সেজদা সাহুর বিধান

মানুষ মাত্রই ভুল। মানুষের ভূল হওয়া একে বারেই স্বাভাবিক। ফলে দেখা যায় কখনো কখনো নামাযেও মানুষের ভুল হয়ে থাকে। এমনকি রসুল সা. নিজে ও নামাযে একাধিক বার ভুল করেন। সুতরাং ভুল করা দোষের কিছু নয়। অনেক মানুষ আছে ইমাম সাহেব নামাযে ভূল করলে তাকে ঘালি দেয়, তার উপর চড়াও হয়, যা সর্ম্পুণ মূর্খতা এবং অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ভুল মানুষের চিরাচরিত স্বভাব । রসুল সা. বলেন,
\” নিশ্চয় আমি একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুল কর আমি ও ভুল করি, আমি যখন ভুলে যাই তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও।\”বখারী:৩৮৬
রসুল সা. হতে ভুল সংঘটিত হওয়ার হিকমত হল , যদি উম্মতের থেকে এ ধরণের ভুল হয় তখন তার করণীয় সমর্্পকে বিধান চালু করা।
যখন কোন মানুষ নামাযে ভূল ক্রমে কোন কিছু বেশী করে, অথবা কম করে, অথবা নামাযে সন্দেহ বা সংশয় হয়, তখন নামাযের শেষে অতিরিক্ত দুইটি সেজদা করে নামাযকে সংশোধন করা সম্ভব।
মনে রাখতে হবে এ দুই সেজদা নামাযে সেজদা করার মতই করবে । সেজদায় যাওয়ার সময় এবং সেজদা হতে উঠার সময় তাকবীর বলবে । সেজদায় গিয়ে তাছবীহ পড়বে । এবং দুই সেজদার মাঝে বসে দু\’আ পড়বে ।
নামাযে ভুল সংশোধনের জন্য সেজদা সাহু প্রচলনের কয়েকটি গুরুত্তপূর্ণ হিকমত ।
আল্ল্লাহ তাআ\’লার অপার অনুগ্রহ তিনি তার বান্দাদের জন্য এমন বিধান চালু করেন যদ্বারা তারা তাদের দর্ূবলতা- নামাযে ভুল – করার ক্ষতি পুরণ করতে পারে এবং ভূল শোধরাতে পারে।
২-শয়তানকে অপমান করা । শয়তান সর্বদা নামাযীর নামাযে বিঘ্ন ঘটানো এবং তার নামায নষ্ট করতে চেষ্টা করে ।
৩-আল্ল্লাহর জন্য সেজদা করার ফলে তার সন্তুষ্টি লাভ এবং তাকে রাজী করানো হয় ।
সেজদা সাহুর কারণ সমুহ ঃ-
তিনটি কারণ পাওয়া গেলে সেজদা সাহু ওয়াজিব হয় ।
প্রথমত:
ভুল ক্রমে নামাযে অতিরিক্ত কোন কাজ করা ।
রুকু সেজদা বেশী করা বা এক রাকাআ\’ত নামায বেশী আদায় করা । যেমন- রুক দুইটি করা , বা সেজদা তিনটি করা এবং যোহর বা আছরের নামায চার রাকাআ\’তের স্থলে পাঁছ রাকাআ\’ত পড়া। এতে নামাযে এক ধরনের অতিরিক্ত হয় । আর ইহাকে শোধরানোর জন্য দুইটি সেজদাসাহু করতে হয় ।
প্রমান :
আব্দুল্ল্লাহ বিন মাসুদ রা. এর হাদীস , রসুল সা. বলেন,
\”যখন কোন ব্যক্তি নামাযে বাড়ায়-অতিরিক্ত কোন কাজ করে অথবা কমায় সে যেন দুটি সেজদা করে নেয়।\”(মুসলিম:৮৯৫)
তবে মনে রাখতে হবে নামাযে অতিরিক্ত এর কারণে সেজদা সাহু নামাযের সালাম ফিরানোর পরে হবে,যাতে নামাযের ভিতরে দুইটি অতিরিক্ত কাজ করা না হয়।
সেজদা সাহু আদায় করার প্রদ্ধতি ঃ-
নামাযের শেষে উভয় দিকে সালাম ফিরানোর পর তাকবীর বলে পুণরায় দুই সেজদা করবে – দুই সেজদার মাঝে বসবে এবং নামাযের সেজদায় যে সব তাছবীহ ও দু\’আ পড়ে অনুরুপ দু\’আ পড়বে। তারপর নামাযে সালাম ফিরানোর মতই আবার সালাম ফিরাবে ।
দ্বিতীয়ত-ভুলে কোন কিছু নামাযে কম করা ।
ইহা দুই ধরণের হতে পারে:
এক-কোন একটি রুকন একে বারেই ছেড়ে দেয়া ।
যেমন- ভুলে নামাযে রুকু সেজদা ছেড়ে দিল অথবা এক বা একাধিক রাকাআত নামায ছেড়ে দিল। তার পর যদি নামাযেই স্মরণ আসে তবে নামাযেই আদায় করে নিবে।এবং তার পর থেকে নামায যথারীতি আদায় করে যাবে । আর মাঝে যে সব কার্যাদি আদায় করেছে তা বৃথা হয়ে যাবে।তারপর একেবারে নামাযের শেষে এসে সেজদা সাহু করবে।
আর যদি নামাযে স্মরণ না আসে এবং পরবতর্ী রাকাআ\’তে, যে রুকনটি ছেড়ে দিয়েছে ঐ রুকন আদায়ের সময় মনে পড়ে , তখন ঐখান থেকেই নামায আদায় করে যাবে ।
যেমন _
কোন নামাযি প্রথম রাকাআ\’তে একটি সেজদা করে এবং দ্বিতীয় সেজদা ও দুই সেজদার মাঝে বসা ভুলে যান ।তার পর দ্বিতীয় , বা তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে কি্বরাত পড়া বা রুকু করার সময় স্মরণ আসে তখন তার করণীয় হল,সাথে সাথে সে পিছনে চলে যাবে এবং প্রথম রাকাআ\’তে রেখে আসা জলসা (বসা) এবং দ্বিতীয় সেজদা আদায় করে ঐস্থান হতে নামায আদায় করতে থাকবে। অনুরুপভাবে ভুলের স্থান হতে নামায সম্পন্ন করবে । কিন্তু যদি স্মরণ না আসে এবং সে দ্বিতীয় , তৃতীয় , বা চতুর্থ রাকাআ\’তের প্রথম সেজদার পর স্মরন আসে তখন আর ফিরে আসার কোন প্রয়োজন নাই । কারণ সে এখন ভূলের সা্থনেই বিদ্যমান । ফলে বর্তমান রাকাআ\’তকেই প্রথম রাকাআ\’ত ধরা হবে ।আর ভুলে যা আদায় করেছিল তা সম্পর্ূণ বৃথা ।
আর যদি কেউ ভুলে তাকবীরে এহরাম ছেড়ে দেয় তখন তার নামায শুরু করাই হয়না তবে তাকে অবশ্যই নামায পুণরায় আরম্ভ করতে হবে ।
দুই- ওয়াজিব ছেড়ে দেয়া ঃ-
যেমন – প্রথম তাশাহুদ ভুলে যাওয়া অথবা রুকু সেজদার তাছবীহ ভুলে যাওয়া ইত্যাদি । তখন পরবতী রুকন হতে ফিরে আসবেনা । শুধু মাত্র সেজদা সাহু করবে । এবং নামাযের সালাম ফিরাবে ।
মোট কথা ঃ-কোন কাজ কম করার কারণে সেজদা সাহু সালামের পুর্বে হবে ।
তবে সালামের পূর্বে আদায় করতে ভূলে গেলে সালামের পরে আদায় করবে ।
যিয়াদত এর সময় যেভাবে আদায় করে ।
তৃতীয়-(সংশয় বা সন্দেহ) নামাযে সন্দেহ হয় যে,সে তিন রাকাআ\’ত পড়ছে না চার রাকাআ\’ত পড়ছে ?

যেমন- অধিক ধারনা মতে সে তিন রাকাআ\’ত পড়েছে তখন সে ধরে নিবে যে, সে তিন রাকাআ\’তই পড়েছে । এবং চতুর্থ রাকাআ\’ত আদায় করে নিবে । আর যদি অুধক ধারনা হয় সে চার রাকাআ\’ত পড়েছে তবে ধরে নিবে যে সে চার রাকাআ\’তই পড়েছে । নামাযের অবশিষ্ট কাজ গুলি শেষ করবে এবং সালামের পর সেজদা সাহু করবে আর যদি জোরালো সন্দেহ হয় এবং তার নিকট কোনটিই অধিক ধারণার পরিমাপে পড়েনা,তখন যা একেবারে নিশ্চিত তার উপর ভিত্তি করে আমল করবে । অথর্াৎ কম ধরবে তখন নামায তিন রাকাআ\’ত ধরে চতুর্থ রাকাআ\’ত পড়বে । এবং সালামের পূর্বে সেজদা সাহু করবে ।
অনুরুপ ভাবে সন্দেহ হল যে, এক সেজদা করেছে না দুই সেজদা করেছে ? যদি কোন একটি দিকে সমধিক ধারণা থাকে তখন সে অনুপাতে আমল করবে এবং সালামের পর সেজদা সাহুকরবে ।
আর যদি কোনদিক প্রধান্য না পায় তখন কম সংখ্যা ধরে নিবে।আর সে অনুপাতে আমল করবে এবং সালামের পুর্বে সেজদাসাহু করবে । আর যদি কোন রুকনের ব্যাপারে সন্দেহ হয়, যেমন রুকু করছে কি করে নাই ? যদি কোন দিক তার অন্তরে প্রাধান্য না থাকে তখন অবশ্যই সংশয় বাদ দিবে, ধরে নেয়া হবে সে রুকনটি আদায় করেনি । ফলে সে রুকু করবে এবং নামায সম্পন্ন করবে এবং সালামের পূর্বে সেজদাসাহু করবে ।
মুক্তাদির ভূল
মুক্তাদির ও ভূল হতে পারে আর মুক্তাদির ভুলের দুই অবস্থা।
এক-
ইমামের সাথে নামাযের শুরুতে অনর্্তভুক্ত থাকবে অথবা নামাযের মাঝে এসে অনর্্তভূক্ত হবে,
যদি শুরু থেকেই ইমামের সাথে থাকে তবে তাকে আলাদা ভাবে সেজদা সাহু করতে হবে না, ইমমামের সাথেই সেজদা সাহু করবে । আর যদি ইমাম সেজদা না করে মুক্তাদি ভূল করলেও তাকে সেজদা করতে হবেনা । কারণ, এক্ষেত্রে ইমামই দায়িত্বশীল।
দুই-
আর যদি মুক্তাদি মাসবুক হয়, অর্থাৎ ইমামের সাথে পরে এসে প্রবেশ করে, ফলে নামাযের কিছু অংশ তার ছুটে যায়, তার পর সে নামাযে ভূল করে, তাকে অবশ্যই ছুটে যাওয়া নামায শেষ করার পর ভূলের জন্য সেজদাসাহু করতে হবে ।
বিভিন্ন বিধানাবলীঃ
১-একজন মুসলমান নামাযের বিষয়ে অবশ্যই সর্তক হবে । যথা সম্ভব মনোযোগী হবে । শয়তানের কুমন্ত্রনার ফলে নামাযে বিভিন্ন ধরণের দুশ্চিন্তা প্রতিরোধ করতে হবে ।
২-মুক্তাদিকে অবশ্যই ইমামের নামাযের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে । কত রাকাআ\’ত আদায় করছে তা মনে রাখতে হবে ।যদি কোথাও বেশী বা কম হয় তখন সুবহানাল্লাহ বা আল্লাহু আকবর বলে তাকে সর্তক করে দিবে ।
৩-যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাআ\’তের পর প্রথম তাশাহুদ না পড়ে দাড়িয়ে যায় তখন দাড়ানো নিশ্চিত হলে পুনরায় বসবেনা । আর যদি পরিপূর্ন না দাড়ায় তখন ফিরে আসবে এবং তাশাহুদের জন্য বসবে । আর মুক্তাদিরা ইমামের অনুকরন করবে যদিও পরিপর্ূণ দাড়িয়ে যায় ।
৪-ইমাম প্রথম তাশাহুদ ছেড়ে দিয়ে দাড়িয়ে গেলে মুক্তাদিরাও তার অনুকরনে দাড়িয়ে যাবে ।তবে মুক্তাদিরা তাছবীহ-সুবহানাল্লাহ বলে ইমামকে সর্তক করবে।
৫-ইমাম নামাযে কোন কিছু অতিরিক্ত করতে আরম্ভ করলে মুক্তাদিরা সর্তক করা সত্বেও সে তার ভূল থেকে ফিরে আসে নাই তখন মুক্তাদিরা তার অনুকরন করবে না বরং তাদের নামায একা আদায় করবে।
৬- নামাযের শুরুতে মুক্তাদির কিছু অংশ ছুটে যায় (মাছবুক হয় ) আর ইমাম নামাযে ভূল করার কারণে সালাম ফিরানোর পর সেজদাসাহু করে তখন মাসবুক ইমামের সাথে সেজদাসাহু করবে না বরং সে তার ছুটে যাওয় নামায আদায় করার জন্য দাড়িয়ে যাবে । পরবতর্ীতে নামায শেষে সালাম ফিরানোর পর সে সেজদাসাহু করবে ।
এ বিধানটি তখন প্রযোজ্য হবে, যখন ইমামের ভুলটি নামাযের ঐ অংশে হবে, যে অংশ সে ইমামের সাথে আদায় করছে, আর যদি ইমাম, সে নামাযে শরীক হওয়ার আগেই ভুল করে তখন তাকে সেজদাসাহু করতে হবে না । কারণ , তার ক্ষেত্রে সেজদা সাহু ওয়াজিব হওয়ার কারণ – ভূল- সংঘটিত হয়নি,ভূল সংঘটিত হয়েছে ইমাম এবং তার সাথে অংশগ্রহন কারী মুক্তাদির ক্ষেত্রে।

কিভাবে আল্লাহর পথে মানুষ কে ডাকতে হবে

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
(সুরা আল বাকারা, সুরা নং ২, আয়াত নং ২০৮)

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللّهِ الإِسْلاَمُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ إِلاَّ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللّهِ فَإِنَّ اللّهِ سَرِيعُ الْحِسَابِ
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
(সুরা আল ইমরান, সুরা নং ৩, আয়াত নং ১৯)

إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلاَ تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ
নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।

(সুরা আল বাকারা, সুরা নং ২, আয়াত নং ১১৯)

উপরে আল-কুরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন, কিভাবে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে হবে, আপনি যদি না জেনে না বুঝে আল্লাহর দিন ইসলাম বা আল-কুর আন বিষয়ে এমন কিছু বলেন, আর যদি তাতে ইসলামের কন ক্ষতি হয়, তার দায়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে, আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন, আমিন ।

চুরি করলে কি শাস্তি , হাত কেটে দেওয়া ?

 

(দিষ্টি আকর্ষনঃ যদি আমার চেয়ে আর ভালো যুক্তি দেখাতে পারেন তাহলে আমার কথা গুলি মিথ্যা প্রমান হবে এবং আমি তাকে অভিনন্দন জানাবো )

প্রথমে ছোট্ট একটি উদহারনঃ
ধরুন আপনার ঘরে ছোট বা বড় ভাই বোন আছে, এখন যদি তারা চুরি করে তাহলে কি আপনি তাদের হাত কেটে দিবেন?
আমার মনে হয় না, কারন আপনি হয়ত বলবেন, দেখি আগামীতে সংশোধন হয় কি না, তার পর হয়তোবা আপনি তাদেরকে একটু শাসন বা বকাঝোকা করবেন, তার পরও তারা যদি সংশোধন না হয়, তাহলে হয়তো আপনি এমন কোন শাস্তি দিবেন যাতে তারা চুরি থেকে বিরত থাকে, কিন্তু কখনই আপনি তাদের হাত কেটে দিবেন না, তাহলে আপনার ভাই বোনদের বেলায় এক নিতি
আর অন্যের বেলায় আরেক নিতি, কেন এই দুই মুখো নিতি বলতে পারেন?
এছাড়া আল্লাহ আল-কুর আনে বহুবার বলেছেন, মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, আমি বা আপনি আমরা আপন ভাই বোন না হতে পারি, কিন্তু পরক্ষ ভাবে আমরা অবশ্যি ভাই ভাই,
আর আল-কুর আনও চুরি করলে হাত কাটাকে উৎসাহিত করে না, তাই যদি আপনি আপনার ভাই বা বোনের হাতও কেটে দেন, সেটাও ঠিক হবে না,

আবার একই ব্যাক্তি যদি একাধিকবার চুরি করে, তাহলে প্রথম বার যদি আপনি তার হাত কেটে দেন, পরের বার আপনি কি কাটবেন?
এছারা ইসলামে যাকাত নামে একটা বিষয় আছে, যদি আমরা ঠিকমত যাকাত আদায় করি, তাহলে চুরি করার লোক আর খুজে পাওয়া যাবে না, একজন মানব সন্তান ও আর না খেয়ে মারা যাবে না,
তাই ইসলামে এটা কোন যুক্তি নয় যে, চুরি করলেই হাত কেটে দিতে হবে,
হাত কাটার আগেও কিছু নিয়ম কানুন ও চিন্তা ভাবনার বিষয় আছে,

যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।    
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُواْ أَيْدِيَهُمَا جَزَاء بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ    

অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
فَمَن تَابَ مِن بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

( সূরা আল মায়েদাহ , সুরা নং ৫, আয়াত নং ৩৮ ও ৩৯)

উপরে দুইটি আয়াত থেকে কি আমরা শুধু এই জানতে পারি যে কেউ চুরি করলে তার হাত কেটে দিতে বলতেছে আল-কুরআন ?
আমার মনে হয় না, কারন প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ
যে পুরুষ বা নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও,

কিন্তু তার পরের আয়াত থেকেই আমরা জানতে পারি, অতঃপর যে তাওবা করে এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, নিশ্চিই আল্লাহ ক্ষমাশীল , দয়ালু ।

তার অর্থ, যদি কেউ তাওবা করে এবং সংশোধিত হয়, তাহলে হাত কাটার প্রশ্নই এখানে আসে না,

কিন্তু যদি বার বার কেউ চুরি করে এবং তাওবা না করে, বা তাওবা করার পরও সংশোধিত না হয়, তাহলেই কেবল হাত কাটার প্রশ্নটি এখানে আসে, আর যে বার বার চুরি করে আর সংশোধিত না হয়, তার হাত কেটে দেওয়া ছারা আর কি শাস্তি হতে পারে,

আল্লাহ আল-কুরআনে এমন কিছু বলেন না, যা মানবতার বিরুধ্বে যায়,
কিন্তু আমি বা আপনি যদি আল-কুর আন সম্পর্কে না বুঝে উদ্রিতি দেই আর যদি এজন্যে মানুষের মনে ইসলাম বা মুসলিম সম্পর্কে খারাপ ধারনা জন্মায় অথবা আমার অমুসলিম ভাইরা যদি আমাদেরকে ভুল বুঝে বা ইসলাম কে ভুল বুঝে, তাহলে এ দায়ভার কে বহন করবে ?

আমাদের ইসলামের ভালো দিক গুলি , আমাদের মুসলিমদের ভালো গুন গুলি যদি আমরা আমাদের অমুসলিম ভাইদের কাছে তুলে ধরতে পারি, তাহলেই মানুষকে আমরা ইসলামের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবো, তাছাড়া কোন ভাবেই আমরা মানুষকে ইসলামের কাছাকাছি আনতে পারবোনা, বরং আমাদের আরো ক্ষতি হবে বলেই আমার বিশ্বাস, ইতিমধ্যে অনেক ক্ষতি হয়েছেও, আসুন আমরা আরো সতর্ক হই,
আল্লাহ আল-কুর আনের ১৬ নং সুরা নেহাল এর ১২৫ নং আয়াতে বলেনঃ

আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে।    
ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

আল্লাহ আমাদেরকে আল-কুর আনের সঠিক বুঝ দান করুন ও অন্যকে সঠিক ভাবে যাতে বুঝাতে পারি, সেই তাওফিক আমাদের সবাইকে দান করুন, আমিন,

 

 

কিভাবে আল্লাহর পথে মানুষ কে ডাকতে হবে

আল্লাহ আল-কুরআনে বলেন,

ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ
الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ
هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِا
لْمُهْتَدِينَ
আপন পালনকতা’র পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের
কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরুপে, এবং তাদের
সাথে বিতক’ করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায় । নিশ্চয় আপনার পালনকতা’ই ঐ ব্যক্তি সম্পকে’ বিশেষ ভাবে জ্ঞাত র‌য়েছেন,
যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে