সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নাম : ইসলাম

সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নাম : ইসলাম
বিরুদ্ধবাদী শক্তি সর্বদাই এগিয়ে চলার প্রেরণা যোগায়। সকল পথেই বিদ্যমান তার বিপরীত ধারা। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ, ব্যাপক, পরিপূর্ণ ও সুসামঞ্জস্যশীল জীবন ব্যবস্থা ইসলামের ক্ষেত্রেও এর কোন ব্যতিক্রম নেই। অর্থাৎ, ইসলামের চলার পথ সরল কিন্তু কুসুমাস্তীর্ণ নয়; বরং পদে-পদেই পিচ্ছিল ও কণ্টকাকীর্ণ। হবেই বা না কেন? এ পথেই তো আমাদের পরীক্ষা চলছে জাগতিক জীবনের অনির্দিষ্ট দিন-রাতে। আর পরীক্ষাক্ষেত্রেই ফলাফল আশা করা কখনোই কোন সুস্থ ও জ্ঞানসম্পন্ন পরীক্ষার্থীর কাজ হতে পারে না। অতএব, আল্লাহর পথের পরীক্ষার্থী মুমিনেরা সে আশা করেও না; বরং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যা পায় অথবা হারায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় না কখনো।
বিরুদ্ধবাদীদের যাবতীয় যন্ত্রণা এখানেই যে, মুমিনেরা কেন তাদের আসল লক্ষ্যের পানে ধাবমান? কেন তারা তাছবীহ আর জায়নামায নিয়ে মোরাকাবায় বসে-বসে ধ্যান করে না! (?) কেন তারা কবরে কবরে গম্বুজ উঁচিয়ে গাঁজার নেশায় মারফতী (?) গানে বুঁদ হয়ে থাকে না। কেন তারা ইসলামকে দেখতে চায় রাষ্ট্রব্যবস্থায়? কারণ, ইসলাম তো এ যুগে একেবারেই অচল, সেকেলে, পুরাতন, এর সংরক্ষণে হেন ত্রুটি, তেন ঘাটতি রয়েছে। অতএব যত্ত পার মসজিদে, খানকায়, ঘরের কোণায় ইসলাম মান বাধা নেই, খামাখা কেন তারে রাজনীতিতে টেনে আনছো? (আড়ালী দৃষ্টিতে-কেন আমাদের স্বার্থের গুদামে আগুন দিচ্ছো?)
বিভ্রান্তি ঘুরপাক খাচ্ছে অশান্ত বাতাসে- ‘ইসলাম আধুনিক নয় সেকেলে, একালের জন্য যোগ্যতা রাখে না’। জানা দরকার যে, আধুনিকতার সংজ্ঞা কি? ‘সংসদ’ বলে- বর্তমানকালীন, সাম্প্রতিক, হালের, অধুনাতন, নব্য ইত্যাদি। সমার্থ শব্দকোষ তার অনেক অনেক প্রতিশব্দাবলীর সমাবেশ ঘটিয়েছে। সাথে সাথে ‘চিরনতুন’, ‘চিরনবীন’ ইত্যাদি শব্দেরও অবতারণ হয়েছে।
এখন আসুন ইসলাম কীভাবে আধুনিক? গতবিকেলে তোলা টমেটো, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা থেকে শুরু করে- খবর, খবরের কাগজ, আসবাব পত্র, ঘটনাবলী নিয়ে বইপুস্তক পর্যন্ত পুরোনো হয়ে যাচ্ছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে; তারা সকলেই আধুনিক থেকে পুরাতন হয়ে যাচ্ছে। ঠিক এই ধারার কোন এক পর্যায়ে ফেললে ইসলাম পুরাতন। কিন্তু ইসলাম নামক পূর্ণাঙ্গ একটি জীবন ব্যবস্থাকে এতটা নগন্যরূপে যারা চেনে, এতটা স্বল্পতায় যারা জানে ও তার সাথে এতটাই হীনসম্পর্ক যারা রাখে; কেবলমাত্র তাদের পক্ষেই সম্ভব একথা বলা যে, ইসলাম তথা ইসলামী জীবন ব্যবস্থা পুরোনো, সেকেলে কিংবা আরো একধাপ এগিয়ে- যে, ইসলাম এ যুগের জন্য অচল! মূলতঃ ইসলামের জন্য আধুনিক অর্থে ‘চিরনবীন’, ‘চিরনতুন’ শব্দাবলীই সর্বাধিক প্রযোজ্য। কেননা, প্রতিটি মানব শিশুকেই জন্মের পর থেকে কোন না কোন জীবন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়; যারা ইসলামের সাথে পরিচিত হবার সৌভাগ্য অর্জন করে, ইসলাম তাদের নিকট সম্পূর্ণ নতুন; যেন আল্লাহ তা’আলা তার বা তাদের জন্যই ঠিক এই মুহূর্তে এই বিধান নাযিল করেছেন, যে মুহূর্তে তারা তা শ্রবণ ও অনুধাবন করে। আজকের আধুনিক পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী একটি শিশু বৃদ্ধি পেয়ে কিশোর হয়ে যৌবন-বার্ধক্য নিয়ে পর্যায়ক্রমে পরিপূর্ণ জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগে কী হবে তার করণীয় সে দিকনির্দেশনা একমাত্র ইসলামই তাকে দিতে পারে প্রতিদিনের টাটকা খবরের মত করেই এবং কেয়ামত পর্যন্ত ইসলামই এই ক্ষমতা রাখে। অতএব, ইসলাম সর্বকালেই জীবন পদ্ধতিতে যুগের চাহিদা মেটাতে পারে বলে ইসলাম ‘চিরনবীন’, ‘চিরনতুন’ তথা আধুনিক।
আসুন আমরা এই চিরনবীন, চিরনতুন ইসলামকে আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে পালনে ব্রতী হই। আল্লাহ আমাদের সে তাওফীক ও শক্তি দান করুন। আমীন ॥

উত্তম চরিত্র

মুমিনের মর্যাদা সবার উপরে। কথা-বার্তায়, কাজে-কর্মে, এমনকি তাঁর চেহারায় ও চলা-ফেরায় সবার উপরে তাঁর অবস্থান ফোটে ওঠবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন; রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে …
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন; তাঁরাই উত্তম বান্দা যাঁদেরকে দেখা মাত্র আল্লাহর কথা স্মরণ হয়… কেননা তাঁদের চেহারা ঈমানের আলোয় দীপ্ত থাকে। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন; তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন। সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এমন আদর্শ ও পদাচরণ গ্রহণ করা যেন সে এই মর্যাদার আসনে আসীন হতে পারে।
প্রিয় ভাইসব! ইসলাম হচ্ছে উত্তম চারিত্রিক ধর্ম। আর ইসলাম মানবজাতিকে এই সুন্দর চরিত্র গঠনের দিকে আহ্বান করে। আর মুসলিম সত্ত্বাকে উত্তম চরিত্র গ্রহণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। পৃথিবীতে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রশংসা পবিত্র কুরআনে এভাবে করেছেন; আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। চারিত্রিক, শিষ্টাচার আদান-প্রদান সবদিক থেকেই তিনি উত্তম ছিলেন। তিনি কখনও বাজারে শোরগোল ও অশ্লীল বাক্যালাম করেন নী। আর কোন দিন মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে গ্রহণ করেন নী। বরং তাঁর অভ্যাস ছিল ক্ষমা-মার্জনা করা। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাদের উদ্দেশ্য করে বলতেন: কিয়ামত দিবসে উত্তম চরিত্র অপেক্ষা কোন বস্তু-ই মুমিনের পাল্লা ভারি করবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: প্রকৃত মুসলিম ঐ ব্যক্তি, যাঁর হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন; কখনও তাঁর খাদেমকে উহ্ শব্দটি পর্যন্ত বলেন নী। খাদেম কোন ভুল কাজ করলে বলেন নী কেন এই ভুল হলো। কখনও কোন কাজ না করলে বলেন নী, কেন কাজটি করো নী।
নিশ্চয়ই সৌভাগ্যের চাবি-কাঠি হচ্ছে মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার করা। আর উত্তম ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য হচ্ছেন প্রথমে মাতা-পিতা, স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি, তারপর পর্যায়ক্রমে সমস্ত মানুষ। এমন কী পশু-পাখির সাথেও উত্তম ব্যবহার করা উচিত।
সুতরাং আসুন ভাইয়েরা আমার! উত্তম চরিত্র দ্বারা আমরা আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করি, তবেই আমরা আল্লাহর নিকট এবং দুনিয়ার সমস্ত মানুষের নিকট প্রশংসিত হতে পারবো। আর কিয়ামত দিবসে আমরা গৃহীত বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হতে পারবো। এ জন্য সর্বদা আল্লাহর নিকট দু’আ প্রার্থনা করতে হবে “আল্লাহুম্মা আহসিন খুলুকী কামা অহসানতা খালকী” অর্থ: হে আল্লাহ আমার চরিত্র সুন্দর করে দাও, যেমন আমাকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; তোমাদের মধ্যে নিশ্চই ঐ ব্যক্তি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়, এবং কিয়ামতের দিন আমার নিকটে বসবে, যার চরিত্র উত্তম।
আল্লাহ আমাদের সকলকে উত্তম চরিত্র গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন ॥