আল আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নয়া ষড়যন্ত্র

আল আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নয়া ষড়যন্ত্র

ইহুদীবাদী ইসরাইল মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা মসজিদুল আকসার পশ্চিম দিকের প্রবেশ দ্বারে খননকাজ চালাতে গিয়ে দ্বারটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছে ৷ সারাবিশ্বের মুসলমানরা ইসরাইলের এ ন্যাক্কারজনক কাজের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৷ আল আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নয়া ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দিগন্তের আজকের আসরে রয়েছে একটি আলোচনা ৷ মসজিদুল আকসা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ধর্মীয় স্থান ৷ বিভিন্ন ধর্মের কাছে ঐতিহাসিক এ মসজিদের গুরুত্ব রয়েছে এবং ১৯৬৭ সালে ইহুদীবাদী ইসরাইল এ মসজিদ দখল করার পর থেকে এটিকে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে ৷ ইসরাইলী সেনারা কিছুদিন পরপর নতুন নতুন অজুহাতে আল-আকসা মসজিদে হামলা চালিয়ে এর ক্ষতি করছে ৷ ইহুদীবাদীরা গত ৬ই ফেব্রুয়ারি এ মসজিদের উপর সর্বশেষ আগ্রাসন চালায় ৷ এবার তারা মসজিদেরর পশ্চিম দিকের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে ৷ ইসরাইলীরা এরই মধ্যে ঐ প্রাচীরের নীচে ভূগর্ভস্থ দুটি বৃহত্‍ হলরুম ধবংস করে ফেলেছে ৷ ইসরাইল সরকার বলছে, জেরুযালেম শহরের ইহুদী অধ্যুষিত এলাকার সাথে মসজিদুল আকসার একটি সংযোগ সেতু নির্মানের লক্ষ্যে তারা ঐ ধবংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ৷ অর্থাৎ ইসরাইল মসজিদুল আকসায় ইহুদীবাদীদের যাতায়াতের সুবিধা করে দেয়ার অজুহাতে মসজিদটির একাংশ ধ্বংসের কাজে হাত দিয়েছে ৷ ইসরাইলীরা আল আকসা মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শুরু করে ১৯৬৯ সালে এটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ৷ তখন থেকে এ পর্যন্ত তেলআবিব এ মসজিদ ধবংস করার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ৷ ইহুদীবাদীরা দাবি করছে, মসজিদুল আকসার নীচে হযতর সোলায়মান (আঃ) এর উপাসনালয় অবিস্থত এবং সেটিকে খুঁজে বের করার জন্য তারা এ ধরনের ধবংসাত্মক কাজে হাত দিয়েছে ৷ তারা বিশ্বাস করে, ইহুদী জাতির মুক্তিদাতার আবির্ভাবের সময় এসে গেছে এবং তার আবির্ভাবের ক্ষেত্র সৃষ্টি করার জন্য আল আকসা মসজিদ ধবংস করে সেখানে সোলায়মানের উপাসনালয় নির্মাণ করতে হবে ৷ হযরত সোলায়মান (আঃ) প্রায় তিন হাজার বছর আগে সোলায়মানের উপাসনালয় খ্যাত স্থাপনাটি নির্মান করেছিলেন ৷ কিন্তু তার প্রায় চার শতাব্দি পর বাবোলের অধিবাসীরা এটিকে ধবংস করে ৷ তবে ঐ উপাসনালয় পুনরায় তৈরি করা হলেও হযরত ঈসা (আঃ) এর জন্মের ৭০ বছর পর রোম সম্রাট এটিকে ধবংস করে দেয় ৷ তবে আল আকসা মসজিদের নীচে ঐ উপাসনালয়ের অবস্থান নিয়ে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা ব্যাপক সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ মাইর বিন দোউফ ব্যাপক গবেষণা ও বহুবার মসজিদুল আকসা পরিদর্শনের পর ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গবেষণার ফলাফল লিখতে গিয়ে বলেন, হযরত ঈসা (আঃ) এর উপাসনালয় কোন অবস্থায়ই আল আকসা মসজিদের নীচে অবস্থিত নয় ৷ ইহুদীবাদীরা তাদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে বৈধতা দেয়ার জন্য হোলোকাস্টের মত যেসব কল্পকাহিনী তৈরি করেছে, সোলায়মানের উপাসনালয় সে রকমেরই একটি কল্পকাহিনী ৷ আরো অনেক ইতিহাসবিদ ও গবেষক মাইর বিন দোউফের এ দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেছেন ৷ এদিকে ইহুদীবাদীরাও এতদিন ধরে খননকাজ চালানোর পরও মসজিদুল আকসার নীচে কোন ধরনের উপাসনালয় খুঁজে পায় নি ৷ কিন্তু তারপরও হযরত সোলায়মান (আঃ) এর উপাসনালয়ের সন্ধানের অজুহাতে ইহুদীবাদীরা মসজিদুল আকসা ধ্বংসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ৷ বলা হচ্ছে, ইসরাইলের ১২৫টি উগ্র ইহুদীবাদী গোষ্ঠি আল আকসা মসজিদকে ধবংস করার দাবি জানাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন কর্মসূচী দিচ্ছে ৷ এ পর্যন্ত ইহুদীবাদী সরকার মসজিদুল আকসার ভিত্তি দুর্বল করার জন্য এর নীচ দিয়ে ট্যানেল তৈরি করেছে এবং এর বেশ কিছু অংশ ধবংস করেছে ৷ ১৯৮২ সালে আল আকসা মসজিদে এ ধরনের এক আগ্রাসন প্রতিহত করতে গিয়ে বহু ফিলিস্তিনী ইসরাইলী সেনাদের গুলিতে শাহাদাতবরণ করেন ৷ ১৯৯০ এর দশকে এ ঐতিহাসিক মসজিদের নীচে বহু খননকাজ চালানো হয় ৷ ১৯৯৬

হাদীসের আলোকে রোগ দর্শন


আমাদের সমাজে রোগ সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ এটাকে আল্লাহর গজব বলে উল্লেখ করে, কেউ মনে করে জ্বীন-ভূতের আছর, কেউ আবার এর সাথে চন্দ্র-সূর্যের কক্ষপথ পরিবর্তনের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে। একইভাবে চিকিৎসা সম্পর্কেও আমাদের মধ্যে বিভিন্ন দর্শন বিদ্যমান, যা কখনো ভিত্তিহীন, কখনো অযৌক্তিক, কখনো কাল্পনিক আবার কখনো সত্যের কাছাকাছি। কিন্তু তীব্বে রাসূল বা রাসূল (সঃ) -এর চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ সম্পর্কীত স্পষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য দর্শন প্রদান করা হয়েছে। নিম্মে কুরআন ও হাদীসের আলোকে রোগ দর্শন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল:রোগ মুমিনের পরীক্ষা:
রোগ মুমিনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিভিন্ন প্রকার রোগের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ বলেন: “আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব ভয়-ভীতি, ক্ষুধা, জান-মাল ও ফসলের স্বল্পতা দ্বারা, (হে রাসূল!) তুমি ধৈর্য্যশীলদের সুসংবাদ দাও।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৬) আয়াতে বর্ণিত জানের স্বল্পতা দ্বারা দুটি জিনিস উদ্দেশ্য মৃত্যু ও রোগ। মহান আল্লাহ আইযূব (আঃ) কে রোগ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। পবিত্র আল-কুরআনের সূরা আম্বিয়ায় এ সম্পর্কিত আলোচনা বিদ্যমান। (দ্র: সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং – ৮৩- ৮৪ )
রোগ ঈমানের পূর্ণতা দেয়:
যে মুমিনের কখনো রোগ হয়নি তার ঈমানের পূর্ণতার ব্যাপরে সন্দেহ থেকে যায়। আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সঃ) একদিন সাহাবাগণের উদ্দেশ্যে বললেন: যদি কোন মুমিনের রোগ হয় অত:পর আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন, তবে এটি তার জন্য পূর্ববর্তী গুনাহের কাফ্ফারা হয়। তখন একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! রোগ কি? আমি তো কখনো অসুস্থ হইনি। তখন রাসূল (সঃ) বললেন: উঠে দাড়াও তুমি আমাদের পর্যায়ভূক্ত নও। (আবু দাউদ) এ হাদীস থেকে স্পষ্টত: প্রমাণিত হয়, রোগ শোক মুমিনের জিন্দেগীতে আবশম্ভ্যবী এক বিষয়।
অন্য হাদীসে রাসূল (সঃ) বলেন: “ঐ মুমিনের উপর আমি আশ্চর্য হই যে রোগের উপর বিরক্ত ও বিতৃষ্ণ হয়। সে যদি জানত রোগের মধ্যে কি রয়েছে তবে সে আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো জীবনটাই রোগাক্রান্ত থাকাটা নিজের জন্য আবশ্যক করে নিত (পছন্দ করত)। (বায্যার))
রোগ কল্যাণের বাহক:
রাসূল (সঃ) এর চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগ-শোক কল্যাণের বাহক। তিনি বলেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে কষ্টে ফেলেন।” (মুয়াত্তা মালেক) এ কল্যাণ বিভিন্নভাবে হতে পারে। আতা ইবনে ইয়াসার (রা) হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন: “যখন কোন মানুষ রোগে পতিত হয় তখন আল্লাহ তার কাছে এ নির্দেশ সহকারে দুজন ফেরেশতা পাঠান যে, দেখ সে তার সেবাকারীর সাথে কি বলছে, যদি ঐ ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার পরেও আল্লাহর শোকর গুজার করতে থাকে তবে সে খবর ফিরিশতাদ্বয় আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়। তখন আল্লাহ বলেন: আমি যদি তাকে মৃত্যু দেই তবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো আর যদি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দেই তবে তার খারাপ গোশতকে ভাল গোশত দ্বারা এবং দূষিত রক্তকে উত্তম রক্ত দ্বারা বদলে দেব এবং তার গুনাহ ক্ষমা করে দেব।” (মুয়াত্তা মালেক) অতএব বুঝা গেল, রোগ মানুষের জন্য কল্যাণ নিয়ে আসে চাই তা ইহলৌকিক, পরলৌকিক দৌহিক বা অন্য কোন কল্যাণ হোক। এ সম্পর্কে আল্লাহর চিরন্তন নীতি হল: “নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে, নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।” (আল-ইনশিরাহ: ৫-৬)
মুমিনের রোগ তার গুনাহের কাফ্ফারা:
মুমিন ব্যক্তি কোন রোগে আক্রান্ত হলে রোগাক্রান্ত হওয়ার কষ্টটা তার পূর্বেকৃত অপরাধের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যায়। অর্থাৎ রোগে পতিত হওয়ার মাধ্যমে মুমিনের পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ হয়। এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল (সঃ) বলেছেন: “কোন মুসলিম ব্যক্তি এমন কোন দুঃখ-কষ্ট, ক্লান্তি, রোগ, চিন্তা বা ক্ষুদ্রতর ব্যথা অনুভব করে না যার মাধ্যমে তার পাপ দূর হয় না।” (বুখারী-মুসলিম) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন: “মুমিন এমন কোন কষ্ট পায় না এমন কি তার গায়ে কাটা বিধে না যার অসিলায় তার গুনাহ মাফ করা হয় না।” (মুয়াত্তা মালেক) ইয়াহইয়া বিন সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সঃ) -এর আমলে এক ব্যক্তির ইন্তেকাল হয়, একজন ব্যক্তি উক্ত মাইয়্যেতকে লক্ষ্য করে বলল: কতই না উত্তম মৃত্যু, কোন রোগে-শোকে ভূগল না।” তখন রাসূল (সঃ) বললেন: হায়রে পোড়া কপালী! তুমি কি বোঝ আল্লাহ কাউকে কোন রোগে ফেললে এর মাধ্যমে তার পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (মুয়াত্তা মালেক)
রোগে ধৈর্যধারণ জান্নাত প্রাপ্তির মাধ্যম:
রোগের যন্ত্রণায় অতিষ্ট না হয়ে যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে ধৈর্যধারণ করে আল্লাহ তাকে উত্তম পুরস্কার দান করেন। বিভিন্ন হাদীসে রাসূল (সঃ) রোগকে জান্নাত লাভের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আতা ইবনে আবী রোবাহ (রাঃ) বলেন: একবার আমাকে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি কি আপনাকে এক জান্নাতি মহিলাকে দেখাবো? আমি বললাম অবশ্যই; তিনি বললেন: ঐ কালো মহিলাকে দেখুন। ঐ মহিলা একদিন রাসূল (সঃ)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মৃগী রোগের চাপ শুরু হলে কোন কোন সময় আমার ছতর খুলে যায়, তাই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন। তখন রাসূল (সঃ) বললেন: “তুমি ইচ্ছা করলে ধৈর্যধারণ করতে পার তাহলে জান্নাত লাভ করতে পারবে। আর যদি চাও তবে আমি তোমার রোগ মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করি।” তখন মহিলাটি বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধৈর্যধারণ করব তবে আমার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন যেন আমার ছতর খুলে না যায়। তখন রাসূল (সঃ) তার জন্য সেই দোয়া করলেন। (বুখারী ও মুসলিম) এ ছাড়া অন্ধ ব্যক্তির ধৈর্যধারণ সম্পর্কে রাসূল (সঃ) বলেন: “আল্লাহ যার প্রিয় দুটি জিনিস (চোখ) নিয়ে গেছে এবং সে ধৈর্যধারণ করেছে তার জন্য রয়েছে জান্নাত।” (বুখারী ও মুসলিম)
রোগকে গালি দেয়া নিষিদ্ধ
:আমাদের সমাজে অনেকেই রোগে পতিত হলে রোগকে গালি-গালাজ করে। রাসূল (সঃ) নির্দেশিত চিকিৎসা বিধানে রোগকে গালি দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সঃ) একদিন উম্মে মাসাইয়্যেব (রাঃ) এর নিকট যেয়ে শুনলেন তোমার কি হয়েছে যে তুমি কাঁপছ? তিনি বললেন, জ্বরে আক্রান্ত হয়েছি। আল্লাহ এই জ্বরের কল্যাণ না করুক। তখন রাসূল (সঃ) বললেন: জ্বরকে গালি দিও না, কেননা এটা আদম সন্তানের গুনাহগুলো এমনভাবে দূর করে দেয় যেভাবে কামারের ভাট্রি লোহার মরিচা দূর করে দেয়। (মুসলিম)
সব রোগের চিকিৎসা আছে:
রাসূল (সঃ) নির্দেশিত চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কোন ব্যাধিই দূরারোগ্য নয়; প্রত্যেক রোগেরই চিকিৎসা রয়েছে। রোগ শোক আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে আর তিনিই এ রোগ মুক্তির ঔষধ প্রদান করেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন: “আল্লাহ এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার শেফা বা প্রতিষেধক পাঠাননি।” (বুখারী মুসলিম) অন্য হাদীসে জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে রাসূল (সঃ) বলেছেন: “প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে। যখন রোগ অনুযায়ী যথাযথ ঔষধ প্রয়োগ হয় তখন আল্লাহর হুকুমে রোগ মুক্ত হয়।” (মুসলিম) উমামা বিন শারীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম, তখন কিছু বেদুঈন এসে প্রশ্ন করল হে আল্লাহর রাসূল! আমরা চিকিৎসা গ্রহণ না করলে কি আমাদের গুনাহ হবে? তিনি উত্তরে বললেন: “হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর। মহান আল্লাহ একটি মাত্র ব্যাধি ছাড়া এমন কোন ব্যাধি সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধকও সৃষ্টি করেননি এবং যা দূরারোগ্য। তারা জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল! দূরারোগ্য সে ব্যাধিটি কি? রাসূল (সঃ) উত্তরে বললেন: সেটি হলো বার্ধক্য। (সুনানে আরবাআ)
ঔষধ রোগ মুক্তির অসীলা মাত্র:
মানুষের তাকদীর যেহেতু নির্ধারিত তাই তাকদীরের মোকাবেলায় ঔষধ কি কাজে আসে? ঔষধ কি খোদায়ী বিধান পরিবর্তন করতে পারে? আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সঃ)-এর মজলিসে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন: তাকদীরের মোকাবেলায় ঔষধ কি কোন কাজে আসে? উত্তরে রাসূল (সঃ) বললেন: “ঔষধ তাকদীরেরই (আল্লাহর হুকুমের) একটি বিষয়। তিনি যাকে যেভাবে উপকার করতে চান করেন।” (জামে সগীর) অতএব ঔষধের নিজস্ব কোন রোগ নিরাময়ের শক্তি নেই। বরং তা আল্লাহর হুকুমেই ফল প্রদান করে কারো জন্য ইতিবাচক, কারো জন্য নেতিবাচক। তাই ঔষধ রোগ নিরাময়ের একটি মাধ্যম মাত্র। সব কিছুই আল্লাহর হুকুমে হয়। কুরআনের বাণী: “আমি যখন অসুস্থ হই তখন তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন।” (সূরা শুয়ারা: ৮০ )
হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ নিষিদ্ধ:
ইসলামী শরীয়তে যেসব জিনিস, খাদ্য বা পানীয় হারাম তার মাধ্যমে ঔষধ গ্রহণও হারাম। আবু দারদা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন: “নিশ্চয় রোগ ও ঔষধ আল্লাহ প্রদত্ত দুটি জিনিস। তিনি প্রত্যেক রোগের নিরাময় ব্যবস্থা করেছেন; সূতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো তবে হারাম কোন কিছু দ্বারা চিকিৎসা নিও না। (সুনানে আবু দাউদ) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “ রাসূল (সঃ) নাপাক ঔষধ থেকে নিষেধ করেছেন।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) হারাম তথা নিষিদ্ধ জিনিসের মধ্যে আরোগ্য দানের ক্ষমতা নেই। এ জন্য আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলতেন, “নিশ্চয় আল্লাহ ঐ জিনিসের মধ্যে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি যা তোমাদের জন্য হারাম করেছেন।” (মুসতাদরেক) মদ ইসলামী শরীয়তে হারাম একটি পানীয়, স্বাভাবিকভাবে তাই মদ দিয়ে ঔষধ গ্রহণও হারাম। এ সম্পর্কে তারেক বিন সুয়াইদ (রাঃ) বলেন: রাসূল (সঃ) কে মদ ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তা ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। তখন প্রশ্নকারী বলল, আমিতো এটা ঔষধ হিসেবে তৈরী করেছি। তখন রাসূল (সঃ) বললেন, মদ কখনো ঔষধ হতে পারে না, বরং সে নিজেই রোগের উপাদান।” (মুসলিম)
অভিজ্ঞতা ছাড়া চিকিৎসা নিষিদ্ধ:
যে সব চিকিৎসকের পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ঔষধ সংক্রান্ত কোন জ্ঞান নেই বরং মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করে সে সব হাতুড়ে ডাক্তারদের ব্যাপারে রাসূল (সঃ) বলেন: “পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বা জানাশুনা ছাড়া যদি কোন ব্যক্তি কাউকে চিকিৎসা করে এমতাবস্থায় (রোগীর কোন ক্ষতি হলে) রোগীর সব দায়-দায়িত্ব উক্ত ডাক্তারের উপর পড়বে। (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, মুসতাদরেক)