ইসলাম প্রতিষ্ঠাই হোক জীবনের লক্ষ্য

আমার ব্লগে আপনাদেরকে স্বাগতম

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

প্রশ্ন: আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, কেমন আছেন আপনি? আমি মাসিক আল-হুদাকে ভালোবাসি এবং নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। আপনাদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন ছিলো, যা উদয় হয়েছে, আল-হুদার ৩৩তম সংখ্যার প্রশ্নোত্তর পর্ব পাঠ করে। সেখানে পালক সন্তানের বিষয় এক ভাই বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আপনারা উত্তরে বলেছেন; পালক মেয়েকে তার পালক বাবা বিয়ে করতে পারবে, এমনকি পালক ছেলেও তার পালক মা-কে বিয়ে করতে পারবে, যদি তার পালক বাবা তাকে তালাক দেয়। এখন আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, এটা কিকরে সম্ভব!? আমি ঠিকমত বুঝে উঠতে পারছি না! যদি আমাকে একটু বুঝিয়ে বলতেন, তাহলে আমি, এই দ্বিধা দ্বন্দ্বের মাঝ থেকে সড়ে আসতে পারবো। আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইলো। জাযাকাল্লাহু খায়ের। জিল্লুর রহমান, জেলীব আল শুয়োখ, কুয়েত

 উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। মাসিক আল-হুদা নিজে পড়বেন এবং অন্যদের পড়ার ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন। আমীন।   বিষয়টি সহজে বুঝার জন্য ৩৩ তম সংখ্যার উত্তরটি পুনরাবৃত্তি করা হলো: সেখানে বলা হয়েছিলো যে, কেউ ইচ্ছা করলে কন্যা সন্তান কিংবা পুত্র সন্তান লালন-পালন করতে পারবে। তবে মনে রাখতে হবে, যে বয়োপ্রাপ্ত হলে, এরা উভয়-ই পরপুরুষ ও পরনারীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তাদের সাথে লালন-পালনকারী মাতা-পিতাকে পর্দা করে চলতে হবে। এমনকি পালিত মেয়েকে বিয়ে করাও ইসলামে জায়েজ। যেমন রাসূল তাঁর জীবদ্দশায় বিষয়টি পরিষ্কার করে গেছেন। (অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তাঁর পালক ছেলে যায়েদ বিন হারেসার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যয়নব বিনতে জাহাশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করেছেন।) যেহেতু পালক ছেলে কিংবা মেয়ের সাথে, মাতা-পিতার রক্তের কোন সম্পর্ক স্থাপিত হয় না, তাই বয়োপ্রাপ্ত তাদের সাথে পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে। এবং তার উভয় সম্পদেরও হকদার হয় না। আর যাদেরকে বিয়ে করা হারাম, তাদের মধ্যে পালক মা অন্তর্ভুক্ত না বিধায়, পালক ছেলের জন্য পালক বাবার অবর্তমানে (মৃত্যু বা তালাক দেওয়া) বিয়ে করা জায়েয। আশা করি বিষয়টি আপনার নিকট পরিষ্কার হয়েছে।  তেমনিভাবে পালক ছেলে, তার পালক মাকে বিয়ে করতে পারবে। আর পালক সন্তান উত্তরাধিকার সম্পদের মালিক হয় না।

 প্রশ্ন: আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুাহ। আমার একটি প্রশ্ন আছে; আর তাহলো: কোন মুসলমান ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করে স্বামী তার ধর্ম এবং  স্ত্রীও তার আপন ধর্ম পালন করছে; এবং তাদের গর্ভে সন্তানও জন্মগ্রহণ করেছে। সন্তানরাও যার যার ইচ্ছামত ধর্ম পালন করছে, এটা শরীয়তে কতটুকু বৈধ? আর কোন মুসলমান; হিন্দু, খ্রীষ্টান, ইহুদী এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরকে বিয়ে করতে পারবে কিনা? জানাবেন।

 উত্তর: কোন মুসলমানের জন্য মুশরিক তথা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করা জায়েয নাই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা বাকার: ২২১)   আলোচ্য আয়াতে মুশরিক বলতে যারা বিভিন্ন প্রকারে পূজা করে থাকে, যেমর মূর্তিপূজা, দেবতা পূজা ইত্যাদি। অর্থাৎ হিন্দু, বৌদ্ধ, সাম্যবাদী বা কমিউনিষ্ট একথায় যাদের কোন আসমানী গ্রন্থ নাই।  ইমাম ইবনে জারীর স্বীয় তাফসীর আত তাবারী ৪/৩৬৩ খণ্ডে কাতাদা হতে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন; আলোচ্য আয়াতে মুশরিকাত বলতে ঐসব মুশরিক যাদের নিকট কোন কিতাব অবতীর্ণ হয়নি। মহান আল্লাহ আহলে কিতাবের মহিলাদেরকে তাদেরকে পৃথক করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে  স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে, তার শ্রম বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা মায়েদা: ৫)  তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। (সূরা মুমতাহিনা : ১০) এই আয়াতেও কাফের নারীদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। হযরত উমর (রা.) এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর দুইজন মুশরিকা স্ত্রীকে তালাক দিয়েদেন।  এই তো গেলে মুশরিক বা পূজারী নারীদের বিয়ে সংক্রান্ত আলোচনা। যে তাদেরকে বিয়ে করা হারাম। পক্ষান্তরে কিতাবধারী খ্রীষ্টান বা ইহুদী নারীদের বিয়ে করা বৈধ এই শর্তে যে, সতী-সাধী হতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সতী-সাধ্বী  নারীকে বিয়ে করা জায়েজ। সতী-সাধ্বী নারী বলতে এমন নারীকে বুঝায় যে, ব্যভিচারের লিপ্ত হয়নি। উপরের আলোচনা হতে আমরা যা জানতে পারলাম: ১. মুশরিকা নারীকে বিয়ে করা জায়েয নাই। ২. কিতাবধারী ইহুদী ও খ্রীষ্টান নারীকে বিয়ে করা বৈধ। ৩. কিতাবধারী নারীগণ ব্যভিচার হতে পুতপবিত্র হতে হবে।  এবার প্রশ্নকারী আপনি চিন্তা করুন, যে মুসলমান লোকটি কোন শ্রেণীর নারীকে বিয়ে করেছে। আর হ্যাঁ বিয়ের উদ্দেশ্য থাকতে হবে যে, ক্রমশঃ কিতাবধারী মহিলাকে ইসলামের দাওয়াত দিবো। আর সন্তান-সন্তনি বাবার ধর্মের অনুসারী করে গড়ে তুলতে হবে। যদি স্ত্রী এমন শর্ত দেয় যে, সন্তান আমার ধর্মের অনুসরণ করবে, সেই ক্ষেত্রে এমন নারীকে বিয়ে না করাই উত্তম। মনে রাখতে হবে যে, কোন মুসলিম নারীর জন্য খ্রীষ্টান বা ইহুদী পুরুষকে বিয়ে করা জায়েয নাই।  

 প্রশ্ন: হস্তমৈথুন কি যিনার অন্তর্ভুক্ত? পরকালে হস্তমৈথুনকারীকে কোন প্রকারের শান্তি ভোগ করতে হবে? বিষয়টি জানিয়ে উপকৃত করবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সালমিয়া, কুয়েত

উত্তর:  ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুন  (Masturbation)  হস্তমৈথুন (Masturbation)   বা স্বমেহন বর্তমানে একটি বড় সমস্যা। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম এবং কবীরা গুনাহ। শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালঙ্ঘনকারী। হস্তমৈথুনের কারণে দুই ধরনের সমস্যা হয় (১) মানসিক সমস্যা। (২) শারীরিক সমস্যা। 

পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে সব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে একটি হল নপুংসকতা (Impotence) । অর্থাৎ ব্যক্তি যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায়।   আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত (Premat ure Ejaculation)। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে বীর্যপাত ঘটে। ফলে স্বামী তার  স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না।   আরো একটি সমস্যা হল, বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম। [২ কোটি]। যার ফলে  সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার দেখা দেয়। একজন পুরুষ যখন  স্ত্রী গমন করেন তখন তার থেকে যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয় না।   অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়।  আর শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয়।  পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ-বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায়। * চোখের ক্ষতি হয়। * স্মরণ শক্তি কমে যায়। * মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে। আরেকটি সমস্যা হল। অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয়। ফলে অনেক মুসলিমভাই সালাত পড়তে পারেন না। মহান আল্লাহ  তা‘আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন।  আর কোন নারী যখন স্বমেহন বা হস্তমৈথুন করে তখন তার কুমারীত্ব (Virgi nity) হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেকে স্বমেহন করতে গিয়ে কুমারীত্ব হারিয়ে ফেলে। ফলে তার বিয়ে করতে সমস্যা হয়। বিয়ের পর স্বামী তার এ অবস্থা দেখে তাকে সন্দেহ করে তালাক দেয়। তাই হস্তমৈথুন নারীদের অনেক বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। আরো অনেক সমস্যা থাকতে পারে।  ইউরোপীয় দেশেগুলো বয়সন্ধিকালীন ছেলে-মেয়েদর হস্তমৈথুন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে থাকে। হস্তমৈথুন একটি ভাল অভ্যাস বলে তারা প্রচার করছে। কারণ? কারণ হল ব্যবসা। হস্তমৈথুনের সাথে পর্ণোগ্রাফির খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। জুতার সাথে মোজার,চায়ের সাথে বিস্কুটের, কাগজে র সাথে কলমের যেরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হস্তমৈথুনের সাথে পর্ণোগ্রাফিরও সেরকমই সম্পর্ক। পর্ণোগ্রাফির ব্যবসা হল কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। পশ্চিমারা যদি হস্তমৈথুনের অপকারিতা মানুষের কাছে তুলে ধরে তাহলে তাদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসার ক্ষতি হবে। কারণ তখন হস্তমৈথুনের হার কমে যাবে। ফলে পর্ণো সিডি, ম্যাগাজিন-এর বিক্রি ব্যাপকভাবে কমবে। এজন্য তারা হস্তমৈথুনের কোন অপকারিতা নেই বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সমকামিতা  বৈধ করেছে। সমকামিতার মত হস্তমৈথুনের অপকারিতাকেও তারা এড়িয়ে চলছে।

অন্য ধর্ম এ সম্পর্কে কি বলে? হিব্রু এবং খ্রীষ্টান বাইবেল হস্তমৈথুনের ব্যাপারে চুপ। হিন্দু ধর্মে হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ নয়। বরং কামসূত্র বইয়ে হস্তমৈথুনের বর্ণনা খুব সুন্দরভাবে দেওয়া হয়েছে।  যাই হোক, আমার মুসলিম ভাই-বোনেরা হস্তমৈথুন নামের এই যৌন বিকৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। মহান আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন। আপনার বন্ধু-বান্ধবীদের এই ব্যাপারে সচেতন করুন। এই ব্যাপারে আলোচনা করুন। এই সামাজিক সমস্যা দূর করুন। সবশেষে একটি হাদীসের উদ্ধৃতি পেশ করছি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন– যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব। (বুখারী )  হস্তমৈথুনের ব্যাপারে সাধারণ ব্যাকরণ হলো যে, তা হারাম যা পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে যদি কেউ ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার তীব্রতা বোধ করে তখন তার জন্য সাময়িকভাবে হস্তমৈথুন বৈধ। যেহেতু এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, তাই রোযার মাধ্যমে যৌনতাকে দমন করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন  হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করার সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, এর দ্বারা চোখ নিচে থাকবে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত হবে। আর যে বিবাহ করার সামর্থ রাখে না, সে যেন সিয়াম বা রোজা রাখে। কারণ, সিয়াম বা রোজা তার কুপ্রবৃত্তিকে দমন করবে। (বুখারী শরীফঃ হাদীস নং ৫০৬৬)  সুতরাং আমাদেরকে প্রবাস জীবনেও এমনতর একটি পাপকাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং নিজের যৌন শক্তিকে হেফাজত করার স্বার্থে রাসূলের বাতানো পথে অর্থাৎ সিয়াম সাধনার পথে এগিয়ে আসা কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন 

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply