غض البصر

সমস্ত প্রশংসার মালকি একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা কর,ি তার কাছে সাহায্য র্প্রাথনা কর।ি তার নকিট ক্ষমা ও মাগফরিাত র্প্রাথনা কর।ি আমরা আল্লাহ তা’আলার নকিট প্রবৃত্তজিাত অনষ্টি ও র্কমরে কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হদোয়তে দান করনে, তার কোন ভ্রষ্টকারী নইে। আর যাকে তনিি ভ্রষ্ট করনে, তার কোন হদোয়তেকারী নইে। আমি সাক্ষ্য দচ্ছি,ি আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নইে। তনিি এক, ও একক, তার কোন শরীক নইে। আরও সাক্ষ্য দচ্ছি,ি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবর্তীণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদরে উপর, এবং কয়োমত র্পযন্ত যারা তার পথে ধাবতি হবে ও তার আর্দশরে অনুসরণ করবে তাদরে উপর।
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন ইরশাদ করনে :- হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদরে পালনর্কতাকে ভয় কর, যনিি তোমাদরেকে এক ব্যক্তি থকেে সৃষ্টি করছেনে এবং যনিি তার থকেে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করছেনে; আর বস্তিার করছেনে তাদরে দু’জন থকেে অগণতি পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপররে নকিট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আতœীয় জ্ঞাতদিরে ব্যাপারে সর্তকতা অবল¤¦ন কর। নশ্চিয় আল্লাহ্ তোমাদরে ব্যাপারে সচতেন রয়ছেনে। (সূরা নসিা-১)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরো ইরশাদ করনে :- অতঃপর আল্লাহ্ যাকে পথ-প্রর্দশন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামরে জন্যে উম্মুক্ত করে দনে এবং যাকে বপিথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংর্কীণ অত্যধকি সংর্কীণ করে দনে-যনে সে সবগেে আকাশে আরোহণ করছ।ে এমনি ভাবে যারা বশ্বিাস স্থাপন করে না। আল্লাহ্ তাদরে উপর আযাব র্বষন করনে। (সূরা আন’আম-১২৫)
আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করনে :- হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যমেন ভয় করা উচৎি ঠকি তমেনভিাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২)
মুসলমি ভাইয়রো !  
চোখ হলো মনরে আয়না। যে কোনো গোনাহরে কাজ করার আগে চোখ প্রথমে তা দখেে এবং পরে মনকে প্রলুব্ধ কর।ে তাই চোখরে হফোজত করা মানইে মনরে হফোজত করা। অশ্লীল, হারাম ও নষিদ্ধি কাজ থকেে চোখরে দৃষ্টকিে ফরিয়িে রাখা এবং নকে ও ভালো কাজরে প্রতি চোখ খুলে রাখা ও দখোই হচ্ছে চোখরে কাজ। আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করনে :- বলুন, তনিইি তোমাদরেকে সৃষ্টি করছেনে এবং দয়িছেনে র্কণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা মুলক-২৩)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আরো ইরশাদ করনে :- যে বষিয়ে তোমার কোন জ্ঞান নইে, তার পছিনে পড়ো না। নশ্চিয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদরে প্রত্যকেটইি জজ্ঞিাসতি হব।ে (সূরা ইসরাঈল-৩৬)
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) র্বণনা করনে য,ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলনে, তোমরা রাস্তায় বসে থাকা থকেে বরিত থাক। সাহাবীগণ আরজ করলনে, হে আল্ল¬াহর রাসূল ! আমাদরে প্রয়োজনীয় কথার জন্য রাস্তায় বসার বকিল্প নইে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললনে, যদি তোমাদরে একান্ত বসতইে হয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর। তারা বললনে, হে আল্ল¬াহর রাসূল! রাস্তার হক ক?ি তনিি বললনে, চক্ষু অবনত করা, কষ্ট দওেয়া থকেে বরিত থাকা, সালামরে উত্তর প্রদান করা, সৎকাজরে আদশে ও মন্দ কাজে নষিধে করা। (বুখারী-মুসলমি) হাদীসরে শক্ষিণীয় বষিয় সমূহ (১) ইসলামরে লক্ষ্য উদ্দশ্যে হল সমাজরে প্রত্যকে ব্যক্তকিে কুরুচপর্িূণ আচার-আচরণ ও র্কমকাণ্ড থকেে নষ্কিলুষ করে সৎ-চরত্রি ও আর্দশবান সুনাগরকি হসিবেে গড়ে তোলা। যাতে সমাজরে প্রতটিি মানুষরে মাঝে বরিাজ করে পারস্পরকি মায়া-মমতা ও সৌর্হাদ্য-সম্প্রীত।ি মনে হব,ে যনে তারা একে অন্যরে অবচ্ছিদ্যে অঙ্গ। (২) ইসলাম র্সবাঙ্গ সুন্দর ও র্পূণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। নীতমিালা নর্ধিারণ ও অন্যরে হক সংরক্ষণ ইত্যাদতিে তা পরপর্িূণ ও অনন্য। যা অন্য কোন র্ধমে কংিবা মতার্দশে বরিল, নইে বললইে চল।ে (৩) এই হাদীস প্রমাণ কর,ে রাস্তাঘাট তথা মানুষরে গমনাগমনরে স্থানসমূহ প্রকৃত পক্ষে বসার আসন বা এ কাজে ব্যবহাররে জন্য নয়। অন্যথায় অনকে সমস্যা দখো দয়ে। যমেন, (ক) অন্যায় ও অসামাজকি এবং অশ্ল¬ীল কাজরে বস্তিার ঘাঁ (খ) আকার ইঙ্গতি ও গালি মন্দরে দ্বারা পথচারীকে কষ্ট দয়ো (গ) অর্নথক মানুষরে গোপন রহস্য উদ্ঘাটন করা (ঘ) অযথা সময়রে অপচয় (৪) এ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তার কয়কেটি আদবরে কথা বলছেনে। যথা :- (ক) চক্ষুদ্বয়কে হারাম দৃষ্টি থকেে সংযত রাখা। রাস্তায় যহেতেু নারী সম্প্রদায়কে তাদরে প্রয়োজনরে তাগদিে আসতইে হয় এবং এর কোন বকিল্প নইে, সুতরাং এ ক্ষত্রেে তাদরে প্রতি স্বচ্ছোয় না তাকাতে বলা হয়ছে।ে কনেনা, স্বচ্ছোয় কোন পর নারীর দকিে তাকানোকে ইসলাম হারাম করছে।ে
এ প্রসঙ্গে মহান আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করনে :- মুমনিদরেকে বলুন, তারা যনে তাদরে দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদরে যৌনাঙ্গরে হফোযত কর।ে এতে তাদরে জন্য খুব পবত্রিতা আছ।ে নশ্চিয় তারা যা করে আল্লাহ্ তা অবহতি আছনে। ঈমানদার নারীদরেকে বলুন, তারা যনে তাদরে দৃষ্টকিে নত রাখে এবং তাদরে যৌন অঙ্গরে হফোযত কর।ে তারা যনে যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদরে সৌর্ন্দয প্রর্দশন না করে এবং তারা যনে তাদরে মাথার ওড়না বক্ষ দশেে ফলেে রাখ।ে (সূরা নূর-৩০/৩১)
(খ) পথচারীদরেকে যে কোন প্রকার কষ্ট দওেয়া থকেে বরিত থাকা। যমেন গালমন্দ ঠাট্টা তরিস্কার ইত্যাদ।ি এমনভিাবে যে কোন উপায়ে মুসলমানকে কষ্ট দয়ো, যমেন কারো ঘরে উঁকি দয়িে দখো বা কারো বাড়রি র্পাশ্বে বল খলো ইত্যাদি থকেে বরিত থাকা র্কতব্য। সব ধরনরে কষ্টই হারাম ও পরত্যিাজ্য। (গ) সালামরে উত্তর দওেয়া। এর উপর সমস্ত আলমেগণ একমত যে সালামরে উত্তর ওয়াজবি। মহান আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করনে :- আর যদি তোমাদরেকে সালাম পশে করে তবে তোমরাও তার জন্য এর চয়েে উত্তম সালাম পশে কর অথবা তার সমপরমিাণ কর। (সূরা নসিা-৮৬) তবে হ্যাঁ, সালাম দয়ো ওয়াজবি নয়। বরং সুন্নত, পুণ্যরে কাজ। কনেনা, তা মুসলমানরে জন্য রহমত, বরকত, শান্তি ও নরিাপত্তার জন্য দোয়া। (ঘ) সৎকাজরে আদশে ও অসৎ কাজরে নষিধে। সাধারণত: রাস্তা ঘাটে অন্যায় বা অসৎ কাজরে আধক্যি ঘট।ে
তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসৎ কাজরে নষিধে রাস্তার হক হসিাবে উল্ল¬েখ করছেনে। এবং এই কাজ যে অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ তার প্রমাণ এই য,ে কুরআনরে বহু আয়াত আর রাসূলরে বহু হাদীস এ প্রসঙ্গে ববিৃত। মহান আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করনে : তোমাদরে এমন একটি দল থাকা উচতি যারা মানুষকে কল্যাণরে দকিে আহ্বান করব।ে এক সৎ কাজরে আদশে করবে এবং অসৎ কাজরে নষিধে করব।ে (সূরা আলে ইমরান-১০৪) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনে :- তোমাদরে কউে যখন কোন মন্দ কাজ দখেব,ে তখন সার্মথ্য থাকলে শক্তি প্রয়োগ করে তা প্রতহিত কর। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে কথার দ্বারা তার প্রতবিাদ কর। তাও যদি না পার তাহলে অন্তরে ঘৃণা করতঃ তা প্রতহিতরে চন্তিা ভাবনা করতে থাক। আর এ হল ঈমানরে র্সবশষে দাবি বা স্তর। (মুসলমি, তরিমযিী, ইবনে মাজা, নাসায়ী)
ঈমানদার ভাইয়রো !
পরকালে মানুষরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোই তার অন্যায়রে সাক্ষ্য দবে।ে আল্ল¬াহ তা’আলা  ইরশাদ করনে : আজ আমি তাদরে মুখে মোহর এঁটে দবেো। তাদরে হাতগুলো আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদরে পা-গুলো তাদরে কৃতর্কমরে সাক্ষ্য দবে।ে (সূরা ইয়াসনি-৬৫)। আলোচ্য আয়াতে মানুষরে র্পাথবি জীবনরে বভিন্নি অপর্কমরে সাক্ষ্য প্রদানরে ক্ষত্রেে হাত ও পায়রে ভূমকিার কথা বলা হয়ছে।ে কুরআনরে অন্য আয়াতে মানুষরে র্কণ, চক্ষু ও র্চমরে সাক্ষ্য দানরে কথা উল্লখে রয়ছে।ে হাশররে বভিীষকিাময় ময়দানে উপস্থতি হওয়ার পর সব মানুষ তার পরর্বতী অবস্থা নয়িে শঙ্কতি হয়ে পড়ব।ে প্রকৃত অপরাধীরা সদেনি আল্লাহর ভয়াবহ আজাব থকেে আত্মরক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চষ্টো চালাব।ে প্রথমে প্রত্যকেইে আত্মরর্ক্ষাথে যা কছিু বলার ও ওজর পশে করার তা করতে পারবে এবং নজিদেরে অপরাধ আড়াল করার উদ্দশ্যেে অপরাধীরা মথ্যিার আশ্রয় নবে।ে মুশরকিরা সখোনে কসম করে কুফর ও শরিক অস্বীকার করব।ে কউে কউে বলব,ে ফরেশেতারা আমাদরে আমলনামায় যা কছিু লখিছেে আমরা তা থকেে মুক্ত। তখন আল্লাহ তা’য়ালা তাদরে মুখে মোহর এঁটে দবেনে। যাতে তারা কোনো কছিুই বলতে না পার।ে অতঃপর তাদরেই হাত, পা, চক্ষু, র্কণ, র্চম ও অন্য অঙ্গগুলোকে রাজসাক্ষী করে কথা বলার যোগ্যতা দান করা হব।ে এসব অঙ্গ-প্রতঙ্গ একটা একটা করে র্পাথবি জীবনে অপরাধী র্কতৃক সম্পাদতি সব অন্যায় র্কাযাবলি উন্মোচতি করে দবে।ে অপরাধীরা তখন হতবাক হয়ে যাবে এই ভবেে য,ে র্পাথবি জীবনে যে হাত, পা, চক্ষু, র্কণ, র্চম কখনো কথা বলতে পারত না, তারাই আমাদরে অপরাধগুলো এভাবে আল্লাহর সামনে প্রকাশ করে দচ্ছি!ে আজকরে এই ক্ষণস্থায়ী দুনয়িার জীবনে আমরা একবারও ভবেে দখেি না য,ে আমাদরে শরীররে অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোই এক সময় আমাদরে শত্রু হসিবেে আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য দবে।ে যদি ভাবতাম তাহলে আমাদরে দ্বারা কি চুর,ি ডাকাত,ি ছনিতাই, জনো, ব্যভচিার, মাদক সবেন, র্দুনীত,ি অন্যরে হক নষ্ট প্রভৃতি অন্যায় কাজ করা সম্ভব হতো? পৃথবিীর এই সংক্ষপ্তি জীবনকে একটু আরামদায়ক করার জন্য, স্ত্রীর মন জয় করার জন্য কংিবা সন্তানদরে ভবষ্যিৎ জীবনকে শান্তমিয় করার উদ্দশ্যেে আমরা আমাদরে হাত, পা, চক্ষু, র্কণ, মুখ, জহ্বিা ব্যবহার করে কতই না অন্যায় র্কম করে যাচ্ছ।ি কন্তিু হাশররে ময়দানে আমি নজিে যখন কঠনি মসবিতে পড়ব, আমার এসব অঙ্গ যখন আমাকে জাহান্নামে নয়োর জন্য আমার অপরাধগুলো প্রকাশ করে দবেে তখন আমাকে কে রক্ষা করব?ে অতএব, পরকালীন জীবনরে লাঞ্ছনা এবং জাহান্নামরে কঠনি শাস্তি থকেে আত্মরক্ষা করার জন্য আমাদরে প্রত্যকেরেই উচতি আল্লাহ প্রদত্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোকে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুকুম অনুযায়ী ব্যবহার করা।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদরে সবাইকে দৃষ্টি অবনত করে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন …

فضل الاستغفار

সমস্ত প্রশংসার মালিক আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, আর সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই।
       আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আর সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তার বান্দা ও রাসূল। প্রকৃত বন্ধু ও সৃষ্টিকুলে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি তাকে কিয়ামতের পূর্বে সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং তারই আদেশক্রমে তার প্রতি আহ্বানকারী ও আলো প্রদানকারী প্রদীপ রূপে প্রেরণ করেছেন। কল্যাণের আধার তিনি, স্বীয় উম্মতকে কল্যাণের দিক-নিদর্শনা দিয়েছেন ও সতর্ক করেছেন অনিষ্ট হতে। হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর।   
মুসলিম ভাইয়েরা !
ইস্তেগফার আল্লাহর ইবাদত, মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ইস্তেগফার করার নির্দেশ দিয়েছেন।  আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- আর আল্লাহ্র কাছেই মাগফেরাত কামনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাকারী, করুনাময়। (সূরা বাকারাহ-১৯৯) অন্যত্র আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত ইরশাদ করেন :- এবং আল্লাহ্র কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা কর। (সূরা ফুস্সিলাত-৬)
আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- জেনে রাখুন, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মু’মিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে। আল্লাহ্, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত। (সূরা মুহাম্মদ-১৯)
ইস্তেগফারের কারণে গুনাহ মাফ হয়, বৃষ্টি বর্ষণ হয়, সন্তান ও সম্পদ দ্বারা সাহায্য করা হয় এবং জান্নাতের অধিকারী করা হয়।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, অতঃপর (নূহ (আঃ) বলেছি : তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-স¤পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন। (সূরা নূহ-১০/১২)
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :- হে আমার পালনকর্তা ! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে-তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। (সূরা নূহ-২৮) 
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা (আদম ও হাওয়া (আঃ)-এর তাওবা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন :- তারা উভয়ে  বলল: হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। (সূরা আ’রাফ-২৩) 
হযরত মূসা (আঃ) থেকে অনিচ্ছায় প্রকাশিত কিবতী-হত্যার ঘটনার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন :- তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর যুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা কাসাস-১৬)
ঈমানদার ভাইয়েরা !
আল-হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ইস্তেগফার করার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং প্রতি দিন তিনি নিজেও সত্তুরবারের চেয়েও অধিক আল্লাহর ইস্তিগফার করেছেন।
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন,আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি। আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে বনী আদম, তুমি যতক্ষণ আমাকে ডাকবে ও আমার আশা পোষণ করবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, তোমার থেকে যা কিছুই প্রকাশ পাক, এতে আমি কোন পরোয়া করি না। হে বনী আদম, তোমার গুনাহ যদি ঊর্ধ্বগগন পর্যন্ত পৌছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি সামান্য পরোয়া করি না। হে বনী আদম, তুমি যদি আমার কাছে দুনিয়া ভরা গুনাহ নিয়ে আস, অতঃপর শিরকে লিপ্ত না হয়ে আমার সাথে সাক্ষাত কর, আমি তোমার নিকট যমীন ভরা ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হব। (তিরমিযী)
সাদ্দাদ বিন আউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন বন্দার জন্য সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার হচ্ছে :
اللهم أنت ربى ، لا إله إلا أنت ، خلقتني و أنا عبدك و أنا على عهدك ووعدك ما استطعت ، أعوذبك من شر ما صنعت ، أبوء لك بنعمتك علي ، وأبوء لك بذنبي ، فاغفرلي ، فإنه لا يغفر الذنوب إلا أنت .   
যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে দিনের বেলা এটা পাঠ করে, অতঃপর সে দিনেই সে সন্ধার পূর্বে মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তা পূর্ণ বিশ্বাস রেখে রাতের বেলা এটা পাঠ করে, অতঃপর সে রাতেই সে সকাল হওয়ার পূর্বে মারা যায়, সে জান্নাতবাসী। (বুখারী)  
মুসলিম ভাইয়েরা !
আল্লাহর জন্যে সদকা এবং বেশী বেশী ইস্তেগফার জাহান্নাম থেকে নাযাতের কারণ। ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : হে নারীগণ, তোমরা সদকা কর এবং বেশী বেশী ইস্তেগফার কর। কারণ, আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী দেখেছি। তাদের থেকে এক মহিলা বলল : কী কারণে আমরা অধিকাংশ জাহান্নামী ? তিনি বললেন : তোমরা বেশী বেশী লানত কর এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। আমি তোমাদের মত আকল ও দ্বীনে ত্রুটিপূর্ণ কাউকে দেখিনি, যে বিজ্ঞলোকদের  উপর বিজয়ী হয়। সে বলল : আমাদের আকল ও দ্বীনে ত্রুটি কী ? তিনি বললেন, দুজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান, এবং তোমরা কতক দিন অবস্থান কর, যাতে তোমরা নামায আদায় কর না। (মুসলিম)
ইস্তেগফার সবচেয়ে বড় যিকর, বান্দার উচিত এ যিকর বেশী বেশী করা। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি। ’আল্লাহর শপথ’ প্রতি দিন আমি সত্তুরবারের চেয়েও অধিক আল্লাহর ইস্তিগফার ও তাওবা করি। (বুখারী) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের পরও তিন বার ইস্তিগফার করতেন। (মুসলিম)   

হে আল্লাহ তা’আলা ! আমাদেরকে বেশী বেশী করে ইস্তিগফার ও তাওবা করার তাওফীক দান করুন। আমীন ….

مهلكة المخدرات

       সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। আমরা তার প্রশংসা করি, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তার নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রবৃত্তিজাত অনিষ্ট ও কর্মের কুপ্রভাব হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তা’আলা যাকে হেদায়েত দান করেন, তার কোন ভ্রষ্টকারী নেই। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন, তার কোন হেদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, ও একক, তার কোন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।
হে আল্লাহ ! সালাত, সালাম ও বরকত অবতীর্ণ করুন তার উপর, তার বংশধর ও সাহাবাদের উপর, এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তার পথে ধাবিত হবে ও তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-ইমরান-১০২)
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আরো ইরশাদ করেন :- হে মানব সমাজ ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবল¤¦ন কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। (সূরা নিসা-১)
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত আরো ইরশাদ করেন :- হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সূরা আহযাব-৭০/৭১)
মুসলিম ভাইয়েরা !
       ইসলাম মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এতে জীবনের প্রতিটি বিষয় সুবিন্যস্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলাম মানুষকে এমন নীতি নৈতিকতা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়ে থাকে, যার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, ধন-সম্পদ ও মান-মর্যাদা সংরক্ষিত হয় এবং মানুষের ঈমান ও চরিত্রের হিফাজত হয়। আল্লাহ তা’আলা তার নবীর গুণ বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন : তিনি (রাসূল) তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তূ হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তূসমূহ (সূরা আ’রাফ-১৫৭) আর মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী ধ্বংসাত্মক ও অপবিত্র বস্তু হলো অনুভুতিনাশক পদার্থ, নেশাজাতীয় বস্তু, মাদকদ্রব্য। কারণ; মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের বোধশক্তি ও জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেতে থাকে, যখন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়, তখন তার দ্বীন-ধর্ম, ধন-সম্পদ, মান-সম্মান,
এমন কী তার জীবনও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়ে যায়। আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পর¯পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহ্র স¥রণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে ? (সূরা মায়িদা-৯০/৯১)
ঈমানদার ভাইয়েরা !
       ইসলাম মাদকদ্রব্যকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যে ব্যক্তি পৃথিবীতে মদপান করল এবং তা থেকে তাওবা করল না, সে আখেরাতে শরাব পান থেকে বঞ্চিত থাকবে। (বুখারী) ইসলামের আবির্ভাবের আগে পৃথিবীতে নানা কুসংস্কারের প্রচলন ছিল। তন্মধ্যে জুয়া, পাশা, মাদকাসক্তি ইত্যাদি ছিল অন্যতম। মাদকাসক্তিতে পূর্ণ এ সমাজ ব্যবস্থাকে আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে স¤পূর্ণ আদর্শ সমাজে পরিণত করলেন। সে সমাজে ছিল না কোনো অপসংস্কৃতি, ছিল না কোনো মাদকাসক্তি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চেষ্টা করেছেন মানুষের হƒদয়ে পরিবর্তন আনতে এবং অন্তরে তাক্ওয়া ও আনুগত্য সৃষ্টি করতে। তাইতো দেখা যায় মদ নিষিদ্ধ হওয়ার ঘোষণা প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মদীনার মুসলমানদের মধ্যে যারা মদপান করতেন তারা এমন আনুগত্য প্রকাশ করলেন যে, কারো হাতে মদের পাত্র আছে, এক চুমুক পান করছেন নির্দেশ শোনার পরপরই পাত্র মুখ থেকে পৃথক করে ফেললেন এবং দ্বিতীয়বার আরেক চুমুক পান করা থেকে বিরত থাকলেন। আর পাত্র হাত থেকে ছুড়ে ফেলে দিলেন। যাদের ঘরে মদ মজুদ ছিল তারা সব মদ নালা-নর্দমায় ফেলে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মনে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে নৈতিক উন্নয়নের যে বিপ¬ব সৃষ্টি করেন তা ছিল অনন্য ও অসাধারণ।
আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতু®পদ জন্তুরমত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। (সূরা আ’রাফ-১৭৯)
মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা সাধারণতঃ যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে তা হলো : প্রথমতঃ শারীরিক ক্ষতি; যেমন,স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়া, শরীর দুর্বল হওয়া, শক্তি কমে যাওয়া, সে ব্যক্তি নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। এই মর্মে আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- আর ব্যয় কর আল্লাহ্র পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ্ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন। (সূরা বাকারা-১৯৫) দ্বিতীয়ঃ জ্ঞান-বুদ্ধির ক্ষতি; নেশাসেবীরা জ্ঞান শুন্য হয়ে মাতাল হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন : প্রত্যেক নেশাজাতীয় জিনিসই মদ, প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তুই হারাম। (মুসলিম)
তৃতীয়ঃ ধন-সম্পদের ক্ষতি; মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা অযথা মাল-সম্পদ নষ্ট করে থাকে, পানির মত সম্পদ ব্যয় করে। এই মর্মে আল্ল¬াহ তা’আলা ইরশাদ করেন :- এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান ¯¦ীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (সূরা বনী-ইসরাইল-২৬/২৭)
আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা আ’রাফ-৩১)
চতুর্থঃ সামাজিক ক্ষতি; মাদকদ্রব্য গ্রহণের কারণে সামাজিক যে ক্ষতি হয় তা দিবালোকের মত স্পষ্ট, অনেক প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটে। ঘর-বাড়ি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়,আত্মীয়তা বিনষ্ট হয়, মানুষ-মানুষে বিভেদ সৃষ্টি হয়, সম্পদের ক্ষতি হয়। আল্ল¬াহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন :- আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে খুব শীঘ্রই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটা আল্লাহ্র পক্ষে খুবই সহজসাধ্য। (সূরা নিসা-২৯/৩০) এ মর্মে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ক্ষতি করা উচিত নয়, আর ক্ষতির পরিবর্তে ক্ষতি করাও উচিত নয়। (আহমদ ও ইবনে মাযা) 
মুসলিম ভাইয়েরা !
       বিপজ্জনক মাদকাসক্তি থেকে আমাদের যুব সমাজকে বাচাতে হলে এই ধ্বংসাত্মক মাদকদ্রব্য থেকে তাদেরকে রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। অনেক সময় অসৎ বন্ধুদের সংস্পর্শের পরিণতি হয় বিপজ্জনক; অসৎ লোকদের সাথে চলাফেরার ফলে তার ভাগ্যে নেমে আসে সীমাহীন দূর্ভোগ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সাথে বন্ধুত্বের ফলে এক পর্য্যায়ে সেও মাদকদ্রব্য গ্রহনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই পিতা-মাতার কর্তব্য হলো সন্তানাদীকে ভাল ও সৎসঙ্গে চলার এবং মন্দ ও অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে থাকার উপদেশ দেয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক ব্যক্তিই তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠে, কাজেই তোমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত কার সাথে বন্ধুত্ব করছ। (তিরমিজী)
প্রত্যেক মুসলমানের উপর কর্তব্য যে, তার অধিনস্তদের সর্তক করা, সন্তানাদীকে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দেয়া, উত্তম ও পবিত্র বস্তুসমূহ গ্রহণ করার অনুপ্রেরণা দান করা, অপবিত্র বস্তুসমূহ থেকে বিরত রাখা এবং ছোট বেলা থেকেই সন্তানাদীকে নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া, কেননা নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমরা প্রত্যেকেই (রাখালের মত) দেখাশুনাকারী, আর এ দেখাশুনার ব্যাপারে প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
এই বিপজ্জনক মাদকাসক্তি থেকে পরিত্রানের উপায় হলো; অন্তরে আল্লাহ্ভীতি লালন করা। যে সত্যিকার ভাবে আল্লাহকে ভয় করবে সে অবশ্যই যাবতীয় অন্যায় ও পাপাচার থেকে বেচে থাকতে পারবে। আত্ম সচেতনতাই মানুষকে মহৎ ও উন্নত করার জন্য যতেষ্ট। বর্তমান বিশ্বে মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সমস্যা। মাদকদ্রব্যের বিস্তারের ফলে বিভিন্ন দেশে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তির ব্যাপকতার কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নেমে আসছে ভয়াবহ দুর্যোগ। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ মেনে চলা, আল¬াহ তা’আলার ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহিতা ইত্যাদি মৌলিক ন্যায়নীতির প্রতি বিশ্বাসী হয়ে চলা ছাড়া মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির বিকল্প কোনো পথ নেই। সব ধরনের মাদকাসক্তি ও অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তিলাভ করতে হলে ইসলাম প্রদত্ত সমাজব্যবস্থার দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন ….