বিশ্ব নবীর ক্ষমার দৃষ্টান্ত

muhammad

বনু হানিফা গোত্র। দুর্ধর্ষ এক কুচক্রী গোত্র এটি। বহু অপরাধের ধারক-বাহক এই গোত্রের লোকেরা। মুসাইলামার মতো মিথ্যুক নবীর জন্ম এই গোত্রে। এই গোত্রেরই প্রচণ্ড বিদ্বেষী ও খুনি সরদার সুমামা ইবনুল আদাল।

বহু খুনে তার হাত রঞ্জিত হয়েছে। অসংখ্য মুসলমানের সর্বনাশ হয়েছে তার হাতে। এবার সে বন্দী। সবাই তার কতলের জন্য দাবি তুলল। ইসলামের এই বড় দুশমনের একমাত্র শাস্তি হলো কতল।

বন্দীকে হাজির করা হলো নবীজীর কাছে। তিনি বন্দীর দিকে তাকালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কি কিছু হয়েছে” বন্দী বলল, হে মুহাম্মদ! আপনি যদি আমাকে হত্যা করেন তাহলে একজন বড় দুশমন, অপরাধী ও হত্যাকারীকেই হত্যা করবেন।

আর যদি দয়া করেন তাহলে একজন সত্যিকার অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করবেন। আর তা না করে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিলে বলুন তাহলে কত মুক্তিপণ দিতে হবে? সুমামার কথা শুনে রাসূল (সা) চুপ থাকলেন এবং কিছু না বলে উঠে চলে গেলেন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও একই প্রশ্ন করল সুমামা, এ দিনেও নবীজী আর কোনো কথাই বললেন না। সুমামা জানত মৃত্যুই তার শাস্তি। এ জন্য সে প্রস্তুতও ছিল।

একদিন অকস্মাৎ নবী (সা) সুমামাকে… মুক্ত করে দিতে এক সাহাবিকে নির্দেশ দিলেন। সাহাবি তাই করল। নবীজীর কাণ্ড দেখে বিস্মিত হলো সুমামা। এটা যে কল্পনাও করা যায় না। মুক্ত হয়ে সে চলে গেল নীরবে।

সাহাবিরা ভাবলেন সুমামা আবার গোত্রের লোকদের নিয়ে আক্রমণের প্রস্তুতি নেবে। কিন্তু না, একটু পরেই সে ফিরে এলো নবীজীর নিকট। মদীনার উপকণ্ঠে একটা কূপ থেকে গোসল সেরে এসেছে সুমামা।

এসেই নবীজীকে মিনতির সুরে বলল, আমাকে সত্য ধর্মের দীক্ষা দিন। নবীজী তাকে ভাবতে বললেন। সুমামা বলল না, এখনই আমি সত্য ধর্মে ফিরে আসতে চাই। সে আবেগভরা কণ্ঠে জানাল,

এই শহর ছিল আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য আর আজ তা হলো সবচেয়ে প্রিয়। একটু আগেও এই ধর্ম ছিল আমার কাছে সবচেয়ে জঘন্য, আর এখন সবচেয়ে উত্তম। আর আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় মানুষ আমার আর কেউ নেই।

আল্লাহু আকবার

এ কথা বলেই সুমামা ইবনুল আদাল নবী (সা)-এর পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। ক্ষমার মহিমায় রাসূলুল্লাহ (সা) মানুষকে এভাবেই আপন করে নিলেন, দীক্ষিত করলেন আল্লাহর দ্বীন ইসলামে।

মহানবী( সা)-এর জীবনের প্রতিটি ঘটনায় তিনি যে উত্তম আচরণ, আদর্শ পেশ করেছেন তারই কারণে ইসলাম হয়েছিল বিজয়ী। দুনিয়াজুড়ে ইসলাম মানুষের মুক্তির দিশা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

আজো এই মহান আদর্শ ফুরিয়ে যায়নি। আমরা মুসলমানেরা সেই উত্তম আদর্শ থেকে বিচ্যুত বলেই আমাদের আজকের এই দুর্দশা। আমরা যেন মহানবী (সা)-এর আদর্শে উদ্ভাসিত হতে পারি, আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন।আমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *