Monthly Archives: October 2010

মোবাইল ফোন ও রিংটোন

রিংটোন হিসেবে আজানের ব্যবহার নাজায়েয
আজকাল অনেককে রিংটোন হিসেবে আজান, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ইত্যাদি ব্যবহার করতে দেখা যায়। দীনদার ও ধার্মিক শ্রেণীর লোকদের দ্বারাই এ কাজটি সাধারণত বেশি হয়। আমার মনে হয়, তারা এ কাজটি এ ধারণায় করে থাকেন যেÑ অন্যেরা যখন গান, বাজনা ইত্যাদিকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করে, আমরাও তাদের মোকাবেলায় আজান, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি ভালো জিনিসকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করব। যাতে মোবাইল ফোনের রিংটোনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও গান-বাদ্যের পরিমাণ হ্রাস পায়!
এসব লোকের নিয়ত ভালো। এমন সুন্দর নিয়তের কারণে তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু যেহেতু বেশ কয়েকটি কারণে শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে রিংটোন হিসেবে এগুলোর ব্যবহার জায়েয নেই তাই এসব থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। নিম্নে আজান ইত্যাদি রিংটোন হিসেবে ব্যবহার নাজায়েয হওয়ার কারণগুলো তুলে ধরা হলো।

Continue reading

মহানবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণ

 ৯ই জিলহজ্ব দশম হিজরী মহানবী মুহাম্মাদ (সাঃ) শুক্রবার ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয়ের পর মিনা হতে আরাফাহ ময়দানের পূর্বদিকে নমিরা নামক স্থানে তাঁবু স্থাপন করা হলে, সেখানে পৌঁছে দুপুর পর্যন্ত তথায় তাঁবুতে অবস্থান করেন। জুমার সালাত আদায় করে তিনি কচোয়া নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহন করে আরাফা’র সন্নিকটে “আরনা” প্রান্তরে উপস্থিত হয়ে প্রায় একলক্ষ বিশ হাজার লোকের সমাবেশে তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের খুতবা বা ভাষণ প্রদান করেন। তাঁর প্রতিটি বাক্যই রাবিয়া বিন উমাইয়া  বিন খালাফ (রাঃ)-কর্তৃক পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। সালাত আদায় করে আল্লাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বললেনঃ

Continue reading

শান্তির আলোক বর্তিকা ’আল কুরআন’

মহান আল্লাহ বলেন: যদি আমি এই কুরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা‘আলার  ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সূরা হাশর আয়াত-২১)। শান্তির অমীয় বাণী, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সর্বকালের সেরা মহামানব মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ হয়। এ ধরনীর বিপন্ন মানুষকে অন্ধকার হতে আলোর সন্ধান দিতে। যে কুরআনের ভয়ে পাহাড় ধসে যেত সেই কুরআনকে নাজিল করা হয়েছে মানুষের উপর। শুধু তাই নয়, দেড় হাজার বছর পূর্বের সেই নাজিলকৃত গাইড লাইফখানা আজও আছে এ পৃথিবীর বুকে অবিকৃত অবস্থায়, থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। লক্ষ্য করুন, পৃথিবীতে যত ধর্মগ্রন্থই ছিল তা বিকৃত হয়েছে বা বিলীন হয়ে গেছে, কিন্তু আল কুরআন এমন একটি মহাগ্রন্থ যার একটি জের, জবর পর্যন্ত বদল হয়নি, বা বিকৃত হয়নি। এ কুরআনের ভিতরই আল্লাহ পাক ঘোষণা করে দুনিয়ার মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন ’এ কুরআন আমি নাযিল করেছি, আর একে সংরক্ষণ বা হেফাজতের দায়িত্ব আমার (সুরা সূরা হিজর : ৯) এর চেয়ে বড় মু‘জেজা আর কিবা হতে পারে? Continue reading

মহাবিশ্বের সব কিছু কা‘বার তওয়াফরত

তওয়াফে কা‘বা হজ্জ ও উমরাহর প্রধান কার্যাবলির একটি। ফকীহগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, তওয়াফ ছাড়া হজ্জ বা উমরাহ আদায় হয় না। মহান আল্লাহ কা‘বা শরীফ তওয়াফের নির্দেশ দিয়ে বলেন: “তারা যেন বায়তুল আতীক তওয়াফ করে।” (সূরা হাজ্জ: ২৯) তওয়াফকারীর মর্যাদা ও তওয়াফের গুরুত্বের কারণে হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ) বায়তুল্লাহ পবিত্র রাখতে আদিষ্ট হয়েছিলেন: “আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফ, ইতিকাফ ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১২৫) হজ্জের মধ্যে কোন কারণে নির্দিষ্ট সময়ে তওয়াফ আদায় করতে না পারলে কাযা আদায় করতে হয়। Continue reading

আমাদের উপর কুরবানীর নির্দেশঃ

 

 রোযা এবং ঈদ পর্বের দু’মাস পর আরও একটি পর্ব উৎযাপনের জন্যে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে একত্রিত হবে, কুরাবানীর ঈদ! বিশেষ করে বাংলাদেশে এ উৎসব ঘরে ঘরে নিয়ে আসবে উৎসবের আমেজ। হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় অনুশাসণের ধারা রক্ষা করতে গিয়ে আবারও আমরা জবাই করব লাখ লাখ পশু। আল্লাহর আনুগত্য প্রমাণের জন্যে হাজার বছর আগে ইবরাহীম (আঃ) নিজ সন্তানকে কুরবানী করতে প্রস্তুত ছিলেন, আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে সন্তানের বদলে পশু কুরাবানীর আদেশ দিলে সূত্রপাত হয় কুরাবানীর ঐতিহ্য। আজকে একবিংশ শতাব্দিতে কুরাবানী কোন আনুগত্যের মাইলষ্টোন হয়ে কাজ করছে তার পক্ষে পণ্ডিতদের নিশ্চয় হাজারটা বক্তব্য থাকবে। আমারা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব সমসাময়িক কুরাবানী ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে সক্ষম হচ্ছে? সমাজের একাংশে কুরাবানীকে ব্যবহার করা হচ্ছে নিজদের অবৈধ বিত্ত বৈভব্যের নগ্ন প্রদশর্নী হিসাবে, আরেক অংশের জন্যে তা হচ্ছে নিজদের সামর্থের সীমা অতিক্রম করে সামাজিকতা রক্ষা করা। কুরাবানী এলেই বেড়ে যাচ্ছে ডিপ-ফ্রীজের বিক্রী, বাড়ছে গোশ্ত সংরক্ষণের বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবন। প্রদশর্নীর দৌড়ে জয়ী সমাজপতিদের অনেক্‌কেই দেখা যায় দিন শেষে কুরাবানীর আস্ত গরুটাই সাইজ করে ডীপ ফ্রীজে ঢুকিয়ে রাখতে। উচ্ছিষ্ট কিছু বিতরনের ঐতিহ্য এখনো যে মিলিয়ে যায়নি তা বলা যাবে না, কিন্তু সামগ্রিক হিসাবে এ সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। কুরাবানীর প্রথম প্রহরে কেবল মাত্র জবাইকারীর মুখে শোনা যায় ধর্মের যুগসূত্রতা, বাকি সময়ের যে কোন ধাপেই ধর্মীয় মূল্যবোধের রেশ থাকে অনুপুস্থিত। Continue reading

( কবিতা ) প্রবাসীর ব্যাথা

কামাল (আব্বাসিয়া-কুয়েত)


আসব কখন কেমন করে তোমার বুকে ফিরে?
পড়লে মনে দেশের স্মৃতি ভাসি চোখের জলে।
সবুজ শ্যামল জন্মভূমি হরেক রঙের ঘ্রাণ,
দিবানিশি তোমার লাগি কান্দে আমার প্রাণ।
বাপের দেওয়া ভিটা-বাড়ি ঘর দরজা বেচে,
পাগল হয়ে সুখের আশায় আসছি বিদেশ চলে। Continue reading

(কবিতা) কুরবানী ও প্রাসঙ্গিক কথা

 জাকির বিন মোঃ সহিদুর রহমান
অক্টোবর 2010

বছরান্তে ঘুরে ফিরে দশই জিলহজ্জ আসে
মর্ত্য হয় আন্দোলিত কচি-কাঁচা যুবা বৃদ্ধা হাসে।
শাণিত ছুরির আঘাতে উৎসর্গীত পশুর রক্তে ধরা হয় রঞ্জিত
স্বর্গীয় অমিয় সুধা নেমে আসে মর্তে মুসলিম কুল উচ্ছ্বসিত।
গায়ে গায়ে বাহারি পোশাক ঘরে ঘরে রকমারি খাদ্য
এযে ছিল ভাষাতীত বিরহ বিধুর দিন বুঝার নেই সাধ্য।
আজ পুলকে আত্মহারা মর্ত্যলোক
না হলে রবের কৃপা কত মা-বাবা পুত্রের অশ্রুতে ভাসিত বুক।
ক্বাবীল ও হাবীল নামে আদি পিতার পুত্রদ্বয়
তাদের দ্বারা মানবকুলে কুরবানী প্রথা চালু হয়। Continue reading

আল কুরআনই একমাত্র যুক্তিগ্রাহ্য ও বিজ্ঞানসম্মত ধর্মগ্রন্থ


এক দিকে যেমন ইসলম ছাড়া আর কোনো ধর্মই একখানা পরিপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ দিতে পারে না। তেমন কুরআনে এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে যা নাযিল হয়েছে ১৪ শত বৎসর পূর্বে আর তার সত্যতা প্রমাণ হচ্ছে আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে। এই কুরআনের এমন কতগুলি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আর কোনো ধর্মগ্রন্থে নেই। যেমনঃ
১। কুরআনের ভাব-ভাষা এমনভাবে সুবিন্যস্ত যার অনুরূপ একটি সূরা আজ পর্যন্ত কেউ তৈরী করতে পারে নাই।
২। যার উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলি বা কোনো কথাকেও আজ পর্যন্ত কেউ অবৈজ্ঞানিক বলে প্রমাণ করতে পারেনি।
৩। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশে যত কুরআন আছে তার সবগুলিকে একত্রিত করলেও তার কোনো একটির মধ্যেও সামান্যতম একটু তারতম্য কেউ পাবে না।
৪। পৃথিবীর সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ যদি পুড়িয়ে দেয়া হয় তবে নতুন করে হাফেজদের মাধ্যমে কুরআন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এছাড়া অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। Continue reading

মানব জীবনের কাজের গুরুত্ব

কাজ ছাড়া জীবনের কল্পনা করা যায় না। এ থেকেই জীবনে কাজের গুরুত্ব অনুভব করা যায়। কাজ এবং তৎপরতার অপর নাম জীবন। অকর্মন্যতা এবং স্থবিরতার আরেক নাম মৃত্যু। কাজেই জীবন গঠন করে, জীবনকে পরিবর্তন করে, জীবনের জন্য স্বর্গ রচনা করে। আবার এ কাজই জীবনকে ভরে ফেলে নরক যন্ত্রণায়। মানুষ স্বীয় কাজের মাধ্যমে নিজের জন্য স্বর্গ-নরক দুই তৈরী করতে পারে। কাজ না থাকলে বেঁচে থাকা যায় না। জীবন স্থায়ীত্বের মূল কর্মতৎপরতার মধ্যে নিহিত। আলস্য মানুষকে অলস এবং দুর্বলই করে না বরং ভীরু এবং আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। Continue reading

বাংলাদেশ : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন

“সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” বলতে আমরা কি বুঝি? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্ভাব বজায় রেখে বসবাস করা। এখন এই সম্ভাবের বি¯তৃতি জীবনের সকল দিক জুড়ে এর মধ্যে একাধারে যেমন থাকছে পারস্পারিক মুখ দেখাদেখি তেমনি থাকছে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশ গ্রহণও। পৃথিবীর দেশে দেশে শোনা যায় এই সম্প্রীতির কথা। কোথাও এ সম্প্রীতি পূর্ণ মাত্রায় বহাল আবার কোথাও আংশিক, কোথাও লংঘিত হয়ে অত্যাচার নিপীড়ন হচ্ছে সম্প্রীতির সুরক্ষা এবং মধ্যম পন্থা থেকে নিয়ে লংঘনের নানা চিত্র আমরা আমাদের পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোতে অহরহ দেখতে পাই। এর জন্য খুব বেশী দূরে তাকাতে হয় না। তিন দিকে ঘেরা এমন একটি দেশ বাংলাদেশকে ঘিরে আছে যে দেশে প্রতি বছর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বহু মানুষ প্রাণ হারায়। বহু নৃশংস ঘটনার সাক্ষী বিগত কয়েক দশকের ভারত। যেখানে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয় হত্যা করা হয় শুধুমাত্র তার ধর্ম বিশ্বাসের কারণে। পৃথিবীর পথে আগমনকারী গর্ভের সন্তানও যেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। তেমন একটি দেশকে ঘিরে আছে আমাদের বাংলাদেশ। পৃথিবীর বুকে সমকালীন বহু বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষায় যার সুনাম , সে আমার বাংলাদেশ। স্বদেশী আর বিদেশী শত্র“দের জন্য যা এক মহা যন্ত্রণা! কেন বাংলাদেশ এই প্রশ্নে প্রশান্ত! এ এক আশ্চর্য বিষয় তাদের নিকট। 

Continue reading