কুরআনের আলো

১৪৩) আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি ‘মধ্যপন্থী’ উম্মাতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা দুনিয়াবাসীদের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল হতে পারেন তোমাদের ওপর সাক্ষী১ এবং তুমি যে কেবলার দিকে ছিলে, তা আমি এ  জন্যে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যে, কে রাসূলের অনুসরণ করে আর কে তা হতে স্বীয় পদদ্বয়ে পশ্চাতে ফিরে যায় আমি শুধু তা দেখার জন্য কিব্লাহ নির্দিষ্ট করেছিলাম এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন বিষয়, তবে তাদের জন্য মোটেই কঠিন প্রমাণিত হয়নি যারা আল্লাহর হিদায়াত লাভ করেছিল  আল্লাহ তোমাদের এই ঈমানকে কখনো নষ্ট করবেন না নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, তিনি মানুষের জন্য অত্যন্ত স্নেহশীল ও করুণাময়। 

১. এটি হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের নেতৃত্বের ঘোষণাবাণী। এভাবেইশব্দটি সাহায্যে দুদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এক: আল্লাহর পথপ্রদর্শনের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যার ফলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগত্যকারীরা সত্য-সরল পথের সন্ধান পেয়েছে এবং তারা উন্নতি করতে করতে এমন একটি মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে যেখানে তাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মাত গণ্য করা হয়েছে। দুই: এ সাথে কিব্লাহ পরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্বোধরা একদিক থেকে আর একদিকে মুখ ফিরানো মনে করছে। অথচ বাইতুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে বিশ্ববাসীর নেতৃত্ব পদ থেকে যথানিয়মে হটিয়ে উম্মাতে মুহাম্মাদীয়াকে সে পদে বসিয়ে দিলেন।

 মধ্যপন্থী উম্মাত শব্দটি অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক তাৎপর্যের অধিকারী। এর অর্থ হচ্ছে, এমন একটি উৎকৃষ্ট ও উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন দল, যারা নিজেরা ইনসাফ, ন্যায়-নিষ্ঠা ও ভারসাম্যের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, দুনিয়ার জাতিদের মধ্যে যারা কেন্দ্রীয় আসন লাভের যোগ্যতা রাখে, সত্য ও সততার ভিত্তিতে সবার সাথে যাদের সম্পর্ক সমান এবং কারোর সাথে যাদের কোন অবৈধ ও অন্যায় সম্পর্ক নেই।

বলা হয়েছে, তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মাত পরিণত করার কারণ হচ্ছে এই যে, তোমরা লোকদের ওপর সাক্ষী হবে এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হবেন। এ বক্তব্যের অর্থ কি এর অর্থ হচ্ছে, আখেরাতে যখন সমগ্র মানবজাতিকে একত্র করে তাদের হিসেব নেয়া হবে তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে রাসূল তোমাদের ব্যাপারে এ মর্মে সাক্ষ্য দেবেন যে, সুস্থ ও সঠিক চিন্তা এবং সৎকাজ ও সুবিচারের যে শিক্ষা দিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল তা তিনি তোমাদের কাছে হুবহু এবং পুরোপুরি পৌঁছিয়ে দিয়েছেন আর বাস্তবে সেই অনুযায়ী নিজে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন। এরপর রাসূলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সাধারণ মানুষদের ব্যাপারে তোমাদের এই মর্মে সাক্ষ্য দিতে হবে যে, রাসূল তোমাদের কাছে যা কিছু কার্যকর করে দেখিয়ে ছিলেন তা তাদের কাছে কার্যকর করে দেখিয়ে ছিলেন তা তাদের কাছে কার্যকর করে দেখাবার ব্যাপার তোমরা মোটেই গড়িমসি করোনি।

 এভাবে কোন ব্যক্তি বা দলের এ দুনিয়ায় আল্লাহর পক্ষ থেকে সাক্ষ্য দানের দায়িত্বে নিযুক্ত হওয়াটাই মূলত তাকে নেতৃত্বের মর্যাদায় অভিষিক্ত করার নামান্তর। এর মধ্যে যেমন একদিকে মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধির প্রশ্ন রয়েছে তেমনি অন্যদিকে রয়েছে দায়িত্বের বিরাট বোঝা। এর সোজা অর্থ হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে এ উম্মাতের জন্য আল্লাহভীতি, সত্য-সঠিক পথ অবলম্বন, সুবিচার, ন্যায়-নিষ্ঠা ও সত্যপ্রীতির জীবন্ত সাক্ষী হয়েছেন তেমনিভাবে এ উম্মাতকেও সারা দুনিয়াবাসীদের জন্য জীবন্ত সাক্ষীতে পরিণত হতে হবে। এমন কি তাদের কথা, কর্ম, আচরণ ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয় দেখে দুনিয়াবাসী আল্লাহভীতি, সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা ও সত্যপ্রীতির শিক্ষা গ্রহণ করবে। এর আর একটি অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর হিদায়াত আমাদের কাছে পৌঁছাবার ব্যাপারে যেমন রাসূলের দায়িত্ব ছিল বড়ই সুকঠিন, এমনকি এ ব্যাপারে সামান্য ত্রুটি বা গাফলতি হলে আল্লাহর দরবারে তিনি পাকড়াও হতেন, অনুরূপভাবে এ হিদায়াতকে দুনিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবার ব্যাপারেও আমাদের ওপর কঠিন দায়িত্ব আরোপিত হয়েছে। যদি আমরা আল্লাহর আদালতে যথার্থই এ মর্মে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হই যে, তোমার রাসূলের মাধ্যমে তোমার যে হিদায়াত আমরা পেয়েছিলাম তা তোমার বান্দাদের কাছে পৌঁছাবার ব্যাপারে আমরা কোন প্রকার ত্রুটি করিনি, তাহলে আমরা সেদিন মারাত্মকভাবে পাকড়াও হয়ে যাবো। সেদিন এ নেতৃত্বের অহঙ্কার সেখানে আমাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের নেতৃত্বের যুগে আমাদের যথার্থ ত্রুটির কারণে মানুষের চিন্তায় ও কর্মে যে সমস্ত গলদ দেখা দেবে, তার ফলে দুনিয়ায় যেসব গোমরাহী ছড়িয়ে পড়বে এবং যত বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলার রাজত্ব বিস্তৃত হবে — সে সবের জন্য অসৎ নেতৃবর্গ এবং মানুষ ও জিন শয়তানদের সাথে সাথে আমরাও পাকড়াও হবো। আমাদের জিজ্ঞেস করা হবে, পৃথিবীতে যখন জুলুম, নির্যাতন, অন্যায়, অত্যাচার, পাপ ও ভ্রষ্টতার রাজত্ব বিস্তৃত হয়েছিল তখন তোমরা কোথায় ছিলে?  (সূরা বাকারা)

দারসুল কুরআন

৮৬) এই লোকেরাই আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন কিনে নিয়েছে। কাজেই তাদের শাস্তি কমানো হবে না এবং তারা কোন সাহায্যও পাবে না।
৮৭) আমরা মূসা (আঃ)-কে কিতাব দিয়েছি। তারপর ক্রমাগতভাবে রাসূল পাঠিয়েছি। অবশেষে ঈসা ইবনে মারয়ামকে পাঠিয়েছি উজ্জ্বল নিশানী দিয়ে এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে সাহায্য করেছি।১ এরপর তোমরা এ কেমনতর আচরণ করে চলছো, যখনই কোন রাসূল  তোমাদের প্রবৃত্তির কামনা বিরোধী কোন জিনিস নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে তখনই তোমরা তার বিরুদ্ধাচরণ করেছো, কাউকে মিথ্যা বলেছো এবং কাউকে হত্যা করেছো। Continue reading দারসুল কুরআন

দারসে কুরআন

৮৩) স্মরণ করো যখন ইসরাঈল সন্তানদের থেকে আমরা এই মর্মে পাকাপোক্ত অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, আল্লাহ ছাড়া আর কারোর ইবাদাত করবে না, মা-বাপ, আত্মীয়-পরিজন, ইয়াতিম ও মিসকিনদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, লোকদেরকে ভালো কথা বলবে, নামায কায়েম করবে ও যাকাত দেবে। কিন্তু সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা সবাই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিলে এবং এখনো ভেঙে চলছো। Continue reading দারসে কুরআন

কুরআনের আলো

৮০. আর তারা বলে, ‘গোনা-কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনো স্পর্শ করবে না’।১ বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর নিকট ওয়াদা নিয়েছ, ফলে আল্লাহ তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না?২ নাকি আল্লাহর উপর এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না’? (সূরা বাকারা) Continue reading কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

৭৭. তারা কি জানে না যে, তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে, তা আল্লাহ জানেন?
৭৮. আর তাদের মধ্যে আছে নিরক্ষর,১  তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া কিতাবের কোন জ্ঞান রাখে না এবং তারা শুধুই ধারণা করে থাকে।২
১. এখানে ইহুদীদের দ্বিতীয় ধরণের লোকদের তথা জনসাধারণের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। আর প্রথম ধরণের দলটি ছিল তাদের আলেম-ওলামা ও শরীয়তের ব্যাখ্যাতাদের, যার উল্লেখ ছিল ৭৫নং আয়াতে।
২. আল্লাহর কিতাবের কোনো জ্ঞানই তাদের ছিল না, তাতে দ্বীনের  কি বিধি-বিধান রয়েছে, চারিত্রিক সংশোধন ও শরীয়তের নিয়ম-নীতি তথা মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য ও ব্যর্থতা কিসের উপর নির্ভরশীল, তার প্রতি তাদের মোটেও মনোযোগ ছিল না। ওহীর জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী না হয়ে তারা নিজেদের ইচ্ছা-আকাঙ্খা অনুসারে নিজেদের মনগড়া কথাগুলোকে দ্বীন মনে করতো, আর মিথ্যামিথ্যি রচিত কিস্সা-কাহিনী আর ধারণা-অনুমানের উপর ভর করে কালাতিপাত করতো।
এখানে গভীর আশঙ্কার সাথে উল্লেখ্য যে, বর্তমান বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠির অবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে অনুরূপ, যা আমাদের চলমান সামগ্রিক অধঃপতনের অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতি থেকে অনতিবিলম্বে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং প্রকৃত কল্যাণের স্বার্থেই। Continue reading কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

৭৪. অতঃপর তোমাদের অন্তরসমূহ এর পরে কঠিন হয়ে গেল যেন তা পাথরের মত, কিংবা তার চেয়েও শক্ত। আর নিশ্চয় পাথরের মধ্যে কিছু আছে, যা থেকে নহর উৎসারিত হয়। আর নিশ্চয় তার মধ্যে কিছু আছে যা চূর্ণ হয়। ফলে তা থেকে পানি বের হয়। আর নিশ্চয় তার মধ্যে কিছু আছে যা আল্লাহর ভয়ে ধ্বসে পড়ে।১! আর আল্লাহ তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে গাফেল নন। Continue reading কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

৬৭. আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার কওমকে বলল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা একটি গাভী যবেহ করবে’।১ তারা বলল,  ‘তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ?’ সে বলল, ‘আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।’ ২
ব্যাখ্যা: ১ এই আয়াতের ‘বাকারাহ’ (গাভী) শব্দ থেকেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
২. এখানে উল্লেখিত ঘটনাটি সংক্ষেপে এই যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে একটি হত্যাকান্ড ঘটেছিল; কিন্তু হত্যাকারীকে সনাক্ত করা যাচ্ছিল না। তাই তারা মূসা আলাইহিস সালামের স্মরণাপন্ন হয়। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দিয়ে একটি গাভী যবেহ-এর মাধ্যমে নিহত লোকটিকে জীবিত করে তার হত্যাকারীর পরিচয় উদ্ঘাটন করান। এটি ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা। Continue reading কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

৬৭. আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার কওমকে বলল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা একটি গাভী যবেহ করবে’। ৮৯ তারা বলল,  ‘তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ?’ সে বলল, ‘আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।’  ৯০ Continue reading কুরআনের আলো

শান্তির আলোক বর্তিকা ’আল কুরআন’

মহান আল্লাহ বলেন: যদি আমি এই কুরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা‘আলার  ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সূরা হাশর আয়াত-২১)। শান্তির অমীয় বাণী, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সর্বকালের সেরা মহামানব মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ হয়। এ ধরনীর বিপন্ন মানুষকে অন্ধকার হতে আলোর সন্ধান দিতে। যে কুরআনের ভয়ে পাহাড় ধসে যেত সেই কুরআনকে নাজিল করা হয়েছে মানুষের উপর। শুধু তাই নয়, দেড় হাজার বছর পূর্বের সেই নাজিলকৃত গাইড লাইফখানা আজও আছে এ পৃথিবীর বুকে অবিকৃত অবস্থায়, থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। লক্ষ্য করুন, পৃথিবীতে যত ধর্মগ্রন্থই ছিল তা বিকৃত হয়েছে বা বিলীন হয়ে গেছে, কিন্তু আল কুরআন এমন একটি মহাগ্রন্থ যার একটি জের, জবর পর্যন্ত বদল হয়নি, বা বিকৃত হয়নি। এ কুরআনের ভিতরই আল্লাহ পাক ঘোষণা করে দুনিয়ার মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন ’এ কুরআন আমি নাযিল করেছি, আর একে সংরক্ষণ বা হেফাজতের দায়িত্ব আমার (সুরা সূরা হিজর : ৯) এর চেয়ে বড় মু‘জেজা আর কিবা হতে পারে? Continue reading শান্তির আলোক বর্তিকা ’আল কুরআন’