প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: ভারত উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, পকিস্তান, ইণ্ডিয়া প্রভৃতি দেশে শবে মে‘রাজ, শবে বরাত, শবে কদর সময় দিন-রাতে খাওয়া-দাওয়ার বিশেষ আয়োজন করা হয়, তা ছাড়া যিকির ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। এইতো কিছু দিন পূর্বে শবে বরাত গেল। এ সময় কুয়েতের ‘গ্রীন’ এরিয়ার মসজিদের ইমাম বললেন, শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কোন ইবাদত করলে বেদ‘আত হবে! অথচ আমি নিজেও শবে বরাত উপলক্ষে তিনটি রোযাসহ নামায দোয়া পালন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ
আরবেরটা না দেখে যদি বাংলাদেশেরটা দেখি বেদ‘আত হবে কেন? মানুষতো এমনিতেই ইবাদত বন্দেগি করে না, অতএব আল্লাহর কাছে ছাওয়াবে উদ্দেশ্যে যদি কেউ শবে বরাতে বা মে‘রাজে রোযা-নামায পালন করে, এই ইবাদত কী বেদ‘আত হবে? কুয়েতী ইমাম সাহেবসহ অন্যান্যরা বলছেন; এমন ইবাদত রাসূল ও তাঁর সাহাবা থেকে প্রমাণিত না। এখানে আমার প্রশ্ন হলো, তাহলে কিভাবে সারা পৃথিবীতে শবে মে‘রাজ ও শবে বরাতের গুরুত্ব প্রচার হলো? আচ্ছা যদি ঐ দিনগুলোতে ফযীলতের উদ্দেশ্যে রোযা-নামায আদায় করলে মানুষের অন্তরে ইসলামের বড়ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, এই নিয়তেও কি ইবাদত করা যাবে না? বিষয়টির সঠিক উত্তর প্রদান করে আমাদের উপকৃত করবেন।
মুহাম্মাদ নিজামুদ্দীন ‘গ্রীন’ কুয়েত

উত্তরঃ আল-কুরআনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ নেই। শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন কোন আকৃতিতে শব্দটি কুরআন মাজীদে খুঁজে পাবেন না। সত্য কথাটাকে সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় পবিত্র কুরআন শরীফে শবে বরাতের কোন আলোচনা নেই। সরাসরি তো দূরের কথা আকার ইঙ্গিতেও নেই।
অনেককে দেখা যায় শবে বরাতের গুরুত্ব আলোচনা করতে যেয়ে সূরা দুখানের প্রথম চারটি আয়াত পাঠ করেন। আয়াতগুলোর অর্থ হল ঃ হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমিতো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ১-৪)
শবে বরাত পন্থী আলেম উলামারা এখানে বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন। এখানে স্পষ্টভাবেই বলা যায় যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন বড় ভুল করেন যা আল্লাহর কালাম বিকৃত করার মত অপরাধ। কারণ ঃ (এক) কুরআন মাজীদের এ আয়াতের তাফসীর বা ব্যাখ্যা সূরা আল-কদর দ্বারা করা হয়। সেই সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন ঃ আমি এই কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য মালাইকা (ফেরেশ্তাগণ) ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শান্তি ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কাদর, ১-৫)
অতএব বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল বারায়াত নয়। সূরা দুখানের প্রথম চার আয়াতের ব্যাখ্যা হল এই সূরা আল-কদর। আর এ ধরনের ব্যাখ্যা অর্থাৎ আল-কুরআনের এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা করা হল সর্বোত্তম ব্যাখ্যা। সুতরাং শবে মে‘রাজ, শবে বরাত, শবে কদর এসব দিন রাতে খাওয়া-দাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা ইসলাম সম্মত নয়। প্রথমত শবে মে‘রাজ ও শবে বরাত এই দুই রাতে বিশেষ কোন আমলও নাই। যা নিম্নে আমরা দলিল ভিত্তিক আলোচনা করবো, ইনশা আল্লাহ। কদর রজনীতে ইবাদত বন্দেগী করার কথা কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কুরআনের কথা তো উপরে আলোচনা করা হয়েছে: এবার শুনুন রাসূলের হাদীসের কথা:
প্রশ্ন থেকে যায় হাদীসে কী লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত নেই? সত্যিই হাদীসের কোথাও আপনি শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত নামের কোন রাতের নাম খু্ঁেজ পাবেন না। যে সকল হাদীসে এ রাতের কথা বলা হয়েছে তার ভাষা হল ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত্রি। শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত শব্দ আল-কুরআনে নেই, হাদীসে রাসূলেও নেই। এটা মানুষের বানানো একটা শব্দ। ভাবলে অবাক লাগে যে, একটি প্রথা ইসলামের নামে শত শত বছর ধরে পালন করা হচ্ছে অথচ এর আলোচনা আল-কুরআনে নেই। সহীহ হাদীসেও নেই। অথচ আপনি দেখতে পাবেন যে, সামান্য নফল ‘আমলের ব্যাপারেও হাদীসের কিতাবে এক একটি অধ্যায় বা শিরোনাম লেখা হয়েছে।
ফিকহের কিতাবে শবে বরাত
শুধু আল-কুরআনে কিংবা সহীহ হাদীসে নেই, বরং আপনি ফিক্হের নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলো পড়ে দেখুন, কোথাও শবে বরাত নামের কিছু পাবেন না। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বীনি মাদ্রাসাগুলিতে ফিক্হের যে সিলেবাস রয়েছে যেমন মালাবুদ্দা মিনহু, নুরুল ঈজাহ, কুদুরী, কানযুদ্ দাকায়েক, শরহে বিকায়া ও হিদায়াহ খুলে দেখুন না! কোথাও শবে বরাত নামের কিছু পাওয়া যায় কিনা! অথচ আমাদের পূর্বসূরী ফিকাহবিদগণ ইসলামের অতি সামান্য বিষয়গুলো আলোচনা করতেও কোন ধরনের কার্পণ্যতা দেখাননি। তারা সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণের সালাত সম্পর্কেও অধ্যায় রচনা করেছেন। শবে বরাতের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহর সামান্যতম ইশারা থাকলেও ফিকাহবিদগণ এর আলোচনা মাসয়ালা-মাসায়েল অবশ্যই বর্ণনা করতেন।
অতএব এ রাতকে শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত অভিহিত করা মানুষের মনগড়া বানানো একটি বিদ‘আত যা কুরআন বা হাদীস দ্বারা সমর্থিত নয়।
এবার আসছি এ রাতে ইবাদত প্রসঙ্গে:
শাবানের মধ্যরাত্রি পালন করার কি হুকুম এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে তিনটি মত রয়েছে:
এক. শাবানের মধ্য রাত্রিতে মাসজিদে জামাতের সাথে নামায ও অন্যান্য ইবাদত করা জায়েয। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী খালেদ ইবনে মিদান, লুকমান ইবনে আমের সুন্দর পোশাক পরে, আতর-খোশবু, শুরমা মেখে মাসজিদে গিয়ে মানুষদের নিয়ে এ রাত্রিতে নামায আদায় করতেন। এ মতটি ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়ীয়াহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। (লাতায়েফুল মাআরেফ পৃঃ১৪৪)।
তারা তাদের মতের পক্ষে কোন দলীল পেশ করেননি। আল্লামা ইবনে রাজাব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাদের মতের পক্ষে দলীল হিসাবে বলেনঃ তাদের কাছে এ ব্যাপারে ইসরাইলি তথা পূর্ববর্তী উম্মাতদের থেকে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছিল, সে অনুসারে তারা আমল করেছিলেন। তবে পূর্বে বর্ণিত বিভিন্ন দুর্বল হাদীস তাদের দলীল হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকবে।
দুই. শাবানের মধ্যরাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত বন্দেগী করা জায়েয। ইমাম আওযায়ী, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, এবং আল্লামা ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম) এ মত পোষণ করেন।
তাদের মতের পক্ষে তারা যে সমস্ত হাদীস দ্বারা এ রাত্রির ফযীলত বর্ণিত হয়েছে সে সমস্ত সাধারণ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করাকে জায়েয মনে করেন।
তিন. এ ধরণের ইবাদত সম্পূর্ণরূপে বিদআত, চাই তা ব্যক্তিগতভাবে হোক বা সামষ্টিকভাবে। ইমাম আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইবনে আবি মুলাইকা, মদীনার ফুকাহাগণ, ইমাম মালেকের ছাত্রগণ, ও অন্যান্য আরো অনেকেই এ মত পোষণ করেছেন। এমনকি ইমাম আওযায়ী যিনি শাম তথা সিরিয়াবাসীদের ইমাম বলে প্রসিদ্ধ তিনিও এ ধরনের ঘটা করে মাসজিদে ইবাদত পালন করাকে বিদআত বলে ঘোষণা করেছেন।
তাদের মতের পক্ষে যুক্তি হলো :
১. এ রাত্রির ফযীলত সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন দলীল নেই। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ রাত্রিতে কোন সুনির্দিষ্ট ইবাদত করেছেন বলে সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়নি। অনুরূপভাবে তার কোন সাহাবী থেকেও কিছু বর্ণিত হয়নি। তাবেয়ীনদের মধ্যে তিনজন ব্যতীত আর কারো থেকে বর্ণিত হয়নি।
আল্লামা ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ শাবানের রাত্রিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অথবা তার সাহাবাদের থেকে কোন নামায পড়া প্রমাণিত হয়নি। যদিও শামদেশীয় সুনির্দিষ্ট কোন কোন তাবেয়ীন থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। (লাতায়েফুল মাআরিফঃ১৪৫)।
শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ এ রাত্রির ফযীলত বর্ণনায় কিছু দুর্বল হাদীস এসেছে যার উপর ভিত্তি করা জায়েয নেই, আর এ রাত্রিতে নামায আদায়ে বর্ণিত যাবতীয় হাদীসই বানোয়াট, আলেমগণ এ ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন।
২. হাফেজ ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) যিনি কোন কোন তাবেয়ীনদের থেকে এ রাত্রির ফযীলত রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ ঐ সমস্ত তাবেয়ীনদের কাছে দলীল হলো যে তাদের কাছে এ ব্যাপারে ইসরাইলি কিছু বর্ণনা এসেছে।
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, যারা এ রাত পালন করেছেন তাদের দলীল হলো, যে তাদের কাছে ইসরাইলি বর্ণনা এসেছে, আমাদের প্রশ্নঃ ইসরাইলি বর্ণনা এ উম্মাতের জন্য কিভাবে দলীল হতে পারে?
৩. যে সমস্ত তাবেয়ীনগণ থেকে এ রাত উদযাপনের সংবাদ এসেছে তাদের সমসাময়িক প্রখ্যাত ফুকাহা ও মুহাদ্দিসীনগণ তাদের এ সব কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। যারা তাদের নিন্দা করেছেন তাদের মধ্যে প্রখ্যাত হলেনঃ ইমাম আতা ইবনে আবি রাবাহ, যিনি তার যুগের সর্বশ্রেষ্ট মুফতি ছিলেন, আর যার সম্পর্কে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছিলেনঃ তোমরা আমার কাছে প্রশ্নের জন্য একত্রিত হও, অথচ তোমাদের কাছে ইবনে আবি রাবাহ রয়েছে।
সুতরাং যদি ঐ রাত্রি উদযাপনকারীদের পক্ষে কোন দলীল থাকত, তাহলে তারা আতা ইবনে আবি রাবাহর বিপক্ষে তা অবশ্যই পেশ করে তাদের কর্মকাণ্ডের যথার্থতা প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন, অথচ এরকম করেছেন বলে প্রমাণিত হয়নি।
৪. পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, যে সমস্ত দুর্বল হাদীসে ঐ রাত্রির ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, তাতে শুধুমাত্র সে রাত্রিতে আল্লাহর অবতীর্ণ হওয়া এবং ক্ষমা করা প্রমাণিত হয়েছে, এর বাইরে কিছুই বর্ণিত হয়নি। মূলতঃ এ অবতীর্ণ হওয়া ও ক্ষমা চাওয়ার আহবান প্রতি রাতেই আল্লাহ তা‘আলা করে থাকেন। যা সুনির্দিষ্ট কোন রাত বা রাতসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।  এর বাইরে দুর্বল হাদীসেও অতিরিক্ত কোন ইবাদত করার নির্দেশ নেই।
৫. আর যারা এ রাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে আমল করা জায়েয বলে মন্তব্য করেছেন তাদের মতের পক্ষে কোন দলীল নেই, কেননা এ রাত্রিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বা তার সাহাবা কারো থেকেই ব্যক্তিগত কিংবা সামষ্টিক কোন ভাবেই কোন প্রকার ইবাদত করেছেন বলে বর্ণিত হয়নি।
এর বিপরীতে শরীয়তের সাধারণ অনেক দলীল এ রাত্রিকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে, তন্মধ্যে রয়েছেঃ
আল্লাহ বলেনঃ “আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম”। (সূরা আল-মায়েদাহঃ ৩)।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ (যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাবে যা এর মধ্যে নেই, তা তার উপর নিক্ষিপ্ত হবে)। (বুখারী, হাদীস নং ২৬৯৭)।
অতএব এই দীর্ঘ আলোচনা হতে এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে, কাউকে ইবাদতের প্রতি আগ্রহী করার জন্য কিংবা মনে চাইলো তাই এই রাতে ইবাদত করবো, বা পূর্বসূরীরা করেছেন তাই করবো, এমন কথা বা আমল ইসলাম সম্মত নয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহীহ  আমল করার তাওফিক দান করুন আমীন।
প্রশ্ন: আমি যেখানে কাজ করি তার পাশে মাগরিব ও এশার নামাযের জামায়াত হয় কিন্তু কখনই আযান হয় না। আমার প্রশ্ন হলো আযান ছাড়া নামায ও জামায়াত আদায় হবে কিনা? হাদীসের আলোকে জানাবেন। আবু মোস্তাফা, সুক সালা-কুয়েত
উত্তর: আযান শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ঘোষণা করা। আর ইসলামী পরিভাষায় আযান বলা হয় নির্দিষ্ট কিছু বাক্য দ্বারা ফরয নামাযের প্রতি আহ্বান করা। নামাযের সময় আযান দেওয়া কেউ বলেছেন: ফরজে কেফায়া, আবার কেউ বলেছেন: সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।  তবে রাসূল (সাঃ) মুকীম ও সফর উভয় অবস্থায় আযান দিয়ে নামায পড়তে বলেছেন। হ্যাঁ আযান দেওয়া যেহেতু ফরজে কেফায় তাই মসজিদের আযান শুনা যায় এমন জায়গায় আযান না দিয়ে শুধু ইকামত দিয়ে জামাতে নামায পড়লে নামায আদায় হবে। (ইসলাম সোয়াল ও জাওয়াব: ফতাওয়া নং ১০০৭৮)

প্রশ্ন:  পবিত্র কুরআন শরীফে অনেক জায়গায় লেখা আছে نحن  যেমন إنا نحن نزلنا الذكر و إنا له لحافظون  অর্থাৎ আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। আমার প্রশ্ন হলো إنا শব্দটা ‘আমি’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এখানে نحن যার অর্থ ‘আমরা, একবচনের সাথে বহুবচর কেন  ব্যবহার করা হলো? বিস্তারিত জানালে খুশি হবো। ধন্যবাদ। মুহাম্মাদ বেলাল হোসাইন ফরওয়ানিয়া-কুয়েত

উত্তর: আপনার মনে প্রশ্ন উদিত হয়েছে এই জন্য যে, আপনি إنا (ইন্না) কে أنا (আনা) মনে করেছেন। إنا ইন্না শব্দটি মূলত إننا ইন্নানা ছিল। ইন্না নিশ্চিত অব্যয়, যা কোন শব্দকে নিশ্চিত করণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আর  ‘না’ হচ্ছে সম্বন্ধবাচক সর্বনাম, যার অর্থ আমরা। ইন্না এবং না কে সন্ধি বিচ্ছেদ করে ইন্না করা হয়েছে। আর نحن নাহনু এটি কর্তৃবাচক সর্বনাম, যার অর্থ আমরা। সুতরাং বুঝাগেল যে, উপর্যুক্ত আয়াতে সঠিক অর্থ হবে “আমরা স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতরীর্ণ করেছি এবং আমরা নিজেই এর সংরক্ষক”। আশা করি আপনার মনের শঙ্কা দূর হয়েছে।