দরদী বন্ধু

ইরাকের এক সম্পদশালী লোক। নাম খোযায়মা বিন বিশর। তাঁর ছিল প্রচুর ধন-দৌলত ও বিত্ত-বৈভব। কিন্তু ছিল না কৃপণতা ও রুঢ়তা। ছিল না অহঙ্কার ও আত্মম্ভরিতা।
অর্থের প্রাচুর্যে অনেক মানুষ বিলাসী হয়, অনেকে অপব্যয়ী হয়। আবার অনেকে হয় নির্দয়-নিষ্ঠুর। কিন্তু খোযায়মার মধ্যে এর কোনোটাই ছিল না। তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন প্রাণভরে। দান করতেন অকাতরে। দানের প্রত্যাশা নিয়ে লোকজন তাঁর কাছে আসত। ভিড় জমাত। কিন্তু তিনি কাউকেই বিমুখ করতেন না। খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। বঞ্চিত করতেন না তাঁর দান ও ধন থেকে; ভালোবাসা ও অনুগ্রহ থেকে। Continue reading দরদী বন্ধু

মিরাজের তাৎপর্য ও শিক্ষা

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবনে সংঘটিত সর্বাধিক আলোচিত ও বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর মধ্যে মিরাজ অন্যতম। সূরা বনি ইসরাইলে একে ‘ইসরা’ বা রাত্রীকালীন ভ্রমণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সূরা নজমেও এর বর্ণনা রয়েছে। এ ছাড়া হাদিস ও জীবনচরিত গ্রন্থাবলিতে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ বিপুল সংখ্যক সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে। কাজেই মিরাজ বা ইসরা অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমাণিত একটি বিষয়। আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে তাঁর বান্দাহকে (মহানবী সা:-কে) রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন এবং তাঁকে নিজের কিছু নিদর্শন পর্যবেক্ষণ করিয়েছেন­ অন্তত এতটুকু কথা দ্বিধাহীনচিত্তে নি:সঙ্কোচে মেনে নেয়া এবং বিশ্বাস করা পবিত্র কুরআন ও রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসের অনিবার্য দাবি। মূল ঘটনা : উম্মুল মুমেনিন হজরত খাদিজা রা:-এর ইন্তেকালের পরে এবং আকাবার শপথের আগে মিরাজের ঘটনা ঘটে। সুনির্দিষ্ট সালের ব্যাপারে কিছুটা মতভেদ থাকলেও ঘটনাটি হিজরতের এক বছর আগে রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে (২৬ তারিখ দিবাগত রাতে) সংঘটিত হয়েছিল­ এ ব্যাপারে অধিকাংশ ইমাম ও ঐতিহাসিকরা একমত। এ মহান রাতে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাহ ও রাসূলকে তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে নেয়ার অলৌকিক ব্যবস্থা করলেন, তাকে বেহেশত-দোজখসহ অসংখ্য নিদর্শন দেখালেন, তাঁর সাথে একান্তে কথা বললেন, তাঁর অন্তর নূর, প্রজ্ঞা ও হিকমতে ভরে দিলেন, মানবতার কল্যাণের নিমিত্তে তাঁকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত হাদিয়া প্রদান করলেন।

ইসরার বিবরণ : মিরাজের ঘটনার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন হজরত জিব্রাইল আ: ও মিকাইল আ:। তারা ওই মহান রাতে উম্মে হানির (রাসূল সা:-এর চাচাতো বোন) ঘরে গভীর ঘুমে নিদ্রিত মহানবী সা:-কে পবিত্র কাবা চত্বরে নিয়ে গেলেন। সেখানে তারা মহানবী সা:-কে মহাভ্রমণের উপযোগী করার লক্ষ্যে আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় ‘সিনা চাক’ করলেন। এরপর তারা তাঁকে বোরাক নামক দ্রুতগামী বাহনে বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেলেন। সেখানে মহানবী সা: অনেক নবীর নামাজের জামাতে ইমামতি করলেন। সবাইকে সালাম করে এবার তিনি বোরাকে বা বিশেষ চলমান সিঁড়িতে আরোহণ করে বায়তুল মামুরসহ (ফেরেশতাদের কিবলা) অনেক কুদরত ও নিদর্শন দেখে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হলেন। মহান আল্লাহ যা বলার তা তার বান্দাহকে বললেন, যা দেখার তা দেখালেন, যা দেয়ার তা দিলেন। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোচ্চ সম্মান, আল্লাহর পরম ভালোবাসা, প্রভুর জন্য চরম ত্যাগের অনুভূতি, হিজরতের পরে একটি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের হিম্মত ও যোগ্যতা, বান্দাহদের কল্যাণার্থে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং উম্মতে মুহাম্মদির জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ করুণাসংবলিত বাণী­ সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত নিয়ে মহানবী সা: আল্লাহর নির্ধারিত উপায়ে সেই মহান রাতেই ফিরে এলেন এ পৃথিবীতে। Continue reading মিরাজের তাৎপর্য ও শিক্ষা