বুঝা যায়।
পবিত্র কুরআনের বাণী: “কোন কিছুই তাঁর সাদৃশ্য নয়, তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” সূরা আশ-শুরা : ১১
আবার কিছু লোক আছে তারা ঈমানের সাথে শিরককে মিস্ত্রিত করে জীবন জাপন করতে অভস্থ্য। যেমন ঈমানের কাজও করে আবার শিরকের মত কাজের মধ্যে লিপ্ত হয়ে যায়। এখন যারা ঈমানের সাথে শিরিককে মিস্ত্রিত করে চলা থেকে বিরত থাকবে তাদের জন্য আল্ল¬াহ তা’আলা হেদায়েত ও নিরাপত্তার সুসংবাদ দিয়েছেন।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  যারা ঈমান আনে এবং ¯¦ীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। (সুরা আনআম-৮২)
আর আল্ল¬াহ তা’আলার যুগে যুগে যত নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন তারা সকলেই এক আল্লাহর দিকে আহব্বান বা ডাকার জন্য এবং তাগুতের অনুস্বরণ না করার জণ্য সদা সর্বদায় তাকিদ করেছেন।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- আমি প্রত্যেক উ¤মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অত:পর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। (সুরা নাহল-৩৬)
আবার যারা শিরক করবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আমাদের নবী (সঃ) এবং পূর্ববর্তী নবী রাসুলগণকে উদ্দেস্য করে বলেছেন আপনারা যদি শিরিক কররেন তাহলে আপনাদের আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহ্র সাথে শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নি®ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন। (সুরা যুমার-৬৫)
ব্যখ্যাঃ-এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নবী রাসুলদেরকে সতর্ক করেছেন, তাহলে সাধারণ উম্মতের অবস্থা কি হবে।
 নি¤েœ  শিরিরেক ভয়াবহ পরিনাম সম্পর্কে কয়েকটি আয়াত পেশ করা হল।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-
নি:সšেদহে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহ্র সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল। (সুরা আন নিসা ৪৮)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরও ইরশাদ করেন :- নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহ্র সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। (নিসা ১১৬)
আল্ল¬াহ তা’আলা আরও  ইরশাদ করেন :-  তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ্; অথচ মসীহ বলেন, হে বণী-ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহ্র এবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ্ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।( সুরা মায়েদা-৭২)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে শিরিকের মত ধ্বংশ প্রাপ্ত আমল থেকে  থেকে বেচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন”

إن الشرك لظلم عظيم নিশ্চয় শিরক বড় ধরনের অপরাধ

 

 
সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত দান করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আরো ইরশাদ করেন :- হে মানব সমাজ ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্ঝা করে থাক এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবল¤¦ন কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। (সূরা নিসা-১)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরো ইরশাদ করেন :- হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭০/৭১)
মু’মিন ভাইয়েরা !   আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন জাতিকে সূষ্টি করেছেন এক মাত্র তার এবাদত করার জন্য। এই এবাদতের মধ্যে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। (আয যারিয়াত-৫৬)
আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে সকল ইসলামী মৌলিক বিষয়সমূহের নির্দেশ দিয়েছেন, তার মধ্যে কিছু বিষয় হচ্ছে ভালো কাজের আদেশ, যা আমাদের সকলের জন্য করণীয়। আর কিছু বিষয় হচ্ছে নিষেধ, যা সকলের জন্যই বর্জনীয়। এই নিষেধের মধ্যে কিছু বিষয় হচ্ছে বড় ধরণের পাপ,যা করার কারণে ঈমান থাকেনা আবার কিছু পাপ আছে ঈমান যায়না কিন্তু বড় ধরনের গুনা হয়। যা তাওবা করা ছাড়া মাপ পাওয়া যায়না। আবার কিছু পাপ আছে নেক আমল করার কারনে এই সব ছোট ছোট পাপগুলি মুছে যায়। যেই পাপ করার কারণে ঈমান চলে যায় বা মুসলমান থেকে বহিস্কার হয়ে যায় তার একটির নাম হলো শিরক।  শিরক সব্দের অর্থ অংশিদার করা, আর পরিভাষায় বলা হয় আল্লাহর তা’আলার সাথেএবাদত করার ক্ষেত্রে কাউকে শরিক করা।
এ প্রসঙ্গে হযরত লুকমান (আঃ) তার ছেলেকে নসিয়ত করতে গিয়ে বলেছিলেন যা কুরআনুল কারিমের বর্ণনায় এসেছে।

আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  যখন লোকমান উপদেশচছলে তার পুত্রকে বলল: হে বৎস, আল্লাহ্র সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্র সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। (সুরা লুকমান-১৩)
আর শিরকের বিপরীত হচ্ছে তাওহিদ। আর এ তাওহীদ তিন প্রকার। তাওহীদে রুবুবিয়্যাত, তাওহীদে উলুহিহিয়্যা  ও তাওহীতে আসমাউস সিফাত।
  ১) তাওহীদে রুবুবিয়্যাত : আল্লাহর কার্যাবলীতে কাউকে অংশিদার না করা। অর্থাৎ একমাত্র তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, জীবন-মৃত্যু ও উপকার-অপকারের মালিক ইত্যাদি।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- “সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য।” সূরা আল-ফাতেহা : ২
তাওহীদে উলুহিহিয়্যা: ইবাদতের মালিক শুধু আল্লাহকেই জ্ঞান করা এবং সকল ইবাদত তাঁর জন্য উৎসর্গ করা। যেমন : দুআ, জবেহ্, মান্নত, বিনয়াবনত অবস্থা, প্রার্থনা, নামাজ, তাওয়াক্কুল ও ফয়সালা ইত্যাদির মালিক আল্লাহকে স্বীকার করা এবং শুধু তাঁর জন্যই সম্পাদন করা।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- “আর তোমাদের ইলাহ একজন-ই, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনি দয়াময় অতি দয়ালু।” সূরা আল-বাকারাহ্ : ১৬৩
তাওহীতে আসমাউস সিফাত: আল্লাহ্ তাআলা তাঁর কিতাবে নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ হাদীসে তাঁর যেসব গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা প্রকৃত অর্থে, কোনরূপ অপব্যাখ্যা, তাঁর কোন সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন, তাঁর প্রকৃত গুণকে নিষ্ক্রিয় করা এবং কোন বিশেষ আকৃতি ধারনা করা ব্যতীত যথাযথ রূপেই বর্ণিত গুণাবলি তাঁর জন্য স্থির করা বুঝায়। যেমন : আরশে আসীন হওয়া, অবতরণ করা, হাত ইত্যাদি আল্লাহ্র পরিপূর্ণ শানের উপযোগী পর্যায়ে সাব্যস্ত করা বুঝা যায়।
পবিত্র কুরআনের বাণী: “কোন কিছুই তাঁর সাদৃশ্য নয়, তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” সূরা আশ-শুরা : ১১
আবার কিছু লোক আছে তারা ঈমানের সাথে শিরককে মিস্ত্রিত করে জীবন জাপন করতে অভস্থ্য। যেমন ঈমানের কাজও করে আবার শিরকের মত কাজের মধ্যে লিপ্ত হয়ে যায়। এখন যারা ঈমানের সাথে শিরিককে মিস্ত্রিত করে চলা থেকে বিরত থাকবে তাদের জন্য আল্ল¬াহ তা’আলা হেদায়েত ও নিরাপত্তার সুসংবাদ দিয়েছেন।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-  যারা ঈমান আনে এবং ¯¦ীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। (সুরা আনআম-৮২)
আর আল্ল¬াহ তা’আলার যুগে যুগে যত নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন তারা সকলেই এক আল্লাহর দিকে আহব্বান বা ডাকার জন্য এবং তাগুতের অনুস্বরণ না করার জণ্য সদা সর্বদায় তাকিদ করেছেন।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- আমি প্রত্যেক উ¤মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অত:পর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। (সুরা নাহল-৩৬)
আবার যারা শিরক করবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আমাদের নবী (সঃ) এবং পূর্ববর্তী নবী রাসুলগণকে উদ্দেস্য করে বলেছেন আপনারা যদি শিরিক কররেন তাহলে আপনাদের আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :- আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহ্র সাথে শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নি®ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন। (সুরা যুমার-৬৫)
ব্যখ্যাঃ-এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নবী রাসুলদেরকে সতর্ক করেছেন, তাহলে সাধারণ উম্মতের অবস্থা কি হবে।
 নি¤েœ  শিরিরেক ভয়াবহ পরিনাম সম্পর্কে কয়েকটি আয়াত পেশ করা হল।
আল্ল¬াহ তা’আলার বানী :-
নি:সšেদহে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহ্র সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল। (সুরা আন নিসা ৪৮)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরও ইরশাদ করেন :- নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহ্র সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। (নিসা ১১৬)
আল্ল¬াহ তা’আলা আরও  ইরশাদ করেন :-  তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ্; অথচ মসীহ বলেন, হে বণী-ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহ্র এবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ্ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।( সুরা মায়েদা-৭২)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে শিরিকের মত ধ্বংশ প্রাপ্ত আমল থেকে  থেকে বেচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন”

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা حب الله تعالى

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা

“আল্লাহর জন্য ভালোবাসা” সম্পর্কে জাহেলী যুগে মানুষের কোন ধারণা ছিল না। স্বাদেশিকতা বংশ সম্পর্ক বা অনুরূপ কিছু ছিল তাদের পরস্পর সম্পর্কের মূল ভিত্তি। আল্লাহর বিশেষ দয়ায় ইসলামের আলো উদ্ভাসিত হল। পরস্পর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় উৎকর্ষতা আসল। ধর্মীয় সম্পর্ক সর্বোচ্চ ও সুমহান সম্পর্ক হিসেবে রূপ লাভ করল। এ-সম্পর্কের উপরেই প্রতিদান, পুরস্কার, ভালোবাসা ও ঘৃণা সাব্যস্ত হল। ইসলামের বিকাশের সাথে সাথে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ইত্যাদি পরিভাষা চালু হল।

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা-এর অর্থ হচ্ছে, এক মুসলিম ভাই অপর মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণ ও আল্লাহর আনুগত্য কামনা করা। সম্পদের মোহ, বংশ বা স্থান ইত্যাদির কোন সংশ্লিষ্টতা এক অপরের সম্পর্কের ও ভালোবাসার মানদণ্ড হবে না।

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার কতিপয় ফজিলত :

১. আল্লাহর জন্য ভালোবাসা স্থাপনকারীদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন :-আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন –

عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أن رجلا زار أخا له في قرية أخرى، فأرصد الله له على مدرجته ملكا، فلما أتى عليه قال أين تريد؟ قال: أريد أخا لي في هذه القرية، قال:هل لك عليه من نعمة تربها ؟ قال:لا، غير أني أحببته في الله عز وجل، قال:فإني رسول الله إليك أن الله قد أحبك كما أحببته فيه . (رواه مسلم:4656)

এক ব্যক্তি অন্য গ্রামে বসবাসকারী নিজ ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হল। মহান আল্লাহ তার জন্য পথে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করে রাখলেন। যখন সে ফেরেশতা সে ব্যক্তির নিকটবর্তী হল, বলল তুমি কোথায় যাও ? সে বলল, এই গ্রামে বসবাসকারী আমার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করা আমার উদ্দেশ্য। ফেরেশতা বলল, তার কাছে তোমার কোন পাওনা আছে কি-না ? সে বলল, না। কিন্তু আমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। তখন ফেরেশতা বলে উঠল, নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত। মহান আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে ভালোবেসেছেন যে রকম তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবেসেছ। (সহীহ মুসলিম:৪৬৫৬) হাদিসে কুদসীতে আছে মহান আল্লাহ বলেন :—

وجبت محبتي للمحتابين فيّ ، والمتجالسين فيّ، والمتزاورين فيّ، والمتباذلين فيّ ( رواه أحمد:21717)

আমার জন্য পরস্পর ভালোবাসা স্থাপনকারী, পরস্পর উঠা-বসা-কারী, পরস্পর সাক্ষাৎকারী, পরস্পর ব্যয়কারীদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত। (আহমদ:২১৭১৭)

২. মহান আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসা স্থাপনকারী আল্লাহর আরশের ছায়াতলে অবস্থান করবে, যে দিন তাঁর আরশের ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :-

سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله ……. ورجلان تحابا في الله ، اجتمعا عليه ، وتفرقا عليه. (رواه البخاري:620)

“সাত ব্যক্তি, আল্লাহ তাদেরকে তাঁর ছায়াতলে ছায়া দিবে, যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না…এবং দুজন ব্যক্তিকে, যারা আল্লাহর জন্য তারা পরস্পর পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করেছে, তাঁর ভালোবাসায় তারা একত্রিত হয়েছে, এবং তাঁর ভালোবাসায় তারা পৃথক হয়েছে‌। (বুখারী:৬২০) রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন :—

إن الله يقول يوم القيامة: أين المتحابون بجلالي، اليوم أظلهم في ظلي يوم لا ظل إلا ظلي. ( رواه مسلم:4655)

আল্লাহ কিয়ামত দিবসে বলবেন, আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালোবাসা স্থাপনকারীরা কোথায় ? আজ – যে দিন আমার ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না- আমি তাদের ছায়া দেব। (সহীহ মুসলিম:৪৬৫৫)

৩. আল্লাহর জন্য ভালোবাসা জান্নাতে প্রবেশের বিশেষ মাধ্যম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :-

لاتدخلون الجنة حتى تؤمنوا، ولاتؤمنوا حتى تحابوا…. ( رواه مسلم:81

“ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন না করা পর্যন্ত তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না। (সহীহ মুসলিম:৮১)

এক সাথি আরেক সাথির উপর প্রভাব বিস্তার করে বিধায় প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছে সাথি গ্রহণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন :—

الرجل على دين خليله، فلينظر أحدكم من يخالل… (رواه الترمذي:2300)

মানুষ তার বন্ধুর রীতি-নীতির উপর পরিচালিত হয়, সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের উচিত, কে তোমাদের বন্ধু হবে এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা। (তিরমিজি:২৩০০)

ভাল সাথির বেশ কিছু গুণাবলি

• দীনদার ও তাকওয়াবান হওয়া : তাকওয়াবানের কিছু আলামত নিচে উল্লেখ করা হল।

• আল্লাহ প্রদত্ত অকাট্য বিধি-বিধান পালনে যত্নবান হওয়া। যেমন সালাত কায়েম, জাকাত প্রদান-ইত্যাদি।

• গালিগালাজ, অভিশাপ, গীবত ইত্যাদি। থেকে নিজের জিহ্বাকে পরিচ্ছন্ন রাখা।

• নিজ সাথিকে ভাল উপদেশ দেওয়া।

• সজনদেরকে ভালোবাসা।

• অশ্লীলতা ও পংকিলতা থেকে দূরে থাকা।

• ভাল কাজে সহযোগিতা প্রদান, পাপের কাজে নিরুৎসাহিত করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন :—

الأخلاء يومئذ بعضهم لبعض عدو إلا المتقين.الزخرف:

“বন্ধুরা সেই দিন হয়ে পড়বে একে অপরের শক্র, মুত্তাকীরা ব্যতীত। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন :—

لا تصاحب إلا مؤمنا، ولا يأكل طعامك إلا تقي. (رواه الترمذي:3218)

“ঈমানদার ব্যতীত সাথি গ্রহণ করো না, মুত্তাকী ব্যতীত কেহ যেন তোমার খাবার ভক্ষণ না করে। (তিরমিজি:৩২১৮)

২. বুদ্ধিমান হওয়া : নির্বোধকে সাথি হিসেবে গ্রহণে কোন কল্যাণ নেই। কেননা সেই লাভ করতে গিয়ে ক্ষতি করে বসবে।

৩. সুন্দর চরিত্রবান হওয়া: কেননা দুশ্চরিত্রবান সাথির অশুভ কর্মে তুমি আক্রান্ত হয়ে পড়বে, কষ্টে নিপতিত হবে।

৪. সুন্নত মোতাবেক চলা : সাথি বিদআতী হলে তোমাকে বিদআতের দিকে নিয়ে যাবে, তোমার চিন্তা চেতনাকে কলুষিত করবে,

ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের আদবসমুহ :

ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আদব রয়েছে যা মেনে চললেই আল্লাহর জন্য ভালোবাসার দাবি যথার্থ প্রমাণিত হবে। নীচে কতিপয় আদব উল্লেখ করা হল।

• সালাম প্রদান ও হাসি-মুখে সাক্ষাৎ করা: রাসূলুল্লাহ সা: বলেন :-

لاتحقرن من المعروف شيئا، ولو أن تلقى أخاك بوجه طلق. رواه مسلم:4760

কোন ভাল কাজকে কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করনা, এমনকি তা যদিতোমার ভাইয়ের সাথে হাসোজ্জ্বল চেহারায় সাক্ষাৎ করা ও হয়। (সহীহ মুসলিম:৪৭৬০)

• উপঢৌকন প্রদান: ভালোবাসা বৃদ্ধি ও মনোমালিন্য দূরীকরণে এর রয়েছে বিরাট প্রভাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

تهادوا تحابوا ( موطأ مالك:1413)

তোমরা একে অপরকে উপহার প্রদান কর, তোমাদের পরস্পর ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। (মুয়াত্তা:১৪১৩)

• এক ভাই অপর ভাইয়ের জন্য দুআ করা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :-

ما من عبد مسلم يدعو لأخيه بظهرالغيب، إلا قال الملك: ولك بمثل (رواه مسلم:4912)

কোন মুসলিম বান্দা যখন তার ভাইয়ের পিছনে তার জন্য দুআ করে তখন ফেরেশতা বলে উঠে তোমার জন্য ও অনুরূপ।(সহীহ মুসলিম:৪৯১২)

আর ইহা তার সারা জীবন এমনকি মৃত্যুর পরে ও অব্যাহত থাকবে।

• অপর ভাইয়ের নিকট ভালোবাসার কথা প্রকাশ করা: রাসূলুল্লাহ সা: বলেন :—

إذا أحب الرجل أخاه، فليخبره أنه يحبه. رواه أبوداود:4459

মানুষ যখন তার ভাইকে ভালোবাসে সে যেন তাকে অবহিত করে যে, সে তাকে ভালোবাসে।” এবং তাকে বলবে:

 إني أحبك في الله

নিশ্চয় আমি তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। জওয়াবে সে বলবে:

 أحبك الذي أحببتني له

যে ব্যাপারে তুমি আমাকে ভালোবেসেছ সেটা তোমার নিকট পছন্দ হয়েছে। (আবুদাউদ:৪৪৫৯)

• দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা: যাতে কমও না হয় আবার বেশিও না হয় কম হলে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে, বেশি হলে বিরক্ত হয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :-

زر غباً تزدد حباً

“বিরতি দিয়ে দেখা-সাক্ষাৎ কর, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। কবি বলেন :—

زرغباً تزدد حباً فمن أكثر التكرار أقصاه الملل

বিরতি দিয়ে দেখা-সাক্ষাৎ কর, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে, যে বার বার দেখা-সাক্ষাৎ করে অস্বস্তিবোধ তাকে দূরে সরিয়ে দিবে।

• সাহায্য করা ও প্রয়োজন মেটানো: ইহা তিন পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়।

১- সর্বোচ্চ পর্যায়: নিজের প্রয়োজনের উপর অপর ভাইয়ের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

২- মধ্যপর্যায়: আবেদন ছাড়া অপর ভাইয়ের এমন প্রয়োজন মেটানো যা নিজের প্রয়োজনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় না।

৩- নিম্ন পর্যায়: আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অপর ভাইয়ের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া।

• অপর ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখা, তার গোপনীয় বিষয় প্রকাশ না করা, উত্তম পন্থায় তাকে উপদেশ দেয়া, তার ইজ্জত-আব্রু সংরক্ষণ করা, ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা, তার সাথে সুন্দর আচরণ করা।

সমাপ্ত