অমুসলিমের সাহায্য গ্রহণ, ইসলাম কী বলে?

অমুসলিমের সাহায্য গ্রহণ, ইসলাম কী বলে?

মুসলিম অমুসলিমের কাছে দ্বীনি ব্যাপারাদি ছাড়া চিকিৎসা, শিল্প, কৃষি প্রভৃতি বৈজ্ঞানিক বিষয়াদিতে সাহায্য চাইতে পারে, তাতে কোন দোষ নেই। সরকার এবং সাধারণ মানুষ সকলের জন্যেই এ অনুমতি রয়েছে। তবে একথা অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে, এ সব ক্ষেত্রেই মুসলমানদের স্বনির্ভরতা ও স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন করা একান্তই কর্তব্য।

নবী স. অমুসলিমের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজে ও ক্ষেত্র মজুরীর বিনিময়ে সাহায্য নিয়েছেন, কাজ করিয়েছেন।  মদীনায় হিজরত কালে পথ দেখানর উদ্দেশ্যে তিনি মক্কার মুশরিক আব্দুল্লাহ ইবনে আরীকতের সাহায্য গ্রহণ করেছেন।  ইসলামী বিদ্বানগণ বলেন: কেউ কাফের হলে কোন বিষয়েই তাকে বিশ্বাস করা যাবে না, এমনটি ঠিক নয়।নবী স. মদীনার পথে মক্কা ত্যাগ করার মতো কাজে পথ দেখিয়ে সাহায্য করার জন্যে একজন মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করায় এ পর্যায়ের সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় কথা, মুসলমানের নেতার পক্ষে অমুসলিমের কাছে সাহায্য চাওয়া বিশেষ করে আহলে কিতাবের লোকদের কাছে-সম্পূর্ণ জায়েয বলে শরীয়তবিদগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। যুদ্ধে এদের শরীক করা ও বিজয় লাভ হলে মুসলমানদের ন্যায় তাদেরও গনীমতের অংশ দেয়ায়ও অবৈধ নয়।ইমাম জুহরী বর্ণনা করেছেন, রাসূল স. যুদ্ধে ইয়াহুদীদের সাহায্য নিয়েছেনও মুসলমানদের ন্যায় তাদেরও গনিমতের মাল দিয়েছেন। হুনাইন যুদ্ধে ছওয়ান ইবনে উমাইয়া মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও রাসূল স. এর সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করেছেন।

তবে শর্ত এই যে, অমুসলিমের সাহায্য  গ্রহণ করা হবে, মুসলমানের ব্যাপারে তার ভাল মত ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।যদি তাদের বিশ্বাস করা না যায়, তাহলে অবশ্য সাহায্য গ্রহণ বৈধ হবে না। কেননা বিশ্বাস- অযোগ্য মুসলমানের সাহায্য গ্রহণই যখন নিষিদ্ধ, তখন বিশ্বাস –অযোগ্য কাফিরের সাহায্য গ্রহনের তো কোন প্রশ্নই উঠে না।

উপহার আদান প্রদান

মুসলিম অমুসলিমকে হাদিয়া দিতে পারে, তার দেয়া হাদিয়া গ্রহণও করতে পারে। রাসূল স. অমুসলিম রাজা-বাদশাদের দেয়া হাদিয়া কবুল করেছেন। এ পর্যায়ে বহু সংখ্যক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। নবী স. উম্মে সালামা রা.কে বলেছিলেন: আমি নাজ্জাশী বাদশাকে রেশমী চাদর  উপহার পাঠিয়েছিলাম। আহমদ, তাবারানী।

বস্তুত ইসলাম মানুষকে মানুষ  হিসাবেই মর্যাদা দেয়, সম্মান করে। তাহলে আহলি কিতাব, যিম্মী ও চুক্তিবদ্ধ কোন মানুষের সাথে অনুরূপ মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার ও আচরণ অবলম্বিত হবে না কেন?

নবী স. এর নিকট দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা দেখে তিনি দাড়িয়ে গেলেন। তখন তাকে বলা হল- এ তো এক ইয়াহুদীর লাশ। তিনি বললেন: কেন, ইয়াহুদী কি মানুষ নয়? বুখারী। ইসলামে তো মানুষ মাত্রেরই একটা মান ও মর্যা আছে।  

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply