ইসলাম প্রতিষ্ঠাই হোক জীবনের লক্ষ্য

আমার ব্লগে আপনাদেরকে স্বাগতম

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

শ্রদ্ধেয় সম্পাদক সাহেব! প্রথমে আমার সালাম নিবেন “আচ্ছালামু আলাইকুম” আশা করি আল-হুদা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো আছেন। আমার নিত্য দিনের কামনা তাই। আমার প্রশ্ন হলো:
ক। একজন মহিলা কয়জন পুরুষের সঙ্গে দেখা করতে ও কথা বলতে পারবে? ইসলামের দৃষ্টিতে অবগত করবেন।
খ। আমি বিয়ে করেছি ৭ বছর চলে, এটাই আমার প্রথম বিয়ে। কিন্তু যখনই আমার স্ত্রী গর্ভধারণ করে, অকাল গর্ভপাতে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় আমি যদি দ্বিতীয় বিয়ে করি, তাহলে কী প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে? বিষয়টি জানাবেন। আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ইসবেলিয়া, কুয়েত।

উত্তর: ক। ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! যাদের সঙ্গে বিয়ে করা স্থায়ীভাবে হারাম, তাদের সঙ্গে মহিলার পর্দা করা ফরজ নয়। এরা হলেন; ১. পিতা ২. ছেলে ৩. আপন ভাই ৪. সৎ ভাই ৫. দুধ শরীক ভাই ৬. আপন চাচা ৭. আপন মামা ৮. দাদা ৯. নানা ১০. আপন ভাতিজা ১১. আপন ভাগিনা ১২. নাতি এভাবে সরাসরি যাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তারাই মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সাথে পর্দা করা জরুরি নয়।

উত্তর খ। স্ত্রীর অকালীন গর্ভপাতের বিষয়টি গর্ভাশয়ের রোগ সংক্রান্ত ব্যাপার। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা দরকার। আমরা যতদুর জানি, এ ব্যাপারে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার চেয়ে হোমিও চিকিৎসায় ভাল ফল পাওয়া যায়, এটা পরীক্ষিত। রোগ দেয়ার মালিক আল্লাহ এবং রোগ মুক্তির মালিকও আল্লাহ। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করলে তারও যে এই সমস্যা হবে না, তার কী গ্যারান্টি আছে? আর ইসলামী শরীয়া মোতাবেক স্বামীর যে কোন প্রয়োজনে দ্বিতীয় বিবাহ করলে, তাতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। তবে যেহেতু রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন নেই, তাই যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার নিমিত্তে দেশের প্রচলিত আইনকে প্রত্যেকটি নাগরিককেই মেনে চলা উচিত। আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে হলে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সুতরাং এ ব্যাপারে একজন সুনাগরিক হিসেবে দেশের রাষ্ট্রীয় আইনকে শ্রদ্ধার সাথে মেনে চলা উচিত। আর ইসলামী শরীয়া মেনে চলার পূর্বশর্ত হলো, প্রত্যেক মু’মিন নারী-পুরুষকে ইসলামী জ্ঞানে ন্যূনতম জ্ঞানী হতে হবে। একজন অজ্ঞ লোককে জবরদস্তি করে ইসলামী শরীয়া মেনে চলতে বাধ্য করার শিক্ষা ইসলাম দেয়নি। অর্থাৎ ইসলাম কাউকে পেটে না দিয়ে পিঠে কিল মারতে বলেনি। এ জন্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে কারণে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে, সেই ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তাঁর উপর জ্ঞান আহরণের সর্বপ্রথম নির্দেশ দিয়েই বলেছেন ঃ “তুমি পাঠ কর, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি (তোমাকে) সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে (জড়ায়ুতে ঝুলন্ত) রক্তপিণ্ড হতে। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন- তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।” (সূরা ঃ আলাক ঃ ১-৫)। আর এ শিক্ষা আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম নিজে গ্রহণ করেছেন, তারপর সেই শিক্ষা তৎকালীন জাহেল সমাজের নর-নারীকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর সেই ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত নর-নারীর সমন্বয়ে একটি পবিত্র সমাজ ও পরে ইসলামী শরীয়ার আইন-কানুনের মাধ্যমে একটি পবিত্র কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করেছেন। তারপরে সেই রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকগণ সেই ইসলামী শরীয়া মোতাবেক শান্তিময় জীবন যাপন করে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই মহাকল্যাণ লাভে ধন্য হয়েছেন। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হলে বর্ণিত সমস্যা বা স্বামীর যে কোন প্রয়োজনে প্রথম স্ত্রী নিজেই স্বামীর দুঃখটা বুঝতে সক্ষম হবেন এবং স্বামী বলার আগেই সেই দ্বীনি জ্ঞান সম্পন্ন স্ত্রীই স্বামী বা তার কল্যাণের জন্যে স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে অনুরোধ করবেন। তখন স্বামীকে দ্বিতীয় বিবাহের জন্যে আর প্রথম স্ত্রীকে তোষামদ করতে হবে না। তাই আমরা আপনাদের সকলের কাছেই সবিনয়ে অনুরোধ জানিয়ে বলছি, আগে আমাদের নিজেদেরকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত তথা জ্ঞানী হতে হবে। তারপর নিজের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে সেই জ্ঞানের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। তারপর সেই রাষ্ট্রে বসবাসকারী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকই তার সুফল ভোগ করে দুনিয়া ও আখেরাতে ধন্য হতে পারবো ইনশা-আল্লাহ। তাই আসুন ! আমাদের সকলের মহাকল্যাণের জন্যই আমরা আজ থেকেই ইসলামী শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করি, সাথে আমাদের স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকেও ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার মধ্য দিয়ে সেই ইসলামী জ্ঞানের আলোকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠণের প্রাণপণ চেষ্টা করি।

আর ইসলামী শরীয়া মোতাবেক স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহ সম্পর্কে কথা হল যে, স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ক্ষমতা থাক বা না থাক, স্বামীর দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ে করতে স্ত্রীর অনুমতি গ্রহণ করা জরুরি নয়। প্রশ্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে এতে প্রথম স্ত্রীর প্রতি অবহেলা করা হবে না। যদি স্বামী উভয় স্ত্রীর প্রতি তাদের হক যথাযথভাবে আদায় করে। যেমন রাত যাপন, বাসস্থান, খাদ্য, পরিধানের বস্ত্রসহ যাবতীয় বিষয় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, এসব বিষয়ে পুরোপুরি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে স্বামীর জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করতে ইসলামের দৃষ্টিতে কোন বাধা নেই।
ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামকে হেয় করার জন্য এ বিষয়টিকেও বিদ্রূপাত্মকভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে ভুল করে না। বিষয়টি নিয়ে আমাদের বর্তমান সময়ের প্রগতিশীল-আধুনিকা মুসলিম নারীরা বিভ্রান্তিতে ভুগে থাকেন।
পাঠকদের উপকারার্থে এই প্রসঙ্গে নিম্নে কয়েকটি যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করে তার উত্তর দেয়া হলো:
প্রশ্নগুলো হচ্ছে :
১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিয়ের সময় নারীরা কি স্বামীদের শর্ত দিত যে, অন্য কাউকে বিয়ে করা যাবে না ? এটা কি হালাল বস্তুকে হারাম সাব্যস্ত করার মধ্যে শামিল হবে?
২- স্বামী যদি তার স্ত্রীকে শর্ত দেয় যে, তার সাথে কাউকে বিয়ে করবে না, তবে তার এ ওয়াদা পূর্ণ করা কি জরুরি? না তার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করার অধিকার রয়েছে ? সে তার এ ওয়াদা বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর করেছে। অর্থাৎ বিয়ের আকদের সময় এ জাতীয় ওয়াদা করে নি।
৩- দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে এ ওয়াদা পূর্ণ করা কি ওয়াজিব? এমনকী যদি তাকে এ-ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করা হয় তবু?
৪- প্রথম স্ত্রীর ওয়াদা যদি পূর্ণ না করে এবং দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলে, তবে এ জন্য স্বামী কি গুনাগার হবে ?
উত্তর : আল-হামদুলিল্লাহ
প্রথমত : নারী যদি স্বামীকে শর্ত দেয়, তার সাথে কাউকে বিয়ে করা যাবে না, তবে এ শর্ত শুদ্ধ। এবং তা পূর্ণ করা জরুরি। স্বামী যদি তার বর্তমানে দ্বিতীয় বিয়ে করে, তবে স্ত্রীর জন্য বিয়ে ভঙ্গ করার অধিকার থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সেসব শর্তগুলো পূর্ণ করা অগ্রাধিকার-প্রাপ্ত, যার মাধ্যমে তোমরা যৌনাঙ্গসমূহ হালাল করেছ। (বুখারী:২৭২১, মুসলিম:১৪১৮)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেছেন, মুসলমানগণ তাদের শর্তের কাছে বাঁধা। তবে যে সব শর্ত হালালকে হারাম করে, অথবা হারামকে হালাল করে, তা ব্যতীত। (তিরমিযি : ১৩৫২, আবু দাউদ :৩৫৯৪) সহিহ তিরমিযিতে আলবানি হাদিসটি সহিহ বলেছেন।
উল্লেখ্য, এ শর্তটি হালালকে হারাম করে না, বরং পুরুষের কর্তৃত্বকে সীমা বদ্ধ করে ও নারীর জন্য বিয়ে ভঙ্গের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
সাহাবাদের যুগে এ ধরনের শর্ত সংঘটিত হয়েছে।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া -রাহিমাহুল্লাহ- বলেন, এক ব্যক্তি এ শর্তে বিয়ে করেছে যে, এই স্ত্রীর সাথে অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। ওমর রাদিআল্লাহু আনহু-র নিকট এ ব্যাপারটি দায়ের করা হল, তিনি বললেন: শর্তের সময় অধিকার ভাগ হয়ে যায়। (ফতোয়া আল-কুবরা : ৩/১২৪ )
ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, এর সারাংশ হচ্ছে, বিয়ের শর্তগুলো তিনভাবে ভাগ হয় :
এক. কিছু শর্ত রয়েছে যার উপকারিতা শুধু নারীর উপর বর্তায়। যেমন সে শর্ত করল: তাকে তার বাড়ি থেকে বের করা যাবে না, অথবা তার শহর থেকে বের করা যাবে না, অথবা তাকে নিয়ে সফর করা যাবে না, অথবা তার সাথে কাউকে বিয়ে করা যাবে না, অথবা তার সাথে কোন বাদী বা দাসী গ্রহণ করা যাবে না। নারীর স্বার্থে এসব শর্ত পূর্ণ করা জরুরি। স্বামী যদি এসব শর্ত পূর্ণ না করে, তবে তার জন্য বিয়ে ভঙ্গ করার অধিকার রয়েছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস -রাদিআল্লাহু আনহুম- প্রমুখ সাহাবাদের থেকে এ মত বর্ণনা করা হয়েছে। (মুগনি : ৯/৪৮৩)
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া -রাহিমাহুল্লাহ-কে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ওয়াদা দিয়েছে, তার সাথে কাউকে বিয়ে করবে না, তার বাড়ি থেকে তাকে বের করবে না এবং সে তার মার কাছেই থাকবে। এসব শর্ত পূর্ণ করা কি জরুরি? এর বিপরীত হলে স্ত্রী কি বিয়ে ভঙ্গ করার অধিকার হাসিল করবে?
তিনি উত্তর দেন, হ্যাঁ, ইমাম আহমদ অনেক সাহাবি ও তাদের অনুসারীদের মতে এ শর্ত ও এ ধরনের অন্যান্য শর্ত করা দুরস্ত আছে। যেমন ওমর ইবনুল খাত্তাব, আমর ইবনুল আস, কাজী শুরাই, আওযায়ী ও ইসহাক প্রমুখ।
ইমাম মালেকের মাযহাব হচ্ছে, নারী যদি শর্ত করে, যদি তার সাথে বিয়ে করা হয়, অথবা তার সাথে বাদী গ্রহণ করা হয়, তবে তার ব্যাপারটি তার উপরই ন্যস্ত হবে, তার ব্যাপারে সিদ্ধান্তের ভার তার উপরই বর্তাবে। অর্থাৎ এ জাতীয় শর্ত বৈধ। এর ব্যতিক্রম হলে নারী বিয়ে ভঙ্গ করার অধিকার হাসিল করবে। এ মতটি ইমাম আহমদের মতের ন্যায়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের সেসব শর্তগুলো পূর্ণ করা অগ্রাধিকার-প্রাপ্ত, যার মাধ্যমে তোমরা যৌনাঙ্গসমূহ হালাল করেছ। (বুখারী:২৭২১, মুসলিম:১৪১৮)
ওমর -রাদিআল্লাহ আনহু বলেছেন, শর্তের সময় অধিকার ভাগ করা যায়।
দ্বিতীয়ত : বিয়ের মুহূর্তে যদি এসব শর্ত করা হয়, তবে এ শর্তগুলো পূর্ণ করা জরুরি। আর যদি বিয়ের পর এসব সংঘটিত হয়, তবে তা শুধু ওয়াদার মর্যাদা পাবে, স্ত্রীকে বিয়ে ভঙ্গের অধিকার দেয়া হবে না। কিন্তু স্বামীর জন্য এসব ওয়াদা পূর্ণ করা ওয়াজিব। কারণ, আল্লাহ তাআলা ওয়াদা পূরণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সূরা বনী ইসরাইল: ৩৪)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেরা নিজেদের জন্য ছয়টি জিনিসের জিম্মাদার হয়ে যাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব : ১. যখন কথা বলবে সত্য বলবে ২. ওয়াদা করলে পূর্ণ করবে ৩. আমানত রাখা হলে যথাযথ আদায় করবে ৪. নিজদের যৌনাঙ্গকে হিফাজত করবে ৫. দৃষ্টি অবনত রাখবে এবং ৬. নিজদের হাত (যাবতীয় অপরাধ থেকে) বিরত রাখবে। (আহমদ : ২২২৫১) (সহিহ আল-জামে গ্রন্থে : ১০১৮) আলবানি হাদিসটি হাসান বলেছেন। ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকদের আলামত, এ হিসেবেও তা পূর্ণ করা জরুরি।

জনাব,
আস্সালামু আলাইকুম,
নিম্নোক্ত প্রশ্নটি আপনার মাসিক আ-হুদায় “আপনি যা জানতে যেয়েছেন” পৃষ্ঠায় প্রশ্নোত্তর কলামে ছাপিয়ে উপকৃত করবেন।
প্রশ্ন: আমি আল-হুদার একজন নিয়মিত পাঠক। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড “শিক্ষা ডিপোজিট স্কীম (EDS)” চালু করেছে। প্রতি মাসে ৪০০০ হাজার টাকা করে ডিপোজিট করলে ১০ বছর পর ৫০০০ টাকা বোনাসসহ মোট ৭,৩০,৪৮৭ টাকা প্রদেয় হবে। এখানে আমার প্রশ্ন হলো; পবিত্র কুরআন মজিদে সূরা বাকারা ও অন্যান্য সূরায় “রিবা বা সুদ” সম্পর্কে আয়াত পাওয়া যায়। কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানতে চাই উপর্যুক্ত সঞ্চয় রিবার অন্তর্ভুক্ত কিনা?
মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম মজুমদার, মাহবুলা, কুয়েত
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! সোনালী ব্যাংক লিমিটেড “শিক্ষা ডিপোজিট স্কীম EDS)” নামে যে প্রকল্প চালু করেছে, এই প্রকল্পটিও সুদ মুক্ত নয়। কারণ সোনালী ব্যাংকটির ভিত্তিই রাখা হয়েছে সুদের উপর। দ্বিতীয়ত: আপনি যে হিসাব দেখালেন; প্রতি মাসে ৪,০০০ (চার হাজার) টাকা করে জমা রাখলে ১ বছরে হয় ৪৮ হাজার টাকা জমা হয়। দশ বছরে জমা হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
আপনি বললেন দশ বছর পর প্রদেয় হবে ৭,৩০,৪৮৭ টাকা। এখানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আপনাকে ৫ হাজার টাকা বোনাসসহ মোট ২,৫০,৪৮৭ বেশি দিচ্ছে। আর বিনিময় ছাড়া অতিরক্তি টাকাকে ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ বলা হয়। সুতরাং “শিক্ষা ডিপোজিট স্কীম (EDS)” প্রকল্পও কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ‘রিবা বা সুদ’ সংক্রান্ত আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুদমুক্ত জীবন-যাপন করার তাওফীক দান করুন। আমীন
জনাব,
আস্সালামু আলাইকুম,
প্রশ্ন: যেই আয়ে সরকারের অনুমোদন নেই (যেমন – ইন্টারনেট ব্যবসা, নেট ফোন ব্যবসা, সিকরাপ এবং বিনা লাইসেন্স বা সরকার অনোনুমোদিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আয়) সেই আয় শরীয়ত সম্মত বা হালাল কি-না? অতএব বিনীত অনুরোধ এই যে, প্রশ্নটির উত্তর আপনার বহুল প্রচারিত আল হুদার মাধ্যমে জানালে আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব। ফয়সাল নবী আল সাফাত আল আমেরিকা কোং কুয়েত।
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! ধন্যবাদ আপনাকে নিয়মিত আল-হুদা পাঠ করার জন্য। আপনি যে বিষয়টি জানতে চেয়ে আমাকে ইমেইল করেছেন; সেই বিষয়ে বিভিন্ন বই পুস্তক ও ইন্টারনেটে খোঁজ করে যা পেলাম, তা পাঠকদের অবগতির জন্য নিম্নে পেশ করা হলো:
ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার, স্কাইপ, গুগোলটক, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি ইন্টারনেট সার্ভিসের মাধ্যমে কথা বলা বা চ্যাটিং করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে এর মাধ্যমে কাউকে ধোঁকা বা প্রতারণমূলক কথা-বার্তা যাবে না। এর পর আসুন, ইন্টারনেট থেকে মোবাইলে কথা বলা, বা লেন ফোনে ডি. এইচ. এল. সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইলে কথা বলা বৈধ কি না? এই ক্ষেত্রে বলতে হয়, অবৈধ বা হারাম হওয়ার কোন কারণ নেই। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু কুয়েতে সরকার কর্তৃক অনুমতি নেই; তাই এই ধরনের ইন্টারনেট ব্যবসাসহ অন্যান্য লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা হতে বিরত থাকাই উত্তম।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply