ইসলামি আকীদাহ ১

আল্লাহ তায়ালা এক তাঁর কোন শরীক নাই । আল্লাহ তায়ালা অনাদি তাঁর গুনাবলী ও অনাদি । আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত সব কিছুই তার সৃষ্ট । জ্ঞান ও চক্ষু আল্লাহ তায়ালাকে আয়ত্ব করতে পারে না । আল্লাহ তায়ালা কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তার মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নাই । আল্লাহ তায়ালা চিরন্জীব, তার মৃত্যু নাই । আল্লাহ তায়ালার সমকক্ষ কেউ নেই । আল্লাহ তায়ালার সাদৃশ্য কিছু নাই । আল্লাহ তায়ালা প্রকাশ্য ও গোপন সব কিছুই জানেন । আল্লাহ তায়ালা সর্বদ্রষ্টা, তাঁর দৃষ্টির আড়ালে কিছুই নাই । আল্লাহ তায়ালা মৃদ ও উচ্চ স্বর সব কিছুই শোনেন । আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই হয় না । আল্লাহ তায়ালা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাঁর ক্ষমতার বাইরে কিছুই নাই । আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কেউ গায়েব জানেন না: এমন কি নবী ও ওলীগন ও গায়েব জানেন না । আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কেউ হাজির-নাজির নন এমন কি নবী ওলীগন ও নন । আল্লাহ তায়ালার কোন সন্তান ও নাই স্ত্রী ও নাই । আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টির স্রষ্টা । আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টির পর্যাপ্ত পরিমাণ রিযিক দাতা । আল্লাহ তায়ালার হুকুম ছাড়া কোন কিছুরই জীবন মৃত্যু হতে পারে না । আল্লাহ তায়ালা সমস্ত রোগের শেফা দাতা এবং প্রয়োজন পূরণকারী । ভালো মন্দ সমস্ত ভাগ্যের নির্ধারণ আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে হয় । মহান আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর সমাসীন।

শুধু ভারত নয়, পৃথিবীর মুক্তির একমাত্র পথ ইসলাম

ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিম বংগের একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রবীন নেতা শ্রী সত্যাচরণ ঘোষের মন্তব্য যা কলকাতার সাপ্তাহিক মীযান এর ২৯শে মার্চ ৮৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নে তুলে দেয়া হলঃ

শুধু ভারত নয়, পৃথিবীর মুক্তির একমাত্র পথ ইসলাম
শ্রী সত্যাচরণ ঘোষ

গত ১৬ই মার্চ সোমবার হাওড়া জেলার খাড়িয়া ময়নাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবী দিবসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় যাদব মহাসভার পশ্চিম বংগ শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী সত্যাচরণ ঘোষ মহাশয় বলেনঃ “নবীকে জানা ছাড়া ভারতবাসীর কোন পথ নেই । ছাত্রদের নবীকে জানার প্রবণতার প্রশংসা করে ছাত্রদের প্রতি আস্থা স্থাপন করে তিনি বলেন, তারা যেন আগামী দিনের ভারতবর্ষকে ইসলামাইজড করার দায়িত্ব নেয়।” তার মতে, কোরআন হাদীস শুধুমাত্র কোন ধর্ম নয়, এ পৃথিবীর এক মহান আদর্শ । বিশ্বের শতকরা পঁয়তাল্লিশ ভাগ মানুষ এ আদর্শ মেনে নিয়েছে । বেদ, বুদ্ধ ও যীশুর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এরা সবাই শেষ নবী যে আসবেন ঘোষণা করে গেছেন । বেদের ভাষায়, শেষস্বর্গীয় দূতকে কলকি অবতার বলা হয়েছে । আর সেই কলকি অবতার যে হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) তা বেদের সূত্র ধরে সহজেই প্রমাণ করা যায় ।

তিনি বলেন কোন ধর্ম অপর ধর্মকে আঘাত করতে শেখায়নি- ভালবাসতে শিখিয়েছে । মুসলমানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেনঃ “আপনারা জন্মসূত্রে মুসলমান হয়ে ইসলামের মহান উদ্দেশ্যে লক্ষ্য না বুঝে কর্ম ক্ষেত্রে অপর মতবাদের চাটুকদারী করেছেন।” ঐতিহাসিক সুরজিত দাসগুপ্তের ভারতবর্ষ ও ইসলাম নামক গ্রন্থ থেকে উদ্ধতি দিয়ে তিনি বলেন, ভারত বর্ষে ইসলাম আসার আগে ভারতে জাতীয় ঐক্য ছিল না । তিনি বলেন, আমি হিন্দু হয়ে ও বলছি হিন্দু ধর্মে নারীর মর্যাদা নেই, ইসলামই নারীকে মর্যাদা দিয়েছে । হিন্দু ধর্ম এখনও নারীকে উলংগ হয়ে পূণ্য অর্জন করতে প্রেরণা যোগায় । ইউনিফর্ম সিভিল কোড হিন্দুদের প্রভুত ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, শরীয়ত না কি মহিলাদের ইজ্জত দেয়নি? যারা এই কথা বলে, তাদের নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে অন্যান্য ধর্ম ও মতবাদের সংগে ইসলামকে তুলনামূলক ভাবে পড়ার জন্য অনুরোধ করছি ।”

নানকের ভাষায়, তিনি বলেন, বেদের যুগ শেষ কুরআনের যুগ আরম্ভ হয়েছে । তাই কালকি অবতারের মাধ্যমে প্রেরিত কুরআনকে ঘৃণা না করে কুরআনকে জানা ওবুঝার মধ্যেই ভারতের জাতীয় সংহতি নির্ভর করছে । কুরআনের উপর হামলাকে তিনি জঘন্য কাজ বলে অভিহিত করেন এবং তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করেন । তিনি বলেন, ইসলামের কালিমা নতুন বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে । যারা ইসলামের শত্রুতা করছে তারা ইসলামকে জানেনা । তিনি বলেন আমি মনে করি, শুধু ভারত নয়, পৃথিবীর মুক্তির পথ একমাত্র ইসলাম । তিনি ১৯৮০ সালে দেওবন্দ মাদ্রাসার শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের উদ্ধতি দিয়ে বলেন- হযরত মুহাম্মদের (সাঃ) জীবন দর্শন বিশ্বের নিকট আজ মূল্যবান সম্পদ । সকল শ্রেণীর মানুষের উচিৎ তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা ।তিনি বলেন, মুসলমানরা না কি তিন-চারটে বিয়ে করে দেশের জনসংখ্যা বাড়াচ্ছে? তিনি সরকারী তথ্য দিয়ে এ কথার অসারতা তুলে ধরেন এবং প্রমাণ করেন একাধিক বিবাহের সংখ্যা মুসলিম অপেক্ষা হিন্দুদের মধো বেশি । তিনি বারবার মুসলমানদের কাছে আবেদন রাখেন, সমস্ত মত পথ ত্যাগ করে ইসলামকে জানুন, নিজেরা বাচুঁন, অপরকে বাচাঁন । যতদিন এ কাজ থেকে দূরে থাকবেন ততদিন অপরকে বাচাঁনো তো দূরের কথা- নিজেরাই নির্যাতিত হবেন । ইসলামের শান্তি প্রিয়তার কথা বলতে গিয়ে বৈজ্ঞানিক পি,সি, রায়ের ভাষায় বলেন-‘ইসলাম মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করেনি।’ তিনি প্রাচীন ভারতে ৮৫% নিম্নবর্ণের মানুষের উপর ব্রাক্ষ্মণ্যবাদের অত্যাচার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন- ‘মনু বলেন, শূদ্রের ধন-সম্পদে অধিকার নাই, শূদ্রের অর্জিত সম্পদ ব্রাক্ষণ কাড়িয়া লইতে পারে।” শূদ্র ব্রাক্ষণের সাথে এক আসনে বসতে চাইলে ক’টি দেশে লোহা পুড়িয়ে দাগ দেয়া হত । বেদ পড়তে চাইলে অথবা শুনতে চাইলে জীব কেটে দেয়া হতো এবং কানে সীসা গলিয়ে ঢেলে দেয়া হতো । তিনি বলেন, “এসব নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তির জন্য আপনাদের পূর্বপুরুষেরা ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছিল । আর আপনারা হচ্ছেন কনভারটেড নির্যাতিতাদের বংশধর । বর্তমান ভারতের অবশিষ্ট ৮৫% নির্যাতিত মানুষের উদ্ধারের দায়িত্ব আপনাদের উপর বর্তেছে । আপনারা ইসলামকে জানুন এবং ইসলামী ঝান্ডাকে তুলে ধরুন, নিজেদের মধো বিভেদ ভুলে গিয়ে এক হউন, আমি ৬৯ বৎসরের যুবক। আমি আপনাদের আন্দোলনের ঝান্ডা হাতে নিয়ে আপনাদের আন্দোলনের পুরাভাগে থাকবো ।”

(সাপ্তাহিক মীযান, কলকাতা, ২৯শে মার্চ ৮৭)
( খন্দকার আবুল খায়ের রচিত মহাসত্যের ডাক গ্রন্থ হতে নেয়া )

জান্নাতের জাহান্নামের বিবর

ভূমিকাঃ-মানুষের মৃত্যুর পর মহান সৃষ্টিকর্তা দয়াময় আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পুনরায় জীবিত করে,হিসাব নিকাশের মাধ্যমে ঈমানদার এবং সৎ কর্মিদের আল্লাহর মেহেরবানিতে পুরষ্কৃত করবেন,আল্লাহর অফুরন্ত দান জান্নাত দ্বারা।আর বেঈমান এবং অপরাধীদের শাস্তি দিবেন লেলিহান অগ্নির কারাগার জাহান্নাম দ্বারা।মহান আল্লাহর বানীঃ-অর্থঃযারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমি অবশ্যই তাদের বসবাসের জন্য সুউচ্চ প্রাসাদ দান করবো।(আনকাবুতঃ৫৮)অর্থঃআমি কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শিকল,বেডি ও লেলিহান অগ্নি।(দাহরঃ৪)
জান্নাতের বিবরনঃ
জান্নাতে প্রবেশের সময় সম্বর্ধনাঃ
জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশের সময় সম্মানিত ফেরেশতাগন জান্নাতের গেটে জান্নাতিদের অসাধারণ ও বিরল সম্বর্ধনা জানাবেন।তাদের সর্বপ্রথম সালাম বলবেন,এরপর তাদের সুখের জন্য দোয়া করবেন এবং স্বায়ী ভাবে প্রবেশের অনুরোধ করবেন।মহান আল্লাহর বানীঃ-অর্থঃযারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করতো তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।যখনতারা জান্নাতের নিকট উপস্হিত হবেএবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের প্রতি সালাম,তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্বায়ীভাবে।(যুমারঃ৭৩)