আত্মহত্যার ভয়াবহ পরিণতি

نحمده ونصلي على رسوله الكريم، أما بعد: 
হে মুসলিম ভাই ও বোন! সাবধান! আত্মহত্যা করা ইসলামী শরী’আতে একটি জঘন্যতম পাপ যার একমাত্র শাস্তি হল জাহান্নাম। বিশ্ব নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আত্মহত্যাকারীর জানাযা ছালাত আদায় করেননি (দ্রঃমুসলিম, জানাযা অধ্যায়,হা/১৬২৪): এ থেকে অনুমান করা যায় সে কত বড় পাপী। আত্মহত্যা ইহকাল পরকাল উভয়টি ধ্বংস করে দেয়। তা যে কোন কারণেই সংঘটিত হোকনা কেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ
(وَلَا تَقْتُلُوْا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ الله َكَانَ بِكُمْ رَحِيْماً)[سورة النساء:২৯] 
আর তোমরা আত্মহত্যা কর না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াশীল (সূরাহ নিসা/২৯ )।
আত্মহত্যা প্রসঙ্গে রাসূল (ছাঃ) কঠুর হুঁশিয়ারীবাণী উচ্চারণ করে গেছেন। Continue reading আত্মহত্যার ভয়াবহ পরিণতি

প্রসঙ্গ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিয়ে ও তার কারণ

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ মতে মোট এগারোটি বিয়ে করেন। আর একজনের ব্যাপারে সীরাত গবেষকদের মত পার্থক্য রয়েছে।
উম্মাহাতুল মুমিনিনগণের নাম যথাক্রমে:

 

  ১।  খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাঃ)

এ বিবাহের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স ২৫ বছর এবং বিবি খাদিজার বয়স ৪০ বছর ছিল। এ সময় বিবি খাদিজা বিধবা ছিলেন। হযরত খাদিজা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইাহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথমা স্ত্রী। তাঁর জীবদ্দশায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কোন নারীকে বিবাহ করেন নাই। তিনি তৎকালীন আরবের ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী মহিলা ছিলেন। পরবর্তীতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়ত প্রাপ্ত হলে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে তার সমস্ত ধন-সম্পদ অকাতরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট দান করে দেন এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে অনেক ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেন। তিনি দশম নববী সনে, ৬৫ বছর বয়সে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।

Continue reading প্রসঙ্গ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিয়ে ও তার কারণ

স্বাগতম মাহে রমজান

রমজান হিজরী বছরের নবম মাস। এই মাসটি বারো মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত মাস। যারা সারা বছর আরবি মাসের হিসাব রাখেন না এমন সব মুসলমানগণও এই মাসটির হিসাব রাখেন। রমজান মাস আগমনে অধিকাংশ মুসলমানের হৃদয়ে স্পন্দন জাগ্রত হয়, তারা আনন্দিত হন এই ভেবে যে, রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবার এসেছে মাহে রমজান। তারা রমজানকে স্বাগতম জানায়। Continue reading স্বাগতম মাহে রমজান

শাবানের পর আসে রমজান

হিজরী বছরের অষ্টম মাসের নাম শাবান। এই মাসটি পাড় করেই আমরা রমজান মাসে প্রবেশ করে থাকি। প্রত্যেক মুসলিমেরই উচিত এই মাসটিকে গুরুত্ব দেওয়া। তুলনামূলকভাবে রাসূল (সা.) এই মাসে রমজান ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা রেখেছেন। তাই আমাদেরও নেক আমলের প্রতি ব্রতি হওয়া উচিত। চিরাচরিতভাবে চলে আসা শবে-বরাত পালন না করে সহীহ হাদীসের আলোকে শাবান মাসটি অতিবাহিত করাই হবে প্রকৃত মুসলমানের কাজ। শাবানের মধ্য রাত্রিতে ইবাদত করা কেউ কেউ জায়েয বললেও বিশুদ্ধ কথা হলো এ ধরণের ইবাদত বিদআতের অন্তর্ভুক্ত, চাই তা ব্যক্তিগতভাবে হোক বা সামষ্টিকভাবে। ইমাম আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইবনে আবি মুলাইকা, মদীনার ফুকাহাগণ, ইমাম মালেকের ছাত্রগণ, ও অন্যান্য আরো অনেকেই এ মত পোষণ করেছেন। এমনকি ইমাম আওযায়ী যিনি শাম তথা সিরিয়াবাসীদের ইমাম বলে প্রসিদ্ধ তিনিও এ ধরনের ঘটা করে মাসজিদে ইবাদত পালন করাকে বিদআত বলে ঘোষণা করেছেন। Continue reading শাবানের পর আসে রমজান

প্রসঙ্গ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিয়ে ও তার কারণ

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ মতে মোট এগারোটি বিয়ে করেন। আর একজনের ব্যাপারে সীরাত গবেষকদের মত পার্থক্য রয়েছে।
উম্মাহাতুল মুমিনিনগণের নাম যথাক্রমে:

১। হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাঃ)

এ বিবাহের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স ২৫ বছর এবং বিবি খাদিজার বয়স ৪০ বছর ছিল। এ সময় বিবি খাদিজা বিধবা ছিলেন। হযরত খাদিজা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইাহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথমা স্ত্রী। তাঁর জীবদ্দশায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কোন নারীকে বিবাহ করেন নাই। তিনি তৎকালীন আরবের ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী মহিলা ছিলেন। পরবর্তীতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়ত প্রাপ্ত হলে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে তার সমস্ত ধন-সম্পদ অকাতরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট দান করে দেন এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে অনেক ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেন। তিনি দশম নববী সনে, ৬৫ বছর বয়সে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।

২। হযরত সাওদা বিনতে যাম’আ (রাঃ) 

হযরত খাদিজা (রাঃ)-এর ইন্তেকালের দুই বছর পর শাওয়াল মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত সাওদা বিনতে যাম’আ (রাঃ)-এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ সময় সাওদা বিনতে যাম’আ বিধবা ছিলেন। এর আগে তিনি তার চাচাত ভাই সাকরান ইবনে আমরের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তিনি হিজরী ২৩ সনে, ৭০ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

৩। হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ)। 

নবুয়তের একাদশ বর্ষের শাওয়াল মাসে এবং হিজরতের দুই বছর পাঁচ মাস আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সাথে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর বিবাহ হয়। সে সময় হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর বয়স ছয় বছর ছিলো। হিজরতের সাত মাস পর শাওয়াল মাসের পয়লা তারিখে হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। সে সময় তাঁর বয়স নয় বছর হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কোন কুমারী নারীকে বিয়ে করেননি। হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী। উম্মাহাতুল মুমিনিনগণের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাধিক জ্ঞানসম্পন্ন ফকিহ। তিনি হিজরী ৫৭ সনে, ৬৬ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

৪। হযরত হাফসা বিনতে ওমর (রাঃ)

তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন খোনায়াস ইবনে হোযাফা সাহমী (রাঃ)। বদর ও ওহুদ যুদ্ধের মাঝামাঝী সময়ে তাঁর স্বামী ইন্তেকাল করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরী তৃতীয় সনে হযরত হাফসা বিনতে ওমর (রাঃ)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি হিজরী ৫৮ সনে, ৮১ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

৫। হযরত যয়নব বিনতে খোযায়মা (রাঃ)

তিনি ছিলেন বনু হেলাল ইবনে আমের ইবনে সাসা গোত্রের সাথে সম্পর্কিত। গরীব মিসকিনদের প্রতি তাঁর অসামান্য মমত্ববোধ এবং ভালোবাসার কারণে তাঁকে উম্মুল মাসাকিন উপাধি প্রদান করা হয়। তিনি ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রাঃ)-এর স্ত্রী। ওহুদ যুদ্ধে উক্ত সাহাবী শাহাদত বরণ করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্থ হিজরীতে হযরত যয়নব বিনতে খোযায়মা (রাঃ)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের মাত্র আট মাস পর হিজরী ৫ সনে, ৩০ বছর বয়সে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

৬। উম্মে সালামা হেন্দ বিনতে আবী উমাইয়া (রাঃ)

তিনি আবু সালামা (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। চতুর্থ হিজরীর জমাদিউস সানী মাসে তিনি বিধবা হন। একই হিজরী সালের শাওয়াল মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলআইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি হিজরী ৫৮ সনে, ৮২ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

৭। যয়নব বিনতে জাহাশ ইবনে রিয়াব (রাঃ)

তিনি ছিলেন বনু আসাদ ইবনে খোযায়মা গোত্রের মহিলা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলআইহি ওয়াসাল্লাম’র ফুফাত বোন। তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র পালক ছেলে হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রাঃ)-এর সাথে। হযরত যায়েদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলআইহি ওয়াসাল্লাম’র আযাদকৃত দাস এবং পরে পালক সন্তান হিসেবে ছিলেন। কিন্তু আরবের লোকরা তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলআইহি ওয়াসাল্লাম’র সন্তান মনে করতো। হযরত যায়েদের সাথে হযরত যয়নবের বনিবনা না হওয়াতে হযরত যায়েদ তাঁকে তালাক দেন। যয়নব (রাঃ)-এর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আসমানে স্বয়ং এ বিবাহ পড়িয়ে দেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আয়াত নাযিল করেনঃ “অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করলো, তখন আমি তাকে আপনার সাথে পরিনয়সূত্রে আবদ্ধ করলাম।” (সূরা: আহযাব: ৭)। এ সম্পর্কে সূরা আহযাবে আরো ক’একটি আয়াত নাযিল হয়েছে। এসব আয়াতের মাধ্যমে তৎকালীন আরবের পালক সন্তান সম্পর্কিত বিতর্কের সুষ্ঠ ফায়সালা করে দেয়া হয়। পঞ্চম হিজরীর যিলকদ মাসে বা এর কিছু আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলআইহি ওয়াসাল্লাম’র সাথে হযরত যয়নব (রাঃ)-এর বিবাহ হয়। তিনি হিজরী ২০ সনে, ৫৫ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

৮। জুওয়াইরিয়া বিনতে হারেস (রাঃ)

তার পিতা ছিলেন খোযায়া গোত্রের শাখা বনু মোস্তালিকের সর্দার। বনু মোস্তালিকের যুদ্ধবন্দীদের সাথে হযরত জুওয়াইরিয়াকেও নিয়ে আসা হয়। তিনি গণিমত হিসেবে হযরত সাবেত ইবনে কায়স ইবনে শাম্মাস (রাঃ)-এর ভাগে পড়েছিলেন। হযরত সাবেত (রাঃ) শর্ত সাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়ার কথা জানান। শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলআইহি ওয়াসাল্লাম এ খবর জানার পর হযরত জুওয়াইরিয়ার পক্ষ থেকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করে তার মুক্তির ব্যবস্থা করেন, তাঁকে বিয়ে করেন। এটা পঞ্চম হিজরীর ঘটনা। তিনি হিজরী ৫০ সনে, ৬৫ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

৯। উম্মে হবিবা রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান (রাঃ)

তিনি ছিলেন এক সময়ের মক্কার প্রধান কাফির নেতা আবু সুফিয়ান’র মেয়ে এবং ওবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশের স্ত্রী। মুসলিম হওয়ার পর স্বামীর সাথে হিজরত করে তিনি হাবশায় গমন করেন। সেখানে যাওয়ার পর ওবায়দুল্লাহ ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। কিন্তু উম্মে হাবিবা নিজের দ্বীন এবং হিজরতের ওপর অটল থাকেন। সপ্তম হিজরীর মহররম মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনে উমাইয়া যামরী (রাঃ)-কে একখানা চিঠিসহ আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশীর কাছে প্রেরণ করেন। সে চিঠিতে তিনি উম্মে হাবিবাকে বিয়ে করার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন। নাজ্জাশী উম্মে হাবিবার সম্মতি সাপেক্ষে তাকে বিয়ে দেন এবং শোরাহবিল ইবনে হাসানার সাথে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলআইহি ওয়াসাল্লাম’র কাছে প্রেরণ করেন। তিনি হিজরী ৪৪ সনে, ৭৪ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

১০। হযরত সাফিয়া বিনতে হুয়াই (রাঃ)

তিনি ছিলেন বনী ইসরাইল সম্প্রদায়ের, খায়বারের যুদ্ধে বন্দী হন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্যে পছন্দ করেন এবং মুক্ত করে তাকে বিয়ে করেন। সপ্তম হিজরীতে খায়বার বিজয়ের পর এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি ৫০ হিজরী সনে, ৮২ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

১১। হযরত মায়মুনা বিনতে হারেস (রাঃ)

তিনি ছিলেন উম্মুল ফযল লুবাবা বিনতে হারেসের বোন। সপ্তম হিজরীর যিলকদ মাসে ‘কাযা ওমরা’ শেষ করে, সঠিক অভিমত অনুযায়ী এহরাম থেকে হালাল হবার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিয়ে করেন। তিনি ৫১ হিজরী সনে, ৮৭ বছর বয়সে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।

দাসীদের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র দু’জন দাসী ছিলেন। তাদের একজন হচ্ছেন মারিয়া কিবতিয়া। তৎকালীন মিসরের শাসনকর্তা মোকাওকিস তাকে উপঢৌকন হিসেবে প্রেরণ করেণ। তার গর্ভ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র পুত্র হযরত ইবরাহীম জন্ম নেন। তিনি দশম হিজরীর ২৮ অথবা ২৯ শে শাওয়াল মাসে, ৪৭ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

এছাড়াও অন্য একজন দাসীর নাম ছিলো রায়হানা, তিনি বনু নযির বা বনু কোরায়যা গোত্রভূক্ত। যুদ্ধবন্দীদের সাথে তিনি মদিনায় আসেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রায়হানাকে পছন্দ করে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। তাঁর সম্পর্কে গবেষকদের ধারণা হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দাসী হিসেবে রাখেননি; বরং মুক্ত করে বিয়ে করেন। আল্লামা ইবনে কাইয়েম লিখেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রায়হানাকে দাসী হিসেবেই রেখেছিলেন। আবু ওবায়দা এ দু’জন দাসী ছাড়াও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র আরো দু’জন দাসীর উল্লেখ করেছেন। তাদের একজনের নাম ছিল জামিলা। তিনি এক যুদ্ধে গ্রেফতার হন। অন্য একজন দাসীকে নবী সহধর্মিণী হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হেবা করে দেন।

রাসূল (সা.)-এর অধিক বিয়ের কারণ নিম্নরূপ:

রাসূলের (সা.) এর অধিক বিয়ে কী জৈব চাহিদা মেটানোর জন্য করেছেন? রাসূলের জীবনের ধারাগুলো নিয়ে গবেষণা করার পর যে ফল বের হয়; তখন রাসূলের যৌন চাহিদা অনেকটা কমে গিয়ে ছিল। যুক্তিনির্ভর প্রমাণ হলো;
১। রাসূল ২৫ বছর পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন।
২। ২৫ বছর বয়স (যৌবনের উত্তেজনা কালে) থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত একজন বিধবা যিনি রাসূল (সা.) থেকে ১৫ বছরের বড়, যার পূর্বে আরো দুটি বিয়ে হয়েছিল, এবং সন্তানও রয়েছে, এমন নারীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন।
৩। ৫০ বছর বয়স থেকে ৫২ বছর এই দুই বছর একাকিত্বের জীবন-যাপন করেন তাঁর প্রথমা স্ত্রীর শোকে ও বিষণ্নতার কারণে।
৪। ৫২ বছর বয়স থেকে ৬০ বছর বয়সে রাসূল (সা.) অনেকগুলো বিয়ে করেন, কয়েকটি কারণে; যথা রাজনৈতিক, সামজিক ও ধর্মীয় কাজের আঞ্জাম দেওয়ার জন্য।

ইসলাম বিদ্বেষীরা বলে বেড়ায়, যে রাসূল (সা.) নিজের জৈবিক জাহিদা পূরণের জন্য একাধিক বিয়ে করেছেন। তাদেরকে লক্ষ্য করে বলছি; যিনি যৌবনের উত্তেজনা কালে মাত্র একজন বিধবা নারীর সঙ্গে কাটিয়ে দিলেন; হঠাৎ করে ৫২ বছর বয়সে কী যৌবনকাল ফিরে আসলো!? এটাও কি সম্ভব যে, যদি তিনি নারী পাগল (নাউযুবিল্লাহ) লোক হতেন! কি করে এমন একজন নারীকে বিয়ে করলেন যার পূর্বে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তাঁর ২৫ বছর ঘর-সংসার করলেন, আর কাউকে বিয়ে করলেন না। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সম্মানে দুটি বছর অন্য কাউকে বিয়ে করলেন না। অথচ রাসূল (সা.) কে দুনিয়ার ৪০ জন পুরুষের যৌন শক্তি দেওয়া হয়েছিল।

অতঃপর রাসূল (সা.) সাওদা বিনতে যাম‘আকে বিয়ে করেন, যার বয়স ছিল ৮০ বছর। (তিনি ইসলামের প্রথমা বিধবা নারী) তিনি সাওদা (রা.) কে বিয়ে করে বিধবাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলেন কোন সাহাবাকেও বিয়ে করতে বললেন না, যাতে করে রাসূলের আদর্শ থেকে সাহবাগণ আমল করতে পারেন।

রাসূলের (সা.) বিয়েকে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: ১. মুহাম্মাদ ব্যক্তি হিসেবে বিয়ে করেছেন খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদকে ২. মুহাম্মাদ রাসূল হিসেবে বাকী স্ত্রীদের বিয়ে করেছেন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) তিনি একাই কি একাধিক বিয়ে করেছেন না অন্য আরো কেউ একাধিক বিয়ে করেছেন? হ্যাঁ আরো কয়েকজন নবী একাধিক বিয়ে করেছেন। যেমন: ইবরাহীম (আ.) দাউদ (আ.) সুলাইমান (আ.) এর বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে অবতীর্ণ ঐশীগ্রন্থেও আলোচিত হয়েছে। তবুও কেন পশ্চিমা বিশ্ব গলা ফাটান? তারা যে সব কিতাব মানেন তাদের কিতাবেও এর বর্ণনা রয়েছে।

রাসূল (সা.) একাধিক বিয়ের কারণ আমরা উপরে আলোচনা করেছি, যে তিনি রাজনৈতিক, সামজিক ও ধর্মীয় কাজের আঞ্জাম দেওয়ার জন্যই একাধিক বিয়ে করেছেন। ইসলামের প্রচার ও অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালনের জন্য লোকের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, সে জন্য রাসূলের নিকট লোকজনের আনাগুনা হওয়া দরকার। তাই রাসূল (সা.) একাধিক বিয়ে করে স্ত্রীদের মাধ্যমে ইসলামী দাওয়াত প্রচারের ব্যবস্থা করেন। আল্লাহর নির্দেশে রাসূল (সা.) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) কে বিয়ে করেন, যখন তিনি ছোট ছিলেন। কারণ বাল্যকালই শিক্ষা গ্রহণের সময়, এ সময় সহজেই অনেক জ্ঞান অর্জন করা যায়। বলা হয় ‘বাল্যকালে শিক্ষাগ্রহণ পাথরে চিত্রাঙ্কণের ন্যায় মজবুত হয়’। রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের পরও তিনি ৪২ বছর জীবিত ছিলেন এবং ইসলামী জ্ঞান প্রচার করেছেন। হযরত আয়েশা থেকে ২২১০ টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবার অনেকে বলাবলি করে থাকে যে, ৯ বছরের কিশোরীর সঙ্গে ঘর-সংসার করেছেন! দেখুন তৎকালে রোম ও পারস্যে এই বয়সের মেয়েদের বিয়ে হতো, কেউ তখন নাক গলাতেন না। পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য রাসূল (সা.) আবু বকর ও ওমরের মেয়েকে বিয়ে করেন এবং নিজের দুই মেয়েকের পরস্পর ওসামনের নিকট বিয়ে দেন। তিনি বিধবাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে বিয়ে করেন সাওদা বিনতে যাম‘আ ও উম্মে সালামা এবং উম্মে হাবীবাকে। ইসলামের ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন বলে ইসলামী ঐতিাহসিকগণ বর্ণনা করেছেন। এভাবে রাসূল (সা.) ইসলাম প্রচার কাজে সহযোগিতার জন্যই একাধিক বিয়ে করেন। রাসূল (সা.)-এর একাধিক বিয়ের কারণ না জানলে আমরা বিষয়টি সমাধান করতে পারবো না। তাই প্রত্যেকের উচিত বিষয়গুলো ভালভাবে অনুধাবন করা।

আদর্শ রাষ্ট্র নায়ক মুহাম্মদ (সাঃ)

মুহাম্মদ তারেকুজ্জামান খান ফাহাহীল, কুয়েত।

* উপস্থাপনা ঃ পৃথিবীর সূচনা লগ্ন থেকে অদ্যাবদি এর রাষ্ট্র শাসকদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, যে সব গুণাবলীর ভিত্তিতে কোনো শাসককে আদর্শ হিসেবে পরিগণিত করা হয়, সেই নিরিখে বিশ্বের কোনো কোনো শাসক কোনো কোনো দেশে কিঞ্চিৎ কিংবা আংশিকভাবে সফল হলেও তাদের কেউ-ই আদর্শ রাষ্ট্র শাসক হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারেননি। যারা আদর্শ শাসকের কাতারেই আসতে পারেননি, তাদের কেউতো আদর্শ রাষ্ট্র নায়ক হবার প্রশ্নই অবান্তর। Continue reading আদর্শ রাষ্ট্র নায়ক মুহাম্মদ (সাঃ)

এ যুগের বিপ্লবী হবে তোমরা

ইউসুফ আলী
ওহে কওমের নেতা! ধর হাল শক্ত হাতে,
গাড়াও তোমার খুটি আবু বকরের খুটির শক্তিতে।
ডরিওনা কভু যদিও মরণ হয় তবু,
ধৈর্য ধরে কাজ কর হকের তরে সাহায্য করবে প্রভূ।
মুনাফিক করছে ফন্দি অজ্ঞাত নদোয়ায়,
চোখ কান খোলা রেখে চলতে হবে তোমায়।
ওহে কালিমার মুহাফিজ!
উড়াও কালিমার তায়্যিবার ঝাণ্ডা।
তুলে ধ্বনি আল্লাহু আকবার,
বাজাও তোমার নব রণ ঘণ্টা।
শুন পেতে কান, বেলাল হাকিছে আযান,
আস্সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম,
ঝেড়ে ফেলে নিঁদ জেগে ওঠ মুসলিম উম্মাহ,
ইন্তেযার করছে নয়া জামানার ইমাম।
ওহে সত্যের সৈনিক!
হতে হবে শাণদার তরবারি সমো।
বাতিলের তরে বিষাক্ত তীর,
ধ্বংসিতে হবে সব জুলুম নিপিড়ণ,
আর ভাঙ্গিতে হবে গোলামীর জিঞ্জির।
জাহিলী যুগের আধাঁরে ফের আসিয়াছে ধরা,
জন্মিবে না আর কোন আবু বকর-
ওমর, উসমান, ও আলী (রা.)
ওহে নওজোয়ান হও আগুয়ান,
এ যুগের বিপ্লবী হবে তোমরাই।

তুমিও একদিন বৃদ্ধ হবে

এত দিন ছিলে বাপের আদরে, মায়ের স্নেহের খনি,
এ ঘরে ও ঘরে ঘুরে বেড়াতো, আমাদের সোনামণি।
যখন যা চাইতো মনে ‘মা’ জান দিতো এনে,
আদরে সোহাগে রাখতো সদা বুকের মধ্যে টেনে।

হরেক রকম বায়না ধরে বলতো মায়ের কাছে,
এনে দিতো সবকিছুই যেখানে যা আছে।
জানতে তুমি বাবার পকেটে, আছে কি বা নাই,
এখনই আমায় দিতে হবে, এখনই তা চাই।

বাবার পকেট যদিও খালি মায়ের মুষ্টি চাল,
বিক্রি করে জামা জুতো এনে দিয়েছে কাল।
এমনিভাবে জনক জননী অতীত ও বর্তমান,
সন্তানের তরে কাঁদে তাদের, সারাটি জীবন প্রাণ।

মল-মূত্র গায়ে লাগলে মুছে দিতো ত্বরা করে,
আগুন পানিতে না যায় যেন রাখতো চোখের পরে।
বাপ মা না খেয়ে, আমাদের খাওয়ায়ে রাখছেন সদা খুশি,
রোগে শোকে সেবা করতেন, শিহরে মোদের বসি।

ঘুম না এলে ঘুম পড়াতেন, মাথায় বুলিয়ে হাত,
এমনিভাবে কেটেছে মায়ের অনিদ্রায় কত রাত।
সেই পিতা মাতার কথা ভুলে গিয়েছি হয়েছি যখন বড়ো,
কথায় কথায় ধমক দিয়ে বলি, তোমরা কী বুঝো? সরো।

তোমাদের চেয়ে কম বুঝি না, জ্ঞান কী মোদের কম?
তোমরা এখন বুড়োধুড়ো মানুষ, বুঝোইনা একদম।
বিয়ে-শাদী করে এখন আমরা দূরে গিয়েছি সরে,
আমরা খাই কোর্মা পোলাও, ‘বাপ-মা’ না খেয়ে মরে।

ছেলের পরনে দামী দামী শার্ট মায়ের ছেড়া শাড়ী,
বাবার পরনে শত তালি দেওয়া জামা লয়না খবর তারি।
বাপ মা খাওয়ালে কম পড়ে যাবে! হতে পারবো না বড়লোক,
বাপ মা থেকে তাই, আলাদা থাকি, করছি যোগ-বিয়োগ।

হায়রে মানুষ কি আশা-ভরসা নিয়ে আছে যে, দুনিয়ায়,
চোখ বুঝিলে কে কোথায় যাবে, খবর কে তার পায়?
কোথায় থাকবে ধন সম্পদ আর, কোথায় বাড়ি-ঘর,
স্বার্থ লোভে সব ভুলে যায়, আপন করে পর।

ধন সম্পদে কাজ হবে না, বাবা মায়ের কষ্ট থাকলে মনে,
আল্লাহ ও রাসূল হবে বিমুখ, দোযখ সম্মুখ পানে।
স্রষ্টার পরে পিতা-মাতা সকল ধর্মে কয়,
প্রভূর বিধান মেনে চললে জান্নাত পাবে নিশ্চয়।

তুমিও একদিন বৃদ্ধ হবে, ভাঙবে সেদিন ভুল,
বাবা মায়ের শোকে সেদিন ছিড়বে মাথার চুল।
লাভ হবে না কিছুই তাতে বৃথা চোখের জল,
পিতা মাতার সেবা করো, পাবে তাহার ফল।

এখনো সময় আছে, পিতা-মাতা যাদের আছে দুনিয়াতে,
তাদের মনে আঘাত দিওনা, খুশি হবে প্রভূ তাতে।