নাস্তিকরা ও ইসলামে প্রবেশ করছে।

কিছু লোক মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রন ঘটিয়ে ইসলাম ধর্মের অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছে । তবু ও ইসলামের জোয়ার ঠেকানো যাচ্ছে না । কুয়েতের ইসলাম প্রেজেন্টেশন কমিটিতে , গেল রমজানে ১মাসে ১১০০ লোক স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছে।যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের মাঝে বিভিন্ন দেশের লোক রয়েছে , যেমন ইন্ডিয়ান, চায়নিজ , শ্রীলংকান, ফিলিপাইনী, নেপালী, আমেরিকান, ইউরোপীয়ান। ঐ সংস্থাতে কাজ করে চায়নার আমার এক বন্ধু, নাম সাঈদ। তাকে আমি প্রশ্নঃ করি, সাঈদ ভাই , চাইনিজরা কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে?? তিনি উত্তর দিলেনঃ – কারণ তরুন মনের অস্থিরতা, যুব সম্প্রদায়ের নৈরাশ্য এবং বৃদ্ধ বয়স্কদের চাপা ক্ষোভে ধর্মহীনদের জীবন আজ অশান্তির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় নৈতিক, আধ্যাত্মিক এবং ব্যবহারিক জীবনে ভারসাম্যপূর্ণ আদর্শ ইসলামই পারে আজকের অস্থির ধর্মহীনদের প্রকৃত শান্তির পথ দেখাতে । মূলত পূর্বে যারা ইসলাম গ্রহন করেছে এই ইসলাম গ্রহন তাদের জীবনকে পাল্টে দিয়েছে । তারা ছেড়ে দিয়েছে মদ্যপান স হ নিকৃষ্ট সব মন্দ কর্ম। তাদের দেখেই নতুনরা মুগ্ধ হয়েছেন । তাদেরকে আরো যে জিনিস ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করে তা হল ইসলামের অকৃত্রিম ভ্রাতৃত্ববোধ, পূর্ণাংগ জীবন ব্যবস্থা এবং একাত্ববাদের ধারণা। তাঁরা আর ও লক্ষ করেছেন যে, ইসলাম গুরুত্বদেয় চরিত্রের বিশুদ্ধতা, পবিত্রতা, ন্যায়পরায়নতা, ভালোবাসা, সত্যবাদিতা, প্রেমসহ চরিত্রের সৎগুণগুলির প্রতি ইসলামের গুরুত্ব, এসব দেখেই তারা মুগ্ধ হয়েছেন । তারা আফসুস করে বলেছেন, আজ পৃথিবীতে ইসলামের পরিচিতি ঘটানোর জন্য যদি মুসলিমরা চেষ্টা করতো অনেকেই সর্বনাশা নিদ্রার আবেশ কাটিয়ে উঠতো।

 

ধোকা খাবেননা,আজ আপনার ঈমানের পরীক্ষা চলছে

ফোনেটিকে লিখি অনেক হরফ লিখতে পারি না তাই বানানে ভুল হবে,আমি একভাইয়ের পোস্টে মন্তব্য করেছি যা সামুর পাঠকের কাছে তুলে ধরলাম।ছোট কালে আমার দাদার বন্ধু হতে একটা গল্প শুনেছি,যা আপনাদের সাথে শেয়ার করিতেছি,একজন সাধাসিধে লোক তার ছাগলকে বাজারে নিয়ে যাইতেছে,চোরেরা বুদ্বি করলো আমরা ঐ লোকটি থেকে ছাগলটা ধোকা দিয়ে ছিনিয়ে নিবো,চোরেরা রাস্তায় রাস্তায় বসলো প্রথমে একজন চোর বলল দাদা কুকুরটা নিয়ে কই যাইতেছেন?সাধাসিধে লোকটি বলল এটা কুকুরনা এটা ছাগল বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাইতেছি,বলল আপনার কি মাথা খারাপ?কে বলেছে এটা ছাগল এটা কুকুর,লোকটার মনে একটু সন্দেহের সৃষ্টি হল। Continue reading ধোকা খাবেননা,আজ আপনার ঈমানের পরীক্ষা চলছে

ইসলামের সহায়তা

সর্বশেষ যে ফরয আমাদের জন্য আল্লাহ তরফ থেকে নির্ধারিত হয়েছে, তা হচ্ছে ইসলামের সহায়তা (হেমায়াতে ইসলাম) এ ফরযটি যদিও ইসলামের স্তম্ভসমূহের অর্ন্তগত নয়, তথাপি ইসলামী ফরযসমূহে মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফে এর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। Continue reading ইসলামের সহায়তা

খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের যৌন কেলেংকারী : পোপের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস

 বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্যাথলিক গীর্জাগুলোতে শিশুদের উপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা একের পর এক প্রকাশ পাওয়ায় পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট তথা ভ্যাটিকান এখন কঠিন সমস্যার মধ্যে রয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের যৌনতা এখন গোটা ক্যাথলিক ব্যবস্থার জন্য দুষ্টক্ষতে পরিণত হয়েছে। আজ আমরা এ সম্পর্কেই বিস্তারিত আলোচনা করব। Continue reading খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের যৌন কেলেংকারী : পোপের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস

দুআ

দুআ শব্দের অর্থ আহ্বান, প্রার্থনা। শরীয়তের পরিভাষায় দুআ বলে কল্যাণ ও উপকার লাভের উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতি ও অপকার রোধকল্পে মহান আল্লাহকে ডাকা এবং তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা। দুআ শব্দ পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়েছে। নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হল।

১- ইবাদত: মহান আল্লাহ বলেন :

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ . المؤمن : 60

তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব, যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অচিরে জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্চিত হয়ে। (আল-মুমিন-৬০)

২-সাহায্য প্রার্থনা: আল্লাহ বলেন :

وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ . البقرة: 23

যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক, আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সব সাহায্যকারীদেরকে আহবান কর। (আল-বাকারা-২৩) আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া এবং তার নৈকট্য লাভ করা ব্যতীত মানুষের কোন উপায় নেই, আর দুআ হল আল্লাহর নৈকট্যলাভের বিশেষ বাহন ও মাধ্যম। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, প্রত্যাশা ও সাহায্য কামনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নিকটবর্তী হয়। এ দ্বারা মানুষ তার প্রতিপালকের ইবাদত করে, উদ্দেশ্যে উপনীত হয়, তার সন্তুষ্টি লাভ করে।

দুআর ফযিলত ও উপকারিতা

দুআতে রয়েছে প্রভূত ফযীলত, মহা পুরুস্কার, শুভ পরিণতি ও অনেক উপকার। নিম্নে তারই কিছু উল্লেখ করা হল।

(ক) দুআ ইবাদত, দুআকারী ব্যক্তি দুআর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে এবং পুরুস্কার প্রাপ্ত হয়: আল্লাহ বলেন:

َتتجافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴾ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُن جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾ . السجدة:16-17

তাদের পার্শ্ব শয্যা হতে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় কর। কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কি কি নয়ন প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে। (সাজদা : ১৬-১৭)

(খ) দুআতে রয়েছে দুআকারী ব্যক্তির আবেদনের সাড়া: মহান আল্লাহ বলেন :

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ. المؤمن :60

তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব। (আল-মুমিন:৬০) মহান আল্লাহ আরো বলেন :

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ . البقرة: 186

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুত: আমি রয়েছি সন্নিকটে। (১৮৬ আল বাকারা)

(গ) দুআতে রয়েছে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও হীনতা-দীনতার প্রকাশ: মহান আল্লাহ বলেন :

ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ﴾ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ ﴾. الأعراف:55,56

তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক কাকুতি মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না। তাকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। (আরাফ :৫৫,৫৬)

(ঘ) দুআ ইহকাল ও পরকালে দুআকারী ব্যক্তি থেকে অনিষ্ট রোধ করে ও পাপ মোচন করে।

দুআ কবুলের শর্তাবলী

মুমিনের প্রত্যাশা মহান আল্লাহ যেন তার দুআ কবুল করেন। এবং তার মনের আশা পূরণ করেন। কিন্তু দুআ কবুল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হল।

১- ইখলাছ: এটি আমাল কবুল হওয়ার মূল শর্ত। মহান আল্লাহ বলেন :

هو الحي لا إله إلا هو فادعوه مخلصين له الدين. المؤمن:66

তিনি চিরঞ্জিব, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব, তাকে ডাক খাটি ইবাদতের মাধ্যমে। (আল-মুমিন:৬৬) সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর জন্য ইবাদতকে নিরঙ্কুশ করার নাম ইখলাস। সুতরাং, ইবাদত ও দুআ মহান আল্লাহ ব্যতীত কোন কিছুকে উদ্দেশ্যে করা যাবে না। এর বিপরীত কর্মপন্থা যে অবলম্বন করল, সে অবশ্যই শিরক করল। মহান আল্লাহ বলেন:

وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ (المؤمنون : 117

যে আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকে, যার স্বপক্ষে কোন দলীল তার কাছে নেই, তার হিসাব তার পালনকর্তার কাছে আছে। নিশ্চয় কাফেররা

সফলকাম হবে না। (১১৭ আল মুমিন)

২- দুআকারী ব্যক্তির সম্পদ হালাল হওয়া: কেননা, হারাম সম্পদ হচ্ছে দুআ কবুলের পথে অন্তরায় ও বাধা। ইমাম মুসলিম রহ. তার সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :

أيها الناس إن الله طيب، لا يقبل إلا طيبا، وإن الله أمر المؤمنين بما أمر به المسلمين، فقال: يا أيها الرسل كلوا من الطيبات واعملوا صالحا إني بما تعملون عليم.(المؤمنون) وقال: يا أيها الذين آمنوا كلوا من طيبات ما رزقناكم (البقرة:173 ) ثم ذكر الرجل، يطيل السفر أشعث أغبر، يمد يده إلى السماء، يارب يارب، ومطعمه حرام ومشربه حرام وغذي بالحرام، فأنى يستجاب له. مسلم -1686

হে মানুষ সকল ! নিশ্চয় আল্লাহ পুত:পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিস ব্যতীত কবুল করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ রাসূলদের যে আদেশ দিয়েছেন তা মুমিনদের জন্যও আদেশরূপে বিবেচ্য। আল্লাহ বলেন : হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর এবং সৎকাজ কর ; তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত। (আল- মুমিনূন-৫১) এবং আল্লাহ আরো বলেন- হে ঈমানদারগণ ! তোমরা পাক পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার হিসেবে ব্যবহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসেবে দান করেছি। (আল-বাকারা- ১৭৩) অতঃপর উস্কখুস্ক ধূলোময় অবস্থায় দীর্ঘ সফরকারী একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, যে স্বীয় হস্তদ্বয় আকাশের দিকে প্রসারিত করে বলে, হে প্রভু! হে প্রভু ! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা লালিত, তার দুআ কিভাবে কবুল হবে? (মুসলিম -১৬৮৬)

(৩) দুআয় সীমালঙ্ঘন না করা:

দুআর সময় বান্দা বৈধ সীমারেখায় বিচরণ করবে, পাপের কাজ সিদ্ধ করা বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, অথবা সামান্য ভুলের শাস্তি স্বরূপ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির ধ্বংসের জন্য দুআ করবে না। মহান আল্লাহ বলেন:

ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ. الأعراف:55

তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। (আরাফ:৫৫)

দুআ কবুলের অন্তরায়সমূহ

উপরের আলোচনায় আমরা দুআ কবুলের শর্ত সম্পর্কে জানতে পেরেছি, নীচে দুআ কবুলের অন্তরায় সমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ কর হল।
দুআতে এখলাস না থাকা। /আল্লাহর সাথে শিরক করা। /অবৈধ কারবার করা, ভেজাল দেয়া। /সুদ খাওয়া। /অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা। /ঘুষ নেওয়া। /দুআতে সীমালঙ্ঘন করা। /অবৈধ বা বিদ্‌য়ী দুআ করা যথা-মৃত বা কবরস্থ ব্যক্তির অসীলা গ্রহণ করে দুআ করা।
উল্লেখিত প্রত্যেকটি বিষয় স্বতন্ত্র ভাবে দুআ কবুলের অন্তরায়। অতএব প্রত্যেক মুসলমানের উপর অবশ্য কর্তব্য হল, সে যেন দুআ কবুলের যে কোন অন্তরায় থেকে নিজেকে দূরে রাখে।

দুআর আদবসমূহ

১-বিনয়-বিনম্রতা ও একাতগ্রতা সাথে দুআ করা।
২-সংকল্প ও আকুতির সাথে দুআ করা, দুআ কবুলে প্রবল আশাবাদী হওয়া। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :

إذا دعا أحدكم فليعزم المسألة، ولا يقولن: اللهم إن شئت فأعطني، فإنه لا مستكره له. رواه البخاري: 5863

অর্থাৎ যখন তোমরা দুআ করবে, তখন প্রার্থিত বিষয়টি লাভের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে, এবং বলবে না- হে আল্লাহ ! যদি তুমি চাও আমাকে প্রদান কর, কেননা, আল্লাহকে বাধ্যকারী কেউ নাই। বুখারী-৫৮৬৩
৩-দুআকারী যেন উত্তম সময় ও স্থান বেছে নেয়, যেমন : আরাফা দিবস, রমযান মাস. জুমার দিন, কদরের রাত, প্রত্যেক রাতের শেষাংশ, সালাতে সাজদারত অবস্থা, আযান ইকামতের মাধ্যবর্তী সময়, সফরকালীন সময়, সিয়ামের সময় অসহায়ত্বের সময়, হজ্বের সময়, বিশেষভাবে তাওয়াফ সায়ীর সময় এবং জামরাতে পাথর নিক্ষেপের পর। এছাড়া, বিশেষ বিশেষ সময় ও স্থান সমুহে।
৪-পবিত্র অবস্থায় কেবলামূখী হয়ে হাত তুলে দুআ করা : দুআর শুরু এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর সালাত ও সালাম পেশ করা।

ইসলামের তাৎপর্য

ইসলামের তাৎপর্য
সকলেই দেখতে পাচ্ছে যে, চন্দ্র, সূর্য, তারা এবং বিশ্বের যাবতীয় সৃষ্টি চলছে এক অপরিবর্তনীয় বিধান মেনে। সেই বিধানের বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম হবার উপায় নেই। দুনিয়া এক নির্দিষ্ট গতিতে ঘুরে চলছে এক নির্দিষ্ট পথ অতিক্রম করে। তার চলার জন্য যে সময়, যে গতি ও পথ নির্ধারিত রয়েছে, তার কোন পরিবর্তন নেই কখনো। পানি আর হাওয়া, তাপ আর আলো-সব বিছুই কাজ করে যাচ্ছে এক সঠিক নিয়মের অধীন হয়ে। জড়, গাছপালা, পশু-পাখীর রাজ্যেরও রয়েছে তাদের নিজস্ব নিয়ম। সেই নিয়ম মুতাবিক তারা পয়দা হয়, বেড়ে ওঠে, ক্ষয় হয়, বাঁচে ও মরে। মানুষের অবস্থা চিন্তা করলে দেখতে পাই যে, সেও এক বিশেষ প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন। এক নির্দিষ্ট জীবতাত্ত্বিক বিধান অনুযায়ী সে জম্মে, শ্বাস গ্রহণ করে, পানি, খাদ্য, তাপ ও আলো আত্মস্থ করে বেঁচে থাকে। তার হৃৎপিন্ডের গতি, তার দেহের রক্তপ্রবাহ, তার শ্বাস-প্রশ্বাস একই বাঁধাধরা নিয়মের অধীন হয়ে চলছে। তার মস্তিষ্ক, পাকস্থলী, শিরা-উপশিরা, পেশীসমূহ, হাত, পা, জিভ, কান, নাক– এক কথায় তার দেহের প্রতিটি অংগ- প্রত্যংগ কাজ করে যাচ্ছে সেই একই পদ্ধতিতে যা তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

যে শক্তশালী বিধানের অধীনে চলতে হচ্ছে দুনিয়া জাহানের বৃহত্তম নক্ষত্র থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রতম কণিকা পর্যন্ত সবকিছু, তা হচ্ছে এক মহাশক্তিমান বিধানকর্তার সৃষ্টি। সমগ্র সৃষ্টি এবং সৃষ্টির প্রতিটি পদার্থ এ বিধানকর্তার আনুগত্য স্বীকার করে এবং সবাই মেনে চলে তাঁরই দেয়া নিয়ম। আগেই আমি বলেছি যে, দুনিয়া-জাহানের প্রভু আল্লাহ তা’য়ালার আনুগত্য ও তারই নিকট আত্মসমর্পণের নামই ইসলাম, তাই এদিক দিয়ে সমগ্র সৃষ্টির ধর্মই হচ্ছে ইসলাম। চন্দ্র, সূর্য, তারা গাছপালা, পাথর ও জীব-জানোয়ার সবাই মুসলিম! যে মানুষ আল্লাহকে চেনে না, যে তাঁকে অস্বীকার করে, যে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে পূজা করে এবং যে আল্লাহর কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে অংশীদার করে, স্বভাব-প্রকৃতির দিক দিয়ে সেও মুসলিম, কারণ তার জীবন-মৃত্যু সব কিছুই আল্লাহর বিধানের অনুসারী। তার প্রতিটি অংগ-প্রত্যংগ, তার দেহের প্রতিটি অণু ইসলাম মেনে চলে কারণ তার সৃষ্টি, বৃদ্ধি ও গতি সবকিছুই আল্লাহর দেয়া নিয়মের অধীন। মূর্খতাবশত যে জিহবা দিয়ে সে শির্ক ও কুফরের কথা বলছে, প্রকৃতির দিক দিয়ে তাও মুসলিম। যে মাথাকে জোরপূর্বক আল্লাহ ছাড়া অপরের সামনে অবনত করছে, সেও জম্মগতভাবে মুসলিম, অজ্ঞতার বশে যে হৃদয় মধ্যে সে অপরের প্রতি সম্মান ও ভালবাসা পোষণ করে, তাও সহজাত প্রকৃতিতে মুসলিম। তারা সবাই আল্লাহর নিয়মের অনুগত এবং তাদের সব কাজ চলছে এ নিয়মের অনুসরণ করে।

এবার আর এক আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটি বিবেচনা করে দেখা যাক।

প্রকৃতির লীলাখেলার মধ্যে মানুষের অস্তিত্বের রয়েছে দু’টি দিক। এক দিকে সে অন্যান্য সৃষ্টির মতোই জীব-জগতের নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা রয়েছে। তাকে মেনে চলতে হয় সেই নিয়ম। অপরদিকে, তার রয়েছে জ্ঞানের অধিকার, চিন্তা করে বুঝে কোন বিশেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবার ছাবার ক্ষমতা তার করায়ত্ত। নিজের ইখতিয়ার অনুযায়ী কোন বিশেষ মতকে সে মেনে চলে, আবার কোন বিশেষ মতকে সে অমান্য করে কোন পদ্ধতি সে পছন্দ করে, কোন বিশেষ পদ্ধতিকে আবার পছন্দ করে না। জীবনের কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কখনো কোন নিয়ম-নীতিকে সে স্বেচ্ছায় তৈরী করে নেয়, কখনো বা অপরের তৈরী নিয়ম-নীতিকে নিজের করে নেয়। এদিক দিয়ে সে দুনিয়ার অন্যবিধ সৃষ্ট পদার্থের মতো একই ধরাবাঁধা নিয়মের অধীন নয়, বরং তাকে দেয়া হয়েছে নিজস্ব চিন্তা, মতামত ও কর্মের স্বাধীনতা।

মানবজীবনে এ দু’টি দিকেরই রয়েছে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব। প্রথম বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মানুষ দুনিয়ার অপর সব পদার্থের মতই জম্মগত মুসলিম এবং আমি আগে যা বলেছি সেই অনুসারে মুসলিম হতে সে বাধ্য। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মুসলিম হওয়া বা না হওয়ার উভয়বিধ ক্ষমতা তার মধ্য রয়েছে এবং এ নির্বাচন ক্ষমতার প্রভাবেই মানুষ বিভক্ত হয়েছে দু’টি শ্রেণীতে।

এক শ্রেনীর মানুষ হচ্ছে তারা, যারা তাদের স্রষ্টাকে চিনেছে, তাকেই তাদের একমাত্র মনিব ও মালিক বলে মেনে নিয়েছে এবং যে ব্যাপারে তাদেরকে নির্বাচনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সেখানেও তারই নির্ধারিত কানুন মেনে চলবার পথই তারা বেছে নিয়েছে, তারা হয়েছে পরিপূর্ণ মুসলিম। তাদের ইসলাম হয়েছে পূর্ণাঙ্গ। কারণ তাদের জীবনই পরিপূর্ণরূপে আল্লাহতে সমর্পিত। না জেনে-শুনে যার নিয়মের আনুগত্য তারা করছে জেনে-শুনেও তারই আনুগত্যের পথই তারা অবলম্বন করেছে। অনিচ্ছায় তারা আল্লাহর বাধ্যতার পথে চলেছিল, স্বেচ্ছায়ও তারই বাধ্যতার পথ তারা বেছে নিয়েছে। তারা হয়েছে এখন সত্যিকার জ্ঞানের অধিকারী। কারণ যে আল্লাহ তাদেরকে দিয়েছেন জানবার ও শিখবার ক্ষমতা, সেই আল্লাহকেই তারা জেনেছে। এখন তারা হয়েছে সঠিক যুক্তি ও বিচার ক্ষমতার অধিকারী। কারণ, যে আল্লাহ তাদেরকে চিন্তা করবার, বুঝবার ও সঠিক সিদ্ধান্ত কায়েম করবার যোগ্যতা দিয়েছে, চিন্তা করে ও বুঝে তারা সেই আল্লাহরই আনুগত্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাদের জিহবা হয়েছে সত্যভাষী, কেননা সেই প্রভুত্বের স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে তারা, যিনি তাদেরকে দিয়েছেন কথা বলার শক্তি। এখন তদের পরিপূর্ণ জীবনই হয়েছে পূর্ণ সত্যাশ্রয়ী। কারণ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় উভয় অবস্থায়ই তারা হয়েছে একমাত্র আল্লাহর বিধানের অনুসারী। সমগ্র সৃষ্টির সাথেই তাদের মিতালী। কারণ সৃষ্টির সকল পদার্থ যার দাসত্ব করে যাচ্ছে, তারাও করেছে তারই দাসত্ব। দুনিয়ার বুকে তারা হচ্ছে আল্লাহর খলীফা (প্রতিনিধি) সারা দুনিয়া এখন তাদেরই এবং তারা হচ্ছে আল্লাহর।

কুফরের তাৎপর্য

ইবাদুর রহমানের পরিচয়

يخروا عليها صّما وعميانا والذين إذا ذكروا بآيات ربهم অর্থাৎ এ প্রিয় বান্দাগনকে যখন আল্লাহর আয়াত ু আখেরাতের কথা ম্মরন করানো হয় তখন তারা এই সব আয়াতের প্রতি অন্ধ ও বধিরদের ন্যায় আচরন করে না
( ফুরকান ৭৩) বরং শ্রবনশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষের ন্যায় এগুলো সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে ও তদঅনুযায়ী আমল করে অনবধান ও বোকা লোকদের মত এরুপ আচরন করেনা যে তারা যেন শোনেই নি কিংবা দেখেইনি। এখানে দুটি বিষয় উল্লেখিত হয়েছে ১) আল্লাহর আয়াত সমূহের উপর পতিত হওয়া অর্থাৎ গুরুত্ব সহকারে মনোনিবেশ করা ও আমল করা। এটা প্রশংসনীয় কাম্য ও বিরাট পুন্য কাজ। ২) অন্ধ ও বধিরদের ন্যায় পতিত হওয়া অর্থাৎ কোরআনের আয়াত সমূহের প্রতি মনোনিবেশ করা হয় বটে কিন্তু আমলের ব্যাপারে এমন করা যেন শোনেই নি ও দেখেই নি অথবা আমল ও করা হয় কিন্তু বিশুদ্ধ মুলনীতি এবং সাহাবা ও তাবেয়ীগনের মতামতের খেলাপ নিজের মতে কিংবা জনশ্রুতির অনুসরনে ভ্রান্ত আমল করা এটাও একরকম অন্ধ বধির হয়েই পতিত হওয়ার পর্যায়ভুক্ত।
এখান থেকে বুঝা গেল যে আল্লাহর আয়াতের প্রতি মনোনিবেশই না করা এবং অন্ধ ও বধির ন্যায় আচরন করার যেমন নিন্দা করা হয়েছে , তেমনি না বুঝে না শুনে নিজের মতামতের উপর ভিত্তি করে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে মনোনিবেশ করা ও আমল করারও নিন্দা করা হয়েছে। ইবনে কাছীর ইবনে আওন থেকে বর্ননা করেন যে তিনি হযরত শা বীকে জিজ্ঞেস করেন যদি আমি এমন কোন মজলিশে উপস্থিত হই যেখানে সবাই সিজদা অবস্থায় আছে এবং আমি জানিনা এটা কোন প্রকার সিজদা, তবে আমিও কি তাদের সাথে সিজদায় শরীক হয়ে যাব? হযরত শাবী (রহঃ) বললেন না। কেননা নাবুঝে না শুনে কোন কাজে লেগে যাওয়া মুমিনের জন্য বৈধ নয় বরং বুঝে শুনে আমল করা তার জন্য জরুরী।(ইবনে কাসীর)

দ্বাদশ গুনঃ من ازواجنا وذرياتنا قرة أعين واجعلنا للمتقين إماماً والذين يقولون ربنا هب لنا
এতে নিজ সন্তান সন্ততি ও স্ত্রীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা হয়েছে যে তাদেরকে আমার জন্য চোখের শীতলতা স্বরুপ করে দিন। এবং আমাদেরকে ম“ত্তাকীগণের ইমাম করে দিন ।( ফুরকান ৭৪) চোখের শীতলতা করার উদ্দেশ্য তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্যে মশগুল দেখা ও তাকওয়া পরহেজগারীর উপর দেখা । একজন মানুষের জন্য এটাই চোখের শীতলতা। হা যদি সন্তান সন্ততি ও স্ত্রীদের বাহ্যিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সুখ স্বাচ্ছ্যন্দকে ও এর অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয় তবে কোন অসুবিধা নাই। এখানে এই দোয়া দ্বারা ইংগিত করা হয়েছে যে আল্লাহর প্রিয় বান্দাগন কেবল নিজেদের সংশোধন ও সৎকর্ম নিয়েই সন্তুস্ট থাকেনা বরং তাদের সন্তান সন্ততি ও স্ত্রীদেরও আমল সংশোধন এবং চরিত্র উন্নয়নের চেষ্টা করেন। এই চেষ্টারই অংশ হিসাবে তাদের সৎকর্ম পরায়নতার জন্য আল্লার কাছে দোয়া করেন।

প্রিয় বান্দাগনের পুরস্কারঃ এ পর্যন্ত ইবাদুর রহমানের (কামেল মুমিন গনের) প্রধান ১২টি গুনাবলী সমাপ্ত হলো। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতিদান ও পরকালীন মর্তবার কথা বর্ননা করতে গিয়ে বলেন –
أولئك يجزون الغرفة بما صبروا ويلقون فيها تحية وسلاماً অর্থাৎ এসব গুনাবলীর অধিকারী আল্লার প্রিয় বান্দাগনকে তাদেও সবর ও ধৈর্য্যরে প্রতিদানে জান্নাতে বালাখানা দেয়া হবে এবং তাদেরকে তথায় মোবারকবাদ ও সালাম সহকারে অভ্যর্থনা করা হবে । (আল ফোরকান ৭৫) বিশেষ নৈকট্য প্রাপ্তগন এমন বালাখানা পাবেন যা সাধারন জান্নাতিদের কাছে তেমনি দৃষ্টিগোচর হবে যেমন পৃথিবীর লোকদের কাছে তারকা নক্ষত্র দৃষ্টি গোচর হয় ।(বোখারী, মুসলিম)
রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন জান্নাতে এমন কক্ষ থাকবে যার ভিতরের অংশ বাহির থেকে এবং বাহিরের অংশ ভিতর থেকে দৃষ্টি গোচর হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এসব কক্ষ কাদের জন্য? রাসূল (সাঃ) বললেন যে ব্যক্তি নম্র ও পবিত্র কথাবার্তা বলে, প্রত্যেক মুসলমানকে সালাম করে ক্ষুধার্তকে আহার করায় এবং রাত্রে যখন সবাই নিদ্রিত থাকে তখন সে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে।