আপনি যা জানতে চেয়েছেন

প্রশ্ন: আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, কেমন আছেন আপনি? আমি মাসিক আল-হুদাকে ভালোবাসি এবং নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। আপনাদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন ছিলো, যা উদয় হয়েছে, আল-হুদার ৩৩তম সংখ্যার প্রশ্নোত্তর পর্ব পাঠ করে। সেখানে পালক সন্তানের বিষয় এক ভাই বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আপনারা উত্তরে বলেছেন; পালক মেয়েকে তার পালক বাবা বিয়ে করতে পারবে, এমনকি পালক ছেলেও তার পালক মা-কে বিয়ে করতে পারবে, যদি তার পালক বাবা তাকে তালাক দেয়। এখন আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, এটা কিকরে সম্ভব!? আমি ঠিকমত বুঝে উঠতে পারছি না! যদি আমাকে একটু বুঝিয়ে বলতেন, তাহলে আমি, এই দ্বিধা দ্বন্দ্বের মাঝ থেকে সড়ে আসতে পারবো। আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইলো। জাযাকাল্লাহু খায়ের। জিল্লুর রহমান, জেলীব আল শুয়োখ, কুয়েত

 উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। মাসিক আল-হুদা নিজে পড়বেন এবং অন্যদের পড়ার ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন। আমীন।   বিষয়টি সহজে বুঝার জন্য ৩৩ তম সংখ্যার উত্তরটি পুনরাবৃত্তি করা হলো: সেখানে বলা হয়েছিলো যে, কেউ ইচ্ছা করলে কন্যা সন্তান কিংবা পুত্র সন্তান লালন-পালন করতে পারবে। তবে মনে রাখতে হবে, যে বয়োপ্রাপ্ত হলে, এরা উভয়-ই পরপুরুষ ও পরনারীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তাদের সাথে লালন-পালনকারী মাতা-পিতাকে পর্দা করে চলতে হবে। এমনকি পালিত মেয়েকে বিয়ে করাও ইসলামে জায়েজ। যেমন রাসূল তাঁর জীবদ্দশায় বিষয়টি পরিষ্কার করে গেছেন। (অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তাঁর পালক ছেলে যায়েদ বিন হারেসার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যয়নব বিনতে জাহাশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করেছেন।) যেহেতু পালক ছেলে কিংবা মেয়ের সাথে, মাতা-পিতার রক্তের কোন সম্পর্ক স্থাপিত হয় না, তাই বয়োপ্রাপ্ত তাদের সাথে পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে। এবং তার উভয় সম্পদেরও হকদার হয় না। আর যাদেরকে বিয়ে করা হারাম, তাদের মধ্যে পালক মা অন্তর্ভুক্ত না বিধায়, পালক ছেলের জন্য পালক বাবার অবর্তমানে (মৃত্যু বা তালাক দেওয়া) বিয়ে করা জায়েয। আশা করি বিষয়টি আপনার নিকট পরিষ্কার হয়েছে।  তেমনিভাবে পালক ছেলে, তার পালক মাকে বিয়ে করতে পারবে। আর পালক সন্তান উত্তরাধিকার সম্পদের মালিক হয় না।

 প্রশ্ন: আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুাহ। আমার একটি প্রশ্ন আছে; আর তাহলো: কোন মুসলমান ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করে স্বামী তার ধর্ম এবং  স্ত্রীও তার আপন ধর্ম পালন করছে; এবং তাদের গর্ভে সন্তানও জন্মগ্রহণ করেছে। সন্তানরাও যার যার ইচ্ছামত ধর্ম পালন করছে, এটা শরীয়তে কতটুকু বৈধ? আর কোন মুসলমান; হিন্দু, খ্রীষ্টান, ইহুদী এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরকে বিয়ে করতে পারবে কিনা? জানাবেন।

 উত্তর: কোন মুসলমানের জন্য মুশরিক তথা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করা জায়েয নাই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা বাকার: ২২১)   আলোচ্য আয়াতে মুশরিক বলতে যারা বিভিন্ন প্রকারে পূজা করে থাকে, যেমর মূর্তিপূজা, দেবতা পূজা ইত্যাদি। অর্থাৎ হিন্দু, বৌদ্ধ, সাম্যবাদী বা কমিউনিষ্ট একথায় যাদের কোন আসমানী গ্রন্থ নাই।  ইমাম ইবনে জারীর স্বীয় তাফসীর আত তাবারী ৪/৩৬৩ খণ্ডে কাতাদা হতে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন; আলোচ্য আয়াতে মুশরিকাত বলতে ঐসব মুশরিক যাদের নিকট কোন কিতাব অবতীর্ণ হয়নি। মহান আল্লাহ আহলে কিতাবের মহিলাদেরকে তাদেরকে পৃথক করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে  স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে, তার শ্রম বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা মায়েদা: ৫)  তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। (সূরা মুমতাহিনা : ১০) এই আয়াতেও কাফের নারীদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। হযরত উমর (রা.) এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর দুইজন মুশরিকা স্ত্রীকে তালাক দিয়েদেন।  এই তো গেলে মুশরিক বা পূজারী নারীদের বিয়ে সংক্রান্ত আলোচনা। যে তাদেরকে বিয়ে করা হারাম। পক্ষান্তরে কিতাবধারী খ্রীষ্টান বা ইহুদী নারীদের বিয়ে করা বৈধ এই শর্তে যে, সতী-সাধী হতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সতী-সাধ্বী  নারীকে বিয়ে করা জায়েজ। সতী-সাধ্বী নারী বলতে এমন নারীকে বুঝায় যে, ব্যভিচারের লিপ্ত হয়নি। উপরের আলোচনা হতে আমরা যা জানতে পারলাম: ১. মুশরিকা নারীকে বিয়ে করা জায়েয নাই। ২. কিতাবধারী ইহুদী ও খ্রীষ্টান নারীকে বিয়ে করা বৈধ। ৩. কিতাবধারী নারীগণ ব্যভিচার হতে পুতপবিত্র হতে হবে।  এবার প্রশ্নকারী আপনি চিন্তা করুন, যে মুসলমান লোকটি কোন শ্রেণীর নারীকে বিয়ে করেছে। আর হ্যাঁ বিয়ের উদ্দেশ্য থাকতে হবে যে, ক্রমশঃ কিতাবধারী মহিলাকে ইসলামের দাওয়াত দিবো। আর সন্তান-সন্তনি বাবার ধর্মের অনুসারী করে গড়ে তুলতে হবে। যদি স্ত্রী এমন শর্ত দেয় যে, সন্তান আমার ধর্মের অনুসরণ করবে, সেই ক্ষেত্রে এমন নারীকে বিয়ে না করাই উত্তম। মনে রাখতে হবে যে, কোন মুসলিম নারীর জন্য খ্রীষ্টান বা ইহুদী পুরুষকে বিয়ে করা জায়েয নাই।  

 প্রশ্ন: হস্তমৈথুন কি যিনার অন্তর্ভুক্ত? পরকালে হস্তমৈথুনকারীকে কোন প্রকারের শান্তি ভোগ করতে হবে? বিষয়টি জানিয়ে উপকৃত করবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সালমিয়া, কুয়েত

উত্তর:  ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুন  (Masturbation)  হস্তমৈথুন (Masturbation)   বা স্বমেহন বর্তমানে একটি বড় সমস্যা। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম এবং কবীরা গুনাহ। শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালঙ্ঘনকারী। হস্তমৈথুনের কারণে দুই ধরনের সমস্যা হয় (১) মানসিক সমস্যা। (২) শারীরিক সমস্যা। 

পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে সব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে একটি হল নপুংসকতা (Impotence) । অর্থাৎ ব্যক্তি যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায়।   আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত (Premat ure Ejaculation)। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে বীর্যপাত ঘটে। ফলে স্বামী তার  স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না।   আরো একটি সমস্যা হল, বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম। [২ কোটি]। যার ফলে  সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার দেখা দেয়। একজন পুরুষ যখন  স্ত্রী গমন করেন তখন তার থেকে যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয় না।   অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়।  আর শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয়।  পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ-বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায়। * চোখের ক্ষতি হয়। * স্মরণ শক্তি কমে যায়। * মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে। আরেকটি সমস্যা হল। অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয়। ফলে অনেক মুসলিমভাই সালাত পড়তে পারেন না। মহান আল্লাহ  তা‘আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন।  আর কোন নারী যখন স্বমেহন বা হস্তমৈথুন করে তখন তার কুমারীত্ব (Virgi nity) হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেকে স্বমেহন করতে গিয়ে কুমারীত্ব হারিয়ে ফেলে। ফলে তার বিয়ে করতে সমস্যা হয়। বিয়ের পর স্বামী তার এ অবস্থা দেখে তাকে সন্দেহ করে তালাক দেয়। তাই হস্তমৈথুন নারীদের অনেক বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। আরো অনেক সমস্যা থাকতে পারে।  ইউরোপীয় দেশেগুলো বয়সন্ধিকালীন ছেলে-মেয়েদর হস্তমৈথুন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে থাকে। হস্তমৈথুন একটি ভাল অভ্যাস বলে তারা প্রচার করছে। কারণ? কারণ হল ব্যবসা। হস্তমৈথুনের সাথে পর্ণোগ্রাফির খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। জুতার সাথে মোজার,চায়ের সাথে বিস্কুটের, কাগজে র সাথে কলমের যেরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হস্তমৈথুনের সাথে পর্ণোগ্রাফিরও সেরকমই সম্পর্ক। পর্ণোগ্রাফির ব্যবসা হল কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। পশ্চিমারা যদি হস্তমৈথুনের অপকারিতা মানুষের কাছে তুলে ধরে তাহলে তাদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসার ক্ষতি হবে। কারণ তখন হস্তমৈথুনের হার কমে যাবে। ফলে পর্ণো সিডি, ম্যাগাজিন-এর বিক্রি ব্যাপকভাবে কমবে। এজন্য তারা হস্তমৈথুনের কোন অপকারিতা নেই বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সমকামিতা  বৈধ করেছে। সমকামিতার মত হস্তমৈথুনের অপকারিতাকেও তারা এড়িয়ে চলছে।

অন্য ধর্ম এ সম্পর্কে কি বলে? হিব্রু এবং খ্রীষ্টান বাইবেল হস্তমৈথুনের ব্যাপারে চুপ। হিন্দু ধর্মে হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ নয়। বরং কামসূত্র বইয়ে হস্তমৈথুনের বর্ণনা খুব সুন্দরভাবে দেওয়া হয়েছে।  যাই হোক, আমার মুসলিম ভাই-বোনেরা হস্তমৈথুন নামের এই যৌন বিকৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। মহান আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন। আপনার বন্ধু-বান্ধবীদের এই ব্যাপারে সচেতন করুন। এই ব্যাপারে আলোচনা করুন। এই সামাজিক সমস্যা দূর করুন। সবশেষে একটি হাদীসের উদ্ধৃতি পেশ করছি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন– যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব। (বুখারী )  হস্তমৈথুনের ব্যাপারে সাধারণ ব্যাকরণ হলো যে, তা হারাম যা পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে যদি কেউ ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার তীব্রতা বোধ করে তখন তার জন্য সাময়িকভাবে হস্তমৈথুন বৈধ। যেহেতু এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, তাই রোযার মাধ্যমে যৌনতাকে দমন করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন  হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করার সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, এর দ্বারা চোখ নিচে থাকবে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত হবে। আর যে বিবাহ করার সামর্থ রাখে না, সে যেন সিয়াম বা রোজা রাখে। কারণ, সিয়াম বা রোজা তার কুপ্রবৃত্তিকে দমন করবে। (বুখারী শরীফঃ হাদীস নং ৫০৬৬)  সুতরাং আমাদেরকে প্রবাস জীবনেও এমনতর একটি পাপকাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং নিজের যৌন শক্তিকে হেফাজত করার স্বার্থে রাসূলের বাতানো পথে অর্থাৎ সিয়াম সাধনার পথে এগিয়ে আসা কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন 

প্রশ্নোত্তর

জুন 2012

প্রম্ন: বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোতে এবং সমাজের অধিকাংশ মানুষ ধুমপানে অভ্যস্ত। ধুমপায়ীদের অনেকে কুরআন তেলাওয়াত করেন এবং নামাযও পড়েন। তাদের নামায কালাম, ঈমানের ভবিষ্যত কি? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধুমপানের বিধি-বিধান জানতে চাই। আবু যুবায়ের

উত্তর: ধুমপান একটি অপরাধ (হারাম): কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে আমরা সকলে জানি ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কথাটা অনেকে সেচ্ছায় বলেন অনেকে বলেন বাধ্য হয়ে। যাই হোক ধুমপানের ক্ষতির তোলনায় শ্লোগানতটা খুবই হালকা। কারণ ধুমপান শুধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, মস্তিস্কের জন্য ক্ষতিকর, আত্মার জন্য ক্ষতিকর, স্বভাব চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশি সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমার কাছে এর চাইতে বড় ক্ষতির দিক হল ধুমপানের মাধ্যমে ইসলামের নীতি ও আদর্শ লঙ্ঘন। 

আমাদের দেশের অনেক ধর্মপ্রান মুসলমানদেরকে দেখা যায় ধুমপান করতে। মাথায় টুপি ও গালে দাড়ি আছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কিন্তু নামাজ শেষে আবার ধুমপানও করে। তাদের যদি এ অবস্থা হয় তাহলে বেনামাজি ও যুবকদের কি অবস্থা চিন্তা করে বলা মুশকিল। এ সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ধর্মীয় নেতাদের এবং যুবকদের যখন আপনি বলবেন যে ধুমপান জায়েয নয়, তখন তারা তা মানতে চাননা। তারা তখন অনেক যুক্তি দেখায়। তারা বলেন: আল-কুরআনে তো বলা হয়নি ‘তোমরা ধুমপান করোনা।’ হাদীসেও কোথাও নেই যে ‘ধুমপান করা যাবেনা’, তাহলে ধুমপান ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ হল কিভাবে? এ প্রশ্নটির উওর দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- “তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দেন ভাল ও উওম বস্তু আর হারাম করে দেন খারাপ ও ক্ষতিকর বস্তু।”(আল-আরাফ: ১৫৭)

এ আয়াতের ভিত্তিতে এমন অনেক জিনিস আছে যা হারাম হয়েছে অথচ তা কুরআনে ও হাদীসে নাম ধরে বলা হয়নি। যেমন-আমরা সাপ খাইনা, কেন খাইনা? কুরআনে ও হাদীসে কি কোথাও আছে যে তোমরা সাপ খেওনা? নেই ঠিকই, কিন্তু উপরের আয়াতের ভিত্তিতে তা হারাম হয়েগেছে। কেননা তা ক্ষতিকর ও খারাপ। ধুমপান ক্ষতিকর ও খারাপ। এ ব্যাপারে দুনিয়ার সুস্থ বিবেক সম্পন্ন সকল মানুষ একমত। কোন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী দ্বি-মত পোষণ করেননি। তারপরেও যদি কেউ বলেন, ধুমপান শরীয়তের নিষিদ্ধ বস্তুর মধ্যে পরেনা তাহলে তাকে ঐ ডায়াবেটিস রোগীর সঙ্গে তুলনা করা যায় যিনি ডাক্তারের নির্দেষে চিনি ত্যাগ করল ঠিকই কিন্তু রসগোল্লা, চমচম, সন্দেশ সবই খেলেন আর বললেন কই ডাক্তার তো এগুলো নিষেধ করেননি!

কুরআনের আলোকে ধুমপান:

 ১. আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

“তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দেন ভাল ও উওম বস্তু আর হারাম করে দেন খারাপ ও ক্ষতিকর নোংরা (খাবাইস) বস্তু।” (আল-আরাফ: ১৫৭) আর ধুমপান নিশ্চই খাবাইস এর অন্তর্ভূক্ত, তাই তা পান করা বৈধ (হালাল) নয়। (একদা আমাদের অফিসে আমার পরিচিত একজন লোক ধুমপান করে এসেছে; তার সঙ্গে এমন বিশ্রি গন্ধ যে, সবাই তার দিকে তাকিয়ে রইলো। অথচ আমাদের অফিস ধুমপান মুক্ত এলাকা, এখানকার লোক লোক ধুমপান করেন না। তাকে বললাম, ভাই ধুপমান করা হারাম, আপনি বিষয়টি মানলে তো ভাল কথা। যদি না মানেন, তবে আমাদের অফিসে ধুমপান করে কখনোই আসবেন না।)

২. আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- “তোমরা নিজেদের জীবন ধ্বংসের সম্মুখীন করোনা।” (সূরা বাকারা: ১৯৫)

এ আয়াতের দাবিতেও ধুমপান নিষেধ। কেননা ধুমপানের কারণে অনেক জীবন বিধংসী রোগ ব্যাধী হয়ে থাকে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মদ ও জুয়া হারাম করতে গিয়ে ইরশাদ করেন-

৩. “তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন, উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর তার মধ্যে মানুষের উপকারিতাও আছে। তবে এগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে বড়।” (বাকারা: ২১৯)

আল্লাহ তাআলার এ বাণী দ্বারা বুঝে আসে মদ জুয়ার মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও তা হারাম করেছেন। তাহলে ধুমপান তো মদ জুয়ার চেয়েও জঘন্য। কারণ তাতে কোন ধরনের উপকার নেই। বরং ১০০ ভাগই ক্ষতি।

৪. আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামিদের খাবারের বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ করেন- “এটা তাদের পুষ্টিও যোগাবেনা ও ক্ষুধা নিবারণ করবে না।” (আল-গাশিয়াহ: ০৭)

ধুমপানের মধ্যে এ বৈশিষ্টই রয়েছে যে তা পান কারীর পুষ্টিও যোগায় না, ক্ষুধাও নিবারণ করেনা। ধুমপানের তুলনা জাহান্নামের খাবারের সাথেই তুলনা করা যায়।

৫. আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- “তোমরা অপচয় কর না। অপচয়কারিরা শয়তানের ভাই।” (আল-ইসরা: ২৭)

ধুমপান একটি অপচয়। অনেক এমন অপচয় আছে যাতে মানুষের লাভ-ক্ষতি কিছুই নেই। এগুলো সকলের কাছে অন্যায় ও সর্বসম্মতভাবে তা অপচয় বলে গণ্য। কিন্তু ধুমপান এমন একটি অপচয় যাতে মানুষের কোন লাভ নেই বরং ক্ষতিই বেশি।

হাদীসের আলোকে ধুমপান:

১.    রাসূলে করীম (সা:) বলেন:- “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের তিনটা বিযয় ঘৃণা করেন। ১) ভিত্তিহীন ও সনদ-সূত্রবিহীন কথা-বার্তা। ২) অধিকহারে প্রশ্ন করা। ৩) সম্পদ নষ্ট করা।” (বুখারী ও মুসলিম) ধুমপানকারী ধুমপান করে সম্পদ নষ্ট করে তাতে কারো কোন দ্বি-মত নেই।

২.    রাসূলে করীম (সা:) বলেন:- “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।” (বুখারী) ধুমপানকারী তার ধুমপানের দ্বারা পরিবার-পরিজন, সহযাত্রী, বন্ধু-বান্ধব ও আশে পাশের লোকজনকে কষ্ট দিয়ে থাকে। অনেকে নীরবে কষ্ট সহ্য করে মনে মনে ধুমপানকারীকে অভিশাপ দেয়। আবার দু’একজন প্রতিবাদ করে বিব্রতকর অবস্থায় পরে যান। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত  যে ধুমপানকারীর প্রতিবেশী শারীরিকভাবে সমান ক্ষতিগ্রস্থ হন যতটা ধুমপানকারীর নিজের হয়ে থাকে।

৩.    রাসূলে করীম (সা:) বলেন:- “হালাল স্পষ্ট ও হারাম স্পষ্ট। এ দুইয়ের মাঝে আছে সন্দেহজনক বিষয়াবলী। (তা হালাল না হারাম) অনেক মানুষই জানেনা। যে ব্যক্তি এ সন্দেহজনক বিষয়াবলী পরিহার করল, সে তার উর্ম ও স্বাস্থ্য রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি এ সন্দেহজনক বিষয়াবলীতে লিপ্ত হল সে প্রকারান্তরে হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে গেল। (বুখারী ও মুসলিম)

তাই যারা ইসলামের দৃষ্টিতে ধুমপান নিষিদ্ধ হওয়ার কোন প্রমাণ পাচ্ছেন না তাদের কমপক্ষে এ হাদীসটির দিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নবী করীম (সা:) এরশাদ করেন:- “যে সকল কথা ও কাজ মানুষের কোন উপকারে আসেনা, তা পরিহার করা তার ইসলামের সৌন্দর্য।” (মুসলিম) আমরা সকলেই স্বীকার করি যে ধুমপান কোন উপকারে আসেনা বরং ক্ষতিই করে।

বাস্তবতার আলোকে ধুমপান:

 কোন পাক ঘরে যদি জানালার কাচ থাকে অথবা বাল্ব থাকে তাহলে দেখা যায় ধোয়ার কারণে তাতে ধীরে ধীরে কালো আবরন পরে। এমনই ভাবে ধুমপানকারীর দাতে, মুখে ও ফুসফুসে কালো আবরণ তৈরি হয়। কাচের আবরণ পরিষ্কার করা গেলেও ফুসফুসের কালিমা পরিষ্কার করা যায়না। ফলে তাকে অনেক রোগ-ব্যাধীর স্বীকার হতে হয়। একজন অধুমপায়ী ব্যক্তির চেয়ে একজন ধুমপয়ী বেশি উগ্র মেজাজের হয়ে থাকেন। সমাজে যারা বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়ায় তাদের ৯৮% ধুমপান করে থাকে। যারা মাদক দ্রব্য সেবন করে তাদের ৯৫% প্রথমে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়েছে তারপর মাদক সেবন আরম্ভ করেছে। এমনকি ধুমপায়ী মায়ের সন্তান উগ্র স্বভাবের হয়ে থাকে। (সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব ১৫-১২-২০০০ ইং)

সম্প্রতি উইনকনসিন বিশ্ব বিদ্যালয়ে ৩৭৫০ জন লোকের উপর এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে আধুমপায়ীএর চেয়ে ধুমপায়ীদের শ্রবণশক্তি কমার সম্ভাবনা শতকরা ৭০ ভাগ বেশি থাকে। গবেষণা করে আরো দেখেছেন যে একজন ধুমপায়ীর ধুমপান করার সময়ে কোন অধুমপায়ী পাশে থাকলে তারো একই সমস্যা হতে পারে। (সূত্র: সাপ্তাহিক আরাফাত বর্ষ ৪৫ সংখ্যা ১, ১৮ই আগষ্ট ২০০৩) তাই আসুন সকলে মিলে আমরা আমাদের সমাজকে ধুমপান মুক্ত করার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন: মুহতারাম! আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। কেমন আছেন?  আপনাদের  কাছে  আমার  ১টা প্রশ্ন  আছে। তা  হলো. মেয়েদের  পর্দার  আড়ালে  থাকার  নিয়ম,  কিন্তু  তাদের  যখন  বিয়ে দেওয়া  হয়  তখন সেই  মেয়েকে ছেলের পক্ষের লোকেরা  পা থেকে  মাথা  পর্যন্ত  দেখে  পরখ  করে  নেয়। এটা  হাদীসের  দৃষ্টিতে কি  ঠিক  তা  যদি একটু জানাতেন তাহলে খুশি হতাম।  আর মাসিক আল-হুদা কোথায় পাব জানাবেন। জিল্লুর মালিয়া কুয়েত

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ। আপনার প্রশ্নে উত্তর সংক্ষেপে নি¤œরূপ: ইসলামের দৃষ্টিতে পাত্রী দেখার ব্যাপারে রাসূল (সা.) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে : জাবের ইবন আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, অতঃপর তার পক্ষে যদি ওই নারীর এতটুকু সৌন্দর্য দেখা সম্ভব হয়, যা তাকে মুগ্ধ করে এবং মেয়েটিকে (বিবাহ করতে) উদ্বুদ্ধ করে, সে যেন তা দেখে নেয়।’ 

অপর এক হাদীসে রয়েছে, আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জানাল যে সে একজন আনসারী মেয়েকে বিয়ে করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি তাকে দেখেছো?’ সে বললো, না। তিনি বললেন, যাও, তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও। কারণ আনসারীদের চোখে (সমস্যা) কিছু একটা রয়েছে।’ ইমাম নববী রহ. বলেন, ‘এ হাদীস থেকে জানা যায়, যাকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক তাকে দেখে নেয়া মুস্তাহাব।’

 

প্রশ্ন: আপন ভাগনীর মেয়েকে (নাতনী) বিয়ে করা শরীয়ত মতে জায়েয আছে কি-না? জানতে চাই। আমাদের এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, যদি বিয়ে হারাম হয় তাহলে, তারা যে ঘর সংসার করছে, এটা কি যেনার অন্তর্ভুক্ত নয়? তাদের ঘরে সন্তান হলে, সেই সন্তানটির কি বৈধ স্বীকৃতি থাকবে? আমার উত্তরটি হ্যাঁ বা না বলে জানাবেন। যদি না হয় তাহলে তাদের করণীয় কি? তাদের ‘সম্পর্ক’ কি বিচ্ছিন্ন করতে হবে? মুহাম্মদ নয়ন মিয়া, হাসাবিয়া :

উত্তর: আপন ভাগনীর মেয়েকে বিয়ে করা জায়েয নাই। আল্লাহ বলেন; ভায়ের মেয়ে এবং বোনের মেয়েকে বিয়েকে করা হারাম করা হয়েছে। এভাবে তাদের ধরাবাহিকতা যত নিচে যাবে তারাও এই হারামের অন্তর্ভুক্ত। আপনার এলাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা সম্পূর্ণ শরীয়ত পরিপন্থি হয়েছে, এক্ষুণি তাদের বিয়ে ভেঙ্গে দিতে। তাদের ঘর সংসার করা সম্পূর্ণ অবৈধ, যেনার আওতায় পড়বে। তাদের ঘরে কোন সন্তান হলে সে বৈধতার স্বীকৃতি পাবে না। কারণ তাদের বিয়ে সকল ইমামের মতে অবৈধ ছিল। সুতরাং অবৈধ বিয়ের মাধ্যমে সন্তান হলে সেই সন্তানের কোন বৈধ স্বীকৃতি পায় না। সূত্র মারকাজুল ফাতাওয়া: ২৭৫৩৬

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

শ্রদ্ধেয় সম্পাদক সাহেব! প্রথমে আমার সালাম নিবেন “আচ্ছালামু আলাইকুম” আশা করি আল-হুদা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো আছেন। আমার নিত্য দিনের কামনা তাই। আমার প্রশ্ন হলো:
ক। একজন মহিলা কয়জন পুরুষের সঙ্গে দেখা করতে ও কথা বলতে পারবে? ইসলামের দৃষ্টিতে অবগত করবেন।
খ। আমি বিয়ে করেছি ৭ বছর চলে, এটাই আমার প্রথম বিয়ে। কিন্তু যখনই আমার স্ত্রী গর্ভধারণ করে, অকাল গর্ভপাতে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় আমি যদি দ্বিতীয় বিয়ে করি, তাহলে কী প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে? বিষয়টি জানাবেন। আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ইসবেলিয়া, কুয়েত। Continue reading গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

আপনার জিজ্ঞসার জবাব

প্রশ্ন: মানুষ মারা গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের বিশেষ আয়োজন করা হয়ে থাকে। যেমন ব্যক্তির মৃত্যুর তিন দিনের দিন শুকনো খাবার চিরা-মুড়ি ফল-মূল ইত্যাদি পাড়া-প্রতিবেশিদের মাঝে বিতরণ করা হয়। আবার চল্লিশতম দিনে বিশাল আয়োজন করা হয়; সেখানে গরীব-দুঃখী, পথিক, সমাজের সর্বস্তরের লোককে দাওয়াত দেয়া হয়। এই বিষয়টিও কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানাবেন। Continue reading আপনার জিজ্ঞসার জবাব

প্রশ্নোত্তর

১/ প্রশ্নঃ কোন কোন দলের ভাইগণ বলেন যে, আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে নিজ প্রয়োজনে ১ টাকা ব্যায় করলে ৭ লক্ষ টাকা ব্যায় করার ছাওয়াব পাবে। ১ টি নেকী করলে ৪৯ কোটি নেকী পাবে এবং কারো জন্য অপেক্ষ করলে লায়লাতুল ক্বদরে হাজরে আসওয়াদকে সামনে রেখে ইবাদত করার ছাওয়াব পাবে ইত্যাদি। শরীয়তে উক্ত কথাগুলোর প্রমাণ আছে কি? জবাব দিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তরঃ প্রশ্নে উল্লেখিত ফযীলতের কথাগুলো ভিত্তিহীন। পবিত্র কুরআনে ও সহীহ হাদীসে এর কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে ভাল কাজের জন্য অবশ্যই নেকী রয়েছে। আল্লাহ তা‌আলা এরশাদ করেন; যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে , এর বিনিময়ে তার জন্য দশটি নেকী রয়েছে। (সূরা আন’আম: ১৬০) রাসূল (সাঃ) বলেন; আদম সন্তানের প্রত্যেক নেক আমলের দশগুণ হতে সাতশত গুণ ছাওয়াব প্রদান করা হয়। (বুখারী ও মুসলিম) তাছাড়া ৭ লক্ষ নেকী ও ৮৯ কোটি নেকীর প্রমাণ খুঁজে পাইনি। Continue reading প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নত্তোর

১/ প্রশ্নঃ একজন সচ্ছল ও সামর্থবান ব্যক্তির উপর কয়টি কুরবানী করা ওয়াজিব ?


উত্তরঃ সচ্ছল ও সামর্থবান পূর্ণবয়স্ক মুসলমানের উপর একটি কুরবানী করা ওয়াজিব। যদিও সে অধিক সম্পদের মালিক হোক না কেন? তবে যদি কেউ একাধিক কুরবানী করে তাহলে তা হবে নফল ছাওয়াব। Continue reading প্রশ্নত্তোর

প্রশ্নোত্তর

১/ প্রশ্নঃ কুরবানীর জন্য পূর্বে ক্রয় করে রাখা পশু সংসারের অভাবের কারণে বিক্রি করা যাবে কি? এবং পরবর্তীতে উক্ত মূল্যে বা অতিরিক্ত মূল্যে পশু ক্রয় করে কুরবানী করলে বৈধ হবে কি-না জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তরঃ পূর্বে ক্রয় করে রাখা কুরবানীর পশু পরিবারের নিতান্ত অভাবের কারণে বিক্রি করে খরচ করতে পারবে। কেননা পরিবারের খরচ বহন করা তার জন্য আবশ্যক। অতঃপর পরবর্তীতে সামর্থ হলে পশু কিনে কুরবানী করবে। (ইবনে মাযাহ)

Continue reading প্রশ্নোত্তর