সর্বশেষ যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে

সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী
সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী

পুলসিরাত সম্পর্কিত একটি দীর্ঘ হাদীসের শেষাংশে এসেছে : হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত এক ব্যক্তি জাহান্নামের দিকে মুখ করা অবস্থায় থাকবে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রভূ! জাহান্নামের গরম বায়ু আমাকে শেষ করে দিল। আমার চেহারাটা আপনি জাহান্নাম থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দিন। সে এভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে বার বার প্রার্থনা করতে থাকবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, তোমার এ প্রার্থনা কবুল হলে এরপর তুমি যেন আর কিছু না চাও। সে বলবে, আপনার মর্যাদার কসম করে বলছি, এরপর আপনার কাছে আর কিছু চাইবো না। তখন জাহান্নামের দিক থেকে তার চেহারা ফিরিয়ে দেয়া হবে। তারপর সে আবার বলতে শুরু করবে, হে আমার প্রভূ! আমাকে একটু জান্নাতের দরজার নিকটবর্তী করে দেন। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি বলোনি এরপর আর কিছু চাইবে না? ধিক হে মানব সন্তান। তুমি কোন কথা রাখো না। কিন্তু এ ব্যক্তি প্রার্থনা করতেই থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার তো মনে হয় তোমার এ দাবী পুরণ করা হলে আবার অন্য কিছু চাইবে। সে বলবে, আপনার মর্যাদার কসম করে বলছি, এরপর আপনার কাছে আর কিছু চাইবো না। সে আর কিছু চাইবে না এ শর্তে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের গেটের নিকটবর্তী করে দিবেন। যখন সে জান্নাতে গেটের দিকে তাকিয়ে জান্নাতের সূখ শান্তি দেখবে তখন কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার প্রার্থনা করতে শুরু করবে, হে আমার প্রভূ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি বলোনি এরপর আর কিছু চাইবে না? ধিক হে মানব সন্তান! তুমি কোন কথা রাখো না। সে বলবে, হে আমার প্রভূ! আমাকে আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা করে রাখবেন না। এভাবে সে প্রার্থনা করতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ হাসি দিবেন। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর পর আল্লাহ বলবেন; ঠিক আছে তুমি আরো কিছু চাও, সুতরাং সে আল্লাহর নিকট চাইবে, আল্লাহও তাকে বিভিন্ন বিষয় চাওয়ার জন্য স্মরণ করিয়ে দিবেন। অতঃপর তার চাওয়া শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন এই সবই তোমার জন্য। এবং সাথে আরো সেই পরিমাণ দেওয়া হলো। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

গন্তব্য হোক, অনন্ত-জান্নাত

১ম পর্ব
যেহেতু আমার লেখার শিরোনামে রয়েছে গন্তব্য হোক অনন্ত জান্নাত। তাই শিরোনামের সাথে সংগতি রেখেই শুরু করতে চাই ঐ গন্তব্য স্থল অনন্ত-জান্নাতের মালিক শেষ বিচার ও দিবসের মালিক, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের, বিশ্ব মানবতার কল্যাণে তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ  এর উপর নাযিলকৃত মহা পবিত্র আল কুরআনের বাণী দিয়ে। যা তাঁর বান্দার কল্যাণে প্রেরণ করেছেন এবং শিখিয়েছেন বান্দা কিভাবে তার প্রভুর নিকট, মালিক ও স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করবে।
মহান আল্লাহর বাণী : আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছো। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং তাদের পথেও নয় যারা পথ ভ্রষ্ট হয়েছে। (সূরা ফাতেহা ৬-৭)
নিশ্চয়ই আমরা দয়াময় আল্লাহর নিকট সহজ সরল পথের সন্ধান চাই। তাদের পথের সন্ধান চাই যাদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর পথের যাত্রী হিসেবে কবুল করেছেন। তাদের পথ চাই, যাদেরকে মুমিন হিসেবে কবুল করেছেন। তাদের পথ চাই যাদেরকে তাঁর প্রিয় বান্দা বলে গ্রহণ করেছেন। তাদের পথ চাই যারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতে সফল হয়েছে। আর নিশ্চয়ই তাদের পথ চাই না, যারা আল্লাহর গহজবে পতিত হয়েছে এবং অভিশপ্ত, ঘৃণিত ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। কঠিন আযাব ও দুঃসহ যন্ত্রণায় নিমজ্জিত হয়েছে। তাদের পথও চাই না, যারা দ্বীন ইসলাম অস্বীকার করে কাফের হয়েছে। আবার তাদের পথও চাই না যারা মুসলিম হয়েও গাফেল ও মুনাফিক হয়েছে। তাদের পথও নয় যারা নফসের খেয়াল খুশী মতে চলেছে এবং যাদের দুনিয়া আখেরাত উভয় জগত বরবাদ ও ধ্বংস হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণীতে দুটি পথের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। পথ দুটি হলো: অনন্ত অসীম প্রশান্তিময় জান্নাতের পথ এবং অপরটি হলো: কঠিন আযাব ও যন্ত্রণাময় জাহান্নাম যা ইন্ধন হবে মানুষ আর পাথর। ধারাবাহিকভাবে যখন জান্নাত, জাহান্নাম প্রসঙ্গ আসবে তখন ইনশা আল্লাহ সাধ্যানুযায়ী বর্ণনা সহকারে আলোচনা করার চেষ্টা করব।
প্রিয় পাঠক বন্ধুগণ, আমাদের কি ভেবে দেখা উচিৎ নয়, কেন মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে সৃষ্টি করলেন? আর সৃষ্টির সেরা মানব বানিয়ে ও দুনিয়ায় প্রেরণ করলেন। আমাদের জন্য এত অসীম নিয়ামত দিলেন। সৃষ্টি করলেন বিশাল আসমান ও জমি। গ্রহ, তারা নক্ষত্র রাজী, বৃক্ষ তরুলতা। আমাদের চোখের সামনে যা কিছু আছে সবইতো মহান আল্লাহর দেয়া নেয়ামত। তা তো কোনক্রমে অস্বীকার করার মত নয়। আমাদেরকে সৃষ্টির বিপরীতে কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে মহান রাব্বুল আলামীনের, অবশ্যই আমাদেরকে ভেবে দেখা উচিত, জানা প্রয়োজন এ জন্য যে উদ্দেশ্য বিহীন যেমনি জীবন চলতে পারে না। উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য সম্বন্ধে সম্যক ধারনা ছাড়া জীবনে সফলতা বয়ে আনতে পারে না। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্বন্ধে জানা থাকলে সফলতা ও লক্ষ্যার্জনের সহজ হয়। আমরা যখন পথ চলি, তখন গন্তব্যের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানা থাকলে পথ চলতে সহজ হয়। গন্তব্যে পৌঁছার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। কোন কাজ করার পূর্বে যদি জানা থাকে এ কাজটি কেন করছি? এর উদ্দেশ্য কি বা ইহা থেকে কোন লাভবান হওয়া যাবে কিনা? কতটুকু লাভবান হওয়ার যাবে? এ কাজে কেমন সময় ব্যয় হতে পারে? এমন আগাম ধারণা, অবশ্যই কাজে গতির সঞ্চার জাগাবে। কাজটি দ্রুত ও অল্প সময়ে সহজে সফল হতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এমনি বাস্তবতার আলোকে যদি আমরা জানতে পারি যে, মহান সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ কেন আমাদেরকে সৃষ্টি করলেন? বা কি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করলেন? তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের করণীয় ও বর্জীয় সম্বন্ধে জানার বুঝার জ্ঞান অর্জন করার আগ্রহ জাগবে। মহান সৃষ্টিকর্তা প্রভূর প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রেম ভালবাসা জন্মাবে। আনুগত্যের শির অবনত করতে দ্বিধা থাকবে না। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর গুণাগুণ সম্বন্ধে জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। মহান আল্লাহর গুণাগুণ সম্বন্ধে জানতে পারলে তাঁর সৃষ্টি সম্বন্ধে জানার এবং বুঝার অনুভূতি জাগবে।
যার ফলে মহান আল্লাহর মনোনীত দ্বীন, ধর্ম ও ইসলাম সম্বন্ধে জানার, বুঝার শিক্ষার্জন ও জ্ঞানার্জন করার অনুপ্রেরণার দ্বার উম্মুক্ত হবে। আর দ্বীন, ধর্ম ইসলাম সম্বন্ধে জানা থাকলে জ্ঞান-অর্জন শিক্ষার্জন করতে পারলে ঈমান হবে মজবুত, বিশ্বাস হবে দৃঢ় তাই আসুন আমরা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নিকট থেকে জেনে নেই। কেন কি উদ্দেশ্যে তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করলেন।
মহান সৃষ্টিকর্তা প্রভূ বলেন, আমি মানব ও জ্বীন জাতিক শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। (সুরা যারিয়াত-৫৬)
উপরোক্ত পবিত্র কুরআনে আয়াতের যদি আমরা অনুধাবন করি। হৃদয়াঙ্গম করি, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে সক্ষম হবো যে, মহান সৃষ্টিকর্তা প্রভূ আমাদেরকে কেন সৃষ্টি করলেন। কি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করলেন। অর্থাৎ তাঁহার ইবাদত করার জন্য। এখন আমাদের জানা প্রয়োজন ইবাদত কি? ইবাদত কাকে বলে?
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন,
“তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো আনুগত্য করতে চাও? অথচ আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিস ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তাঁরই আনুগত্য করে যাচ্ছে। আর সকলেই তাঁর কাছে ফিরে যাবে।” (সুরা আল-ইমরান-৮৩)
ইবাদত: ইবাদত শব্দের মূল অর্থ হলো দাসত্ব করা। আর দিন-রাত সর্বক্ষণ একমাত্র আল্লাহর তা’আলার হুকুম পালন করে চলাকেই ইবাদত বলে। যে কাজ করতে তিনি নিষেধ করেছেন, তা হতে ফিরে থাকা এবং তিনি যা করতে আদেশ করেছেন তা পূর্ণরূপে পালন করাই হচ্ছে ইবাদত। যখন জানা প্রয়োজন আল্লাহ তা’আলা আমাদের জন্য কি হুকুম করলেন। আর কি নিষেধ করলেন। কি করতে বললেন আর কি পরিহার করতে বললেন। মোট কথা আমাদের জীবন বিধান কি হবে কোন পথে জীবন পরিচালনা করলে, দুনিয়া আখেরাত উভয় জগত সফল হবে। কোন পথে জীবন পরিচালনা করলে মহান আল্লাহ রাজি খুশী হবেন। এমন কি কোন পথ চলতে পারলে আমাদের গন্তব্য ও অনন্ত অসীম জানাতে সহজে পৌঁছতে পারব। এ জন্য সর্ব প্রথম যা জানা প্রয়োজন। তাহলো একজন মুসলমান হওয়ার জন্য জ্ঞান অর্জন করা এবং জ্ঞানের আবশ্যকতা। প্রত্যেক মুসলমানই একথা বিশ্বাস করে এবং ভাল করে জানে যে, দুনিয়ায় ইসলাম আল্লাহ তা’আলার একটি সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আল্লাহ তা’আলা তাকে মুহাম্মদ  -এর উম্মত করে সৃষ্টি করেছেন এবং ইসলামের ন্যায় এত বড় একটা নিয়ামত তাকে দান করেছেন বলে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর শুকর আদায় করে থাকে। এমন কি, স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাও ইসলামকে মানুষের প্রতি সবচেয়ে বড় ও উৎকৃষ্ট নিয়ামত বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “আজ আমি তোমাদের আনুগত্যের বিধান (জীবন বিধান) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পুর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা: আল-মায়েদা-৩)
মহান আল্লাহ তা’আলার বান্দার জন্য দেয়া নিয়ামত অবশ্যই আমাদের এবং সকল মুসলমানের গ্রহণ করা উচিত। যারা এ নিয়ামত গ্রহণ করে পূর্ণরূপে মহান সৃষ্টিকর্তা প্রভূর আনগত্য করবে, তারাই দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতে সফল হতে পারবে। তাই আমাদের সকলকে আল্লাহ তা’আলার মনোনীত ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। তাঁর দেয়া বিধি-বিধান এবং ইসলামের জ্ঞান আহরণ করে, ধর্ম ও ইসলামক ভাল করে সুন্দর ও সুচারুরূপে বুঝতে হবেএ বং জানতে হবে। আর এ জন্য আবশ্যক কুরআন পড়া। শুধুমাত্র কুরআন পড়লেই চলবে না, কুরআন জেনে-বুঝে পড়তে হবে। হাদীস চর্চা করতে হবে, সে অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করতে হবে। আমদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে কুরআন ও সুন্নাহ এর বাস্তব রূপ দিয়ে এর মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। কেবল মাত্র তা হলেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব এবং আমাদের কাংখিত গন্তব্য জান্নাতে প্রবেশ করা যেতে পারে।
এখন আমাদের জানা প্রয়োজন, মুসলমান কাকে বলে: মুসলমান হওয়ার অর্থ কি এবং মুসলমান আর অমুসলমানের মধ্যে পার্থক্য কেমন করে করা যায়, এসব বিষয় জানা না থাকলে, তবে সে তো অমুসলমানের মত কাজ কর্ম শুরু করবে এবং তার মুসলমানীর কোন সম্মানই সে রক্ষা করতে পারবে না। অতএব প্রত্যেক মুসলমানকে এবং মুসলমানের প্রত্যেকটি সন্তানকেই ভাল করে জেনে নিতে হবে যে, সে যে নিজেকে নিজে মুসলমান মনে করে এ মুসলমান হওয়ার অর্থ কি? মুসলমান হওয়ার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে কি পরিবর্তন ও পার্থক্য হয়ে যায় ও তার উপর কি কর্তব্য ও দায়িত্ব এসে পড়ে? ইসলামের কোন সীমার মধ্যে থাকলে মানুষ মুসলমান থাকতে পারে এবং কোন সীমা অতিক্রম করলেই সে মুসলমানী হতে খারিজ হয়ে যায়? এসব বিষয় না জানলে মুখ দিয়ে সে মুসলমানীর যতই দাবী করুক না কেন, তার মুসলমান থাকা সম্ভব নয়?
ইসলাম :
ইসলাম অর্থ আল্লাহর আনুগত্য করা ও হুকুম পালন করে দেয়ার নাম হচ্ছে ইসলাম। আল্লাহর সম্মুখে নিজ নিজ কামনা বাসনা ও স্বাধীনতাকে স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করার নাম ইসলাম। আল্লাহর বাদশাহী এবং আনুগত্যকে মাথানত করে স্বীকার করে নেয়ার নাম ইসলাম। যে ব্যক্তি নিজের সমস্ত কাজ-কারবার ব্যবসা-বাণিজ্য আল্লাহর হাতে সঁপে দেয় সেই ব্যক্তি মুসলমান। আর যে ব্যক্তি নিজের সব ব্যাপারে নিজের ইচ্ছামত সম্পন্ন করে কিংবা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোও হাতে তা সেপার্দ করে সে মুসলমান নয়। আল্লাহর হাতে সঁপে দেয়ার তাৎপর্য এই যে, তিনি তার কিতাব এবং তাঁর নবীর মারফত যে হেদায়াত ও সৎ পথের বিধান পাঠিয়েছেন, মানুষ তা পূর্ণরূপে পালন করবে এবং তাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি করতে পারবে না। জীবনের প্রত্যেকটি ব্যাপারে এবং কাজে শুধুমাত্র পবিত্র কুরআন ও হাদীসের নিয়ম নীতি অনুসরণ করে চলবে। যে ব্যক্তি দুনিয়ার নিয়ম-নীতি প্রথা আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু পশ্চাতে ফেলে রেখে প্রত্যেক ব্যাপারেই কেবল আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের হাদীসের কাছে পথের সন্ধান চায় এবং জানতে চায় আমার কি করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ নয়, আর সেখান হতে যে নিয়মই পাওয়া যায় তা বিনা আপত্তিতে মেনে নেয় তার বিপরীতে যা তা সবই অস্বীকার করে শুধু সেই ব্যক্তি মুসলমান। কারণ সে তো নিজেকে আল্লাহর হাতে সঁপে দিয়েছেন। আর এভাবে আল্লাহর হাতে নিজেকে সঁপে দিলেই মানুষ মুসলমান হতে পারে। এর বিপরীত যে ব্যক্তি কুরআন ও হাদীসের উপর নির্ভর করে না বরং নিজের মন যা বলেই তাই করে কিংবা বাপ দাদা হতে চলে আসা নিয়ম-কানুনের অনুসরণ করে চলে, কিংবা দুনিয়ায় যা কিছু হচ্ছে সেও তাই করে নিজের কোন ব্যাপারেই কুরআন ও হাদীসের কাছে জিজ্ঞেস করে না যে, তার কি করা উচিত, পবিত্র কুরআন ও হাদীসের বিধান জেনে সে বলে ওঠে যে, আমার বুদ্ধি তা গ্রহণ করতে চায় না, তাই আমি তা মানি না, অথবা বাপ দাদার কাল হতে তার উল্টা নিয়ম চলে আসছে। কাজেই তার অনুসরণ করতে পারব না। বা দুনিয়ার নিয়ম তার বিপরীত, তাই আমি সে নিয়ম অনুসারেই চলবো তবে সেই ব্যক্তি কিছুতেই মুসলমান নয়। যদি সে নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দেয়। তবে সে মিথ্যাবাদী এতে কোন সন্দেহ নেই।
আমরা যখন কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পড়ি এবং মুসলমান হওয়ার কথা স্বীকার করি তখন আমরা এই বাক্যের মধ্যে দিয়ে একথাও স্বীকার করে থাকি যে, আল্লাহর আইন আমাদের জন্য একমাত্র আইন: আল্লাহ তা’আলাই আমাদের প্রভু ও আদেশকর্তা। তখন আমাদের শুধু আল্লাহরই আনুগত্য করতে হবে। আমাদের কাছে শুধু সেই বিধানই সত্য বিধানরূপে স্বীকৃতি পাবে যা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এর অর্থ এই যে, আমরা মুসলমান হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর সামনে নিজের ইচ্ছা ও স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়েছি। অতপর আমাদের নিজের স্বাধীনতা বা ইচ্ছাশক্তি বলতে কিছু আর থাকে না। থাকতে পারে না। দুনিয়ার বিভিন্ন প্রথা বা পারিবারিক নিয়ম-নীতির ও কোন গুরুত্ব থাকতে পারে না অথবা অমুক হযরত বা পীর বুজুর্গ, ওস্তাদ মাশায়েখ কি বলেছেন, আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাতের মোকাবিলায় এ ধরনের কোন কথাই আমরা তখন উপস্থাপন করতে পারি না। আমাদের প্রত্যেকটি বিষয়ই পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে উপস্থাপন করাই এখন আমাদের একমাত্র কাজ। যা তাহার অনুরূপ হবে না তা দূরে নিক্ষেপ করতে হবে। নিজেকে মুসলমান বলা এবং তারপর পবিত্র কুরআন ও হাদীসকে বাদ দিয়ে নিজের মত দুনিয়ার প্রথা কিংবা মানুষের তৈরী করা কোন মতবাদ ও কাজের অনুসরণ করা সম্পূর্ণ পরস্পর বিরোধী। কোন অন্ধ ব্যক্তি যেমন নিজেকে চোখ ওয়ালা বলতে পারে না, কোন নাকহীন ব্যক্তি যেমন নিজেকে নাক ওয়ালা বলতে পারে না, ঠিক তেমনি যে ব্যক্তি নিজের সমস্ত কাজকর্ম কুরআন হাদীস অনুসারে সমাধা করে না বরং তা পরিত্যাগ করে নিজের বুদ্ধি বা দুনিয়ার প্রথা অথবা মানুষের তৈরী মতবাদ এবং কোন ব্যক্তি বিশেষের কথা বা কাজের অনুসরণ অনুকরণ করে চলে সে কিছুতেই নিজেকে মুসলমান বলতে পারে না।