পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে রমযানের রোযা রাখা-ঈদ উদযাপন ও কিছু কথা

মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো হিজরী মাসের সঙ্গে জড়িত। চাঁদ দেখার উপর হিজরী মাসের শুরু সব মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও প্রতি বছর পবিত্র

রমযান মাসের শুরু বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন তারিখে হওয়া বোধগম্য হচ্ছে না অনেকের কাছে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে মুহূর্তের মধ্যে সবাই জেনে নিচ্ছে পৃথিবীর অপর প্রান্তে কি হচ্ছে। ইংরেজী মাসের মতো আরবী চন্দ্রমাস পৃথিবীতে একই তারিখে অথবা ২৪ ঘন্টার মধ্যে শুরু হবে অনেকেই তা আশা করে। তাই চাঁদ দেখে রোযা রাখা ও ঈদ করা নিয়ে দেশে দেশে যে পার্থক্য তা নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এই লেখার অবতারণা।
১৪০০ বছর আগে মক্কা, মদীনা হতে পার্শ্ববর্তী দেশ ইয়েমেন, জর্ডান, কুয়েত, ইরাক, মিশর ও সিরিয়ার শহরগুলোতে যাতায়াতে অনেক সময় লাগত। খবর আদান-প্রদানের সীমাবদ্ধতার জন্য চাঁদ দেখে রোযা রাখা ও ঈদ করা নিয়ে এসব দেশের মধ্যে যে পার্থক্য ছিল তা বর্তমানের মত প্রকাশ পেতনা। বর্তমানে আমরা বছরে শুধু তিনটি দিনের চাঁদের ব্যাপারে (রমযান মাসের চাঁদ, ঈদের চাঁদ {শাওয়াল} ও হজ্জের চাঁদ) অতি উৎসাহী। অথচ প্রতি মাসে যে চাঁদ উঠে, তার উপর নির্ভর করে হিজরী সন ও মাস চালু আছে এ কথা মনে পড়ে না। চাঁদের হিসাবে বছর যে স্বয়ং মহান আল্লাহ তা’য়ালার বিধান তা আমরা ভুলতে বসেছি। অথচ আল কুরআনে মহান আল্লাহ তা‘য়ালা চাঁদ ও সূর্যকে নিয়ে বিভিন্নভাবে অনেক আয়াত নাযিল করেছেন। সূরা বাকারা- ১৮৯ আয়াতে বলা হয়েছে। “তোমার কাছে তারা জিজ্ঞাসা করে নতুন চাঁদের বিষয়ে! বলে দাও যে, এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্জের সময় ঠিক করার মাধ্যম।” সূরা আন’আম- ৯৬ আয়াতে তিনি বলেন “তিনি প্রভাত রশ্মিরে উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসাবের জন্য রেখেছেন।” এই চাঁদ ও সূর্য কবে থেকে এ দায়িত্বে নিয়োজিত সেই সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ৩৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস ১২টি, আসমানগুলো ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তার মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সূতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।” প্রতিদিন আমরা পৃথিবী থেকে সূর্যকে গোলাকার দেখি। অথচ রাতে চাঁদকে ক্রমে চিকন ধনুক গোলাকার (পূর্ণিমা) হতে, আবার গোলাকার থেকে ক্ষয় হয়ে যেতে দেখি। কুরআনে সূরা ইয়াসিনের ৩৯ আয়াতে বলা হয়েছে “চন্দ্রের জন্য আমি বিভিন্ন মঞ্জিল নির্ধারণ করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খেজুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূরা ইউনুসের ৫ম আয়াতে বলা হয়েছে- “তিনি (আল্লাহ), যিনি সূর্যকে দীপ্তিমান এবং চন্দ্রকে আলোকময় বানিয়েছেন এবং ওর (গতির) জন্য মঞ্জিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছরসমূহের সংখ্যা হিসাব জানতে পার; আল্লাহ এসব বস্তু অযথা সৃষ্টি করেননি, তিনি এই প্রমাণাদি বিশদভাবে বর্ণনা করেন ঐসব লোকের জন্য যারা জ্ঞানবান।”
তাই হিজরী সনের ১২টি মাস চাঁদ দেখে শুরু হয়। রমযান মাস পবিত্র মাস। কারণ এই মাস সিয়াম সাধনার মাস। এই মাসে পবিত্র কুরআন মানব জাতির জন্য নাযিল হয়েছিল। এই পবিত্র মাসে বিশেষ এক রাত আছে যা হলো লাইলাতুল কদর, এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই মাসে রোযা রাখার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা বেহিসাব সওয়াব দেবেন। কিন্তু সেই সঙ্গে ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম করেছেন। একজন মুসলমান সারা রমযান মাস রোযা রাখার পর ঈদ করবে। রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোযা ভাঙ্গ।” তাই চাঁদ দেখে রোযা রাখতে ও ঈদ করতে সবাই আগ্রহী। মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর প্রান্তে রোযা শুরু হয়ে গেলে বাংলাদেশে কেন দেরী হচ্ছে তার কারণ জানতে অথবা ঈদের দিন রোযা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। ঈদের দিন কোন মুসলমান রোযা রাখতে চায় না। যেমন বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা, অথচ ঈদ পালনে প্রায় একাধিক দিন পার্থক্য হয়ে যায়। পবিত্র মক্কা ও মদীনা শহর দু’টি অবস্থানের কারণে সৌদি আরবের প্রতি সব মুসলমানদের বিশেষ মর্যাদা আছে। তাই সৌদি আরবের সঙ্গে পৃথিবীর সব মুসলমান একত্রে ইসলামী উৎসব পালন করতে ইচ্ছুক। অন্তত জুমার দিনের মতো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীতে রোযা শুরু এবং ঈদ পালনে আগ্রহী। তা আদৌ সম্ভব কিনা ইসলামী চিন্তাবিদগণ ভালো জানবেন।

এই চাঁদ দেখা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক মতভেদ আছে। আসলে একজন মুসলমান হয়ে না জেনে এই বিষয়ে মনগড়া কথা বলা উচিত নয়। এতে ভুল বুঝাবুঝি আর ফেতনা ছাড়া কোন ফায়দা হয় না। পবিত্র রমযান মাসের চাঁদের যাত্রা ভূপৃষ্ঠের কোথায় থেকে শুরু এবং কোন এলাকার মুসলমানরা কখন চাঁদ দেখতে পাবেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো- এই বিষয়ে ইন্টারনেটে প্রদত্ত ড. মনসুর আহমেদের ‘মুন ক্যালকুলেশন ৫.৫’ থেকে পাওয়া চিত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের আলোচিত চিত্রটি হিজরী ১৪২১ সালের রমযান মাসের শুরু উপলক্ষ্যে ২৬/১১/২০০০ তারিখে ভূপৃষ্ঠের উপর চাঁদের আলোর যে অধিবৃত্ত পড়েছে তা দেখানো হয়েছে।

হিসাব অনুসারে ইংরেজী ২০০০ সালের ২৫ নভেম্বর ভূপৃষ্ঠে ১৪২১ হিজরীর রমযান মাসের নতুন চাঁদের শুভ যাত্রা শুরু হয় ২৫ক্র পূর্ব দ্রাঘিমা ৪ক্র উত্তর অক্ষাংশ থেকে। প্রতিফলিত আলোর অংশটুকু বিভিন্ন রং দিয়ে চাঁদের বয়স বৃদ্ধি বুঝানো হয়েছে। হলুদ অংশ যখন চাঁদের বয়স ০-২০ ঘণ্টা মাত্র। গোলাপী রং দেয়া এলাকায় চাঁদের বয়স ২০-২৫ ঘণ্টা। লাল রং দেয়া এলাকায় চাঁদের বয়স ২৫-৩০ঘণ্টা। ফিরোজা রং দেয়া এলাকায় চাঁদের বয়স ৩০-৩৫ ঘণ্টা। সবুজ রং দেয়া এলাকায় চাঁদের বয়স ৩৪-৪০ ঘণ্টা।

জন্মলগ্ন থেকে চাঁদের আলো অস্তমিত সূর্যের তুলনায় কম হওয়ায় এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে যথেষ্ট উঁচু না হওয়ার কারণে চাঁদ দেখা যায় না। চাঁদের প্রতিফলিত আলো দ্বারা আলোকিত অঞ্চলকে চারটি অধিবৃত্তের বক্ররেখা দ্বারা বিভক্ত করা হয়েছে। সর্ব বামে অ বক্ররেখার মাঝের এলাকা। আর সর্ব ডানে উ বক্ররেখার অন্তর্ভূক্ত এলাকা। অ থেকে বাম দিকের অধিবৃত্ত এলাকার ভেতরে যেসব দেশ অন্তর্ভুক্ত সেই এলাকার লোকজন সবাই খালি চোখে চাঁদ দেখতে পারেন। অনুরূপভাবে ই বক্ররেখার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত এলাকার দেশের লোকজন মেঘমুক্ত আকাশে চাঁদ দেখতে পাবেন। ঈ বক্ররেখার মধ্যে অবস্থিত লোকজন চাঁদকে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দেখতে পাবেন। সর্বশেষ উ বক্ররেখার মধ্যে অবস্থিত এলাকায় চাঁদটি মাত্র ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা পুরাতন। খালি চোখে এই অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। হিসাব করে চাঁদের অবস্থান জেনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে দেখার চেষ্টা করলে হয়ত দেখা সম্ভব। উ বক্র রেখার বাইরে অবস্থিত কালো এলাকার দেশগুলো থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়েও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসার সময় সূর্যের আলো বছরের এক সময় উত্তর গোলার্ধে কর্কট ক্রান্তির উপর অবস্থান করে। আবার ধীরে ধীরে বিষুব রেখা পার হয়ে বছরের অন্য সময় দক্ষিণ গোলার্ধে মকর ক্রান্তির উপর অবস্থান করে। অনুরূপভাবে চাঁদ থেকে প্রতিফলিত আলোও অধিবৃত্ত আকারে ভূপৃষ্ঠের উপর কখনও উত্তর গোলার্ধে এবং কখনও দক্ষিণ গোলার্ধে পতিত হয়। তবে চাঁদের উত্তর গোলার্ধের অবস্থান থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের উপর অবস্থানে যেতে কয়েক বছর লেগে যায়। যেমন গত কয়েক বছরের রমযান মাসের চাঁদের প্রতিফলিত আলোর চিত্রগুলো লক্ষ্য করলে বোঝা যায় হিজরী ১৪০৯ সাল থেকে চাঁদ উত্তর গোলার্ধ থেকে ধীরে ধীরে প্রতি বছর দক্ষিণ দিকে সরে এসে হিজরী ১৪২১ সালে অর্থাৎ ২০০০ ইংরেজী সালে বিষুব রেখার উপর অবস্থান করছিল। বর্তমানে চাঁদের প্রতিফলিত আলো জন্মলগ্ন থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে পতিত হচ্ছে। গত ১ বছর পূর্বে হিজরী ১৪৩০ পর্যন্ত চাঁদের অবস্থান দক্ষিণ গোলার্ধে ছিল। এই জন্য এই বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে চাঁদ দেখতে একাধিক দিন দেরী হয়েছে।

হিসাব অনুসারে ইংরেজী ২০০৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভূপৃষ্ঠে ১৪৩০ হিজরীর সাওয়াল মাসের নতুন চাঁদের শুভ যাত্রা শুরু হয়। প্রতিফলিত আলোর অংশটুকু বিভিন্ন রং দিয়ে কোন এলাকার লোক চাঁদ কিভাবে দেখবে বুঝানো হয়েছে। চাঁদের প্রতিফলিত আলো দ্বারা আলোকিত অঞ্চলকে চারটি অধিবৃত্তের বক্ররেখা দ্বারা বিভক্ত করা হয়েছে। সবুজ রং দেয়া এলাকা অবস্থিত লোকজন সবাই খালি চোখে চাঁদ দেখতে পারেন। ফিরোজা রং দেয়া এলাকার দেশের লোকজন মেঘমুক্ত আকাশে চাঁদ দেখতে পাবেন। গ্রে রং দেয়া অবস্থিত লোকজন চাঁদকে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দেখতে পাবেন। সর্বশেষ লাল রং দেয়া এলাকায় অবস্থিত লোকজন খালি চোখে এই অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। হিসাব করে চাঁদের অবস্থান জেনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে দেখার চেষ্টা করলে হয়ত দেখা সম্ভব। রেখার বাইরে অবস্থিত কালো এলাকার দেশগুলো থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়েও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।
উপর্যুক্ত চিত্রের আলোকে ইন্টারনেটে যে মন্তব্য লিখেছে তা নিম্নে হুবহু উল্লেখ করা হলো-
The Astronomical New Moon is on September 18, 2009 (Friday) at 18:44 UT. This moon is not visible anywhere on September 18. On September 19, it will still not be visible in Asia, Europe and Canada. It can easily be seen in South Africa and South America on Sep 19. On the same day, with difficulty, it is possible to be seen in Western Australia, Central Africa, Caribbean Islands, Central America and very Southern areas of USA. In USA, on Sep. 19, the moon is going to be very low on the horizon at sunset, so try to see before Maghrib. Binocluars will help.
গত বছর উপরের চাঁদের প্রতিফলিত আলো থেকে পৃথিবীর কোন দেশে কবে ঈদ উদযাপন করল তা উল্লেখ করা হলো- ২০ সেপ্টেম্বর ঈদ উদযাপন করেছে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, আরব আমিরাত, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইয়েমেন, ইরাক, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্টসহ বিশ্বের ৪৩টি দেশে এবং ২১ সেপ্টেম্বর ঈদ উদযাপন করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও চীন, হংকং, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, ওমানসহ মোট ১২টি দেশ।
আমরা জানি বিজ্ঞান আল্লাহ তা’য়ালা প্রদত্ত জ্ঞান। বিজ্ঞানের সঙ্গে কুরআনের কোন পার্থক্য থাকলে, সেখানে শুধু কুরআনই মাপকাঠি হবে। কুরআনকে বুঝার জন্য আমরা বিজ্ঞানের সাহায্য নিতে পারি। পৃথিবীর জন্য হিজরী মাস গণনার জন্য চাঁদ একটি। চাঁদের আলো পৃথিবীর বুকে পতিত হওয়া থেকে চোখে দেখার জন্য একটা নির্দিষ্ট অঞ্চল পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এই অঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণে একই দ্রাঘিমাতে অবস্থিত দেশগুলোর মধ্যে দিন-রাতের সময় এক। যেমন যখন মাদাগাস্কাতে সন্ধ্যায় চাঁদ খালি চোখে দেখা যাচ্ছে, তখন সৌদি আরবে সন্ধ্যা। ইয়ামিনের বাইনোকুলারের সাহায্যে দেখা সম্ভব। পৃথিবী একদিন মানুষের জ্ঞানের মধ্যে আসবে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা জানতেন। ১৪০০ বছর আগে মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধতা ছিল। তখন মানুষের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যেতে দীর্ঘ দিন লাগত। তখন চাঁদ দেখে রোযা রাখা, ঈদ করার যে নিয়ম ছিল এখনও তাই আছে। শুধু বাড়তি সুবিধা হলো আমরা বিজ্ঞানের সাহায্যে জেনে নিচ্ছি, কোন এলাকায় খালি চোখে চাঁদ দেখা যাচ্ছে।
তারিখ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তার আর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে আরবী ক্যালেন্ডারের তারিখ পরিবর্তন হয় সন্ধ্যা থেকে এবং একই তারিখ বলবৎ থাকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত। আর ইংরেজি তারিখ পরিবর্তন হয় তার ৬ ঘন্টা পরে মধ্য রাতে আর পরদিন অন্য ইংরেজি তারিখ হয়।
গবেষকদের ধারণা অনুসারে বর্তমান ১৪৩২ সালের রমযান মাসের চাঁদ উঠবে ১ আগষ্ট। কিন্তু ঐদিন পৃথিবীর কোন অঞ্চল থেকে তা খালি চোখে দেখা যাবেনা। শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেটিনা বা চিলি হতে টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ দেখতে পারবে। পরদিন অর্থাৎ ২ আগষ্ট আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু দেশ থেকে চাঁদ খালি চোখে দেখা যাবে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশগুলোতে রমযান শুরু হবে ৩ আগষ্ট।
এটা হচ্ছে গবেষকদের ধারণা, কিন্তু সকল জ্ঞানের মালিক একমাত্র আল্লাহর কাছে। আমাদের দেশে কিছু কিছু লোক আবেগের বশবতী হয়ে সৌদি আরবের সাথে তাল মিলিয়ে রোযা রাখা শুরু করে দেয় এবং ঈদ উদযাপন করে। তাই সবার প্রতি অনুরোধ আবেগ তাড়িত হয়ে কোন কিছু করবেন না। কারণ যদি সৌদি আরবে যদি ১ তারিখে চাঁদ দেখে রোযা শুরু করে দেয় তখন এর ৩ ঘন্টা আগে বাংলাদেশে চাঁদের সেদিন শুরু হয়ে গেছে। পিছনে তো আর যাওয়া যায়না। কারণ আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, চাঁদের তারিখ পরিবর্তন হয় সন্ধ্যা হতে এবং পরবর্তী দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তা বলবৎ থাকে। তাই পৃথিবীর যে স্থান থেকে চাঁদ খালি চোখে দেখা যায় সে স্থানে রমযান শুরু হয়ে যায়। রমযান মাসের পবিত্রতা আমরা সবাই রক্ষা করতে পারব এবং আল্লাহ তা’য়ালার ক্ষমা ও মেহেরবাণী সবার ভাগ্যে জুটবে এই কামনা করি।