চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে রোযার গুরুত্ব

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে রোযার গুরুত্ব
ডা. দেওয়ান আবদুর রহীম

ডায়াবেটিক ও সিয়াম
দেহের রক্তে চিনির পরিমাণ যদি স্বাভাবিকের বেশি দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকে তবে তাকে “ডায়াবেটিস” বলে। প্রাচীন ভারতের “মধুবেহ” আজকের দিনে ডায়াবেটিক রোগ বা বহুমূত্র রোগ নামে পরিচিত। স্বাভাবিক অভুক্ত বা উপবাস অবস্থায় ১০০মিলিমিটার রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ ৮০-১২০ মিলিগ্রাম (৫.৫ মিলিমূল্যের নিচে) এবং আহারের ২ঘন্টা পর ১৮০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত (৭.৫ মিলিমূল্যেল নীচে) হয়ে থাকে। কোর কারণে আমাদের শরীরের অগ্নাশয় (প্যাংক্রিয়াস) থেকে নির্গত “ইনসুলিন” নামক হরমোনের অভাব বা ইনসুলিনের স্বাভাবিক কাজ বিঘ্ন হলে আমরা সাধারণত: যে সকল খাদ্য খাই তার মধ্যে বিশেষ করে শর্করা জাতীয় খাবার যেমন-ভাত, রুটি, আলু, চিনি, মিষ্টি ইত্যাদি শরীরে কাজে না লাগাতে পারলে রক্তে চিনির মান বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত শর্করা বা চিনি প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়-এটাই ডায়াবেটিস রোগের মূল রহস্য। এটা এক প্রকার বিপদজনক রোগ যা বড়, ছোট, ধনী, গরীব, শহর বা গ্রামবাসী সবারই হতে পারে। ইহা সারাজীবনের রোগ, একবার কাউকে পেয়ে বসলে আর নিরাময় করা যায় না, তবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইংরেজীতে বলে Once a diabetic always a diabetic” অর্থাৎ এ রোগ যাকে ধরবে তা তার জীবনসঙ্গী হয়ে থাকবে। রোগী যদি উপযুক্ত চিকিৎসা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম ও উপদেশ মেনে চলে, তবেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং তিনি কর্মক্ষম হিসেবে সমাজের অন্য দশজনের মত স্বাভাবিক কাজ বা জীবন ধারণ করে যেতে পারবেন। সিয়ামের মাধ্যমে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খলা (Discipline) জীবন পরিচালনা এবং অতিরিক্ত নামাযের মাধ্যমে ব্যায়াম ইত্যাদি উপকারে আসবে।
মানবদেহের অগ্নাশয়ের বিটা কোষ থেকে উৎপন্ন ইনসুলিন নামক হরমোন রক্তে মিশে যায় এবং রক্তের শর্করা বা চিনিকে জীবকোষ প্রবেশ ও কার্যকরী করতে সাহায্য করে। শর্করা দেহের কাজে লাগাতে এই ইনসুলিনের ভূমিকাই প্রধান। শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের পর ইহা গ্লুকোজ আকারে পরিশোধিত হয় এবং পরক্ষণেই গ্লাইকুজেন হিসাবে লিভারে সঞ্চিত হতে থাকে। খাদ্যের গ্লুকোজ এবং দেহে ইনসুলিনের অভাবের ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য লিভারে সঞ্চিত গ্লাইকুজেন পুনরায় গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় ইনসুলিন সাহায্য করে। তাছাড়াও ইনসুলিন চর্বি ও প্রোটিন বিপাকে (মেটাবুলিজম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্ভাগ্যবশত: যারা ডায়াবেটিস রোগে ভোগেন তারা পরিমাণমত ইনসুলিন পান না বলেই তাদের রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। চিনি ও শর্করা দেহের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইনসুলিনের অভাবে শরীরে শর্করা কাজে লাগাতে পারে না বলে চর্বি ও প্রোটিন থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করে থাকে, তাই দেহের ওজন কমতে থাকে, দুর্বলতা ও ক্লান্তি প্রকাশ পায় এবং তৎসহ ডায়াবেটিসের অন্যান্য লক্ষণসমূহ দেখা দেয়, যেমন অত্যাধিক পিপাসা, অত্যাধিক প্রস্রাব, অত্যাধিক ক্ষুধা, চুখে ঝাপসা দেখা, নানা প্রকার চর্মরোগ, ক্ষত বা ঘা শুকাতে বিলম্ব হওয়া ইত্যাদি। ডায়াবেটিস কোন সংক্রামক ব্যাধি নয় এবং বেশি মিষ্টি খেলে এ রোগ হয় না বরং ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি জাতীয় যাবতীয় খাদ্য পরিহার করতে হয়। এক মাস সিয়ামের ফলে দেহের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মত অগ্নাশয় ও পূর্ণ বিশ্রাম নেয়া এবং দিনের বেলায় যেহেতু উপবাস থাকতে হয় তাই গড়ে দৈনিক ১৫ঘন্টা অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নির্গত কম হতে হয় বিষয় উহা বিশেষ উপকারী লাভ করে।
যে সকল কারণে ডায়াবেটিস রোগটি হতে পারে তা হলো (১) বংশগত: সাধারণত: পিতা-মাতার ডায়াবেটিস থাকলে ছেলেমেয়েদের এটা হবার সম্ভাবনা থাকে। তবে পিতামাতার এ রোগটি না থাকলেও ছেলেমেয়েদের তা হতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর এ রোগটি থাকলে পিতামাতা বাদ দিয়ে নাতি-নাতনীদের মধ্যে এটা দেখা দিতে পারে (২) মেদবহুল দেহ বা স্থুলকায়ত্ব : বাঞ্ছিত ওজনের চেয়ে যাদের শারীরিক ওজন ১০% বেশী তাদের ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা বেশি। জসটিন ও তার সঙ্গীর এক গবেষণায় দেখতে পেলেন যে ৬০% ডায়াবেটিস রোগীর ওজন তাদের বাঞ্ছিত ওজনের চেয়ে ২০% বেশী। (৩) বয়স: যাদের বয়স ৩০ বৎসরের নীচে তাদের ডায়াবেটিস কম দেখা যায়। জাস্টন ও তার সঙ্গীরা দেখতে পেলেন যে যাদের বয়স ৩০-৬০ এর মধ্যে এবং ওজন বেশি তাদের ডায়াবেটিস বেশি। (৪) সংক্রামক ব্যাধি: যেমন মাম্পস, জার্মান-হাম, ইনফেকশাস মননিউক্লিওয়সিস ভাইরাস রোগ ইত্যাদি। (৫) শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম চর্চা না করা (৬) আম খাবার (৭) আঘাত পেলে (৮) অত্যাধিক চিন্তা-ভাবনা বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকা (৯) দীর্ঘদিন করটিসন জাতীয় ঔষুধ সেবন (১০) গর্ভধারণ অবস্থা ইত্যাদি। তবে মনে রাখতে হবে যে অজানা কারণেও এই রোগটি হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে নানাবিধ জটিল উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। যেমন- পক্ষাঘাত, হৃদরোগ, যক্ষা, পায়ে পচনশীল ক্ষত, কিডনী রোগ খাবারের পরে ও রাত্রে পাতলা পায়খানা, মাড়ির প্রদাহ, চুলকানি, ফাড়া, পাচড়া, উরুর পেশীতে খিল, পুরুষত্বহীনতা, মহিলাদের বেলায় বেশি ওজনের শিশু জন্ম, মৃত শিশু জন্ম ইত্যাদি হতে পারে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে করতে হবে। ডাবায়বেটিস রোগীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে একাধারে একমাস সিয়াম পালন ও বছরে অন্যান্য সময়ের অতিরিক্ত রোযার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। রোগীর খাবার পরিমাণ পরিমিত ও যথাযথ হতে হবে যাতে তার বাঞ্ছিত ওজন বজায় থাকে এবং সে জন্য খাদ্যে পরিমিত ক্যালরী, আমিষ ও চর্বি থাকা আবশ্যক। কাজের বিভিন্নতার উপর ক্যালরীর মান ঠিক করতে হবে। যেমন-হালকা শ্রমের জন্য ৩০ ক্যালরী প্রতি এক কেজি বাঞ্ছিত ওজনের জন্য, মাঝারী শ্রমের জন্য ৩৫ ক্যালরী প্রতি এক কেজি বাঞ্ছিত ওজনের জন্য এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য ৪০ ক্যালরী প্রতি এক কেজি বাঞ্ছিত ওজনের জন্য হিসাব করতে হবে।
আবার কম ওজনের বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগী হলে তার বাঞ্ছিত ওজন রাখার জন্য দৈনিক খাদ্য তালিকায় ৩০০-৫০০ ক্যালরী প্রয়োজনীয় ক্যালরী হতে বাদ দিতে হবে। অত্যাধিক ওজন বেশি হলে আস্তে আস্তে ক্যালরী কমিয়ে এক হাজার ক্যালরী খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য তালিকা প্রণয়নের সময় যাতে করে আঁশ জাতীয় খাদ্য বেশি পরিমাণ থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা আঁশ জাতীয় খাদ্য ইনসুলিনের মাত্রা কম লাগায় ও রক্তের চিনির সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করে। বেশির ভাগ ডায়াবেটিস এর কারণ যেহেতু ওজন আধিক্য সে জন্য খাদ্যের আঁশ বাড়তি ওজন হ্রাস করতে ও রক্তের কলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করবে। খাদ্যের আঁশের কোন পুষ্টিমান নেই। দেখা গেছে মোট ক্যালরী ৭৫% পর্যন্ত উচ্চ আঁশ যুক্ত মিশ্র শর্করা খাদ্য খাওয়ালে রোগীর ইনসুলিন মাত্রা কম লাগে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই লাগে না।
ডায়াবেটিস রোগীর সুষম খাদ্য পরিকল্পনায় সব ধরনের খাবার যেমন-শস্য জাতীয়, মাছ, মাংস, ডিম, শাকসব্জি, ফল, তৈলজাতীয় ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ঔষুধ সেবনকারী ও ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগীদের জন্য প্রতিদিন একই পরিমাপের খাবার খাওয়া প্রয়োজন। খাদ্যের পরিমানের তারতম্যের সাথে রক্তের গ্লুকোজের তারতম্য ঘটে বিধায় কম খাদ্য গ্রহণের ফলে “হাইপু গ্লাইসেসিয়া”র লক্ষণ দেখা দিয়ে মারাত্মক জটিল অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। পক্ষান্তরে অধিক খাবার গ্রহণের ফলে রক্তের গ্লুকোজ লেভেল বেড়ে যেয়ে অনুরূপ মারাত্মক জটিল অবস্থায় রোগী যেতে পারে। যারা ঔষুধ বা ইনসুলিন নেন তাদের সাথে সর্বদা গ্লুকোজ পাউডার রাখা বাঞ্ছনীয়। নিম্নে উদাহরণ স্বরূপ ১ জন ডায়াবেটিস রোগীর বাঞ্ছিত ওজন অনুসারে ২০০০ ক্যালরীর একটি খাদ্য তালিকা রমযান মাসের জন্য প্রণয়ন করা হলো- তবে নিজেদের সুবিধামত এটা পরিবর্তন করে খাদ্য সামগ্রী যোগ বিযোগ করতে পারেন, তবে তা ক্যালরী হিসেবে পরিবর্তন করতে হবে যাতে পরিমিত ক্যালরীর বেশি না হয়। একটা কথা বলে রাখা ভাল সেটা হচ্ছে যাদের রক্তে কলেস্টেরল বেশী তারা দৈনিক ১৫০০ ক্যালরীর বেশী খাবার খাবেন না এবং ডিমও খাবেন না।

রোযাদাররে কতপিয় ভুল-ত্রুটি

মূল: আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল- জিবরীন
সমস্ত প্রশংসা সারা বিশ্বের মালিক ও পালনকর্তার জন্য এবং দরূদ ও ছালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ , তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীগণের প্রতি।
১। ফরজ রোযার জন্য রাত বা ফজরের পূর্বে নিয়্যত না করা, যদিওপূর্ণ রমযান মাসের জন্য প্রথমে একবার নিয়্যত করাই যথেষ্ট।
২। ফজরের আযানের সময় অথবা আযানের পরে পানাহার করা। যদিও কোন-কোন মুয়াযযিন কখনও সতর্কতামূলক ভাবে কিছু সময় পূর্বেই আযান দিয়ে থাকেন।
৩। ফজরের এক বা দু’ঘন্টা পূর্বেই সাহরী খাওয়া। অথচ ইফতার দ্রুত এবং সাহরী দেরীতে করার বিষয়ে হাদীসে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
৪। এ মাসে অধিকাংশ মানুষ খাদ্য ও পানীয়তে অপচয় এবং বাড়াবাড়ি করে থাকে। অথচ রোযাকে ক্ষুধা অনুভব করার উদ্দেশ্যে শরীয়ত সম্মত করা হয়েছে, এ অপব্যয় সে মহান উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
৫। জামাআতের সাথে নামায আদায়ের বিষয়ে অবহেলা ও শিথিলতা। যেমন: জোহর ও আসরের নামাযে অলসতা, ঘুমের ওজর বা কৈফিয়াতে জামাআতে অনুপস্থিত থাকা অথবা অযথা কোন মূল্যহীন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখে জামাআতে হাজির না হওয়া।
৬। রোযার দিন ও রাতে জিহবাকে মিথ্যা বলা, প্রতারণা, গীবত, পরনিন্দা এবং অপবাদ ও চুগলখুরী করা থেকে হেফাজত বা সংরক্ষণ না করা।
৭। মূল্যবান সময়কে খেলা-ধুলায়, আমোদ-প্রমোদে, তামাশা ও কৌতুকে এবং ফিল্ম, চলচিত্র এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখে অপচয় করা। এবং হেঁয়ালিপনায়, তর্ক ও বাদানুবাদে এবং রাস্তায়-রাস্তায় অনর্থক ঘুরে বেড়িয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করা।
৮। রামাযান মাসে বিভিন্ন আমলকে বৃদ্ধির বিষয়ে অবহেলা করা, যেমনঃ দু‘আ, যিকির-আযকার এবং কুরআন পাঠ ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাযে শৈথিল্য ও অবহেলা করা।
৯। জামাআতের সাথে তারাবীর নামায ত্যাগ করা, অথচ এ বিষয়ে হাদীসে যথেষ্ট উৎসাহ দেয়া হয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত কিয়ামুল লাইলের (তারাবীর) নামায আদায় করে তার জন্য সমস্ত রাতের ইবাদত সম্পাদন করার সওয়াব লিখে দেয়া হয়।’
১০। লক্ষ্য করা যায় যে, রমযান মাসের প্রথমে নামাজী ও কুরআন তেলাওয়াতকারীর সংখ্যা অনেক থাকে, এরপর মাসের শেষে অপারগতা ও এর কমতি লক্ষ্য করা যায়। অথচ রমযানের প্রথম দশক থেকে শেষ দশকের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে ।
১১। রমযানের শেষ দশকের কিয়ামুল লাইল ছেড়ে দেয়া, যা শেষ দশকের বিশেষ বৈশিষ্ট। ‘রমযানের শেষ দশক উপস্থিত হলে নবী কারীম  নিজে রাত্রি জাগতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরকেও রাত্রি জাগাতেন এবং নিজের লুঙ্গি শক্ত করে বেঁধে নতুনভাবে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন ।”
১২। রোযার মাসে রাত্রি জাগরণ করা, অতঃপর ফজরের নামায না পড়ে ঘুমিয়ে যাওয়া। কেউ-কেউ সকালের সূর্যকিরণের পর ছাড়া নামায পড়েন না। এটা ফরজ নামাযে অবহেলা ও শৈথিল্যতার শামিল।
১৩। ধন-সম্পদে কার্পণ্যতা করা এবং রমযান মাসে অভাবী ও দরিদ্রদের সংখ্যা অধিক থাকার পরেও তাদেরকে দান-খয়রাত করা থেকে বিরত থাকা। অথচ এই সমস্ত বরকতময় সময়ে দান-খয়রাত করার সওয়াব বহুগুণ থাকা সত্বেও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করে না।
১৪। অনেকে মালের যাকাত আদায় করার ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে অমনোযোগী ও বেখেয়ালী। অথচ যাকাত হলো নামায ও রোযার সমমর্যাদা সম্পন্ন। যদিও যাকাত আদায় করা শুধু রমযানের সাথেই নির্দিষ্ট নয়।
১৫। রোযা থাকা অবস্থায় দু’আ করা থেকে গাফিল বা অন্যমনস্ক হওয়া। বিশেষ করে যখন খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে ইফতার করার সময়। অথচ উক্ত বিষয়ে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রোযাদারের ইফতারের সময়ের দু‘আ রদ করা হয় না।
১৬। রমযান মাসে ই’তেকাফ করা সুন্নাত এর অবহেলা করা, বিশেষ করে শেষের দশকে। আর শেষ দশকের ফযীলত কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
১৭। অনেক মহিলা সৌন্দর্য, সুগন্ধযুক্ত এবং সুবাসিত পোশাক পরিচ্ছদে মসজিদে হাজির হয়ে থাকেন। অথচ এ সমস্ত ফেতনা বা অন্যকে প্রলুব্ধ ও আকৃষ্ট করার শামিল।
১৮। রমযানের রাতে মহিলাদের সহজে মার্কেটে বের হওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে দেয়া। অধিকাংশ সময় বিনা প্রয়োজনে বিদেশী ড্রাইভারের সাথে এবং সঙ্গে কোন মাহরাম ছাড়া বাইরে বের হওয়া।
১৯। ঈদের রাতে এবং ঈদের দিন সকালে নামাযের পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর বলা পরিত্যাগ করা। এবং একই ভাবে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে তাকবীর বলা পরিহার করা। অথচ পবিত্র কুরআনে এ দিনগুলিতে তাকবীর বলার নির্দেশ রয়েছে।
২০। যাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেরী করা। অথচ সুন্নাত হল যে, ঈদের দিন নামাযের পূর্বেই তা আদায় করা। ঈদের এক অথবা দু’দিন পূর্বেও যাকাতুল ফিতর আদায় করা জায়েয আছে।
পরিশেষে আমাদের প্রিয়নবী, তাঁর পরিবার ও পরিজন এবং তাঁর সাহাবাগণের প্রতি দরূদ ও ছালাম বর্ষিত হোক। আমীন \