যুগেযুগে ইসলামের শত্রুদের পরিণতি

স্যাম বেসিল নামক একজন আমেরিকান ইহুদী ১০০ জন দাতার সাহায্যে ৫০ লক্ষ ডলার খরচ করে ২ ঘণ্টার একটি ইসলাম বিদ্বেষী মুভি তৈরি করেছে, যার নাম Innocence of Muslims (ইনোসেন্স অব মুসলিমস)। সেখানে ইসলামকে একটি ঘৃণ্য ও ভণ্ড ধর্ম হিসেবে দেখানো হয়েছে যাকে তুলনা করা হয়েছে ক্যান্সার এর সাথে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভণ্ড, মিথ্যাবাদী এবং শিশু যৌনকামি হিসেবে প্রতিপন্ন করে সাহাবীদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। (নাউজু বিল্লাহ) কিছু উগ্রবাদী খ্রীষ্টান আর ইহুদী মিলে ইসলাম ধর্মকেক নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে মাত্রা অতিক্রম করে ফেলেছে। এর ফলও আমরা হাতেনাতে পেয়েছি। বিক্ষুব্ধ মুসলিমরা লিবিয়াতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ তিন জনকে হত্যা করেছে। মিসরে সাধারণ জনগণ মার্কিন দূতাবাস ঘিরে রেখে সেখানকার মার্কিন পতাকা পুড়ে ফেলে ইসলামি পতাকা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” টাঙিয়েছে। তিউনিসিয়া, ফিলিস্তান, ইয়েমন, আফগানিস্তান বাংলদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে বিক্ষোভ চলছে। আগুনে ঘি ঢেলে দিলে আগুন ফুসকে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। ইসলামের মহান নেতা প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার মধ্যে বিন্দু পরিমাণ কলঙ্কের ছাপ নেই, তাঁকে যৌনকামী-ভণ্ড হিসেবে নোংরা মুভির মাধ্যমে মুসলমানদের হৃদয়ের গহীনে আঘাত হানবে এবং ইসলামকে এভাবে অপমান করবে, আর আমরা চুপ করে বসে থেকে আঙুল চুষবো, মুসলমানদের এত দুর্বল ঈমান নয়। প্রার্থনার সময় আমরা যেমন শান্ত সন্ন্যাসী হয়ে যাই, যুদ্ধের ময়দানে সেই আমরাই হই সাহসী লড়াকু বীর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “অন্যায় (শরীয়ত বিরোধী কাজ) হতে দেখলে শক্তি প্রয়োগ করে বাধা দিবে, যদি সে শক্তি না থাকে তবে মুখ দিয়ে নিষেধ করবে। সে শক্তিও যদি না থাকে তাহলে মনে মনে তা ঘৃণা করবে। এটা ঈমানের দুর্বলতম স্তর।” (সহিহ মুসলিম) এখন আমাদের উচিত আমাদের পক্ষে যেভাবে সম্ভব, সেভাবেই এই নিকৃষ্ট কাজের প্রতিবাদ করা। যেহেতু এটা আমাদের ইসলামের উপর সরাসরি আঘাত করেছে, তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নিঃসন্দেহে একটি জিহাদ। এতে আমাদের জঙ্গি বলুক, রাজাকার বলুক, সন্ত্রাসী বলুক- তাতে কিছুই যায় আসেনা। কারণ আমরা জানি আমরা যা করছি আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালবেসেই করছি। আর এর প্রতিদান অপেক্ষা করছে জান্নাতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-“গৃহের কোণে বসে ৭০ বছর ইবাদত করা অপেক্ষা আল্লাহর পথে জিহাদ করা বেশি উত্তম। তুমি কি চাওনা আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করে দিক এবং জান্নাত দান করুক? যে ব্যক্তি অল্পক্ষণের জন্য হলেও আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়”। (তিরমিযী শরীফ হাদীস হাসান) বর্তমান পশ্চিমাদের শেখানো ইসলামি জ্ঞান অনুযায়ী অনেকেই জিহাদ এবং Terrorsim (সন্ত্রাসবাদ) কে এক করে ফেলে। কিন্তু জিহাদের সাথে Terrorsim এবং  Terrorsim এর সাথে জিহাদের কোন সম্পর্ক নেই। বরং ঞবৎৎড়ৎংরস কে নির্মূল করাই একটি জিহাদ।

 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ও এমন ঘটনার অবতারণা হয়েছে; যখন কুরআন মজিদের و أنذر عشيرتك الأقربين  ” তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও। আয়াত নাজিল হলো তখন একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা বের হয়ে সাফা পাহাড়ে গিয়ে উঠলেন এবং ‘ইয়া সাবাহাহ’ (সকাল বেলার বিপদ, সাবধান!) বলে চিৎকার করে ডাকলেন। সবাই সচকিত হয়ে বলে উঠলো, এভাবে কে ডাকছে? তারপর সবাই তাঁর পাশে গিয়ে সমবেত হলো, তিনি বললেন; আচ্ছা আমি যদি এখন তোমাদেরকে বলি যে, এই পাহাড়ের অপর দিক থেকে একটি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? সমবেত সবাই বললো, আপনার ব্যাপারে আমাদের মিথ্যার অভিজ্ঞতা নাই। তখন নবীজী বললেন; আমি তোমাদেরকে একটি কঠিন আযাব সম্পর্কে সাবধান করে দিচ্ছি। একথা শুনে আবু লাহাব বললো; “হে মুহাম্মাদ! তোমার সর্বনাশ হোক এজন্যই কি তুমি আমাদেরকে ডেকেছো”? এর পর সে সেখান থেকে দম্ভ ভরে চলে গেল।

তার এই বেয়াদবীপূর্ণ উক্তি আল্লাহর সহ্য হলো না। তার বিরুদ্ধে সূরা লাহাব নাযিল হলো। তার স্ত্রী নবীজীকে গালাগাল দিত এবং নবীজীর যাতায়াত পথে কাঁটা গেড়ে রাখতো। সূরা লাহাবে আল্লাহ তায়ালা উভয়ের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত শাস্তি ঘোষণা করলেন, “আবু লাহাবের উভয় হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। তার মালদৌলত ও জনবল কোন উপকারে আসবেনা। সে লেলিহান অগ্নিশিখায় অচিরেই পৌছে যাবে এবং তার স্ত্রীও তার সমগামিনী হবে।লাকড়ী বহনকালে তার গলায় রশি পড়বে।”(সূরা লাহাব)

মূলতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা এর সাথে বেয়াদবী করে কেউ রক্ষা পায়নি। আবু লাহাবের দুই ছেলে ওতবা ও ওতায়বা এর নিকট নবীজীর দু’কন্যা রোকাইয়া ও উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এর বাল্য বিবাহ হয়েছিল ছোটকালে। সূরা লাহাব নাযিল হওয়ার পর তারা পিতার নির্দেশে দু’বোনকে বিবাহ বাসরের পূর্বেই তালাক প্রদান করে। এক পর্যায়ে ওতায়বা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা এর জামা মুবারক ছিড়ে ফেলে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে মনে বড় আঘাত পেলেন এবং বদদোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! তুমি ওতায়বার ওপর তোমার পক্ষ থেকে একটি কুকুর লেলিয়ে দাও”। নবীজীর বদদোয়া অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেলো। কোন এক বাণিজ্য সফরে (সিরিয়া) একটি বাঘ এসে বহুলোকের মধ্যখান থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ওতায়বার ঘাড় মটকে রক্ত চুষে চলে গেলো। নবীজীর সাথে বেয়াদবী করে আপন চাচা-চাচী ও চাচাত ভাইয়েরা বাঁচতে পারেনি। আল্লাহর গযবে পতিত হয়েছে তারা। যারা রাসূলের আত্মীয় নয়-তারা বেয়াদবী করলে আল্লাহ কি তাদের ছেড়ে দেবেন? কখনই নয়। আমার বিশ্বাস যদি আল্লাহর রাসূলের জীবদ্দশায় এই পশু অপেক্ষা অধম, স্পর্ধা দেখাতো, তবে ওর উপর আল্লাহর শাস্তি তখনই নেমে আসতো।

 মানুষরূপী শয়তান সে নিজেকে স্যাম বাসেলি বলে প্রচার করে আসছে। তার প্রকৃত নাম নাকুলা বালেসি নাকুলা (৫৫) ইউ-টিউবে ছবিটি প্রকাশ করার সময় এই নরপশু স্যাম বাসেলি ছদ্মনাম ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন যাবৎ সে ব্যাংক একাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক ও টুইটারে ছদ্মনাম ব্যবহার করে আসছে। সে এখন পুলিশি প্রহরায়, নিজ এলাকা ছেড়ে স্বপরিবারে কোন এক গোপন স্থানে আত্মগোপন করে আছে। ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ ছবিটি ব্লক করার জন্য ইন্টারনেট সার্ভিস সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদেরও উচিত এই মুভিটি ব্লক করার চেষ্টা করা। 

 বিষয়টি আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিন্টনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন; মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই রয়েছে। আমরা তাকে মত প্রকাশে বাধা দিতে পারি না! আমরা হিলারীকে বলতে চাই; ইসলামেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আমেরিকাতে যে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হলো, তাতে মানুষের মান-সম্মান রক্ষার অধিকার দেওয়া হলো না। এখন যদি কেউ হিলারীকে যা-ইচ্ছে তাই গালী দেয়, সেটা কি কোন সভ্য সমাজ মেনে নিবে। এই ক্ষেত্রে স্বয়ং হিলারীও মানবে বলে মনে হয় না। ইসলাম বাক স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে মান-সম্মান রক্ষারও ব্যবস্থা করেছে; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুসলমান, যার মুখ ও হাত হতে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারী ও মুসলিম) এভাবে একজন ভদ্র লোককে যদি কেউ মৌখিক কিংবা মিডিয়ার মাধ্যমে অপমান করে, তাকে কি আমরা ভালো লোক বলে মেনে নিতে পারি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে হিলারী ক্লিনটনের বক্তব্যে আমরা হতাশ হয়েছি। একজন নবীকে নিয়ে এমন জঘন্য একটা ফিল্মের ব্যাপারে তিনি সামান্য কথাও কি বলতে পারতেন না? একটু নিন্দাও কি করতে পারতেন না? আমাদের ব্যথার সাথে তিনি কি একটু সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারতেন না? কোটি কোটি মুসলমানদের অনুভূতির কি কোন মূল্য তাদের কাছে নেই? তিনি কি বলতে চান- মানুষের গালি দেওয়ার স্বাধীনতা আছে, কিন্তু মানুষের সম্মান রক্ষার অধিকার কি নেই? এটাই কি আমেরিকার সভ্যতা?  যুগে-যুগে ইসলামের মহান ব্যক্তিদের উপর এমন আচরণ আমরা লক্ষ্য করেছি। তাদের এহেন ঘৃণিত কাজকে অবশ্যই প্রতিবাদ করতে হবে। তবে এক পাগলে ফিল্ম বানাবে আমরাও তাদের সাথে পাগল হয়ে নিরপরাধ লোককে হত্যা করবো এটাও মারাত্মক সীমা লঙ্ঘন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের প্রত্যেককে ইসলাম এবং ইসলামী ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষা করার পূর্ণ তাওফীক দান করুন। হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ এবং আমি নিজেও উৎসর্গিত।