এপ্রিলের মিথ্যাচার

মিথ্যা একটি চারিত্রিক ব্যাধি। যার মধ্যে মনুষ্য রুচিবোধ কিংবা সুস্থ প্রকৃতি বিদ্যমান সে কোনক্রমেই এর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করতে পারে না। আর না করাই হচ্ছে স্বাভাবিক মনুষ্য ধর্ম। সকল ধর্মেই এর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে। Continue reading এপ্রিলের মিথ্যাচার

এপ্রিল ফুল ডে : গল্পের আড়ালে বেদনার পাহাড়

প্রথম বোকা ছিলো কারা? ফ্রান্স, বৃটেন, মেক্সিকো, সুইডেন নাকি ভারতীয়রা? এ প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসের অনেক ঘটনার মতো রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে। কারো কারো মতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে পরিবর্তিত নতুন ক্যালেন্ডারকে সামনে রেখে এপ্রিল ফুল ডে’র সুচনা হয়। নবম চার্লসের অধীনে প্রবর্তিত ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিলের পরিবর্তে ১লা জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে। যারা ১লা এপ্রিলকেই নববর্ষের ১ম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল, তাদেরকে প্রতি বছর ১লা এপ্রিলে বোকা উপাধি দেয়া হতো। ফ্রান্স ছাড়া মেক্সিকো ,স্কটল্যান্ড, বৃটেন, সুইডেন প্রভৃতি দেশে ভিন্ন ভিন্ন কারণে এপ্রিল ফুল ডে পালন করা হতো।
ইতিহাসের বিভিন্ন বইয়ে ১লা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুলস ডে-র ঘটনাসমূহে রস, কৌতুক আর আমোদপ্রমোদের পাশাপাশি রয়েছে বেদনার এক কালো পাহাড়। জানা যায়, অষ্টম শতাব্দীর প্রথম দিকে বিখ্যাত মুসলিম সেনাপতি তারিখ বিন রিয়াদের নেতৃত্বে মুসলমানরা স্পেন দখল করে। এরপর ৭শ বছর চলে মুসলমান রাজত্ব। এ সময় ইউরোপের এ ভূখন্ডে গড়ে উঠেছিল এক অনন্য মুসলিম সভ্যতা। কালক্রমে এ সভ্যতায় ভাটা পড়ে। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে মুসলমানদের শাসন ক্ষমতায় অবয় দেখা দেয়। আর এ অবয়ের সুযোগটি নেন স্পেনের রাজা ফার্ডিনান্ড।
সে দিন ছিল পয়লা এপ্রিল, ১৪৯২ সাল। ১৪৯২ সালের প্রথম দিকে পাশ্ববর্তী রাজ্যের রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানী ইসাবেলার সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে স্পেন আক্রমণ করেন। তাদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য মুসলমানরা নগরের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। সুচতুর রাজা ফার্ডিনান্ড খবর পাঠায় যে, মুসলমানরা যদি মসজিদে আশ্রয় নেয় এবং নগরীর সদর দরজা খুলে দেয় তাহলে তাদের ওপর হামলা করা হবে না।
রাজার এ ঘোষণা শুনে মুসলমানরা সরল বিশ্বাসে শহরের দরজা খুলে দিয়ে মসজিদে আশ্রয় নেয়। কিন্তু রাজা তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সবগুলো মসজিদে একযোগে আগুন লাগিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়। সেদিন ফার্ডিনান্ডের চক্রান্তে কয়েক লক্ষ মুসলমান মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
লেলিহান শিখার মাঝে অসহায় মুসলমানদের আত্মচিৎকারে যখন আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠেছিল তখন ফার্ডিনান্ড উল্লসিত হয়ে বলেছিলেন, ” হে মুসলমান, তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা”। সেই থেকে মুসলমানদের বোকা বানানোর এই দিনটিকে স্মরণীয় করতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় নিয়মিত এপ্রিল ফুল পালন করে আসছে।
মুসলমানদের বোকা বানানোর এ দিনটিকে স্মরণীয় করতে আসল ঘটনা বেমালুম চাপা দিয়ে ১৫০০ সালের ১লা এপ্রিল থেকে সমগ্র খ্রিষ্টান জগতে এ দিনটিকে হাসি, ঠাট্টা এবং মিথ্যা প্রেম দেয়া-নেয়ার দিন হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করে আসছে। আজ অবধি ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ সমগ্র বিশ্বে বোকা বানানোর এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রকমের ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ সম্বন্ধীয় বিশেষ কার্ড ও নিমন্ত্রণপত্র বের হয় পশ্চিমা দেশগুলোতে। খরচ করা হয় হাজার হাজার ডলার। পশ্চিমা দেশের মতো আমাদের দেশেও এপ্রিল ফুলের প্রচলন আছে। শহর কিংবা গ্রামে সব জায়গাতেই এ দিনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে, আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে অনেক ঠাট্টা-মসকরা এবং হৃদয়গ্রাহী রসিকতা চলে।
আমাদের দেশে শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সব স্তরের লোকেরা এ দিনটি কমবেশি পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু যারা এ দিনটি ধুমধামের সাথে পালন করছেন তাদের অনেকেই জানেন না এপ্রিল ফুলের আড়ালের সেই মর্মভেদী ইতিহাস, যা মুসলমানদের জন্য রীতিমতো শোকের দিন।
তাই এ ইতিহাস জানার পর কারোই উচিত হবে না, এদিনে আনন্দ ফূর্তি করা কিংবা কাউকে বোকা বানানো। পাশাপাশি আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। কারণ রাসূল (সাঃ) বলেছেন, প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যে কাউকে প্রতারিত করে না কিংবা নিজেও প্রতারিত হয় না।