পিটার বেল, ২৩ বৎসরের মার্কিন যুবক, পদাতিক বাহিনীর এক সৈনিক। আমেরিকার টেক্সাস থেকে ১৯৯০ এর উপসাগরীয় যুদ্ধে কুয়েত ইরাক সীমান্তে এলেন। যুদ্ধের প্রস্তুতি তখন পুরোদমে চলছে। প্রাণচঞ্চল, উচ্ছল, উদ্যাম যুবক পিটার এই প্রথম কোন আরব দেশে এসেছেন। আরব জীবনাচার ও সংস্কৃতির ব্যাপারে তার কোন অভিজ্ঞতাই নেই।
মরুভূমির ধু ধু প্রান্তরে সামরিক তাঁবুর মধ্যেই কাটাতে হয় তাকে সারাটি দিন। সকালে একবার ও বিকেলে আর একবার কুচকাওয়াজ, শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে। তাও সেই জিমনেশিয়াম রুপী তাঁবুর মধ্যে! এখানে না আছে নাইট ক্লাব, না পানশালা, না আছে থিয়েটার, আর না বাস্কেট বল বা স্কি খেলার কোন সুযোগ! সময় কাটেনা! হাতের কাছে যে দু চারটি বই ছিল তাও পড়া শেষ। মা ভাইবোন, গার্ল ফ্রেন্ড, বন্ধু বান্ধবদের চিঠি লিখে বা লং ডিসটেন্স কল করে কিছুটা সময় কাটে। সন্ধার পরে জড়ো হয় টিভি’র সামনে। কিন্তু রাজনীতির নামে বড় বড় বক্তৃতা তার কোনদিনই ভালো লাগে না। সে চায় উদ্দাম, উচ্ছল, ধুম ধাড়াক্কা জীবন। মাঝে মাঝে টোসের বড় বড় পাহাড়ঘেরা জনপদ, বার, নাইট ক্লাব ও ডিসকোর স্মৃতী উন্মন করে তোলে তাকে!
এভাবে চলতে চলতে কয়েক দিনের মধ্যেই তার জীবন বিষিয়ে উঠল। সৈনিক জীবন রোমাঞ্চে ভরা শুনেছিল, কিন্তু বাস্তবে যে পুরো উল্টো! এরই মধ্যে একদিন হঠাৎ করে তিন চার জন আরব এলেন তাদের তাঁবুতে। সবার একই রকম ধবধবে সাদা পোশাক, পা পর্যন্ত লম্বা। মাথায়ও বিশেষ ধরনের রুমাল, কাঁধ পর্যন্ত ঝোলানো, মাথার উপরে কালো রং বৃত্তাকারের দুটো রিং। দুর থেকে দেখতে চমৎকার লাগে!
এরা কুয়েতি-সউদি নাগরিক। এদের দলনেতা চোস্ত ইংরেজিতে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করলেন। খোঁজ খবর জানতে চাইলেন। আলাপের এক পর্যায়ে এসব মার্কিন সৈন্য যখন জানালো যে, সারাদিন অলস বসে বসে কাটাতে তারা বিরক্ত হয়ে উঠেছে! একথা শুনে দলটির নেতা গোছের একজন বললেন;
‘আমরা যদি তোমাদের বই পুস্তক, পত্রিকা ইত্যাদি সরবরাহ করি, এবং বলে রাখি, এগুলো আমাদের ধর্ম বিশ্বাস, আমাদের শিক্ষা সংস্কৃতি, আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য এসব বিষয়ে নিয়ে রচিত, তোমরা কি পড়তে প্রস্তুত? তোমরা চাইলে আমরা তোমাদের সেই সব বই পুস্তক দিতে পারি, হতে পারে যে, তোমাদের অলস সময় কিছুটা হলেও কাটানোর একটা উপলক্ষ্য হয়তো পাবে। নেবে কি?’
ভদ্রলোকের কথায় যুক্তি আছে। তাছাড়া বাস্তবিকই সময় কাটানোটা এখানে এখন একটা বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব নতুন কিছু জানতে দোষ কি? অন্তত নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি তো সমৃদ্ধ হবে! অতএব একদল মার্কিন সৈন্য সানন্দে রাজী হয়ে গেল। আরবীয় ভদ্রলোকেরা তখনই কিছু বই পুস্তক ধরিয়ে দিলেন এবং নিয়মিত আরও সরবরাহের আশ্বাসও দিলেন।
এই প্রতিনিধি দলটি ছিল কুয়েতের বিখ্যাত ইসলাম প্রচার সংস্থা, আই পি সি’র, যাঁরা ইরাক কর্তৃক কুয়েত দখল হয়ে যাবার পরে সউদি আরবের বিভিন্ন শহরে বসেই তাদের প্রচার কাজ চালাচ্ছিলেন।
প্রতিনিধি দলটি সোৎসাহে মার্কিন সৈন্যদের তাঁবুতে এ জাতীয় পুস্তিকা, লিটারেচার সরবরাহ চালু রাখলেন। প্রথম প্রথম খুব বেশি পাঠক পাওয়া না গেলেও অচিরেই দেখা গেল এসব বই পত্রের চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেল। এবং উল্লেখযোগ্য সংখক মার্কিন-ফরাসী সৈনিক এসব বই পড়ছে নিয়মিত। তারা যে এগুলো যথেষ্ট মনযোগের সাথেই পড়ছে, তা বোঝা যায় যখন পরবর্তী কোন সাক্ষাতেই প্রতিনিধি দলটিকে তাদের মনে জমে থাকা বিভিন্ন প্রশ্ন করে, আরও বিস্তারিত জানতে চায়। আল্লাহ, তাঁর রাসূল, কেয়ামত নামাজ মৃত্যু ইত্যাদি বিষয়ে হরেক রকেমর প্রশ্ন!
তাদের আগ্রহ দেখে প্রচারকরা বললেন, তোমরা কি চাও কোন এক্সপার্টের মুখে তোমাদের এসব প্রশ্নের উত্তর শোন? যদি চাও তবে আমরা সে ব্যবস্থাও করতে পারি! সৈনিকরা সমস্বরে আওয়াজ তুলে বলল, যদি পারো তবে তাই করো। ঠিক হলো, মাসে একদিন কোন প্রথিতযশা এক্সপার্ট দিয়ে তাদের এসব প্রশ্নের জবাব দানের ব্যবস্থা করবে আই পি সি কর্তৃপক্ষ।
এর পরে তাই চলল, মাসের একটি দিন আধা ঘন্টা বিরতিসহ মোট তিন ঘন্টার অনুষ্ঠান। বক্তারা ইসলামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এক ঘন্টার বক্তৃতা দেন, তার আলোকে আধাঘন্টার বিস্তারিত ব্যাখ্যা, আধাঘন্টার বিরতি আর এর পরে আবার এক নাগাড়ে দেড় ঘন্টার বিরতিহীন প্রশ্নোত্তর।
কিন্তু দু’মাস না যেতেই সমস্যা দেখা দিল। বর্তমান লেখার নায়ক পিটার বেলসহ সমবয়স্ক একদল সৈন্য দাবী জানিয়ে বসল তাদের জন্য মাসে একবার যে প্রশ্নোত্তর এর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। তারা অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জেদ ধরে বসল। বাচ্চাদের মত অনুনয় বিনয় আরম্ভ করল। অবশেষে স্থানীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইপিসি প্রতি সপ্তাহেই এধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো, তবে সময় কমিয়ে দেড়ঘন্টা করা হলো।
দেখতে দেখতে অংশগ্রহনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেল অস্বাভাবিকভাবে! ধু ধু মরুভূমির বালুকাময় প্রান্তরে সামরিক তাঁবুতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল মাদ্রাসা, শেখানো হয় ইসলাম কিন্তু ছাত্র সকলেই অমুসলিম!
মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড: জগলুল নাজ্জার এলেন একবার আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। তিনি পর পর দু সপ্তাহ আলোচনা উপস্থাপন করলেন মার্কিন সৈন্যদের উদ্দেশ্যে। আলোচনার বিষয়, ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের পারস্পরিক সম্পর্ক। অত্যন্ত তথ্য ও যুক্তি নির্ভর এ আলোচনায় ড: জগলুল তাঁর বক্তব্য তুলে ধরলেন। জবাব দিলেন প্রতিটি প্রশ্নের। অনেকে অনেক প্রশ্ন করল। পিটার বেল এক কোণায় বসে মন দিয়ে শুনছিল। একটা কথাও বলেনি সে। একটা প্রশ্নও করেনি। তবে এমনভাবে বসে আছে যেন পৃথিবীর আর কোন কিছুর প্রতিই তার কোন খেয়াল নেই!
এবার সে শান্তভাবে উঠে দাঁড়ালো, সরাসরি ড: জগলুলকে প্রশ্নটি করল,
‘ জনাব আপনি কি নিশ্চিত যে, কোন কিছুই মৃত্যুর পরে হিসাবের বাইরে রবে না ?
প্রফেসর জগলুল আলোচনায় বেশ যুক্তি দিয়ে, কুরআন হতে দলিল চয়ন করে বলেছিলেন, আমরা মুসলমান বা খৃস্টান বা ইহুদী বা অন্য যে কোন ধর্মেরই হই না কেন, মৃত্যুর পরে যে জীবন, সে জীবনে আমাদের সকলের এ জগতে করে যাওয়া সকল কাজ ও কথার যুক্তিগ্রাহ্য জবাব দিতে হবে। তিনি তাঁর হাতের শাহাদাত আঙ্গুলি উঁচিয়ে অত্যন্ত জোরের সাথেই বলে ছিলেন Nothing will go unaccounted for !
এই কথাটিই পিটারের মনে আলোড়ন তোলে। সেই দিনই পিটার বেল’সহ ষোলজন মার্কিন সৈন্য তাদের নাম তালিকাভুক্তি করে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমান হয়ে যায়। পুরো প্রথম গালফ ওয়ারের প্রায় এগারো মাস সময়কালে কুড়ি হাজারেরও বেশি মার্কিন ও ফরাসী সৈন্য ইসলাম গ্রহন করে! এদের অধিকাংশই মার্কিন সৈন্য।
১৯৯৮ সালে হঠাৎ করে কায়রোতে ড: জগলুলের হাতে একটি চিঠি আসে। টেস্কাস হতে আ: সালাম বেল নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন। ১৯৯০ সালে ধর্মান্তরিত পিটার বেলই আজকের আ: সালাম বেল!
তাঁর চিঠির সারাংশ হলো, টেস্কাসে ফিরে তিনি এখনও আল্লাহ্ রহমতে মুসলমানই আছেন, অনাকাঙ্খিত সামাজিক ও পারিবারিক চাপ সত্ত্বেও! তাঁর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তাঁর মা, ভাই-ভাবীসহ কিছু পাড়া প্রতিবেশী ইসলাম সম্বন্ধে মনযোগ সহকারে শুনতে প্রস্তুত। ড. জগলুল যদি একবার দয়া করে টেক্সাসে তাঁর অতিথি হন, সেই আট বৎসর আগে মুরুভূমির বুকে দেয়া সেই বক্তব্যটাই আবার তুলে ধরেন, তাহলে হয়ত কোন বিষ্ময়কর ফল ঘটতেও পারে! বেশ কয়েকটি ই-মেইলও এলো! যাবতীয় ব্যয় ভার বহনের প্রতিশ্রুতি’সহ !
বারংবার অনুরোধের ফলে ড. জগলুল ১৯৯৮ সালের ৩রা নভেম্বর সেখানে গেলেন। ভালো করে চেহারাও মনে নেই, আট নয় বৎসর আগে দেখা যুবকের। অনেক চেষ্টা করেও তিনি তার চেহারা মনে করতে পারলেন না। তাই তিনি টেক্সাসে যখন আ: সালামকে দেখলেন, তখন একটু অবাকই হলেন! লাল টুক টুকে চেহারা, থুতনির নিচে কয়েকটা লালচে দাঁড়ি। ধীর স্থীর আ: সালাম খুশীতে আটখানা হয়ে একে একে সবার সাথেই ড. জগলুলকে পরিচয় করিয়ে দিলেন,
‘ইনি সেই প্রফেসর! যাঁর কাছে আমি ইসলাম শিখেছি!’
তাঁর মা, ড: জগলুলকে জানালেন ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে ঐ সবচেয়ে ছোট, কিন্তু খুব দুষ্ট, দুরন্ত ছিল! তাঁদের সেই বেয়াড়া, দুরন্ত সদা উচ্ছল পিটার কি ভাবে বদলে গেল ! সব সময় যেন সে এক গভীর ভাবাবেগের মাঝে নিবিষ্ঠ হয়ে থাকে। সবার মাঝে থেকেও সে যেন সবার থেকেই আলাদা! দেখলে মনে হবে যেন ওর মাথায় কোন পাখী বসে আছে, নড়লেই উড়ে যাবে!
ভাই বললেন; ‘কত করে বুঝালাম, কত ভয় দেখালাম, কত প্রলোভন! কিন্তু সে অনড় অটল! জবাব দিল, তোমাদের অসুবিধা হলে বলো আমি অন্যত্র চলে যাই কিন্তু আমাকে ইসলাম ছাড়তে বলো না!’ বাপ মরা আমার বড় আদরের ছোট ভাই, চোখের আড়াল হয়ে দুরে চলে যাক, তা চাইনি, তাই ওকে ওর রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছি! তবে প্রফেসর, স্বীকার করতেই হবে যে, সে চমৎকার একটা মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে! আমরা তাকে দেখি, আর অবাক বিষ্ময়ে হয়ে যাই!
তাঁর প্রাক্তন এক বান্ধবীর সাথে পরিচিত হলেন ড: জগলুল। সে বললো, জানো প্রফেসর! যুদ্ধ হতে ফিরে এসে সে আমার দিকে আজ পর্যন্ত চোখ তুলে তাকায়নি! আমি তাকে অতিতের মত আবার ডেটিং এ ডাকলে সে খুব ভদ্রভাবে তা এড়িয়ে গেছে। বলেছে,
আমার সে জীবন নয়, আমি সে পথের যাত্রী নই! আমাকে ক্ষমা করো, আর কখনেই আমাকে এ পথে ডেকোনা! ভুলে যাও সে সব কথা, আর যদি ভুলতে না পার বা না চাও, তবে অন্তত পক্ষে আমাকে তা ভুলে যেতে দাও! মনে রেখো, এই জীবন, উদ্দমতার নামে এই উশৃঙ্খলতা এটা পাপ, এটা অন্যায়। এই সব কাজ আর কথার একদিন জবাব দিতে হবে। তোমাকে জবাবদীহিতার মুখোমুখি দঁড়াতেই হবে, পার পাবেনা!– Nothing will go unaccounted for !
কি অদ্ভুত পরিবর্তন!
প্রফেসর জগলুল মোট এগারো দিন থাকলেন। এর মধ্যে টুকি টুকি আলোচনা ছাড়াও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে মোট তিন দিন ইসলামের উপরে লেকচার ও প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে। অষ্টম দিনে আ: সালামের মা, ভাই-ভাবীসহ মোট চব্বিশ জন মার্কিন, ইংরেজ খৃষ্টান ইসলাম গ্রহণ করলেন।
প্রফেসর জগলুলের নিজ মুখে এ কাহীনি শুনে বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম। আমার এই বিষ্ময়কে তিনি শঙ্কায় পরিণত করলেন, যখন বললেন,
‘তেইশ বৎসরের এক খৃষ্টান যুবক, মৃত্যুর পরে একদিন তার প্রতিটি কর্মের জবাবদীহি করতে হবে জেনে ভীত হলো! শত প্রলোভন, ভয়, ভীতি, চাপ সহ্য করেও তার নতুন ধর্মমতের উপরে টিকে রইল, মুসলমানই রইল, নিষ্ঠাবান মুসলমান! তাঁর পরিবর্তনে প্রভাবিত হয়ে তার নিকটাত্মীয়, তার বন্ধু বান্ধব, একই সমাজের আরও চব্বিশজন জন মুসলমান হলো!
একটাবার চিন্তা করে দেখেছ কী, ইসলাম তার আচার আচরণ জীবন আর জীবনযাত্রায় কি গভীর ছাপ ফেলেছে? যা কেবল তাকেই নয় বরং তার আশে পাশে এতগুলো লোককেও আকৃষ্ট করেছে, তাদেরকে ইসলামের দিকে টেনে এনেছে!
সে নিজেই আমাকে বলেছে; ‘প্রফেসর, সেই মরুভূমিতে তাঁবুর মধ্যে বসে তোমার কাছে জেনেছিলাম যে, প্রত্যেকটি কাজের জবাব দিতে হবে, দিতেই হবে! এর পর হতে আজও আমার ভয়ে বুক কাঁপে! ভাবি, হায়, আমার যদি জন্মই না হতো!’
ড. জগলুল সরাসরি আমার চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করলেন;
‘বলতে পারো, আমরা মুসলমান হয়ে জীবনে কতবার কুরআনে পড়েছি, আলেমদের কাছে শুনেছি যে, মৃত্যুর পরে আমাদের সকল কাজের জবাব দিতেই হবে, তার পরেও কি আমাদের বুক কেঁপেছে ভয়ে?
কথাটা বলে ড. জগলুল একরাশ প্রশ্ন নিয়ে আমার দিকে চেয়েই রইলেন, একটুখানি থেমে তিনি আবার বলে উঠলেন, মনে রেখো, এর জবাবও আমাদেরকে দিতে হবে! Nothing will go unaccounted for !