ইসলাম প্রতিষ্ঠাই হোক জীবনের লক্ষ্য

আমার ব্লগে আপনাদেরকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নোত্তর

১/ প্রশ্নঃ কোন কোন দলের ভাইগণ বলেন যে, আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে নিজ প্রয়োজনে ১ টাকা ব্যায় করলে ৭ লক্ষ টাকা ব্যায় করার ছাওয়াব পাবে। ১ টি নেকী করলে ৪৯ কোটি নেকী পাবে এবং কারো জন্য অপেক্ষ করলে লায়লাতুল ক্বদরে হাজরে আসওয়াদকে সামনে রেখে ইবাদত করার ছাওয়াব পাবে ইত্যাদি। শরীয়তে উক্ত কথাগুলোর প্রমাণ আছে কি? জবাব দিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তরঃ প্রশ্নে উল্লেখিত ফযীলতের কথাগুলো ভিত্তিহীন। পবিত্র কুরআনে ও সহীহ হাদীসে এর কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে ভাল কাজের জন্য অবশ্যই নেকী রয়েছে। আল্লাহ তা‌আলা এরশাদ করেন; যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে , এর বিনিময়ে তার জন্য দশটি নেকী রয়েছে। (সূরা আন’আম: ১৬০) রাসূল (সাঃ) বলেন; আদম সন্তানের প্রত্যেক নেক আমলের দশগুণ হতে সাতশত গুণ ছাওয়াব প্রদান করা হয়। (বুখারী ও মুসলিম) তাছাড়া ৭ লক্ষ নেকী ও ৮৯ কোটি নেকীর প্রমাণ খুঁজে পাইনি।

 ২/ প্রশ্নঃ মুসলমানগণ একে অন্যের ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করতে পারে কি? কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানতে চাই।

 উত্তরঃ মুসলমানগণ পরস্পরে খারাপ ধারনা পোষণ করতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন; ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা হতে বেঁচে থাক, নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহের কারণ’ (সূরা হুজুরাত: ১২) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ ধারণা হতে বেঁচে থাক। কারণ, খারাপ ধারণা সবচাইতে বড় মিথ্যা কথা…. (বুখারী ও মুসলিম) উল্লেখ্য: যদি ঐ ব্যক্তির মধ্যে সত্যি সত্যিই সেই দোষ-ত্রুটি থাকে, তবে সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরাসরি তাকেই বলা উচিৎ। অন্যদের সামনে বললে সেটি গীবতের অর্ন্তভূক্ত হবে।

 ৩/ প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়ানোর আগে ইমাম সাহেব উপস্থিত মুছল্লীদের বলে থাকেন যে, তার (মৃত ব্যক্তির) নিকট কারো টাকা পয়সা পাওনা আছে কি.? কেউ কিছু পেয়ে থাকলে বলুন! তার ছেলেরা পরিশোধ করে দিবে। এ ধরণের কথা বলা যায় কি না?

উত্তরঃ জানাযার নামাজের পূর্বে মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথা বলা যায়। কেননা রাসূল (সাঃ) জানাযার পূর্বে মৃত ব্যক্তির ঋণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। (বুখারী) মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে যত দ্রুত সম্ভব ঋণ পরিশোধ করা উচিৎ। কেননা নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, মুমিনের আত্মা ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয় তার ঋণের কারণে, যতক্ষণ না তার পক্ষ হতে ঋণ পরিশোধ করা হয়। (তিরমিযী)

৪/ প্রশ্নঃ বিবাহ সম্পাদনের পর স্ত্রীকে তৎক্ষণাৎ না উঠিয়ে ছয় মাস / এক বছর পর অনুষ্ঠান করে উঠানো, শরীয়ত সম্মত কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 উত্তরঃ উল্লেখিত পদ্ধতি শরীয়ত সম্মত নয়। এতে বিবাহের উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। তাছাড়া বিবাহের অনুষ্ঠান বা ‘ওয়ালীমা’ (বৌ-ভাত) যা বিবাহের পর আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ ভবিষ্যত কল্যাণের জন্য করা হয়ে থাকে, তা ব্যাহত হয়। (বুখারী ২/১৭৬ পৃঃ) রাসূল (সাঃ) যয়নবের সাথে মিলামিশা করার পর ওয়ালীমা অনুষ্ঠান করেছিলেন এবং লোক গোশ্ত রুটি তৃপ্তি সহকারে খাইয়েছিলেন। (বুখারী) উপরোল্লিখিত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমানে ছয় মাস, এক বছর বা সন্তান হওয়ার পরও বিবাহের যে অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়, তা সুন্নাতের বরখেলাফ।

 ৫/ প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তির রূহ কবরে আসবে কি-না? রূহের আযাব কোথায় হবে? কবরে, ইল্লীনে না সিজ্জীনে? কুরআন ও হাদীসে র আলোকে জানতে চাই।

উত্তরঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকল উলামা এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, মানুষের মৃত্যুর পর তাকে কবর দেয়া হোক বা না হোক সে কোন স্থানে যে কোন অবস্থায় থাক না কেন, এমনকি কোন ব্যক্তি যদি সমুদ্রগর্ভে কিংবা কোন হিংস্র প্রাণীর পেটে থাকে বা পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়, তবুও তাকে একত্রিত করে সেখানে তার রূহকে ফিরিয়ে দিয়ে তাকে তার আমল বা কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, এবং তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ইসরাইলের এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় অছিয়ত করে যে, সে মৃত্যুবরণ করলে তার দেহকে পুড়িয়ে ভষ্ম করে অর্ধেক স্থলভাগে এবং অর্ধেক সমুদ্রে ছড়িয়ে দিবে। অছিয়ত অনুযায়ী তা করা হলে আল্লাহ তা’আলার নির্দেশক্রমে স্থল ও সমুদ্র তাকে একত্রিত করে দেয়। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি এরূপ করেছিলে কেন? সে বলে, তোমার ভয়ে। ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (বুখারী) কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর পর কবরে দাফন করা হলে তার রূহকে করবে আনা হবে, ইহা একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply