সূরাহ আল-গাশিয়াহ্ تفسير سورة الغاشية

সূরাহ আল-গাশিয়াহ্     নাম ঃ পয়লা আয়াতের গাশিয়াহ্ শব্দ থেকেই সূরাহটির এ নাম দেয়া হয়েছে।     নাযিলের সময় ও পরিবেশ ঃ সূরাহটির গোটা আলোচনাই প্রমাণ দেয় যে, এ সূরাহ মাক্কী যুগের প্রথম ভাগেই নাযিল হয়। অবশ্য মাক্কী যুগের ঐ সময়ই সূরাহটি নাযিল হয়, তখন রাসূল (সাঃ) প্রকাশ্যে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া শুরু করেছেন এবং লোকেরা তাঁর দাওয়াত কবুল করতে রাযী হচ্ছিল না।      আলোচনার বিষয় ঃ তাওহীদ ও আখিরাত।     (১) পয়লা আয়াতে আখিরাতের জীবন সম্পর্কে অমনোযোগী জনগণকে চমকিয়ে দিয়ে তাদের সামনে হঠাৎ এ প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়েছে যে, “ঐ ভয়াবহ সময়টার কথা কি তোমরা জান, যখন এক মহাবিপদ সারাটা দুনিয়াকে ছেয়ে ফেলবে?” এ আয়াতের পরপরই ঐ ভয়ানক দিনের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে, যখন সব মানুষ দু’দলে ভাগ হয়ে যাবে এবং দু’রকম পরিণাম দেখতে পাবে।     (২) ২-৭ আয়াতে ঐ দলের বিবরণ রয়েছে, যারা দোযখে যাবে। তারা কেমন কঠিন আযাব ভোগ করবে, তার একটা স্পষ্ট ধারণা এসব আয়াতে দেয়া হয়েছে।      (৩) ৮-১৬ আয়াতে ঐ দলের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যারা উন্নত মানের বেহেশতে যাবে। সেখানে তাদের জন্য কেমন নিয়ামাতের ব্যবস্থা করা হবে, তার বিবরণ এসব আয়াতে দেয়া হয়েছে।     (৪) এভাবে দোযখ ও বেহেশতের বিবরণ দেবার পর হঠাৎ আলোচনার বিষয় বদলিয়ে ১৭-২০ আয়াতে কতক প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, যারা কুরআনের শিক্ষা ও আখিরাতের বিবরণ শুনে নাক সিটকায়, তারা কি ঐসব জিনিসের দিকে খেয়াল করে না, যা তারা সব সময় দেখছে? তারা কি অবুঝ জানোয়ারের মতো শুধু চোখ দিয়েই দেখছে, মগয খাটিয়ে একটু চিন্তা করছে না? আরবের মরুভূমিতে যে উটের উপর তাদের জীবন নির্ভর করে, সে উট কিভাবে মরু-জীবনের উপযোগী হয়ে পয়দা হলো, সে কথা কি তারা চিন্তা করে দেখেছে? তারা কি একটু ভেবে দেখে না যে, তাদের উপর বিরাট আসমান কোথা থেকে এলো? তাদের সামনে এসব পাহাড় কেমন করে খাড়া হয়ে গেলো? যে জমিনে তারা বাস করছে, তা কিভাবে মানুষের বাস করার যোগ্য বিছানায় পরিণত হলো? তারা কি মনে করে যে, এসব কোন মহাশক্তিমান, মহাকৌশলী কারিগর ছাড়া এমনিই হয়ে গেছে?      আল্লাহ  পাক এ প্রশ্নগুলোর কোন জওয়াব দেয়ার দরকার মনে করেন নি। কারণ, মানুষের চিন্তাশক্তি ও জ্ঞান-বুদ্ধি এটুকু যুক্তি মেনে নিতে বাধ্য যে, আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, নদী-নালা, জীব-জানোয়ারে এত সুন্দর করে সাজানো এ দুনিয়া আপনা-আপনি হয়ে যায় নি। এক মহাকৌশলী স্রষ্টা ছাড়া এসব পয়দা হতে পারে না এবং এ মহাকারিগরী একই মহাপরিকল্পনার ফল। আর কোন শক্তি এ ব্যাপারে তাঁর শরীক নেই। একাধিক পরিকল্পনাকারী থাকলে গোটা সৃষ্টি এমন শৃঙ্খলার সাথে চলতে পারতো না।     যুক্তি, বুদ্ধি ও বিবেক এসব কথা মানতে বাধ্য হয়ে থাকলে ঐ মহাপ্রকৌশলীকে একমাত্র রব ও মুনীব মানতে আপত্তি কেন? যদি একথা বাধ্য হয়েও স্বীকার করতে হয় যে, তিনিই সবকিছু পয়দা করেছেন, তাহলে কিয়ামাতের পর আবার একটি জগত পয়দা করার শক্তি তাঁর আছে বলে স্বীকার করতে বাধা কোথায়?      (৫) এভাবে কাফিরদের বিবেক-বুদ্ধিতে খোঁচা দিয়ে অতি সহজ যুক্তি দ্বারা তাওহীদ ও আখিরাতের সত্যতা বুঝিয়ে দেবার পর ২১ ও ২২ আয়াতে রাসূল (সাঃ)-কে সম্বোধন করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, হে রাসূল, এরা আপনার কথা মানুক বা না মানুক তাতে আপনার কিছুই আসে-যায় না। আপনাকে তাদের উপর দারোগা বানিয়ে পাঠানো হয় নি যে, তাদেরকে মানতে বাধ্য করেই ছাড়বেন। তাদেরকে শুধু বুঝাবার চেষ্টা করাই আপনার দায়িত্ব। আপনি তাদেরকে বুঝাতে থাকুন। উপদেশ কবুল করা না করা তাদের দায়িত্ব।     (৬) ২৩-২৬ আয়াতে বলা হয়েছে যে, যারা এরপরও তাওহীদ ও আখিরাত থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে, তাদেরকে কঠোর আযাব দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। তখন তাদের চুলচেরা হিসাব নেবার দায়িত্ব আমার। তাদেরকে আমার হাতেই ছেড়ে দিন। আপনার কথা না মানার কারণে আপনি পেরেশান হবেন না। না মানার ফল তাদেরকেই ভোগ করতে হবে। তারা আসুক আমার কাছে। আমি তাদেরকে এমনিই ছেড়ে দেবো না। বিশেষ শিক্ষা     ২১ ও ২২ আয়াতে আল্লাহ  পাক এ কথাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, কোন মানুষকে হিদায়াত দান করার দায়িত্ব রাসূলকে দেয়া হয়নি।  রাসূলের দায়িত্ব হলো মানুষকে বুঝাবার চেষ্টা করা। রাসূলের উপদেশ কবুল করা বা না করা তাদের দায়িত্ব, যাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করা হয়। আল্লাহ  পাক প্রত্যেক মানুষকেই বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে সর্ববিষয়ে নিজেদের খুশীমতো সিদ্ধান্ত নেবার দায়িত্ব দিয়েছেন। ভাল ও মন্দ বাছাই করার যোগ্যতা সত্ত্বেও মানুষ নাফসের তাড়নায় ও শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বা অন্য মানুষের কুবুদ্ধি নিয়ে বিবেকের বিরুদ্ধে  সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে। তাই আল্লাহ  মানুষকে এখানে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবার তাকিদ দিয়েছেন। ১। এখানে চেহারা মানে মানুষ। চেহারাই মানুষের সবচেয়ে উল্লেখ  যোগ্য জিনিস বলে ‘কতক লোক’ না বলে ‘কতক চেহারা’ বলা হয়েছে। ২। মানে, আখিরাত সম্ভব নয় বলে এরা মনে করে? চারপাশের দুনিয়ার দিকে খেয়াল করে কি এরা কখনো দেখে না যে, উট কেমন করে পয়দা হয়ে গেল? আসমান কী করে হলো? পাহাড় কিভাবে কায়েম হলো? জমিন কী করে বিছানো হলো? এসব জিনিস যদি তৈরি হতে পারে এবং তৈরি অবস্থায় এদের সামনে হাজির থাকতে পারে, তাহলে কিয়ামাত কেন আসতে পারবে না? আখিরাতে আর একটি জগত কেন পয়দা হতে পারবে না? দোযখ ও বেহেশত কেন হতে পারে না?

সূরাহ আল-গাশিয়াহ্ মাক্কী যুগে নাযিল মাট আয়াত ঃ ২৬   মোট রুকু  ঃ ১ বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম ১. তোমার কাছে কি ঐ বিপদের খবর পৌঁছেছে, যা সব কিছু ঢেকে ফেলবে?২-৩-৪. কতক চেহারা সেদিন ভয়ে কাতর হবে,১ কঠোর পরিশ্রমে রত হবে, দারুণ কাহিল হয়ে পড়বে। ভয়ানক আগুনে ঝলসে যেতে থাকবে।৫. ফুটন্ত গরম পানির ঝরনা থেকে তাদের পান করতে দেয়া হবে।৬-৭. কাঁটাওয়ালা শুকনা ঘাস ছাড়া আর কোন খাবার তাদের জন্য থাকবে না। (যে খাবার) তাদের পুষ্টও করবে না, ক্ষিধেও মেটাবে না।৮. কতক চেহারা সেদিন উজ্জ্বল থাকবে।৯. নিজেদের চেষ্টা-সাধনার (সুফল দেখে) তারা খুশী হবে। ১০. তারা উঁচু দরের বেহেশতে থাকবে।১১. সেখানে তারা কোন বাজে কথা শুনবে না।
১২. সেখানে বহমান ঝরনা থাকবে।
১৩. সেখানে উঁচু আসন থাকবে।  ১৪. পান পাত্র সাজানো থাকবে।

১৫-১৬. ঠেস দেবার বালিশগুলো সারি বাঁধা থাকবে এবং দামী নরম শয্যা বিছানো থাকবে। ১৭. (এরা যে আল্লাহ কে মানে না) তবে কি এরা উটকে দেখে না কিভাবে তাকে তৈরি করা হয়েছে?
১৮. আর আসমানকে (দেখে না) কেমন উঁচু করা হয়েছে?১৯. আর পাহাড়কে (দেখে না) কেমন শক্তভাবে দাঁড় করানো হয়েছে?২০. আর জমিনকে (দেখে না) কিভাবে বিছানো হয়েছে?২২১. তাহলে (হে রাসূল!) আপনি উপদেশ দিতে থাকুন। আপনি তো শুধু উপদেশ দাতাই। ২২. আপনি তাদের উপর বল প্রয়োগকারী নন।
২৩-২৪. অবশ্য যে মুখ ফিরিয়ে রাখবে ও কুফরী করবে, আল্লাহ  তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন। ২৫. এদেরকে আমারই দিকে ফিরে আসতে হবে।২৬. এরপর তাদের হিসাব নেয়া আমারই দায়িত্ব। * هل أتاك حديث الغاشية * ১ وجوه يومئذ خاشعة * عاملة ناصبة .تصلى نارا حامية * ২-৩-৪ تسقى من عين آنية ،—. ৫
ليس لهم طعام إلا من صريع .لا يسمن ولا يغني من  جوع.৬-৭وجوه يومئذ الناعمة.——৮ لسعيها راضية .——– ৯  في جنة عالية .——-১০
لا تسمع فيها لاغية .——- ১১
فيها عين جارية .———-১২
فيها سرر مرفوعة .——-১৩
وأكواب موضوعة .—- ১৪
ونمارق مصفوفة * و زرابى مبثوثة . ১৫-১৬
أفلا ينظرون إلى الإبل كيف خلقت.—১৭وإلى السماء كيف رفعت .—১৮وإلى الجبال كيف نصبت. – ১৯
وإلى الأرض كيف سطحت . –২০
فذكر إنما أنت مذكر .— ২১
لست عليهم بمصيطر .—২২إلا من تولى و كفر * فيعذبه الله العذاب الأكبر.—২৩-২৪২৩-২৪.إن إلينا إيابهم .—২৫ثم إن علينا حسابهم .– ২৬

সূরাহ আল-গাশিয়াহ্ تفسير سور

সূরাহ আল-গাশিয়াহ্
নাম ঃ পয়লা আয়াতের গাশিয়াহ্ শব্দ থেকেই সূরাহটির এ নাম দেয়া হয়েছে।
নাযিলের সময় ও পরিবেশ ঃ সূরাহটির গোটা আলোচনাই প্রমাণ দেয় যে, এ সূরাহ মাক্কী যুগের প্রথম ভাগেই নাযিল হয়। অবশ্য মাক্কী যুগের ঐ সময়ই সূরাহটি নাযিল হয়, তখন রাসূল (সাঃ) প্রকাশ্যে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া শুরু করেছেন এবং লোকেরা তাঁর দাওয়াত কবুল করতে রাযী হচ্ছিল না।
আলোচনার বিষয় ঃ তাওহীদ ও আখিরাত।
(১) পয়লা আয়াতে আখিরাতের জীবন সম্পর্কে অমনোযোগী জনগণকে চমকিয়ে দিয়ে তাদের সামনে হঠাৎ এ প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়েছে যে, “ঐ ভয়াবহ সময়টার কথা কি তোমরা জান, যখন এক মহাবিপদ সারাটা দুনিয়াকে ছেয়ে ফেলবে?” এ আয়াতের পরপরই ঐ ভয়ানক দিনের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে, যখন সব মানুষ দু’দলে ভাগ হয়ে যাবে এবং দু’রকম পরিণাম দেখতে পাবে।
(২) ২-৭ আয়াতে ঐ দলের বিবরণ রয়েছে, যারা দোযখে যাবে। তারা কেমন কঠিন আযাব ভোগ করবে, তার একটা স্পষ্ট ধারণা এসব আয়াতে দেয়া হয়েছে।
(৩) ৮-১৬ আয়াতে ঐ দলের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যারা উন্নত মানের বেহেশতে যাবে। সেখানে তাদের জন্য কেমন নিয়ামাতের ব্যবস্থা করা হবে, তার বিবরণ এসব আয়াতে দেয়া হয়েছে।
(৪) এভাবে দোযখ ও বেহেশতের বিবরণ দেবার পর হঠাৎ আলোচনার বিষয় বদলিয়ে ১৭-২০ আয়াতে কতক প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, যারা কুরআনের শিক্ষা ও আখিরাতের বিবরণ শুনে নাক সিটকায়, তারা কি ঐসব জিনিসের দিকে খেয়াল করে না, যা তারা সব সময় দেখছে? তারা কি অবুঝ জানোয়ারের মতো শুধু চোখ দিয়েই দেখছে, মগয খাটিয়ে একটু চিন্তা করছে না? আরবের মরুভূমিতে যে উটের উপর তাদের জীবন নির্ভর করে, সে উট কিভাবে মরু-জীবনের উপযোগী হয়ে পয়দা হলো, সে কথা কি তারা চিন্তা করে দেখেছে? তারা কি একটু ভেবে দেখে না যে, তাদের উপর বিরাট আসমান কোথা থেকে এলো? তাদের সামনে এসব পাহাড় কেমন করে খাড়া হয়ে গেলো? যে জমিনে তারা বাস করছে, তা কিভাবে মানুষের বাস করার যোগ্য বিছানায় পরিণত হলো? তারা কি মনে করে যে, এসব কোন মহাশক্তিমান, মহাকৌশলী কারিগর ছাড়া এমনিই হয়ে গেছে?
আল্লাহ  পাক এ প্রশ্নগুলোর কোন জওয়াব দেয়ার দরকার মনে করেন নি। কারণ, মানুষের চিন্তাশক্তি ও জ্ঞান-বুদ্ধি এটুকু যুক্তি মেনে নিতে বাধ্য যে, আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, নদী-নালা, জীব-জানোয়ারে এত সুন্দর করে সাজানো এ দুনিয়া আপনা-আপনি হয়ে যায় নি। এক মহাকৌশলী স্রষ্টা ছাড়া এসব পয়দা হতে পারে না এবং এ মহাকারিগরী একই মহাপরিকল্পনার ফল। আর কোন শক্তি এ ব্যাপারে তাঁর শরীক নেই। একাধিক পরিকল্পনাকারী থাকলে গোটা সৃষ্টি এমন শৃঙ্খলার সাথে চলতে পারতো না।
যুক্তি, বুদ্ধি ও বিবেক এসব কথা মানতে বাধ্য হয়ে থাকলে ঐ মহাপ্রকৌশলীকে একমাত্র রব ও মুনীব মানতে আপত্তি কেন? যদি একথা বাধ্য হয়েও স্বীকার করতে হয় যে, তিনিই সবকিছু পয়দা করেছেন, তাহলে কিয়ামাতের পর আবার একটি জগত পয়দা করার শক্তি তাঁর আছে বলে স্বীকার করতে বাধা কোথায়?
(৫) এভাবে কাফিরদের বিবেক-বুদ্ধিতে খোঁচা দিয়ে অতি সহজ যুক্তি দ্বারা তাওহীদ ও আখিরাতের সত্যতা বুঝিয়ে দেবার পর ২১ ও ২২ আয়াতে রাসূল (সাঃ)-কে সম্বোধন করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, হে রাসূল, এরা আপনার কথা মানুক বা না মানুক তাতে আপনার কিছুই আসে-যায় না। আপনাকে তাদের উপর দারোগা বানিয়ে পাঠানো হয় নি যে, তাদেরকে মানতে বাধ্য করেই ছাড়বেন। তাদেরকে শুধু বুঝাবার চেষ্টা করাই আপনার দায়িত্ব। আপনি তাদেরকে বুঝাতে থাকুন। উপদেশ কবুল করা না করা তাদের দায়িত্ব।
(৬) ২৩-২৬ আয়াতে বলা হয়েছে যে, যারা এরপরও তাওহীদ ও আখিরাত থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে, তাদেরকে কঠোর আযাব দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। তখন তাদের চুলচেরা হিসাব নেবার দায়িত্ব আমার। তাদেরকে আমার হাতেই ছেড়ে দিন। আপনার কথা না মানার কারণে আপনি পেরেশান হবেন না। না মানার ফল তাদেরকেই ভোগ করতে হবে। তারা আসুক আমার কাছে। আমি তাদেরকে এমনিই ছেড়ে দেবো না।
বিশেষ শিক্ষা
২১ ও ২২ আয়াতে আল্লাহ  পাক এ কথাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, কোন মানুষকে হিদায়াত দান করার দায়িত্ব রাসূলকে দেয়া হয়নি।  রাসূলের দায়িত্ব হলো মানুষকে বুঝাবার চেষ্টা করা। রাসূলের উপদেশ কবুল করা বা না করা তাদের দায়িত্ব, যাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করা হয়।
আল্লাহ  পাক প্রত্যেক মানুষকেই বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে সর্ববিষয়ে নিজেদের খুশীমতো সিদ্ধান্ত নেবার দায়িত্ব দিয়েছেন। ভাল ও মন্দ বাছাই করার যোগ্যতা সত্ত্বেও মানুষ নাফসের তাড়নায় ও শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বা অন্য মানুষের কুবুদ্ধি নিয়ে বিবেকের বিরুদ্ধে  সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে। তাই আল্লাহ  মানুষকে এখানে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবার তাকিদ দিয়েছেন।
১।     এখানে চেহারা মানে মানুষ। চেহারাই মানুষের সবচেয়ে উল্লেখ  যোগ্য জিনিস বলে ‘কতক লোক’ না বলে ‘কতক চেহারা’ বলা হয়েছে।
২।     মানে, আখিরাত সম্ভব নয় বলে এরা মনে করে? চারপাশের দুনিয়ার দিকে খেয়াল করে কি এরা কখনো দেখে না যে, উট কেমন করে পয়দা হয়ে গেল? আসমান কী করে হলো? পাহাড় কিভাবে কায়েম হলো? জমিন কী করে বিছানো হলো? এসব জিনিস যদি তৈরি হতে পারে এবং তৈরি অবস্থায় এদের সামনে হাজির থাকতে পারে, তাহলে কিয়ামাত কেন আসতে পারবে না? আখিরাতে আর একটি জগত কেন পয়দা হতে পারবে না? দোযখ ও বেহেশত কেন হতে পারে না?

সূরাহ আল-গাশিয়াহ্ মাক্কী যুগে নাযিল মাট আয়াত ঃ ২৬   মোট রুকু  ঃ ১
বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
১. তোমার কাছে কি ঐ বিপদের খবর পৌঁছেছে, যা সব কিছু ঢেকে ফেলবে?
২-৩-৪. কতক চেহারা সেদিন ভয়ে কাতর হবে,১ কঠোর পরিশ্রমে রত হবে, দারুণ কাহিল হয়ে পড়বে। ভয়ানক আগুনে ঝলসে যেতে থাকবে।
৫. ফুটন্ত গরম পানির ঝরনা থেকে তাদের পান করতে দেয়া হবে।
৬-৭. কাঁটাওয়ালা শুকনা ঘাস ছাড়া আর কোন খাবার তাদের জন্য থাকবে না। (যে খাবার) তাদের পুষ্টও করবে না, ক্ষিধেও মেটাবে না।
৮. কতক চেহারা সেদিন উজ্জ্বল থাকবে।
৯. নিজেদের চেষ্টা-সাধনার (সুফল দেখে) তারা খুশী হবে।
১০. তারা উঁচু দরের বেহেশতে থাকবে।
১১. সেখানে তারা কোন বাজে কথা শুনবে না।

১২. সেখানে বহমান ঝরনা থাকবে।

১৩. সেখানে উঁচু আসন থাকবে।
১৪. পান পাত্র সাজানো থাকবে।

১৫-১৬. ঠেস দেবার বালিশগুলো সারি বাঁধা থাকবে এবং দামী নরম শয্যা বিছানো থাকবে।
১৭. (এরা যে আল্লাহ কে মানে না) তবে কি এরা উটকে দেখে না কিভাবে তাকে তৈরি করা হয়েছে?

১৮. আর আসমানকে (দেখে না) কেমন উঁচু করা হয়েছে?
১৯. আর পাহাড়কে (দেখে না) কেমন শক্তভাবে দাঁড় করানো হয়েছে?
২০. আর জমিনকে (দেখে না) কিভাবে বিছানো হয়েছে?২
২১. তাহলে (হে রাসূল!) আপনি উপদেশ দিতে থাকুন। আপনি তো শুধু উপদেশ দাতাই।
২২. আপনি তাদের উপর বল প্রয়োগকারী নন।

২৩-২৪. অবশ্য যে মুখ ফিরিয়ে রাখবে ও কুফরী করবে, আল্লাহ  তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন।
২৫. এদেরকে আমারই দিকে ফিরে আসতে হবে।
২৬. এরপর তাদের হিসাব নেয়া আমারই দায়িত্ব।     * هل أتاك حديث الغاشية * ১
وجوه يومئذ خاشعة * عاملة ناصبة .تصلى نارا حامية * ২-৩-৪
تسقى من عين آنية ،—. ৫

ليس لهم طعام إلا من صريع .
لا يسمن ولا يغني من  جوع.৬-৭
وجوه يومئذ الناعمة.——৮
لسعيها راضية .——– ৯
في جنة عالية .——-১০

لا تسمع فيها لاغية .——- ১১

فيها عين جارية .———-১২

فيها سرر مرفوعة .——-১৩

وأكواب موضوعة .—- ১৪

ونمارق مصفوفة * و زرابى مبثوثة . ১৫-১৬

أفلا ينظرون إلى الإبل كيف خلقت.—১৭
وإلى السماء كيف رفعت .—১৮
وإلى الجبال كيف نصبت. – ১৯

وإلى الأرض كيف سطحت . –২০

فذكر إنما أنت مذكر .— ২১

لست عليهم بمصيطر .—২২
إلا من تولى و كفر * فيعذبه الله العذاب الأكبر.—২৩-২৪
২৩-২৪.
إن إلينا إيابهم .—২৫
ثم إن علينا حسابهم .– ২৬