স্খানীয় ভাষায় খুতবা প্রসঙ্গে বিভিন্ন অভিমত حكم إلقاء الخطبة باللغة المحلية

 

জুময়ার খুতবা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত আবশ্যকীয় বিষয় বলে ইসলামি জীবনব্যবস্খায় এটির প্রয়োগের গুরুত্বও অপরিসীম। মহান আল্লাহ জুময়ার খুতবা শোনার জন্য মসজিদে ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন : ‘জুময়ার দিন যখন নামাজের আজান দেয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর জিকিরের দিকে ছুটে যাও।’ (সুরা জুময়া: …)। কিছু কিছু মুফাসসিরের মতে আয়াতে বর্ণিত জিকির দ্বারা উদ্দেশ্য জুময়ার খুতবা। জুময়ার দিনে প্রথম মসজিদে প্রবেশকারীর সওয়াব সংক্রান্ত আবু হুরায়রা রা: বর্ণিত হাদিসে জিকির শব্দটি খুতবা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; রাসূল সা: বলেন, ‘…তারা মসজিদে প্রবেশ করে ও আল্লাহর জিকির (খুতবা) শুনতে থাকে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। জুময়ার খুতবা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায়, রাসূল সা: মনোযোগসহকারে খুতবা শোনার নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারি ও মুসলিম)

রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির উপস্খিতিতে সমসাময়িক বিষয় বিশ্লেষণ, উ?ভূত পরিস্খিতির সমাধানকল্পে ইসলামি নির্দেশনা, দেশ ও জাতির জন্য বিশেষভাবে জরুরি বিষয়গুলোর খোলামেলা আলোচনাই জুময়ার খুতবার মূল দাবি। কিন্তু জুময়ার খুতবার ভাষা কি নামাজের মতো আরবিই হতে হবে, না কি অন্য ভাষায়ও খুতবা প্রদান করা যাবে? ইসলামের প্রথম যুগে অনারবি ভাষায় খুতবা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত না হওয়ার কারণ স্পষ্ট; কেননা সে সময় ইসলামের বিস্তৃতি মূলত আরব ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল, আরব ছাড়া যেসব অনারব রাষ্ট্রে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে স্খান নিয়েছিল তারা অতি অল্পসময়ে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু পরে অনারব রাষ্ট্রে ইসলামের বিস্তৃতি ধীরে ধীরে এ প্রয়োজনীয়তার ব্যাপৃতি আরো বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সময়ে আধুনিক জীবনাচারের ধারা পাল্টে যাওয়ার কারণে এ প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্যতায় রূপ নিয়েছে।

সম্প্রতি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বাংলা ভাষায় জুময়ার খুতবা দেয়ার জন্য বিশেষভাবে জাতির কর্ণধার আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার এ আহ্বান বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া সমাজব্যবস্খার জন্য মাতৃভাষায় খুতবা প্রদানের ওপর যে গুরুত্ব বহন করে, বর্তমান সময়ে এ প্রয়োজনীয়তার পেছনে বিভিন্ন যৌক্তিক কারণ রয়েছে:
ক) বিভিন্নমুখী শিক্ষাব্যবস্খা বর্তমান থাকায় জনগোষ্ঠীর মধ্যে মৌলিক ইসলামি শিক্ষার অভাবে সমাজে যে বিশৃঙ্খলা বিরাজমান মাতৃভাষায় খুতবা প্রদানের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজ বোধগম্যতার কারণে সব কুসংস্কার ও কুপমণ্ডুতা সমাজ থেকে বিতাড়িত করে।
খ) জুময়ার দ্বিতীয় আজানের আগে কোনো কোনো মসজিদে বাংলায় আলোচনা রাখা হলেও সে সময় উপস্খিতি থাকে খুবই নগণ্য; যার কারণে সেখানে বাংলা ভাষায় প্রদত্ত আলোচনা গুরুত্ব পায় না।
গ) যারা ইসলামের প্রতিপক্ষে অবস্খান নিয়ে সবসময় তাদের কিছু মুখোশধারী দোসর যাদের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রপাগান্ডা ছড়ায়, কিন্তু যারা ইসলামপ্রিয় অথচ জ্ঞান-গরিমায় অনেকটা অপরিপক্ব, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদের মোকাবেলা করতে বিচলিত হয়ে পড়ে, যার জন্য প্রত্যেক ইসলামপ্রিয় সাধারণের বাংলাভাষায় খুতবা শুনে তার থেকে নির্দেশনা পাওয়া সম্ভব।
ঘ) জুময়ার খুতবার সময় দেখা যায়, মুসল্লিরা ভাষা না বোঝার কারণে মসজিদে বসে বসে তন্দ্রাচ্ছন্ন হন বা অন্যমনস্ক থাকেন, অথচ মনোযোগসহকারে জুময়ার খুতবা শোনা কোনো কোনো ফকিহ ওয়াজিব বলেছেন। অতএব, মাতৃভাষায় খুতবার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
মাতৃভাষায় খুতবার বিষয়ে ইসলামি আইনশাস্ত্র বিশারদদের তিনটি মত রয়েছে:
১) ইমাম আবু হানিফা এবং হাম্বলি ও শাফেয়ি মাজহাবের একদল আলেমের মতে সমর্থন থাক আর না থাক খুতবা শুদ্ধ হওয়ার জন্য আরবি ভাষায় খুতবা প্রদান শর্ত নয়।
২) হানাফি মাজহাবের ইমাম মোহাম্মদ ও আবু ইউসুফ, হাম্বলি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত ও শাফেয়ি মাজহাবের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী সমর্থন থাকলে জুময়ার খুতবা আরবিতে প্রদান শর্ত আর সমর্থন না থাকলে কোনো অসুবিধা নেই।
৩) জুময়ার খুতবা শুদ্ধ হওয়ার জন্য আরবি ভাষায় খুতবা দেয়া শর্ত; তাই সমর্থন থাক বা না থাক। মালেকি মাজহাবের অনুসারীরা এ মত ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, যেসব আলেম খুতবা আরবিতে প্রদান শর্ত বলেছেন, তাদের মতে শুধু খুতবার রোকনগুলো আরবিতেই হতে হবে।
বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের মতে আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় খুতবা প্রদান বৈধ ও জরুরি। এ সম্পর্কিত কয়েকটি ফতোয়া নিচে উল্লেখ করা হলো :
১) ইসলামি ফিকহ পরিষদ, ১৪০২ হিজরির ৮-১৬ রবিউস সানিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সম্মেলনের পাঁচ নম্বর সিদ্ধান্ত। অনারব রাষ্ট্রগুলোতে অনারবি বা আঞ্চলিক ভাষায় খুতবা প্রদান ও নামাজে মাইক ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে (সিদ্ধান্ত নম্বর ৫) পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়: …. এ বিষয়ে আমরা অধিকতর ন্যায়সঙ্গত যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি তা হলোন্ধ অনারব রাষ্ট্রগুলোয় জুময়া ও দুই ঈদের নামাজের খুতবা শুদ্ধ হওয়ার জন্য আরবি ভাষা শর্ত নয়। তবে এ ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হলো, খতিব খুতবার সূচনা, পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো অবশ্যই আরবিতে উচ্চারণ করবেন। অবতীর্ণ আয়াত কুরআনের ভাষায় তিলাওয়াত করবে, যাতে অন্যান্য ভাষার মানুষ আরবি শিক্ষা ও কুরআনের ভাষা অনুশীলনে আগ্রহী হয় এবং মানুষের বোধগম্যতার খাতিরে খতিব খুতবার মূল আলোচনা স্খানীয় ভাষায় প্রদান করবেন। (পৃষ্ঠা- ৯৭/৯৮)
২) সৌদি আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্খায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত (৮/২৫৪-২৫৫, ফতোয়া নম্বর- ৬৮১২)
৩) সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ র:-এর দু’টি ফতোয়া (ফতোয়া শেখ বিন বাজ ১২/৩৭০-৩৭৫) যা বর্তমানে তার ওয়েবসাইটে চলমান রেখেছেন।
৪) শেখ মোহাম্মদ বিন উছাইমিন র: বলেন: প্রকৃতপক্ষে উপস্খিত মুসল্লিদের দুর্বোধ্য ভাষায় জুময়ার খুতবা প্রদান বৈধ নয়। উদাহরণস্বরূপ যদি তারা অনারবি কোনো ভাষাভাষী হয় এবং তারা আরবি ভাষা ভালোভাবে অবগত না থাকে তবে খতিব তাদের মাতৃভাষায় খুতবা প্রদান করবেন। কেননা খুতবার মূল উদ্দেশ্য উপস্খিত লোককে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের পদ্ধতি অনুশীলন ও বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামি নির্দেশনা প্রদান। তবে, মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াতগুলো আরবিতেই তিলাওয়াত করবেন এবং আঞ্চলিক ভাষায় এর ব্যাখ্যা করবেন (ফতোয়া আরকানুল ইসলাম: পৃষ্ঠা ৩৯৩)।
উপরোল্লিখিত মতামতের সমর্থনে মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং হাদিসে রাসূল সা:-এর বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া যায় এবং সাধারণ বুদ্ধি-বিবেকও এটিকে সমর্থন করে। ভাষা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এক উত্তম নেয়ামত এবং তার অস্তিত্বের প্রমাণ। তিনি বলেন: ‘তার নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে আকাশগুলো ও জমিনের সৃষ্টি আর তোমাদের ভাষাগুলো ও তোমাদের বর্ণের পার্থক্য।’ (সূরা রুম: ২২)

গোত্রীয় ভাষা বা মাতৃভাষাই মানুষের অনুভূতি প্রকাশ করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। মানুষের জ্ঞান অর্জনের প্রধান অবলম্বন। যেকোনো বিষয় মাতৃভাষায় যত সহজে বোধগম্য করা যায় সে ভাষার মানুষের জন্য অন্য কোনো ভাষাতে তা দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে মহান আল্লাহ সর্ব যুগে তার দীন প্রচারের জন্য স্বগোত্রীয় ভাষাভাষী নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। যারা নিজের গোত্রকে মাতৃভাষাতেই আল্লাহর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ওয়াজ-নসিহত করেছেন, দীনের প্রচার ও প্রসার করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকে নিজ গোত্রীয় ভাষায় প্রেরণ করেছি, যাতে তারা তাদের (গোত্রের লোকদের) জন্য (দীনকে সরলভাবে) উপস্খাপন করতে পারে।’ (সূরা ইব্রাহিম: ৪) ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, সমসাময়িক বিষয় বিশ্লেষণ, উদ্ভূত পরিস্খিতির সমাধানকল্পে ইসলামি নির্দেশনা, দেশ ও জাতির জন্য বিশেষভাবে জরুরি বিষয়গুলোর অবতারণাই জুময়ার খুতবার অন্যতম মূল দাবি। আর মাতৃভাষাই হতে পারে এ দাবি পূরণের উৎকৃষ্ট মাধ্যম। ইসলামি দাওয়াত পেশ করার ক্ষেত্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম; ইহুদিদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য, তাদের প্রেরিত পত্রের জবাব ও তাদের বিশ্বাস খণ্ডনের জন্য দলিল-প্রমাণ উপস্খাপন করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জায়েদ বিন সাবিতকে ইহুদিদের ভাষা (হিব্রু) শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই কারণে সাহাবিরা রোম ও পারস্যের কোনো অনারব এলাকায় যুদ্ধ করার আগে অনুবাদক বা দ্বোভাষীর মাধ্যমে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন। কোনো এলাকা জয় করলে তার অধিবাসীদের আরবিতেই আল্লাহর প্রতি আহ্বান করেছেন, আরবি ভাষা শিক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা আরবি শিখতে পারেনি তাদের জন্য নিজ ভাষাতেই ইসলামের বাণী বোঝানোর ব্যবস্খা করেছেন। চলমান পৃথিবীতে ইসলামের বাণী ও শিক্ষা প্রত্যেকের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিজ ভাষাভাষী ‘দাঈ’ ইলাল্লাহর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে নামেমাত্র মুসলমানদের সঠিক ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্য জুময়ার খুতবাই মহত্তম এক কৌশলী অবলম্বন। কারণ তারা দীন শিক্ষার মজলিসে বসতে চায় না, দীনি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নিতে চায় না, জুমার দ্বিতীয় আজানের আগে প্রদেয় বাংলায় ইসলামী আলোচনা শেষ হওয়ার পর উপস্খিত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
অনারবি ভাষায় খুতবা প্রদানের নীতিমালা
ইসলামী ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় খুতবা প্রদানের ক্ষেত্রে নিুোক্ত নীতিমালা অনুসরণ জরুরী :
ষ খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও তার মাহাত্ম্য সংবলিত বাক্যাবলি আরবিতে হতে হবে।
ষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ আরবিতে আদায় করতে হবে।
ষ খুতবার শুরুতে তাকওয়া গ্রহণের অসিয়ত আরবিতে হতে হবে।
ষ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াত আরবিতেই তেলাওয়াত করতে হবে।
ষ খুতবার মধ্যকার দোয়া বিশেষত দ্বিতীয় খুতবার দোয়া আরবিতে করতে হবে।
উপরোক্ত পাঁচটি বিষয় খুতবার রোকন বা স্তম্ভ।
ষ অধিকংশ আলিম দ্বিতীয় খুতবার পুরোটাই আরবিতে প্রদান করার পক্ষে মত দিয়েছেন। কেননা দ্বিতীয় খুতবা মূলত দোয়ার সমষ্টি।
ষ এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, খতিবকে ইসলামী জ্ঞানে পারদর্শী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, চারিত্রিক মাধুর্যের অধিকারী হওয়া অবশ্যই জরুরি এবং তার মধ্যে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের যোগ্যতা ও শর্তাবলি বিদ্যমান থাকতে হবে; তাকে একাধারে আরবি ও স্খানীয় ভাষায় খুতবা প্রদানের যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। তিনি নিজের সুবিধার্থে স্খানীয় ভাষায় খুতবা প্রদান করবেন না, বরং যাতে খুতবার বিষয় সাধারণ জনগণের বোধগম্য হতে পারে সে উদ্দেশ্যেই হতে হবে খুতবার একমাত্র ব্যাখ্যা প্রদান।
অতএব, পরিবর্তিত বিশ্বের চলমান প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর প্রত্যেক রাষ্ট্রে মুসলিম জাতি বা অধিবাসীদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় খুতবা প্রদান, যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আন্তর্জাতিক বিদ্যাপীঠে দুনিয়া এবং আখেরাতের জ্ঞান শিক্ষার সহজ ও সরল পন্থা; অত:পর মুসলিম জাতিকে শিক্ষা-দীক্ষায় সমকালীন বিশ্বের উপযোগী করে তোলার জন্য, ইসলামী চিন্তাবিদ, আলিম ও ফকিহরা কুরআন-হাদিসের আলোকে নতুন করে চিন্তা করতে পারেন খুতবার মাধ্যমে যেন মানুষ বিজ্ঞানময় এ পৃথিবীর পার্থিব বিষয়ে জ্ঞানার্জন এবং আল্লাহভীতির মাধ্যমে আখেরাতের সেই মহাজগতে পারাপারের সহজ ও সঠিক পথ খুঁজে পান।