মুনাফিকদের গুনাবলী

       সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত দান করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আরো ইরশাদ করেন :- হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আতœীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবল¤¦ন কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। (সূরা নিসা-১)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরো ইরশাদ করেন :- হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭০/৭১)
মুসলিম ভাইয়েরা !
নিফাক-এর শাব্দিক অর্থ : সেই সুড়ঙ্গ পথ যাতে লুকিয়ে থাকা যায়। এও বলা হয়ে থাকে যে, ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর গর্তের অনেকগুলো মুখের একটি মুখ। তাকে কোন এক মুখ দিয়ে খোঁজা হলে অন্য মুখ দিয়ে সে বের হয়ে যায়। শরীয়তের পরিভাষায় নিফাকীর অর্থ হল : ভেতরে কুফুরী ও খারাবী লুকিয়ে রেখে বাহিরে ইসলাম জাহির করা। একে নিফাক নামকরণের কারণ হলো সে এক দরজা দিয়ে শরীয়তে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। এ জন্যই আল্লাহ তা’আলা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন : নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই ফাসিক,পাপাচারী। ( সূরা তাওবা-৬৭)
ফাসিক মানে হলো : শরীয়তের সীমানা থেকে যারা বের হয়ে যায়। আল্লাহ তা’আলা মুনাফিকদেরকে কাফিরদের চেয়েও নিকৃষ্ট বলে গণ্য করেছেন। আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা  থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। (সূরা নিসা, ১৪৫)
আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়। তারা আল্লাহ্ এবং ঈমানদারগণকে প্রতারিত করতে চায়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রতারিত  করেনা, অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না। তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ্ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তূতঃ তাদের জন্য নির্ধািিরত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন। (সূরা বাকারাহ-৮/১০)
ঈমানদার ভাইয়েরা !
নিফাকী দুই প্রকার : প্রথম প্রকার: ইতেক্বাদ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নিফাকী :একে বড় নিফাকী বলা হয়। এতে মুনাফিক ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে ইসলামকে জাহির করে এবং কুফুরীকে গোপন রাখে। এ প্রকারের নিফাকী ব্যক্তিকে পুরোপুবিভাবে দ্বীন থেকে বের করে দেয়। উপরন্তু সে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে যায়।  আল্লাহ তা’আলা এ প্রকারের মুনাফিকদেরকে যাবতীয় নিকৃষ্ট গুণাবলীতে অভিহিত করেছেন। কখনো কাফির বলেছেন, কখনো বেঈমান বলেছেন, কখনো দ্বীন ও দ্বীনদার লোকদের প্রতি ঠাট্রাÑ বিদ্রƒপকারী হিসাবে তাদেরকে বর্ণনা করেছেন এবং এও বলেছেন যে, তারা দ্বীন ও ইসলামের শত্রুদের প্রতি পুরোপুরিভাবে আসক্ত, কেননা তারা ইসলামের শত্রুতায় কাফিরদের সাথে অংশগ্রহণ করে থাকে। এরা সবযুগেই বিদ্যমান, বিশেষ করে যখন ইসলামের শক্তি প্রবলভাবে প্রকাশ পায়। যেহেতু এ অবস্থায় তারা প্রকাশ্যে ইসলামের মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়, তাই তারা জাহির করে যে, তারা ইসলামের মধ্যে আছে, যেন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভিতরে ভিতরে ষড়যন্ত্র পাকাতে পারে এবং মুসলমানদের সাথে মিলেমিশে থেকে নিজেদের জানÑমালের হেফাজত করতে পারে। 
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ নয়। এবং যখন তাদের একদল বলেছিল, হে ইয়াসরেববাসী, এটা টিকবার মত জায়গা নয়, তোমরা ফিরে চল। তাদেরই একদল নবীর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে বলেছিল, আমাদের বাড়ী-ঘর খালি, অথচ সেগুলো খালি ছিল না, পলায়ন করাই ছিল তাদের ইচ্ছা। যদি শত্রুপক্ষ চতুর্দিক থেকে নগরে প্রবেশ করে তাদের সাথে মিলিত হত, অতঃপর বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করত, তবে তারা অবশ্যই বিদ্রোহ করত এবং তারা মোটেই বিল¤¦ করত না।
(সূরা আহযাব-১২/১৪)  আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবল¤¦ন করুন। তাদের ঠিকানা হল জাহান্নাম এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা। ( সূরা তাওবা-৭৩)
অতএব মুনাফিক বাহ্যিকভাবে আল্লাহ, তাঁর ফেরেস্তাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনার ঘোষণা দিলেও অন্তরে এসব কিছু থেকেই সে মুক্ত, বরং এগুলোকে সে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহর প্রতি তার ঈমান নেই, এবং এ বিশ্বাস ও নেই যে, তিনি তাঁর এক বান্দার উপর কালামে পাক নাযিল করেছেন, তাকে মানুষের প্রতি রাসূল করে পাঠিয়েছেন, আল্লাহর হুকুমে তিনি তাদেরকে হেদায়াত করবেন, তাঁর প্রতাপ সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করবেন এবং তাঁর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করবেন। কুরআন পাকে আল্লাহ তা’আলা এসব মুনাফিকদের স্বরূপ উম্মোচন করেছেন, তাদের রহস্য উদঘাটন করে দিয়েছেন এবং বান্দাদের সামনে তাদের মোয়ামেলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে তারা এসব মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকে। আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহ্র নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে স¤পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে। (সূরা নিসা-৬১)
মুসলিম ভাইয়েরা !
মুনাফিকদের কারণে ইসলামের উপর অনেক বেশী বালাÑমুসীবত নেমে আসে। কেননা ইসলামের প্রকৃত দুশমন হওয়া সত্ত্বেও তারা মুসলিম হিসাবে পরিচিত এবং তাদেরকে ইসলামের সাহায্যকারী ও বন্ধু ভাবা হয়। তারা নানা উপায়ে ইসলামের শত্রুতা করে থাকে। ফলে অজ্ঞ লোকেরা ভাবে যে, এ হল তাদের দ্বীনী এলেম ও সংস্কার কাজের বহিঃপ্রকাশ। অথচ প্রকারান্তরে তা তাদের মূর্খতা এবং ফাসাদ সৃষ্টিরই নামান্তর। দ্বিতীয় প্রকার: আমলের নিফাকী : এ প্রকারের নিফাকী হলÑঅন্তরে ঈমান রাখার পাশাপাশি মুনাফিকদের কোন কাজে লিপ্ত হওয়া। এ নিফাকীর ফলে ব্যক্তি ইসলামী মিল্লাতের গন্ডী থেকে বের হয়না, তবে বের হবার রাস্তা সুগম হয়ে যায়। এ ধরনের লোকদের মধ্যে ঈমান ও নিফাকী উভয়ের  অস্তিত্বই রয়েছে। নিফাকীর পাল্লা ভারী হলে সে পূর্ণ মুনাফিকে পরিণত হয়ে যায়।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- তারা বলে : আমরা আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আনুগত্য করি; কিন্তু অতঃপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা বিশ্বাসী নয়। তাদের মধ্যে ফায়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে আল্লাহ্ ও রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। সত্য তাদের স্বপক্ষে হলে তারা বিনীতভাবে রাসূলের কাছে ছুটে আসে। (সূরা নূর-৪৭/৪৯) আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।  যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহ্রই জন্য। (সূরা নিসা- ১৩৮/১৩৯)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার এবং মুনাফিকী আচরণ থেকে বেচেঁ থাকার তাওফীক দান করুন।  আমীন ….

নয়নপ্রীতিকর উত্তম আবাস স্হল

       সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত দান করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর। আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২) আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আরো ইরশাদ করেন :- হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আতœীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবল¤¦ন কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। (সূরা নিসা-১) আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরো ইরশাদ করেন :- হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭০/৭১)
মুসলিম ভাইয়েরা !
       দুনিয়া অভিশপ্ত এবং যা কিছু এতে আছে তাও অভিশপ্ত , তবে ঐসব বস্তু নয়, যদ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয়। যারা দুনিয়ার অসম্পূর্ণ ও ধ্বংসশীল নিয়ামতে মত্ত হয়ে পড়েছে, (হে নবী) আপনি তাদের বলে দিন যে, আমি তোমাদের আরও উৎকৃষ্টতর নিয়ামতের সন্ধান বলে দিচ্ছি।  সৃষ্টিকর্তা প্রতিপালক আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কিভাবে স্থাপিত হতে পারে ?
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে কোনো রকম মুখাপেক্ষী নন। তিনি সকল সৃষ্টিজীব থেকে অমুখাপেক্ষী। সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। তিনি মহা শক্তির অধিকারী, তাঁর ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারে না। আকাশমণ্ডল ও তাবৎ জগতের প্রতিটি বিষয় তাঁর আয়ত্বাধীন। তাই মানুষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে, তাঁর কাছে নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করতে, বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে সর্বদা তাঁর কাছেই মুখাপেক্ষী। তিনি কারীম-মহান। তাঁর কাছে প্রার্থনা করলে তিনি খুশি হন। তিনি ভালবাসেন মানুষ তাঁর কাছে তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু চেয়ে নেবে। তিনি তাদের প্রার্থনা কবুল করেন।
হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় এই দু’আ করতেন : (আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুনয়া হাসানাতাও,ওয়াফিল
আ-খিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা- আযা-বান্নার) হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ ও আখেরাতে কল্যাণ দান করো এবং জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও। হযরত আনাস (রাঃ) যখন কোন দু’আ করতে চাইতেন তখন এই দু’আটিই করতেন এবং যখন অন্য কোন দু’আ করতে চাইতেন তখন এদু’আটিও তার মধ্যে শামিল করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)
আর রুকনে ইয়ামানী এবং হাজরে আসওয়দের মধ্যবর্তীস্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি পড়েছেন; ‘রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাতাওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসনাহ, ওয়াক্বিনা- আযা-বান্নার’। অর্থ ঃ হে আমাদের প্রভু ! আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের কষ্ট থেকে আমাদেরকে বাচাও।   
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তূত: আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে। (সূরা বাকারাহ-১৮৬)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেন :- বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলবো ?-যারা পরহেযগার, আল্লাহ্র নিকট তাদের জন্যে রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত-তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনীগণ এবং আল্লাহ্্র সন্তূষ্টি। আর আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন। যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ স¤পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী। (সূরা আল-ইমরান-১৫-১৭)
উক্ত আয়াতে পরকালের নিয়ামতরাজির মধ্যে তিনটি বর্ণিত হয়েছে। প্রথম : জান্নাতের সবুজ কানন, দ্বিতীয় : পরিচ্ছন্নসঙ্গিনিগণ এবং তৃতীয় : আল্লাহর সন্তুষ্টি।
আতা ইবনে আবী রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি কী তোমাকে জান্নাতের অধিকারী একজন মহিলা দেখাব ? আমি বললাম, অবশ্যই দেখাবেন। তিনি বললেন, এই কালো মহিলাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেছিল, ‘আমি মৃগী রোগে ভুগছি এবং আমার কাপর খুলে যায়।
অতএব আপনি আমার জন্য দু’আ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ “তুমি যদি ধৈর্য ধারণ করতে পার, তাহলে তোমার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর যদি তুমি চাও তাহলে আমি আল্লাহ তা’আলার কাছে দু’আ করব, আল্লাহ যেন তোমাকে সুস্থ করে দেন। ”সে বলল, ‘আমি ধৈর্য ধারণ করব, কিন্তু আমি যেন উলঙ্গ হয়ে না যাই সে জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু’আ করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন ইরশাদ করেন :- আল্লাহ্ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কানন-কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সে গুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কানন-কুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তূত: এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহ্র সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা। (সূরা তাওবাহ-৭২) 
আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারও চেয়ে বেশী। আর তাদের মুখমন্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হল জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল। (সূরা ইউনুস-২৬)
আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করেন :- মনে রেখো যারা আল্লাহ্র বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তানি¦ত হবে। যারা ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে। তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহ্র কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা। (সূরা ইউনুস-৬২/৬৪)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন :- মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহ্র সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি। এটা এজন্য যাতে আল্লাহ্, সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার কারণে প্রতিদান দেন এবং ইচ্ছা করলে মুনাফেকদেরকে শাস্তি দেন অথবা ক্ষমা করেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব-২৩-২৪)
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সঠিক ভাবে নয়নপ্রীতিকর জান্নাতের প্রস্তুতি গ্রহন করার তাওফীক দান করুন। আমীন …..

উত্তম জীবন জাপন সম্পর্কে

  

   সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত দান করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর।
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন ইরশাদ করেন :- হে মু’মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭০/৭১)
আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- অতঃপর আল্লাহ্ যাকে পথ-প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন-যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। আল্লাহ্ তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন। (সূরা আন’আম-১২৫)
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :-হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২)
মুসলিম ভাইয়েরা !
মনের শান্তি ও আনন্দ অনুভব করা এবং অশান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর করা প্রত্যেক ব্যক্তির অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আর এর দ্বারাই পবিত্র জীবন অর্জিত হয় এবং আনন্দ ও প্রফুল্লতা পরিপূর্ণতা লাভ করে। তা অর্জনের জন্য রয়েছে ধর্মীয়, স্বভাবগত ও আমলী উপায়-উপকরণসমূহ। আর এসব উপায়-উপকরণের সামগ্রীক সমন্বয় সাধন মু’মিনগণ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না।
আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করেন :- যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়েত আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রন্ঠ হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না এবং যে আমার স¥রণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। (সূরা ত্বো-হা-১২৩/১২৪)
সৌভাগ্যময় জীবন ইহজগতের প্রতিটি মানুষের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। সৌভাগ্যের তাৎপর্য ও তা বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং কেউ মনে করেন, সৌভাগ্য অর্জিত হবে সম্পদ সঞ্চয় ও প্রবৃদ্ধির দ্বারা। আবার কেউ মনে করেন, সৌভাগ্য মানে শারীরিক সুস্থতা ও বাসস্থানের নিরাপত্তা। আবার কারো মতে, সৌভাগ্য মানে হালাল জীবিকা ও উপকারী ইলম (বিদ্যা) অর্জন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সৌভাগ্য মানে প্রকৃত ঈমান, সৎকাজ ও এগুলোর উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকা। উপরিউক্ত অর্থসমূহ সৌভাগ্যের তাৎপয্যের অন্তর্ভূক্ত হতে কোন বাধা নেই, যতক্ষণ তা শার‘য়ী নিয়ম-নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে থাকে। তবে সৌভাগ্য দুই প্রকার : (এক) দুনিয়াবী (ইহকালীন) সৌভাগ্য; যা সাময়িক, সংক্ষিপ্ত জীবনের সাথে সীমাবদ্ধ ও পরিবর্তণশীল। (দুই) পরকালীন সৌভাগ্য; যা দীর্ঘস্থায়ী ও অসীম। আর এই উভয় প্রকার সৌভাগ্যই একটা অপরটার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং আখেরাতের সৌভাগ্যের সাথে দুনিয়ার সৌভাগ্য জড়িত। আর দুনিয়া ও আখেরাতে পরিপূর্ণ পবিত্র সৌভাগ্যময় জীবন বলতে শুধু ঐ জীবনকেই বুঝায়, যা আল্লাহ মুত্তাকী মু’মিনদের জন্য মনোনীত করেছেন। সৌভাগ্যময় জীবন লাভের অন্যতম প্রধান ও আসল উপায় হল ঈমান ও সৎকর্ম।
যেমন আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- মু’মিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব। (সূরা নাহল-৯৭) সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমান ও সৎ আমলের সমন্বয় সাধন করতে পারবে, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা ইহকালে পবিত্রময় জীবনের এবং ইহকালে ও পরকালে উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আর এর কারণ সুস্পষ্ট। কেননা, মুমিনগণ আল্লাহর প্রতি বিশুদ্ধ ঈমানের ফলে সৎকাজ করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য মন-মানসিকতা ও নৈতিক চরিত্রকে সংশোধন করে। তাদের সাথে মৌলিক নীতিমালা রয়েছে, যার দ্বারা তারা তাদের নিকট উপস্থাপিত সকল প্রকার হাসি-আনন্দ, অস্থিরতা ও দুঃখ-বেদনার কারণসমূহ উপলব্ধি করতে পারে।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। (সূরা আন-আম-৮০)
আনাস ইব্নে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ঃ তিনটি জিনিস এমন যার মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে, সে ঈমানের স্বাদ পাবে ।
১) আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল তার কাছে অন্য সবকিছু থেকে প্রিয় হওয়া ।
২) কাউকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ভালবাসা ।
৩) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে যেভাবে অপছন্দ করে, তেমনি আবারও কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করাকে অপছন্দ করে। (বুখারী ও মুসলিম)
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- অতঃপর আল্লাহ্ যাকে পথ-প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন-যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। আল্লাহ্ তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন। (সূরা আন-আম-১২৫)
ঈমানদার ভাইয়েরা !
মু’মিনের প্রাপ্তি ও কল্যাণ দিগুণ। হাসি-আনন্দ ও দুঃখ-কষ্ট সকল অবস্থায়ই সে তার কর্ম-কাণ্ডের সুফল ভোগ করবে। এ জন্যই মু’মিনেরা দু’টি জিনিস পাবেন, যেগুলো কল্যাণ বা অকল্যাণের প্রতিনিধিত্ব করে। এই গুণের অধিকারী ব্যক্তি এ দু’টি গুণ দ্বারা কল্যাণ ও অকল্যাণ লাভ করে, যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, ধৈর্য ধারণ ইত্যাদি। এতে করে তার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হবে; দূর হয়ে যাবে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, হৃদয়ের সংকীর্ণতা ও জীবনের দুঃখ-কষ্ট এবং ইহজগতে তার জীবন হয়ে উঠবে অর্থবহ ও সুখময়। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন ইরশাদ করেন :- কসম যুগের, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের। (সূরা আসর) মুমিন ব্যতিক্রম তার ঈমানী শক্তি, ধৈর্য, আল্লাহর উপড় ভরসা ও নিভর্রশীলতা এবং তার সওয়াবের প্রত্যাশার কারণে। এসব বিষয়ে তার সাহস ও বীরত্ব আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে, আতঙ্কের চাপ কমতে থাকে এবং তার নিকট কঠিন কাজগুলো সহজ হতে থাকে। আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহ্র যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহ্র যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়। (সূরা রা’দ-২৮) আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ্ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন। (সূরা আন্কাবুত-৬৯)
পরিপূর্ণ সৌভাগ্য কি? আর কিভাবে তা আমরা অর্জন করব? আর পরিপূর্ণ দুর্ভাগ্য কী? কিভাবে তা থেকে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করব? সৌভাগ্যের সবটুকুই রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ও তাঁর প্রিয় রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের মাঝে; যেমনিভাবে দুর্ভাগ্যের সবটুকুই রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা ও তাঁর প্রিয় রাসূলের অবাধ্যতার মাঝে। আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭১) অন্যত্র আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, সে তো স্পষ্টই পথ ভ্রষ্ট হবে। (সূরা আহযাব-৩৬)
সৌভাগ্যময় জীবনের সঠিক পদ্ধতি প্রত্যক মুসলিম ব্যক্তিই কামনা করে এবং তার উপর ভিত্তি করেই মুসলিম সমাজ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়। সুতরাং মু’মিনদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঐসব উপায়-উপকরণের অধিকাংশ অর্জন করতে পারবে, সে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে এবং উপভোগ করবে পবিত্রময় জীবন। আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তা অর্জনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হবে, তার জীবন অতিবাহিত হবে দুঃখ-কষ্টে। আবার তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাঝামাঝি পর্যায়ের হবে, আল্লাহ প্রদত্ত তাওফীক অনুযায়ী জীবনযাপন করবে। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা, তাঁর সাহায্যেই সকল কল্যাণ অর্জিত হয় এবং অকল্যাণ প্রতিরোধ হয়। আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- সৎকর্মশীলগণ থাকবে জান্নাতে। এবং দুষ্কর্মীরা থাকবে জাহান্নামে। (সূরা ইনফিতার-১৩/১৪)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদের সবাইকে দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্যময় জীবন-পবিত্রময় জীবন অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন …