শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের অধিকার প্রদানে রাসূল (সাঃ)

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী রাসূল (সাঃ) শ্রমের মর্যাদা দানের এক বিরল নমুনা স্থাপন করেছেন। রাসূল (সাঃ) ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ছোট বড় সহজসাধ্য, কষ্টসাধ্য, নিম্ন ও উচ্চমানের অনেক কাজই নির্দিধায় নিঃসংকোচে সম্পাদন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিজাত্য ও সম্মান মানব সেবা ও কর্মময় জীবনেই নিহিত।
শ্রমের প্রতি উৎসাহ দান: শ্রমের প্রতি উৎসাহ দানে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজে রোজগার করে খায় মহান আল্লাহ তার প্রতি প্রসন্ন। শ্রমের গুরুত্ব বর্ণনা করে রাসূল (সাঃ) বলেছেন; হালাল উপার্জন নামাজ-রোযা প্রভৃতি ফরজসমূহের পরবর্তী অন্যতম ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, যখন নামাজ শেষ হয়ে যায় তখন জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং মহান আল্লাহর রিযিক অন্বেষণ কর। এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমুয়া ১০)

একবার একটি লোক রাসূল (সাঃ) -এর কাছে ভিক্ষা চাইলে রাসূল (সাঃ) তাকে ভিক্ষার পরিবর্তে শ্রমের প্রতি উৎসাহিত করলেন। সে বলল আমি কী শ্রম করব? আমার শ্রমের কোন অবলম্বন নেই। তখন রাসূল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ঘরে কি কিছুই নেই? সে বলল মাত্র একটি কম্বল আছে। রাসূল (সাঃ) তাই আনালেন এবং তার সেই কম্বলটি বিক্রয় করতঃ তার কিছু অর্থ দিয়ে তখনকার জন্য কিছু আহার্য ক্রয় করে দিলেন আর বাদ বাকি অর্থ দিয়ে একটি কুঠার কিনে দিয়ে বললেন, এ দিয়ে বন থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করো। রাসূল (সাঃ) ’র কথা মোতাবেক কাজ করে শ্রমের মাধ্যমে লোকটি স্বচ্ছলতার অধিকারী হয়ে গেল।
রাসূল (সাঃ) আরো বলেছেন, নিজের অর্জিত আয়ের দ্বারা সাহায্য গ্রহণই সবচাইতে পবিত্র আহার্য।
এ সকল অমীয় বাণী সম্ভার ও ঘটনা প্রবাহ দ্বারা শ্রমের মূল্যায়ন ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এক অদক্ষ স্পৃহা আমরা লাভ করতে পারি। ইসলামের অলসতার কোন স্থান নেই। রাসূল (সাঃ) ’র জীবন ছিল যেমন বৈপ্লবিক তেমনি সাধনা মন্ডিত ও কর্মময়। রাসূল (সাঃ) রিসালাতের মহান দায়িত্ব পালন ও ইবাদত বন্দেগীর সঙ্গে সঙ্গে শ্রম সাধনা ও করেছেন একান্তভাবে।
বাইহাকী শরীফে উল্লেখ আছে রাসূল (সাঃ) শ্রমের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করতে যেয়ে বলেছেন: শ্রমজীবির উপার্জনই উৎকৃষ্টতর, তা যদি সৎ ও বৈধ উপার্জন হয়। কোন কোন সময় সাহাবীগণ রাসূল (সাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? জওয়াবে রাসূল (সাঃ) বললেন স্বহস্তে উপার্জিত জীবিকা। রাসূল (সাঃ) হযরত দাউদ (আঃ) এর উপমা দ্বারা সাহাবীগণকে শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার দীক্ষা দিতে যেয়ে বলেন, যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ- আল্লাহর রাসূল হযরত দাউদ (আঃ) নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ক্লান্ত শ্রমিজীবি শ্রমিককে আল্লাহপাক তার কর্মতৎপরতার দরুন সৃষ্ট ক্লান্তির কারণে মহান আল্লাহ পাক তার পাপ রাশিও ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন। তিবরানী শরীফে এ ব্যাপারে উদ্ধৃত বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি শ্রম জনিত কারণে ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যা যাপন করে সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় সন্ধ্যা অতিবাহিত করে। ইমাম বুখারী (রহঃ) উল্লেখ করেন শ্রমের মূল্যায়ন করতে যেয়ে রাসূল করীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ রশি নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যাবে। অতঃপর লাকড়ি সংগ্রহ করে তার বোঝা পিঠে বহন করে তা বাজারে বিক্রয় করবে। এভাবে আল্লাহপাক তার সকল প্রয়োজন মিটিয়ে দিবেন। দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা ও তিরস্কার পাওয়ার চেয়ে এটা অনেক ভাল।
শ্রমজীবি রাসূল (সাঃ): শ্রম একটি পবিত্র ব্রত। তাই শ্রমিক সমাজে সম্মানের পাত্র সমাজে তাদের যথার্থ স্বীকৃতি ও মর্যাদা থাকা বাঞ্ছনীয়। পৃথিবীর সকল কল্যাণ মূলত কাজ তা ছোট হোক বা বড় হোক শ্রমিকের ঐকান্তিক শ্রমের বিনিময়ই সম্পাদিত হয়ে থাকে। রাসূল (সাঃ) বঞ্চিত শ্রমিকদের সম্মান দিয়েছেন। তাদেরকে সবার উর্ধ্বে স্থান দিতে প্রয়াস পেয়েছেন। একান্তভাবে আমাদের প্রিয় রাসূল (সাঃ) নিজেও ছিলেন একজন শ্রমজীবি ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন পর্যন্ত তিনি স্বশ্রম নিয়োগের মাধ্যমে মুনাফার অংশীদারের ভিত্তিতে হযরত খাদীজা (রাঃ) এর ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) উল্লেখ করেন, একবার রাসূল (সাঃ) সাহাবীগণের উপস্থিতিতে নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে বললেন পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রাসূল পাঠাননি। যিনি বকরী চারণ করেননি। এতদ শ্রবণে বিস্মিত হয়ে সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কি বকরী চারণ করেছেন। রাসূল (সাঃ) জবাবে বললেন, হ্যাঁ আমিও এক কিরাত বা দুই কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের বকরী চরিয়েছি। অন্যত্র বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) সকল রাসূলদের সরদার হয়েও নিজের জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে ব্যবসা বাণিজ্য ও করেছেন।

শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের অধিকার প্রদানে রাসূল (সাঃ)
আবদুল হালিম খান

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী রাসূল (সাঃ) শ্রমের মর্যাদা দানের এক বিরল নমুনা স্থাপন করেছেন। রাসূল (সাঃ) ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ছোট বড় সহজসাধ্য, কষ্টসাধ্য, নিম্ন ও উচ্চমানের অনেক কাজই নির্দিধায় নিঃসংকোচে সম্পাদন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিজাত্য ও সম্মান মানব সেবা ও কর্মময় জীবনেই নিহিত।
শ্রমের প্রতি উৎসাহ দান: শ্রমের প্রতি উৎসাহ দানে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজে রোজগার করে খায় মহান আল্লাহ তার প্রতি প্রসন্ন। শ্রমের গুরুত্ব বর্ণনা করে রাসূল (সাঃ) বলেছেন; হালাল উপার্জন নামাজ-রোযা প্রভৃতি ফরজসমূহের পরবর্তী অন্যতম ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, যখন নামাজ শেষ হয়ে যায় তখন জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং মহান আল্লাহর রিযিক অন্বেষণ কর। এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমুয়া ১০)

একবার একটি লোক রাসূল (সাঃ) -এর কাছে ভিক্ষা চাইলে রাসূল (সাঃ) তাকে ভিক্ষার পরিবর্তে শ্রমের প্রতি উৎসাহিত করলেন। সে বলল আমি কী শ্রম করব? আমার শ্রমের কোন অবলম্বন নেই। তখন রাসূল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ঘরে কি কিছুই নেই? সে বলল মাত্র একটি কম্বল আছে। রাসূল (সাঃ) তাই আনালেন এবং তার সেই কম্বলটি বিক্রয় করতঃ তার কিছু অর্থ দিয়ে তখনকার জন্য কিছু আহার্য ক্রয় করে দিলেন আর বাদ বাকি অর্থ দিয়ে একটি কুঠার কিনে দিয়ে বললেন, এ দিয়ে বন থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করো। রাসূল (সাঃ) ’র কথা মোতাবেক কাজ করে শ্রমের মাধ্যমে লোকটি স্বচ্ছলতার অধিকারী হয়ে গেল।
রাসূল (সাঃ) আরো বলেছেন, নিজের অর্জিত আয়ের দ্বারা সাহায্য গ্রহণই সবচাইতে পবিত্র আহার্য।
এ সকল অমীয় বাণী সম্ভার ও ঘটনা প্রবাহ দ্বারা শ্রমের মূল্যায়ন ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এক অদক্ষ স্পৃহা আমরা লাভ করতে পারি। ইসলামের অলসতার কোন স্থান নেই। রাসূল (সাঃ) ’র জীবন ছিল যেমন বৈপ্লবিক তেমনি সাধনা মন্ডিত ও কর্মময়। রাসূল (সাঃ) রিসালাতের মহান দায়িত্ব পালন ও ইবাদত বন্দেগীর সঙ্গে সঙ্গে শ্রম সাধনা ও করেছেন একান্তভাবে।
বাইহাকী শরীফে উল্লেখ আছে রাসূল (সাঃ) শ্রমের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করতে যেয়ে বলেছেন: শ্রমজীবির উপার্জনই উৎকৃষ্টতর, তা যদি সৎ ও বৈধ উপার্জন হয়। কোন কোন সময় সাহাবীগণ রাসূল (সাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? জওয়াবে রাসূল (সাঃ) বললেন স্বহস্তে উপার্জিত জীবিকা। রাসূল (সাঃ) হযরত দাউদ (আঃ) এর উপমা দ্বারা সাহাবীগণকে শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার দীক্ষা দিতে যেয়ে বলেন, যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ- আল্লাহর রাসূল হযরত দাউদ (আঃ) নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ক্লান্ত শ্রমিজীবি শ্রমিককে আল্লাহপাক তার কর্মতৎপরতার দরুন সৃষ্ট ক্লান্তির কারণে মহান আল্লাহ পাক তার পাপ রাশিও ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন। তিবরানী শরীফে এ ব্যাপারে উদ্ধৃত বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি শ্রম জনিত কারণে ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যা যাপন করে সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় সন্ধ্যা অতিবাহিত করে। ইমাম বুখারী (রহঃ) উল্লেখ করেন শ্রমের মূল্যায়ন করতে যেয়ে রাসূল করীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ রশি নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যাবে। অতঃপর লাকড়ি সংগ্রহ করে তার বোঝা পিঠে বহন করে তা বাজারে বিক্রয় করবে। এভাবে আল্লাহপাক তার সকল প্রয়োজন মিটিয়ে দিবেন। দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা ও তিরস্কার পাওয়ার চেয়ে এটা অনেক ভাল।
শ্রমজীবি রাসূল (সাঃ): শ্রম একটি পবিত্র ব্রত। তাই শ্রমিক সমাজে সম্মানের পাত্র সমাজে তাদের যথার্থ স্বীকৃতি ও মর্যাদা থাকা বাঞ্ছনীয়। পৃথিবীর সকল কল্যাণ মূলত কাজ তা ছোট হোক বা বড় হোক শ্রমিকের ঐকান্তিক শ্রমের বিনিময়ই সম্পাদিত হয়ে থাকে। রাসূল (সাঃ) বঞ্চিত শ্রমিকদের সম্মান দিয়েছেন। তাদেরকে সবার উর্ধ্বে স্থান দিতে প্রয়াস পেয়েছেন। একান্তভাবে আমাদের প্রিয় রাসূল (সাঃ) নিজেও ছিলেন একজন শ্রমজীবি ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন পর্যন্ত তিনি স্বশ্রম নিয়োগের মাধ্যমে মুনাফার অংশীদারের ভিত্তিতে হযরত খাদীজা (রাঃ) এর ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) উল্লেখ করেন, একবার রাসূল (সাঃ) সাহাবীগণের উপস্থিতিতে নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে বললেন পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রাসূল পাঠাননি। যিনি বকরী চারণ করেননি। এতদ শ্রবণে বিস্মিত হয়ে সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কি বকরী চারণ করেছেন। রাসূল (সাঃ) জবাবে বললেন, হ্যাঁ আমিও এক কিরাত বা দুই কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের বকরী চরিয়েছি। অন্যত্র বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) সকল রাসূলদের সরদার হয়েও নিজের জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে ব্যবসা বাণিজ্য ও করেছেন।

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

মনুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। পৃথিবীর সব সৃষ্টি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘোষণা হচ্ছে : তিনিই সেই মহান সত্ত্বা যিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের (ব্যবহারের) জন্য তৈরী করেছেন। (বাকারা ২৯)
আল্লাহ তা’আলা মানুষের জীবন বিধান হিসাবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করেছেন। যুগে যুগে নবী রাসুলগণ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আহবান করেছেন। অশান্তি থেকে মুক্তির পয়গাম প্রদান করেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসূল প্রদর্শিত এই জীবন বিধানের নামই ইসলাম।
ইসলাম একটি নির্ভূল ও পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। কেননা এর প্রবর্তক স্বয়ং আল্লাহ যিনি সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা, অতএব সৃষ্টিকর্তার রচিত জীবন বিধান নির্ভূল ও পূর্ণাঙ্গ হবে এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এই জীবন বিধান নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্থনীতি হচ্ছে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আল্লাহ তা’আলা কুরআনের যতবার সালাত কায়েমের নির্দেশ প্রদান করেছেন সাথে সাথে অর্থনীতির কথা এমনভাবে উচ্চারণ করেছেন, যাতে প্রমাণিত হয় অর্থনীতি ও এর চালিকা শক্তি ব্যবসা বাণিজ্য মানুষের জীবনের অপরিহার্য শাখা। যেমন কুরআনুল করীমে ৮২ বার এরশাদ হয়েছে তোমার সালাত কায়েম কর ও যাকাত প্রদান করো।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাই মানুষের জন্য অর্থনৈতিক বিধান নির্দেশ করেছেন। ব্যক্তি জীবনে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বনবী মুহাম্মদ  এমনবাবে উৎসাহিত করেছেন যে ভিক্ষাবৃত্তিকে তিনি নিন্দা করেছেন। উপার্জন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে ঃ হালাল রুজি অন্বেষন করা প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ (বায়হাকী) মহানবী  আরো বলেনে, যে ব্যক্তি হালাল রুজি দ্বারা তার পরিবার প্রতিপালনের চেষ্টায় থাকে, সে আল্লাহর পথে মুজাহিদের ন্যায়। জীবিকা অর্জনের জন্য পরিশ্রম একটি ইবাদত।
একদিন বিশ্বনবী (সাঃ) এর কাছে একজন আনছার এসে ভিক্ষা চাইল। তিনি বললেন, তোমার ঘরে কি কিছু নেই? লোকটি বলল, আমার একটি কম্বল আছে। তার এক অংশ পরিধান করি এবং এক অংশ শয়ন করি। নবী করীম (সাঃ) বললেন, দুটিই আমার নিকট নিয়ে আস। আনসারী লোকটি নির্দেশত তা নিয়ে এলো। রাসূল (সাঃ) তা হাতে নিয়ে বললেন, আমি এক দিরহামে তা কিনতে রাজি আছি। রাসূল (সাঃ) বললেন এক দিরহামের বেশি দিয়ে কেউ কিনবে কি? তিনি এভাবে তিনবার বলার পর এক সাহাবী বললেন আমি দুই দিরহামে কিনতে প্রস্তুত। রাসূল (সাঃ) দুই দিরহাম দিয়ে বললেন, এক দিরহামে কিছু খাবার ক্রয় করে তোমার স্ত্রীকে দিয়ে এসো। আর এক দিরহামে একটি কুঠার ক্রয় করে আমার নিকট নিয়ে এসো। লোকটি কুঠার ক্রয় করে তাঁর কাছে নিয়ে এলো। তিনি কুঠারে বাট লাগিয়ে বললেন, এবার কাঠ কেটে বিক্রি করো পনের দিনের মধ্যে আর এখানে আসবে না। পনের দিন পর লোকটি রাসূল (সাঃ) এর কাছে হাজির হলো তখন তার নিকট দশ দিরহাম ছিলো। তিনি বললেন নিজ হাতে উপার্জন কিয়ামতে তোমাদের মুখে চোয়ালে দাগ থাকার চেয়ে ভাল।
হযরত আয়েশা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তার সব পাপ সাফ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেছেন নিজ হাতে অর্থ উপার্জত অর্থে আল্লাহর গ্রহণ অপেক্ষা উতম আর কিছু নেই। আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ) নিজ হাতের কামাই খেতেন।
হালাল উপার্জনের নির্দেশ প্রদান করে আল্লাহ সুবাহানাহু তা’আলা এরশাদ করেন। অতপর যখন সালাত (নামায) সম্পন্ন হয়ে যাবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো। আশা করা যায় তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে। (সূরা: জুমা ১০) হালাল উপার্জন দোয়া কবলের শর্ত। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ব্যতীত কিছু গ্রহণ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের কে ঐ বিষয়ে আদেশ করেছেন যা তিনি রাসূলগণকে আদেশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র রিযিক থেকে ভোগ করো এবং ভাল কাজ করো এবং তিনি বলেছিলেন, হে মুমিন গণ তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছেন তার মধ্যে পবিত্র বস্তু থেকে ভোগ করো। তারপর মহানবী উল্লেখ করলেন, লোকে দূর-দূরান্তে ভ্রমণ করে এবং (দোয়া কবুল হওয়ার আশায়) আলু থালু কেশে ধুলায় দূসরিত অবস্থায় দু’ হাত আসমানের দিকে বাড়িয়ে ডাকে আয় প্রভু! আয় প্রভু!! অথচ তার খাবার হারাম তার পাণীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং হারাম খাদ্য তাকে খাওয়ানো হয়ে থাকে, তা হলে কিভাবে তার মুনাজাতের জয়াব দেয়া হবে? (মুসলিম)
নামায কবুল হওয়ার ব্যাপারে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস রয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস  বলেন, কোন লোকের পেটে হারাম খাবার থাকলে আল্লাহ তার নামায কবুল করেন না। এসব হাদীস ও সাহাবীগণের বাণী থেকে প্রমাণিত হয়ে যে, হালাল রুজি না খেলে নামায কবুল হবে না। আর সওম, যাকাত ও হজ্জের ব্যাপারেও তাই। হালাল উপার্জনের ন্যায় হালাল খাতে ব্যয়ের গুরুত্ব ও কম নয়। এ প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ  থেকে বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করা যেতে পারে। রাসূল  এরশাদ করেন (কিয়ামতের দিন) মানুষের পা একবিন্দু লড়তে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিকট এই পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা না হবে (১) নিজের জীবন কাল সে কোন কাজে অতিবাহিত করেছে (২) যৌবন শক্তি সামর্থ্য কোথায় ব্যয় করেছে (৩) ধন-সম্পদ কোথা হতে উপার্জন করেছ (৪) কোথায় তা ব্যয় করেছে এবং (৫) সে দ্বীনের যতোটুকু জ্ঞানার্জন করেছে সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে (তিরমিযী)
এ পর্যায়ে আমরা উত্তম উপার্জন প্রসঙ্গে আলোচনা করবো, হযরত মিক্কদাদ ইবনে মাআদী কারিব  থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যে রাসূল  এরশাদ করেছেন: কেউ নিজ হাতের উপার্জন দ্বারা প্রাপ্ত খাদ্যের চেয়ে কোন উত্তম খাদ্য খেতে পারে না (বুখারী) হযরত রাফি বিন খাদিজ  থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল  কে বলা হয় হে আল্লাহ রাসূল! কোন উপার্জন সর্বাপেক্ষা পবিত্র? তিনি বললেন কোন ব্যক্তির নিজ হাতের এবং হালাল ব্যবসার উপার্জন (আহমদ) নিজ হাতের উপার্জন যেমন পবিত্রতম, হালাল ব্যবসায় ও তেমনি পবিত্রতম। কুরআনুল কারীমে এরশাদ হচ্ছে আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম। (বাকারা ২৭৫) বস্তুত বিশ্বনবী (সাঃ) আয়ের উত্তম পথ হিসাবে শিল্প ও ব্যবসায়ের কথা বলেছেন, যা অন্যান্য হাদীস থেকেও জানা যায়। এরশাদ হয়েছে তোমরা ব্যবসা করো কেননা অর্থাগমনের ১০ ভাগের নয় ভাগ অংশই ব্যবসায় বাণিজ্যে। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যবসা হচ্ছে বস্ত্র ব্যবসায়ী এবং শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম হচ্ছে দর্জি বিজ্ঞন।
বিশ্বনবী এবং অন্যান্য পয়গম্বরগণ শুধু বাণী প্রদান করে ক্ষন্ত হন নি। বরং শিল্প ও ব্যবসার ময়দানে তাঁদের বিশাল অবদান রয়েছে। আল্লাহ পাকের এরশাদ হচ্ছে “আমি তাঁকে (দাউদ)কে বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম যাতে তা যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করে। (আম্বিয়া ৮০)
শিল্প শিক্ষাকে আল্লাহ তা’আলা নিয়ামত অভিহিত করেছেন। এবং এ জন্য শুকরিয়া আদায় করার ও নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর নবীগণ কোন না কোন শিল্প কর্মে নিয়োজিত ছিলেন। দাউদ (আঃ) বর্ম শিল্পে নিয়োজিত ছিলেন বলে আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি শস্য বপন ও কর্তন করতেন। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের খিদমতের জন্য কোন কাজ করে তার দৃষ্টান্ত মুসা (আঃ) করিয়েছেন, আবার ফেরাউনের কাছ থেকে পরিশ্রমিক পেয়েছেন। নবী মুসা (আঃ)মাদইয়ানে ৮ বছর চাকরি করেছেন। যাকারিয়া জাহাজ নির্মাণ করেছেন। বিশ্বনবী (সাঃ) বাল্যকালে ছাগল চরায়েছেন, খন্দকের যুদ্ধে মাটি কেটেছেন। মাথায় বোঝা বহন করেছেন। কুফ থেকে পানি তুলেছেন। নিজ হাতে জামা ও জুতা সেলাই করেছেন। স্ত্রীকে ঘরে রান্নার কাজে সাহায্য করেছেন। এমন কী দুধ দোহন ও করেছেন এজন্য পেশা ক্ষুদ্র হোক, বড় হোক তাতে কিছু আসে যায় না। নিজের পরিশ্রম করে শ্রমলব্ধ আয় নিজের ও পরিবার বর্গের গ্রাসাস্বাদনের জন্য সংগ্রাম করা অতিশয় সম্মান ও পূণ্যের কাজ। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে শিল্প ও বাণিজ্যের মহান পেশার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হবার তাওফিক দিন। আমীন।