বিয়ের পূর্বে দেশাচার

গত সংখ্যায় আমরা দেনমোহর নিয়ে আলোচনা করেছি, এই সংখ্যায় বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার যেসব অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড চালু রয়েছে সে বিষয় আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ।

কথা পাকাপাকি হলে বিয়ের দিন ধার্য হবে। তবে কেবল ধার্য করার জন্য ঘটা ও আড়ম্বরপূর্ণ মজলিস করা এবং রাজকীয় পান-ভোজনের বিপুল আয়োজন করা অপব্যয়ের পর্যায়ভুক্ত।  বরপক্ষের উচিত, তা খেয়াল রাখা এবং সর্বোত্তম খাওয়ার ব্যবস্থা না হলে দুর্নাম না করা। কেবল মাত্র একজন লোক গিয়ে অথবা না গিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমেও বিয়ের দিন ঠিক করা যায়। নিজেদের সুবিধা মতো যে কোন দিনে যে কোন মাসে দিন স্থির করতে কোন বাধা নেই। আল্লাহর দিন সবই সমান। পঞ্জিকা দেখে শুভাশুভ দিন বিদআত এবং বিজাতির অনুকরণ।

 নিমন্ত্রণ করার সময় নিমন্ত্রণ পত্রের কোণে হলুদ লাগিয়ে দেওয়া বিদআত। এতে কোন শুভলক্ষণ আছে বলে মনে করা শির্ক।

 এরপর পৃথক করে হলুদ মাখার কাপড় পাঠানো এবং বিবাহ-বন্ধনের ৫/৭ দিন পূর্বে কনের বাড়ি ‘লগন’ পাঠানোর প্রথা ইসলামী প্রথা নয়। তারপর এর সঙ্গে যায় বরের ভাই-বন্ধু ও বুনাইরা। সাজ-পোশাক, প্রসাধন সামগ্রীর সাথে পুতুল জরুরি, অনেকে পাঠায় লুডু এবং তাসও! তার সাথে চিনি, পান-সুপারি, মাছ, মুদ্রা , হলুদ মাখার শাড়ি তো থাকবেই। এই ‘লগন-ধরা’ ও মুখ দেখার অনুষ্ঠান এক ব্যয়বহুল ব্যাপার। এতে যা খরচ হয় তা একটা ইসলামী বিবাহ মজলিসের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু হায় রে! কান খোলানকুচি দিয়ে মললেও তাতে নিজের ব্যথা কোথায়?

 দিনের শেষে অনুষ্ঠিত হয় মুখ দর্শনের অনুষ্ঠান। পাত্রীকে সুসজ্জিত করে ‘আলম তালা’র (পাত্র-পাত্রী বসার জন্য বিশেষ সুসজ্জিত বিছানা বা) আসনে বসানো হয়। এরপর অঙ্গরাগে সজ্জিত সেই চেহারা দেখে পাত্রের ঐ ভাই-বন্ধুরা। আঙ্গুলে বা টাকায় চিনি নিয়ে পাত্রীর অধরে স্পষর্শ করে! অঙ্গুরীয়র উপহার সুসজ্জিত আঙ্গুলে পরিয়ে দেয়, ঘড়ি পরিয়ে সুদর্শন হাতখানি টেনে! এর ফাঁকে দু’চারটি ঠাট্টা-উপহাস তো চলেই। কারণ এরা দেবর, নন্দাই, বন্ধু উপহাসের পাত্র তাই!

 অতঃপর সুগোল কব্জিখানিতে সুতো বাঁধে, ললাটে গলায় হলুদ বাঁধা এবং হাতে দেয় জাঁতি বা কাজললতা! অথচ এদেরকে চেহারা দেখানোও হারাম। প্রিয় নবী (সা.) সত্যিই বলেছেন: “লজ্জা না থাকলে মনে যা চায় তাই করতে পারে” (বুখারী ৩৪৮)

 প্রকাশ থাকে যে, এরপর থেকে হাতে বা কপালে সুতো বেঁথে রাখা ও কাজলরতা বা জাঁতি সর্বদা সাথে রাখা বিদআত। বরং এর মাধ্যমে যদি কোন মঙ্গলের আশা করা হয় তবে তা শির্ক।

 

 পাত্র-পাত্রীকে বিয়ের আগের দিনগুলিতে বাড়ির বাইরে যেতে না দেওয়া। এই দিনে মসজিদে বা পীরের খানকায় সিন্নি বিতরণ করা প্রভৃতি বিদআত ও শির্ক।

 এবার রইলো গায়ে হলুদ, তেল চাপানো, সাতুশী ও নাপিতের নখ কাটা প্রভৃতি প্রথা। তেল চাপানো সধবা নারী হতে হবে। বিধবা আসতে পারবে না। নির্দিষ্ট কাপড়ে কাবা মুখে বসিয়ে হলুদ মাখবে। কাপড়ে লিখা থাকবে পাত্র-পাত্রীর নাম। পাত্রকে এমন মহিলারা হলুদ মাখাবে যাদের ঐপাত্রকে দেখা দেওয়া হারাম! পাত্রের এমন অঙ্গে (জাঙ্গে, নাভীর নিচে) হলুদ মাখায় যে অঙ্গ পুরুষকে দেখানোও হারাম! আলোচিত প্রথা কি ইসলামের প্রথা হতে পারে?

 পক্ষান্তরে পুরুষ রং ব্যবহার করতে পারে না। তাই হাতে পায়ে মেহদী লাগাতে পারে না। হলুদ ব্যবহার করাও তার জন্য শোভনীয় নয়। বিশেষ করে হলুদ রঙের পোশাক পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। 

 একদা সাহাবীর গায়ে হলুদ রঙ দেখে রাসূল (সা.) বুঝেছিলেন, তিনি নব বিবাহিত। (বুখারী ও মুসলিম) প্রকৃত পক্ষে সেটা হলুদের রঙ ছিলো না, বরং স্ত্রীর দেহের (মহিলাদের ব্যবহার্যের একপ্রকার সুগন্ধি) ‘খালুক’ এর রঙ, যা তার কাপড়ে লেগেছিলো। (ফাতহুল বারী ৯/১৪৪) সুতরাং এটাকে পাত্র-পাত্রীর হলুদ মাখার বৈধতার দলীল মানা যায় না। হ্যাঁ তবে যদি কেউ দেহের রঙ ‘কাঁচা সোনার মত উজ্জ্বল’ করার উদ্দেশ্যে নিজ হাতে মেখে ধুয়ে ফেলে তবে সে কথা ভিন্ন। তাছাড়া বিয়ের পাত্র-পাত্রীর জন্য এই দিয়ে ‘লগন’ শুরু করা বিদআত। অবশ্য পাত্রী হাতে পায়ে মেহদী ব্যবহার করতে পারে। বরং মহিলাদের হাতে সর্বদা মেহেদী রাখাই বিধি সম্মত। (মি…… ৪৪৬)

 এর রাতে ক্ষীর মুখে দেওয়ার দেশাচার। সাধারণত এ প্রথা পাশ্ববর্তী পরিবেশ থেকে ধার করা বা আমদানী করা প্রথা। রাসূল (সা.) বলেন: ‘যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করে, সে তাদেরই দলভুক্ত ’। (মি….৪৩৪)

 তা ছাড়া এমন মহিলারা পাত্রর ওষ্ঠাধর স্পর্শ করে, তার মুখে ক্ষীর-মিষ্টি দেয়, যাদের জন্য ঐ পাত্রকে দেখা দেওয়াও হারাম। অনেক সময় উপহাসের পাত্রী (?) ভাবী, নানাী, হলে হাতে কামড়ও দেওয়া হয়! বরং পাত্রও ভাবীর মুখে তুলে দেয় প্রতিদানের ক্ষীর! অথচ এই স্পর্শ থেকে তার মাথায় সুচ গেঁথে যাওয়াও উকত্তম ছিলো। (সিলসিলা সহীহা: ২২৬) অনুরূপ করে পাত্রীর সাথেও তার উপহাসের পাত্ররা! বরং যে ক্ষীর খাওয়াতে যায়, তার সাথেও চলে বিভিন্ন মস্করা।

 আর সাথে চলে ‘গীত-পার্টি’ যুবতীদের গীত। শুধু গীতই নয় বরং অশ্লীল গীতও হাত তালিসহ ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে গীত। এর সঙ্গে থাকে ‘লেডি ড্যান্স’ বা নাচ। আর শেষে বিভিন্ন অশ্লীল ও অবৈধ অভিনয় বা কাপ। এমন পরিস্থিতি দেখে শুনে প্রত্যেক রুচিবান মুসলিম তা ঘৃণা করতে বাধ্য। কিন্তু বহু রুচিহীন অভিভাবক এসব দেখে-শুনেও শুধু এই বলে ভ্রƒক্ষেপ করে না যে, ‘আম কালে ডোম রাজা, বিয়ে কালে মেয়ে রাজ।’ ফলে ইচ্ছা করে অনুগত প্রজা হয়ে তাদেরকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেয় অথবা মেয়েদের ধমকে বাধ্য হয়েই চুপ থাকে। তাই নিজ পরিবারকে নির্লজ্জতায় ছেড়ে দিয়ে বাড়ির বাইরে রাত কাটাতেও লজ্জা করে না। অথচ ‘গৃহের সমস্ত দায়িত্ব সম্পর্কে কিয়ামতে গৃহকর্তার নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (মি…৩৬৮৫)

   এই ধরণের অসার ও অশ্লীল মজলিসে কোন মুসলিম নারীর উপস্থিত হওয়া এবং ক্ষীর খাওয়ানো নিঃসন্দেহে হারাম। যেমন মহিলাদের এই কীর্তিকলাপ দর্শন করা বা নাচে ফেরী দেওয়া পুরুষদের জন্য বিশেষভাবে হারাম। এমন নাচিয়েকে ফেরি দেওয়ার বদলে তার কোমর ভেঙ্গে দেওয়া উচিত তার অভিভাবকের।

 আইবুড়ো বা থুবড়া ভাতের (অবিবাহিত অবস্থায় শেষ অন্নগ্রহণের) অনুষ্ঠানও বিজাতীয় প্রথা। এই দিনে ক্ষীর-সিন্নি বিতরণও বিদআত। বরং পীরতলায় বিতরণ শির্ক। আর এই দিন সাধারণত পাকান বা বাতাসা বিতরণ (বিক্রয়ের) দিন। যাদেরকে এই পাকান বা বাতাসা দেওয়া হবে তাদেরকে পরিমাণ মতো টাকা দিয়ে ‘ভাত’ খাওয়াতেই হবে। না দিলে নয়। এই লৌকিকতায় মান রাখতে গিয়েও অনেকে লজ্জিত হয়। সুতরাং এসব দেশাচার ইসলামের কিছু নয়।

তারপর আসে তেল নামানোর পালা। ঝোমর ডাল হয় পাত্র পাত্রীকে কেন্দ্র করে হাত তালি দিয়ে গেয়েও ও প্রদক্ষিণ করে।

 এ ছাড়া আছে শিরতেল ঢালার অনুষ্ঠান। সধবাদের হাতের উপর, সবার উপর নোড়া, তার উপরে তেল ঢালা হয় এবং পাত্রীর মাথায় গড়িয়ে পড়ে। এই সঙ্গে আরো কি মেয়েলি কীর্তি। তা ছাড়া এ প্রথা সম্ভব শিবলিঙ্গ পূজারীদের। কারণ, অনেকেই এই প্রথাকে ‘শিবতেল ঢালা’ বলে থাকে। তা ছাড়া এর প্রমাণ হলো শিবলিঙ্গের মত ঐ নোড়া।

 সুতরাং যে মুসলিম নারীরা মূর্তিপূজকদের অনুরূপ করে তারা রাসূলের বাণীমতে ওদেরই দলভুক্ত। আর এদের সঙ্গে দায়ী হবে তাদের অভিভাবক ও স্বামীরাও।

 এই দিনগুলিতে ‘আলম তালায়’ বসার আগে পাত্র-পাত্রীর কপাল ঠেকিয়ে আসনে বা বিছানায় সালাম বিদআত। কোন বেগানা (যেমন বুনাই প্রভৃতি) কোলে চেপে আলম তালায় বসা হারাম। নারী-পুরুষর (কুটুম্বদের) অবাধ মেলা-মেশা, কথোপকথন মজাক, ঠাট্টা, পর্দাহীনতা প্রভৃতি ইসলাম বিরোধী আচরণ ও অভ্যাস। যেমন রঙ ছড়াছড়ি করে হোলী ও কাদা খেলা প্রভৃতি বিজাতীয় প্রথা। এমন আড়ম্বর ও অনুষ্ঠান ইসলামে অনুমোদিত নয়।

 সুতরাং মুসলিম সাবধান! তুলে দিন ‘আলম তালা’ নামক ঐ রথতালাকে পরিবেশ হতে। পাত্র-পাত্রীও সচেতন হও! বসবে না ঐ রথতলাতে। ক্ষীর খাবে না এর-ওর হাতে। কে জানে ওদের হাতের অবস্থা কি? ছিঃ!   

শিক্ষণীয় ঘটনা

হায়, মোবাইল ফোন!

ত্বহা নামের একটি ছোট্ট ছেলে। বয়স ১৫ কি ১৬ হবে। দেখতে বেশ সুন্দর। ছাত্র হিসাবে খুবই ভালো। পড়ালেখায় একনিষ্ঠ। আচার-ব্যবহারও তুলনাহীন। তার সুমধুর ব্যবহার ও ঈর্ষণীয় আচার-আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করে। আকর্ষণ করে চুম্বুকের মতো। এক কথায় ত্বহার মতো ছেলে বর্তমান সময়ে খুব কমই পাওয়া যায়!

ক্লাস নাইনের ছাত্র ত্বহা। মেধাশক্তি প্রখর ও পড়াশুনায় মনোযোগী হওয়ায় ক্লাসের প্রথম স্থানটি বরাবরই দখল করে আসছে সে। তার হাতের লেখাও বেশ চমৎকার। কণ্ঠও ভালো। তাই স্কুলের শিক্ষকসহ সকলেরই সর্বাধিক প্রিয়পাত্র সে। শিক্ষকগণ তাকে নিজ সন্তানের মতোই আদর করেন। সেই সাথে কিভাবে তার পড়াশুনার অগ্রগতি হবে সে ব্যাপারেও চিন্তা-ফিকির করেন।

একদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ত্বহার পিতাকে অফিসকক্ষে ডেকে খুব সমাদর করলেন। আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করলেন। তারপর   বললেন, জনাব! আল্লাহর রহমতে আপনার ছেলের মেধাশক্তি খুবই প্রখর। পড়ালেখার প্রতি তার মনোযোগও প্রশংসনীয়। আমরা আশাবাদী যে, এস,এস,সি পরীক্ষায় ত্বহা বেশ ভালো ফলাফল করতে পারবে। পারবে কাক্সিক্ষখত সাফল্য অর্জন করতে। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের এই গ্রামের স্কুলে ওর মেধার বিকাশ পূর্ণরূপে ঘটছে না। কেননা এখানে শহরের নামকরা মানসম্পন্ন স্কুলগুলোর ন্যায় পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা নেই। নেই আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতমানের সরঞ্জমাদিও। সুতরাং ত্বহাকে যদি ঢাকার কোনো মানসম্মত স্কুলে ভর্তি করে দেন তাহলে আমাদের বিশ্বাস, এস,এস, সি পরীক্ষায় নিশ্চয়ই সে গোল্ডেন এ+ পাবে। আর হ্যাঁ, আমাদের স্কুল ছেড়ে ত্বহার চলে যাওয়াটা যদিও আমাদের জন্য বেদনাদায়ক তবুও তার মঙ্গলের জন্য এ বেদনাটুকু আমরা সইব। কারণ, অনেক সময় বৃহৎ স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্রতর স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। এবার বলুন, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

ত্বহার আব্বা বললেন, এমন একটি ইচ্ছা আমারও ছিল। ভেবেছিলাম, ওকে ঢাকায় ভর্তি করে দেব।  কিন্তু আপনারা কষ্ট পাবেন মনে করে তা আর হয়নি। যাহোক, এখন যেহেতু আপনারাই আমাকে প্রস্তাব দিচ্ছেন, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ত্বহাকে আমি ঢাকায় ভর্তি করার ব্যবস্থা করব। দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের সবার আশা পূর্ণ করেন।

কয়েক দিন পর ঢাকার একটি নামকরা স্কুলে ত্বহাকে ভর্তি করা হলো। ভর্তির ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দীন সাহেব বেশ সহযোগিতা করলেন। এমনকি তিনি নিজে ত্বহার আব্বাকে সাথে নিয়ে বেশ পরিশ্রম করে একটি ভালো হোস্টেলে তার থাকার ব্যবস্থা করলেন। তারপর নিজের পক্ষ থেকে তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে ত্বহার পিতাকে নিয়ে আপন কর্মস্থলে ফিরে এলেন।

ত্বহা এতদিন বাড়ি থেকে যেয়ে-এসে ক্লাস করেছে। তাই হোস্টেলে তার মন টিকতে চাইল না। বাড়ী আসার জন্য সে ছটফট করতে লাগল। কিন্তু একমাস পূর্ণ না হলে বাড়ী যাওয়ার বিধান নেই বিধায় বাধ্য হয়ে তাকে একমাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হলো।

মাস শেষ হতেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে এল ত্বহা। মায়ের নিকট খুলে বলল মনের অবস্থা। মা ভাবলেন, ত্বহা আমাদের ছেড়ে দূরে গিয়ে কোথাও দীর্ঘদিন থাকেনি। তাছাড়া হাতে মোবাইল না থাকায় সময়মতো আমাদের সাথে যোগাযোগও করতে পারিনি। এজন্যে তার বেশি খারাপ লেগেছে। যদি তার হাতে একটি মোবাইল ফোন থাকত এবং আমাদের সাথে প্রয়োজনের সময় বা মন খারাপ থাকা অবস্থায় কথা বলতে পারত তাহলে নিশ্চয়ই এতটা খারাপ লাগত না।  নাহ্ যেভাবেই হোক ওর জন্য একটি মোবাইলের ব্যবস্থা করতে হবে।

 ছেলের হাতে মোবাইল তুলে দিতে ত্বহার আব্বা মোটেই রাজী ছিলেন না। তার বক্তব্য হলো, মোবাইল নামক এই যন্ত্রটি যে কোনো সময় ছেলে-মেয়েদেরকে বিপদগামী করতে পারে। পারে তাদের জীবনকে ধ্বংস করে দিতে। হ্যাঁ, পিতা-মাতার সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলার জন্য তো ফোনের দোকানই আছে।

 কিন্তু ত্বহার আম্মা নাছোড়বান্দা। তিনি ছেলের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার স্বপক্ষে বেশ কয়েকটি যুক্তি দাড় করলেন। তার বড় যুক্তি হলো, ছাত্ররা চাইলেই ফোন-ফ্যাক্সের দোকানে গিয়ে ফোন করতে পারে না। কেননা তাদেরকে স্কুলের রুটিন মোতাবেক চলতে হয়। তাছাড়া ক্লাস চলাকালে তো বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না!

স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে অবশেষে একটি মোবাইল কিনে আনতে বাধ্য হলেন ত্বহার পিতা।

স্কুলে যাওয়ার সময় ত্বহার আম্মা ত্বহার হাতে মোবাইল সেটটি তুলে দিলেন। বললেন। নাও বাবা!  যখনই মন খারাপ লাগবে তখনই সুযোগ করে আমদের সাথে কথা বলবে।  দেখবে, সাথে সাথে তোমার মন ভালো হয়ে গেছে।

ত্বহা মোবাইল ফোন পেয়ে খুব খুশি হলো। মনে মনে বলল, যাক এবার তাহলে নির্ভাবনায় পড়াশুনা করতে পারব!

ত্বহা চলে এল স্কুলে। কাটতে লাগল সময়।

একদিন বিকাল বেলা। ত্বহা তার সহপাঠিদের সঙ্গে হাঁটতে বের হয়েছে। সবুজ দুর্বা ঘাসের উপর বসে তারা শেষ বিকেলের নির্মল হাওয়া উপভোগ করছে। এমন সময় হঠাৎ ত্বহার মোবাইলে রিং বেজে উঠল। ত্বহা মোবাইল রিসিভ করার জন্য পকেটে হাত দেয় এবং ভাবে, নিশ্চয়ই মা কিংবা বাবা ফোন করেছেস। কারণ, তার নম্বর এ দু’জন ছাড়া আর কেউ জানে না।

ত্বহা পকেট থেকে মোবাইল বের করে। চোখের সামনে মোবাইল এনে দেখে, এটা তার বাড়ীর নম্বর নয়, অপরিচিত নম্বর!

খানিক চিন্তা করে ত্বহা। ভাবে, কার হতে পারে এই নম্বরটি? যে রিং করল সে কীভাবে পেল আমার নম্বর? আমি তো কাউকে আমার নম্বর দেইনি ? রিসিভ করব ? নাকি করব না ?

 অপরিচিত নম্বর দেখে ত্বহা যখন এসব কথা ভাবছিল, ঠিক তখনই পাশের এক সহপাঠি বলে ওঠল, আরে! দেরী করছিস্ কেন? রিসিভ করে দেখ্ না কে ফোন করেছে এবং কী বলতে চায়!

ত্বহা রিসিভ করল।

হ্যলো! কে ? কাকে চান ? ত্বহার প্রশ্ন।

আমি মুনালিসা। আপনাকেই চাই। অপরপ্রান্ত থেকে কোমল কন্ঠে একটি মেয়ে উত্তর দিল।

অপ্রত্যাশিত মেয়ে কণ্ঠ শ্রবণে অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল ত্বহা। অবশেষে অল্পক্ষণ চুপ থাকার পর আস্তে করে লাইন কেটে দিল সে।

কিরে ত্বহা ! কে, কী বলল? কিছু না বলে মোবাইল রেখে দিলি যে? বলল ত্বহার এক সহপাঠি।

আর বলিস্ না। কোত্থেকে যেন এক মেয়ে ফোন করেছে! বলে কি আপনাকেই চাই! আমি তাকে চিনিনা, জানিনা, সে আমাকে চাবে কেন বল্তো?

যা বললি তা যদি সত্যি হয় তাহলে তো লাইনটা কেটে দেওয়া ঠিক হয়নি। কথা বলে দেখ্তি সে কী বলে। হয়তো কোনো প্রয়োজনে ফোন করেছিল। বলল, ত্বহার আরেক সহপাঠি।

ঠিক আছে। যদি আবার ফোন করে তাহলে কথা বলে দেখব কী বলে! এখন চল্ হোস্টেলে যাই। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল প্রায়।

মাগরিবের নামাজের পর। ত্বহা ক্লাসের পড়া মুখস্থ করছে। এমন সময় মেয়েটি আবার ফোন দিল।

পড়ার সময় ডিস্টার্ব ত্বহার একেবারে অসহ্য। তাই কে রিং দিয়েছে তা না দেখেই মোবাইলটি বন্ধ করে ড্রয়ারে রেখে দিল ত্বহা। সেই সাথে বিরক্তির সুরে বিড়বিড় করে কি যেন বলল।

পড়া শেষ করে ত্বহা মোবাইল অন করল। অন করার মাত্রই আবার এল মেয়েটির ফোন। ত্বহার বুঝতে বাকি রইল না যে, মেয়েটি এতক্ষণ ধরে কল ঢুকানোর চেষ্টা করছে।

বিরক্ত হলেও ত্বহা রাগ সামলে নিয়ে মোবাইল রিসিভ করল।

ত্বহার শান্ত কন্ঠের কৌতুহলী প্রশ্ন কে?

প্রশ্নের জবাব অপর প্রান্ত থেকে পাওয়া গেল না। যা পাওয়া গেল তা হলো মোবাইল রিসিভ করতে এতো দেরী হলো কেন?

ত্বহা মনে মনে বলল – বাবারে কী দাপট ! রিং দিয়ে আমাকে ডিস্টার্ব করছে, আবার উল্টো আমাকে শাসাচ্ছে!! এ যে, “চুরির উপর সীনাজুরী”।

এদিকে ত্বহার কথা বলতে দেরী দেখে মেয়েটি আবার প্রশ্ন করল, কী ব্যাপার? কথা বলছেন না কেন?

আপনি কে? আপনার পরিচয়টা দিলে ভালো হতো। বলল ত্বহা।

মেয়েটি এবার যাদুমাখা কণ্ঠে তার পরিচয় দিল। সেই সাথে এও বলল, আমি আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই, যদি আপনি রাজী থাকেন।

ত্বহা প্রথমে একটু ইতস্ততঃ করল। কিন্তু ক্ষণিক পরেই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মেয়েটির সাথে বন্ধুত্ব গড়তে রাজী হয়ে গেল।

‘মুনালিসা’ নামটা যেমন শ্রুতিমধুর, কথাও তেমন যাদুময়। তাই তার ফাঁদে আটকাতে খুব বেশি একটা সময় নিল না ত্বহার!

অল্প কয়েকদিনেই ত্বহা মুনালিসার প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়ে গেল। ভুলে গেল তার ঢাকায় আসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। হারিয়ে ফেলল ভালো মন্দ অনুধাবন করার শক্তি!

হায়রে মোবাইল! হায়রে নারী!! এভাবেই কি তোমরা মানুষকে কর বিপদগামী?! 

যাহোক, এরপর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭/৮ বার ত্বহার সঙ্গে মুনালিসার কথা হতে থাকে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের প্রেমও চলতে থাকে অবিরাম গতিতে। এভাবে কেটে যায় কয়েকটি মাস। এক পর্যায়ে ঘনিয়ে আসে এস,এস,সি পরীক্ষা। কিন্তু এখন আর ত্বহার মাথায় পরীক্ষার কোনো চিন্তা নেই! নেই ভালো ফলাফল করার অদম্য আগ্রহও। এখন তার গোটা হৃদয় আচ্ছন্ন করে আছে শুধু একটি নাম মুনালিসা। তার চিন্তা-চেতনায় এখন মুনালিসা ব্যতীত অন্য কিছুর স্থান নেই!!

প্রথম প্রথম মুনালিসাই ত্বহার কাছে ফোন করত। কিন্তু এখন? এখন মুনালিসার ফোনের অপেক্ষা করে না ত্বহা। নিজেই ফোন করে মুনালিসার কাছে। ফলে বাড়ি থেকে খরচের জন্য যে টাকা দেওয়া হয় তার সিংহভাগই খরচ হয়ে যায় মোবাইলের পিছনে। অনেক সময় এমনও হয় যে, ত্বহা নাস্তা খাওয়ার জন্য হোটেলে গেল। এমন সময় মুনালিসা মিসড্কল দিল। তখন ত্বহা নাস্তা না খেয়ে ঐ টাকা মোবাইলে রিচার্জ করে মুনালিসার সঙ্গে কথা বলে। আর এটাকেই সে নাস্তা খাওয়ার চেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক মনে করে!!

পরীক্ষার আর মাত্র এক মাস বাকি। সকল ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনায় ব্যস্ত। আর ত্বহা ব্যস্ত মোবাইল প্রেমালাপে! পরীক্ষা উপলক্ষ্যে হোস্টেলে গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্ররা জেগে পড়ালেখা করে। ত্বহাও তাদের সঙ্গে জেগে থাকে। তবে পড়ার জন্য নয়। রাত বারটার পর মুনালিসার সঙ্গে কথা বলার জন্য!

রাত জেগে কথা বলতে বলতে ত্বহার স¦াস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়। সেই সাথে সে আক্রান্ত হয় কয়েকটি গোপন রোগে। কিন্তু একথা তার কাছের বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ জানল না। আসল রহস্য পিতা-মাতা ও শিক্ষকগণসহ অন্যদের কাছে গোপনই রয়ে গেল! তারা ভাবল, ত্বহা পড়াশুনায় একনিষ্ঠ। অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই পড়াশুনা করে সে! তাই অত্যধিক পড়াশুনার চাপে তার স¦াস্থ্য খারাপ হয়ে গেছে। পরীক্ষার পর আবার ঠিক হয়ে যাবে।

আজ এস, এস, সি পরীক্ষা শুরু। ত্বহা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করল। তবে তার এ অংশগ্রহণ মূলত লোকদেখানো নিয়ম পালন ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কেননা পরীক্ষা দিতে হবে, ভালো রিজাল্ট করতে হবে মুনালিসার সাথে সম্পর্ক গাঢ় হওয়ার পর থেকে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে একদিনও সে পড়তে বসেনি বা বসতে পারেনি! 

ত্বহার যত চিন্তা, তা কেবল মুনালিসাকে নিয়ে। পরীক্ষার প্রতি তার বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ নেই! অথচ পিতা-মাতা ও শিক্ষকগণ বুকভারা আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে এই ত্বহার দিকে। তাঁদের চেষ্টা, আশা, স্বপ্ন সবই কি তাহলে বিফলে যাবে? ত্বহা কি পারবে তাদের আশা পূরণ করতে ? পারবে কি তাদের মুখে হাসি ফুটাতে? তাদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে ? কীভাবে পারবে ? ত্বহা তো এখন হাবুডুবু খাচ্ছে মুনালিসার প্রেম সাগরে!!

পরীক্ষা শেষ হলো। কিছুদিন পর প্রকাশিত হলো পরীক্ষার ফলাফল। ফল যা হওয়ার তাই হলো। দেখা গেল, ত্বহার এ প্লাস পাওয়া তো দূরের কথা, সবগুলো বিষয়ে পাসও করতে পারেনি!! আর যেগুলোতে পাস করেছে তাও কোনো রকম টেনেটুনে!!!

প্রিয় পাঠক! দেখলেন তো! মোবাইল ফোনের কারণে মেধাবী ও বুদ্ধিমান ছাত্র ত্বহার পড়াশুনায় কেমন ধস নেমে এলো! কিরূপ অবনতি হলো তার জীবনের!! কিভাবে নষ্ট হলো তার শরীর-স্বাস্থ্য!!! আচ্ছা এর জন্য দায়ী কে ? মোবাইল ফোন ? ত্বহার অভিভাবক ? নাকি ত্বহার লাগামহীন মোবাইল ব্যবহার ?

হ্যাঁ, মোবাইল ফোন ও অভিভাবকের পাশাপাশি লাগামহীন মোবাইল ব্যবহারের কারণেই ত্বহার আজ এই করুণ পরিণতি। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়ী হলেন ত্বহার মা। কেননা তিনি যদি ত্বহার হাতে মোবাইল না তুলে দিতেন তাহলে হয়তো ত্বহার ঘটনা আজ অন্যভাবে লেখা হতো। হয়তোবা পত্র-পত্রিকায় ত্বহার নাম আসত মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্র হিসেবে!

কিন্তু আজ? হ্যাঁ আজ আর ত্বহাকে কেউ ভালোবাসে না। না পিতা-মাতা, না শিক্ষকবৃন্দ, না অন্য কেউ!! সকলেই তাকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে। তার দিকে তাকায় একটু বাঁকা নজরে!

আসলে মোবাইলের খারাবি থেকে বাঁচার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের যেমন তার অবৈধ ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি অভিভাবকদেরও উচিত ছেলে-মেয়েদের হাতে মোবাইল না দেওয়া কিংবা একান্ত অপারগতায় দিলেও নিশ্চিন্তে বসে না থাকা। বরং তাদের দায়িত্ব হলো, অতি প্রয়োজনে ছেলে-মেয়েদের হাতে মোবাইল দেওয়ার পর তাদের প্রতি খেয়াল রাখা যে, তারা কী করে, কার সাথে কথা বলে এবং মোবাইল ব্যবহারের পর তার মানসিক ও চারিত্রিক কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর হুকুম মেনে মোবাইলের যাবতীয় অবৈধ ব্যবহার থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।

সন্তানের প্রতি জ্ঞানবান পিতার উপদেশ

আল্লাহ তা‘আলার এমন বাণী যা মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে, মাসহাফের মাঝে লিপিবদ্ধ রয়েছে, সন্দেহাতীতভাবে ধারাবাহিক সূত্র পরম্পরায় আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তাকেই পবিত্র কুরআন বলা হয়।   আমরা এই কুরআন পেয়েছি তাঁর নির্বাচিত বান্দা মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাধ্যমে। এতে রয়েছে আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, কাহিনী, জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখা-প্রশাখা।   প্রিয় ব্লগার! আজ আমি যে, জ্ঞান ও উপদেশের কথা বলবো, তা হচ্ছে; হযরত লুকমান তাঁর সন্তানকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, কিন্তু আমরা অনুসরণ করবো এই জন্য যে, উক্ত কথাগুলো পবিত্র কুরআনুল কারীমের তথা মহান আল্লাহ তা‘আলার কথা।   মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন; আমি অবশ্যই লুকমানকে মহাজ্ঞান দান করেছিলাম, (এবং বলেছিলাম) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা লুকামন: ১২) অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম পালন করা, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জ্ঞানীর পরিচয়। আর বর্তমান সমাজে জ্ঞানী তাদেরকেই বলা হয়, যারা আল্লাহর বেশি না শুকরি করে। যেমন একজন ধনীর সম্পদ আছে, কিন্তু তার জ্ঞান তাকে বলে, যদি এই সম্পদের যাকাত দাও, তোমার সম্পদ কমে যাবে, সুতরাং জ্ঞানীর পরিচয় হলো; ‘জমা কর বেশি হবে’। আর হযরত লুকমান বুঝেছিলেন যে, দুনিয়াতে আমার যত সম্পদ আছে, তার একমাত্র দাতা হচ্ছেন, মহান আল্লাহ তা‘আলা। সুতরাং তাঁরই কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। আর এটা আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত পছন্দ করেছিলেন।   মহান আল্লাহ বলেন; আর যে শুকরিয়া আদায় করে, সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়, আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, (জেনে রাখুন) নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং চির প্রশংসিত। সূরা লুকমান: ১২) অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রশংসার মুখাপেক্ষী না। কেউ আল্লাহর প্রশংসা করে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে না। আবার দুনিয়ার সমস্ত মানুষও যদি আল্লাহর প্রশংসা না করে, তাহলেও আল্লাহর মর্যাদা একটুও কমবে না। তাইতো জ্ঞানীরা তাদের নিজের স্বার্থেই আল্লাহর প্রশংসা করে। আসুন আমরা জ্ঞানবান লুকমানের উপদেশগুলো শুনি এবং সে মতে আমল করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করি। ১নং উপদেশ: যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বললেন: হে বৎস! আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। (সূরা লুকমান: ১৩) পবিত্র কুরআনের উক্ত নির্দেশটি যদিও লুকমান, তাঁর ছেলেকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, কিন্তু আমাদেরকেও উক্ত উপদেশটি গ্রহণ করতে হবে, আমাদের পরকালের স্বার্থে। কারণ মাহন আল্লাহ অন্যত্র বলেন; “এটি আল্লাহর হেদায়েত। স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা, এপথে চালান। যদি তারা শেরেকী করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত। (সূরা আনআম ৮৮) অর্থাৎ শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম, তাদের ঠিকানা জাহান্নাম, এমনকি তাকে পুনরায় সুপারিশ করেও কেউ জান্নাতে নিতে পারবে না। আর উক্ত শিরকী অপরাধের কারণে পূর্বে ব্যক্তি যদি কোন নেক আমল করেও থাকে, তাও বাতিল হয়ে যাবে। প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: বিচারের দিনে কোন বান্দা যদি পাহাড় সমান সমান গুনাহও থাকে, আর এর মধ্যে লোকটি শিরক মুক্ত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ পাহাড় পরিপাণ রহমত নিয়ে আসবেন অর্থাৎ ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিবেন। তাইতো লুকমান আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের কারণে সন্তানকে আগে শিরকের অপকারিতা সম্পর্কে উপদেশ দিলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন; আমি তোমাদের জন্য ছোট শিরকে আশঙ্কা করছি সর্বপেক্ষা বেশি, আর ছোট শিরক হচ্ছে; লোক দেখানো আমল। অতএব আসুন আমরাও লুকমানের উপদেশ গ্রহণ করি, শিরকমুক্ত আমলের প্রতিজ্ঞা করি।

৬নং উপদেশ: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ: লুকমানের এই উপদেশটি আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জানিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে, তোমাকে পিতা মাতার খেদমত, সালাত আদায় করে, শির্কমুক্ত ইবাদত  এ সকল কাজ করেই তোমার দায়িত্ব শেষ নয়, তোমাকে সমাজ সংশোধনের জন্য কাজও করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন; “তোমরাই শ্রেষ্ঠজাতি, তোমাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে এই জন্য যে, তোমরা ন্যায়ের আদেশ করবে, এবং অন্যায়ে থেকে নিষেধ করবে, এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে।” (আলে ইমরান: ১১০) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করবে, আর ন্যায়ের আদেশ দিবে, অন্যায় থেকে নিষেধ করবে।” (আলে ইমরান: ১০৪)

 কথা হচ্ছে ন্যায় অন্যায়ের মানদণ্ড কি? ফেরাউন বলে ছিল; “আমি তোমাদের শুধু সৎপথই দেখিয়ে থাকি”। (সূরা মুমিন বা গাফের: ২৯)

 আমাদের নেতারাও ঠিক একই কথা বলে, আমরা যা করি জনগণের কল্যাণের জন্যই করি। তৎকালীন ফেরাউন আর বর্তমানের নেতারা যে, কি কল্যাণ করে তা একজন সাধারণ মানুষই বুঝে। তাই ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ড একমাত্র পবিত্র কুরআন ও রাসূলের বিশুদ্ধ হাদীস। রাসূল (সা.) বলেন: তোমাদের কেউ কোন গর্হিত কাজ দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে, যদি তাও না পারে যবান তথা মুখ দিয়ে বাধা প্রদান করে, যদি তাও না পারে তবে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে, আর ইহা হলো ঈমানের সর্ব নি¤œ স্তর। (সহীহ মুসলিম)

 ৭ নং উপদেশ: ছবর বা ধৈর্য: একজন মানুষ যখন সমাজ সংশোধনের কাজে নামে তখন তার উপর বিপদ আসে। তখন এই বিপদ মুহূর্তে তার করণীয় কি? জ্ঞানীর পরিচয় হলো; উক্ত মুহূর্তে সবর করা ও সাথে সাথে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন; আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো, যাতে তোমাদের মধ্যকার মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদের চিনে নিতে পারি। (সূরা মুহাম্মাদ: ৩১) আল্লাহ আরো বলেন: ধৈর্যশীলদেরকে অগণিত পুরস্কার পূর্ণভাব দেওয়া হবে। (সূরা যুমার: ১০)  

 লুকমান তার সন্তানকে এই জন্যই ধৈর্যধারণের উপদেশ দিলেন, কারণ বিপদ ও মুসিবতকে আল্লাহর দেওয়া পরীক্ষা মনে করে সবরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইলে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করবেন ইহকালে অথবা পরকালে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মুমিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক, তার সমস্ত কাজই কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্যের ব্যাপারে এমন নয়। তার জন্য আনন্দের কিছু হলে সে আল্লাহর শোকর আদায় করে। তাতে তার মঙ্গল হয়। আবার ক্ষতির কিছু হলে, সে ধৈর্যধারণ করে, এটা তার জন্য কল্যাণকর।

সবরের আরো কিছু প্রকার আছে, যেমন আনুগত্যের ছবর, অর্থাৎ জীবনের অনেকটা সময় আল্লাহর নাফরমানীতে কেটে গেছে এখন মনে আল্লাহর ভয় ঢুকেছে, সালাতের অভ্যস্ত ছিল না এখন সালাত শুরু করেছে, দাড়ি ছিল না এখন দাড়ি রেখেছে। পিছনের অনেকটা সময়ের দিকে না তাকিয়ে বর্তমানে যে আনুগত্য শুরু হয়েছে তা ছবরের সাথে আশা নিয়ে অব্যাহত রাখাকে আনুগত্যের সবর বুঝায়।

 সবরের আরেকটা দিক হলো; গুনাহ হতে বিরত থাকার সবর। যেমন টেলিভিশনে সুন্দর একটা নাটক, গান, বা সিনেমা হচ্ছে; মন চায় সেগুলো দেখি, কিন্তু গুনাহর কথা চিন্তা করে না দেখে সবর করা। ফন্দি-ফিকির করে টাকা রোজগার করার সুযোগ আছে, কিন্তু গুনাহর কথা স্মরণ করে তা না করাই হলো গুনাহ হতে বিরত থাকার সবর। যুগযুগ  আগে লুকমান তার সন্তানকে এই সবরের শিক্ষা দিয়েছেন।

৮ নং উপদেশ: অহঙ্কার করো না: মানুষ অহঙ্কার করে অনেক কারণে, যেমন: অর্থের অহঙ্কার, ক্ষমতার অহঙ্কার, জ্ঞানের অহঙ্কার, এ জাতিয় সকল অহঙ্কারের পরিণাম জাহান্নাম। অনেক লোক আছে যারা প্রবাসে আসার পর টাকা পয়সার মালিক হয়েছে, আর এই টাকা পয়সা-ই তাকে অহঙ্কারী বানিয়েছে। সম্পদের যাকাত দেয় না, আবার গরীব লোক দেখলে একটু ভাব নিয়ে চলা-ফেরা করে। আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীর হক যথাযাথ আদায় করে না। এই শ্রেণীর লোক পরকালে, অহঙ্কারের কারণে শাস্তি ভোগ করবে।

 অনেক ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ক্ষমতা পাওয়ার আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষুকের মতো হাত তো পাততোই মাথাটাও পেতে দিতো। আর বলতো আমার জন্য একটু দোয়া করবেন। জনগণ ভোট দিয়ে যখন এই লোকটিকে ক্ষমতায় বসায়, অমনি অহঙ্কারী হয়ে যায়। আগে পিছে ক্যাডার নিয়ে চলে। আগে তো ভাই বলে ডাকা যেত, এখন স্যার বললেও শোনেনা। আর গরীব লোকদেরকে পারলে তো পিসে মারে। ক্ষমতা তাকে এমন অহঙ্কারী বানায় যে সে মনে করে তার এই ক্ষমতা চিরকাল থাকবে! আবার কিছু লোক আছে, তারা জ্ঞানের অহঙ্কার করে। এটা মারাত্মক অপরাধ, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে তিন ব্যক্তিকে জাহান্নামের দিবেন, তাদের একজন হবে জ্ঞানী। কারণ সে চাইতো যে দুনিয়ার সবাই তাকে জ্ঞানী বলে ডাকুক। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা অহঙ্কারীদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করনা, তুমি কখনো পদভরে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না। এবং উচ্চতায় তুমি কখনো পর্বত সমানও হতে পারবে না। (সূরা ইসরা: ৩৭)

 লুকমান তাঁর সন্তানকে পরকালে মুক্তির স্বার্থেই অহঙ্কারী হতে নিষেধ করেছেন। আমাদেরও উচিত যে, যতো ধনীই হই না কেন, যত ক্ষমতাধর বা জ্ঞানী হই না কেন, অহঙ্কার ছেড়ে দিয়ে, এসবকে আল্লাহর নিয়ামত ও পরীক্ষা মনে করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং পরীক্ষায় পাস করার চেষ্টা করা। তবেই আমরা সফলতা অর্জন করতে পারবো। ইনশা আল্লাহ।

৯ নং উপদেশ: দুনিয়াতে চলাচলে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে: জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থানীতি অবলম্বনে আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে, এমনকি ব্যক্তিরও কল্যাণ রয়েছে। যেমন উদার মন-মানসিকতা কারণে হাত পা ছেড়ে দিয়ে দান করে আহাল পরিবারের হক নষ্ট করে, আল্লাহর আদালতে আসামী হওয়া যাবে না। আবার টাকা পয়সা আছে বলে অতি বিলাসিতার কারণে দামী মোবাইল সেট, দামী ঘড়ি (অহঙ্কার বশত) পরে আল্লাহর আদালতে অপচয়কারী হিসেবে আসামী হওয়া যাবে না। পোশাক আশাক দুই তিন জোড়া হলেই যথেষ্ট, অযথা বেশি রাখা বিলাসিতার শামিল। আর বিলাসিতাকারী আল্লাহর কৃতজ্ঞতা করার সুযোগ পায় না।

ইবাদত বন্দেগীতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। অত্যাধিক বাড়াবাড়ি করা নিষেধ। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; তিনজন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের বাড়িতে আসলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত সম্পর্কে জানার জন্য। যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করা হলো; তারা নিজেদের আমলকে সামান্য মনে করলেন। তারা বলতে লাগলেন; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তুলনায় আমরা কোথায়? তাঁর পূর্বের ও পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হয়েছে। আমাদের তো আর মাফ করা হয়নি। তাদের একজন বললো, আমি সারা রাত নামাযে মগ্ন থাকবো, আরেক জন বললো, আমি অনবরত সিয়াম পালন করবো, আরেক জন বললো, আমি স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকবো, কখনোই বিয়ে-শাদী করবো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এসে বললেন, তোমরা কি এমন কথাগুলো বলেছ? আল্লাহর শপথ তোমাদের চাইতে আমি আল্লাহকে বেশি ভয় করি, বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি, কিন্তু আমি রোযা রাখি এবং রোযা ভাঙ্গিও, নামায পড়ি এবং ঘুমাই, এবং বিয়ে-শাদীও করেছি। যে ব্যক্তি আমার নিয়ম পালন করবে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। (বুখারী ও মুসলিম)

  বুখারীর অন্য এক হাদীসে আছে; তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো ও সামর্থ অনুযায়ী আমল করো এবং সকালে ও রাতে চলো এবং শেষ রাতের কিছু অংশ ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করো। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। হাজার হাজার বছর আগে জ্ঞানবান লুকমান তার সন্তানকে লক্ষ্যে পৌঁছার কৌশল বলে দিলেন, একটি মাত্র কথায় যে, তুমি দুনিয়াতে চলাচলে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। আমরাও যদি লক্ষ্যে পৌঁছতে চাই অতিবিলাসিতা ছাড়তে হবে এবং অতি দরবেশিও ছাড়তে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুন।

১০ নং উপদেশ: গলার আওয়াজকে নিচু করবে, গাধার মত শব্দ করবে না: সমাজে প্রবাদ বাক্য চালু আছে ‘নরমে যা হয়, গরমে তা হয় না।’ একই কথা উঁচু আওয়াজে বললে এক অর্থ দাড়ায়, আবার নিচু আওয়াজে বললে অন্য অর্থ হয়। আর এই উঁচু আওয়াজ আদবের খেলাপ। তাছাড়া উপরের সবগুলো যে কোন ব্যক্তির জীবনে বাস্তবায়ন করতে হলে গলার আওয়াজ অবশ্যই নরম করতে হবে। যেমন তাওহীদ ভিত্তিক জীবন যাপন, মাতা-পিতার খেদমত, সমাজে নেককার মানুষের সঙ্গে চলতে হলে, এমনি সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ অর্থাৎ দাওয়াতি কাজ করতে হলে সর্ব প্রথম নরম মেজাজের অধিকারী হতে হবে। তাকে বুঝতে হবে তিনি যেন রোগীর সঙ্গে লেনদেন করছেন। আর রোগীরা এমন হৃদয়ের মুখাপেক্ষী যা হয় দয়ালু ও রহমকারী। এ জন্যই মহান আল্লাহ তাঁর নবী মূছা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-কে নির্দেশ করেছিলেন, ফিরাউনের কাছে গিয়ে সহজ ও নরম কথা বলার জন্য। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই গুণটিকে আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসা স্বরূপ এভাবে বলেছেন; অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ এই যে, তুমি তাদের কোমল চিত্ত। এবং তুমি যদি কর্কশ ভাষী হতে, কঠোর হৃদয় হতে, তবে নিশ্চয়ই তারা তোমার সংস্পর্শ হতে দূরে চলে যেত। (সূরা আলে ইমরান: ৫৯)

 প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিজ্ঞেস করা হলো; হে রাসূল! একজন মহিলা মসজিদ ঝাড়– দেয়, কিন্তু তার মুখের অত্যাচারে মানুষ বিরক্ত। অন্য এক মহিলা যিনি মসজিদ ঝাড়– দেয় না, কিন্তু তার আচরণে মানুষ সন্তুষ্ট, তাদের মধ্যে কে আগে জান্নাতে যাবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার মুখের আচরণ ভালো সে আগে জান্নাতে যাবে।

 পরিশেষে বলবো মহান আল্লাহ তা‘আলা সূরা লুকমানের ১২ থেকে ১৯ আয়াত পর্যন্ত সন্তানের প্রতি, পিতার কি দায়িত্ব তা একটি কাহিনীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন। এবং তা অনুসরণ ও বিমুখতায় কি ফলাফল হবে তাও জানিয়ে দিলেন। এক্ষণে প্রতিটি মুমিন ব্যক্তির করণীয় হবে। উপদেশগুলো হৃদয় দিলে অনুধাবন করে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং নিজের সন্তানদেরকেও উপদেশ দেওয়া। তাহলেই আমরা আল্লাহর কাছে জ্ঞানী বলে বিবেচিত হতে পারবো। সমাজে শান্তি আসবে। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বৃদ্ধি হবে।

 আল্লাহ যেন আমাদের সকল মুসলমান নর-নারীকে উপর্যক্ত উপদেশগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার সুযোগ ও মানসিকতা তৈরি করে দেন। আমীন