মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কি….?

 মৃত্যু একটি বাস্তব সত্য যা প্রতিটি প্রাণীকেই বরণ করতে হবে। অথচ এর জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত নই।এ ব্যপারে আমরা সকলেই অবগত আছি যে মৃত্যু অবদারীত সত্য। মৃত্যুর পর আমাদেরকে কোথায় যেতে হবে কোথায় থাকতে হবে আমরা সবাই জানি।

আমাদেরকে কেমন ঘরে থাকতে হবে? যেখানে ‘ঘর আছে দরজা নেই, মানুষ আছে শব্দ নেই।’ এর জন্য আমাদের কেমন প্রস্তুতি নেওয়া উচিৎ! আমরাকি এর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি? আমরা কি এর অধিবাসী নই?

আসুন, এ বাস্তব সত্য কবরের পূর্বের অবস্থাটা একটু বিবেচনা পর্যালোচনা করে দেখি। কবরের পূর্বের অবস্থাকে আমরা দুনিয়ার বাসর ঘরের সাথে তুলনা করে দেকি!

বিয়ের আগে বর খুব সুন্দর করে ভাল সাবান মেখে গোসল করে। তারপর দামী সুন্দর পোশাকে সাজে এবং ভাল সুগন্ধি শরীরে মাখে। তারপর বাসর ঘরে প্রবেশ করে।

কি সুন্দর বিছানা,অনেক দামি খাট পালং এবং অত্যাধূনিক সাজ সজ্জা ও নানা রকম ডেকোরেশন ফূল সজ্জা। এ রাতের অনুভূতি কেমন হয়? হে রাত দীর্ঘ হও, হে নিদ্রা দূর হও বহু দূর, হে ভোরের সকাল উদয় হয়ো না!

পক্ষান্তরে চিরবিদায়ের সময় চিরনিদ্রার ঘর কবরে যাওয়ার আগেও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আমাদের গোসল প্রয়োজন। কিন্তু সে গোসল নিজের ইচ্ছায় নয় অন্যকে তা দিতে হচ্ছে। এ সময় উলঙ্গ করা হচ্ছে।

কিন্তু বাধা দেওয়ার শক্তি নেই। জীবিত অবস্থায় এমন কেউ করতে পারতো না। হায়! কত অসহায়! গোসলের পর সুন্দর দামী পোসাকের বাহাদুরীও নেই। সাদা অল্প দামের কাফনের কাপড় পরতে হচ্ছে।

সুগন্ধি মাখা হচ্ছে, কিন্তু ঘ্রাণ নেওয়ার অনুভূতি নেই এবং অন্যরা তা উপভোগ করছে। মূল্যবান খাট পালং নেই, বরং সাদামাটা কাঠের খাটিয়ায় শুতে হচ্ছে, প্রিয়তমার কাছে ইচ্ছাকৃত যাওয়ার সুযোগ বা উল্লাস নেই।

অন্যরা কাঁধে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় বালিশ, লেপ-তোষক, বিছানা-চাদরের বাহাদুরী? কাদা মাটির বিছানায় শুইয়ে

দেয়া হচ্ছে। রং বেরং সাজ সজ্জা ও আলো তো দুরের কথা, বরং মাটি দিয়ে সেই আলো চিরতরে বন্ধ করে অন্ধকারের পর্দা টেনে দেয়া হয়।

বের হওয়ার কোন দরজা নেই, চিরদিনের জন্য সেই দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। হায়! ‘ঘর তো আছে সত্য, কিন্তু দরজা তো নেই; মানুষ তো আছে সত্য, কিন্তু কোন শব্দ তো নেই।’ হে মানব চিন্তা করেছেন কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *