কুরআনের আলো

৬৭. আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার কওমকে বলল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা একটি গাভী যবেহ করবে’।১ তারা বলল,  ‘তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ?’ সে বলল, ‘আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।’ ২
ব্যাখ্যা: ১ এই আয়াতের ‘বাকারাহ’ (গাভী) শব্দ থেকেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
২. এখানে উল্লেখিত ঘটনাটি সংক্ষেপে এই যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে একটি হত্যাকান্ড ঘটেছিল; কিন্তু হত্যাকারীকে সনাক্ত করা যাচ্ছিল না। তাই তারা মূসা আলাইহিস সালামের স্মরণাপন্ন হয়। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দিয়ে একটি গাভী যবেহ-এর মাধ্যমে নিহত লোকটিকে জীবিত করে তার হত্যাকারীর পরিচয় উদ্ঘাটন করান। এটি ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা।
৬৮. তারা বলল, ‘তুমি আমাদের জন্য তোমার রবের নিকট দোআ কর, তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন গাভীটি কেমন হবে।’ সে বলল, ‘নিশ্চয় তিনি বলছেন, নিশ্চয় তা হবে গরু, বুড়ো নয় এবং বাচ্চাও নয়। এর মাঝামাঝি ধরনের। সুতরাং তোমরা তাই কর, যা তোমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।’১
 ব্যাখ্যা: ১ আসলে মহান আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে যে কোনো একটি গাভী কুরবানী করাই যথেষ্ট ছিল, কিন্তু দ্বীনের যে কোনো বিধান পালনে অযথা সন্দেহ-সংশয় অন্বেষণ ও প্রশ্ন করা ছিল তাদের চিরাচরিত স্বভাব। 
৬৯. তারা বলল,১ ‘তুমি আমাদের জন্য তোমার রবের নিকট দোআ কর, তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন, কেমন তার রঙ?’ সে বলল, ‘নিশ্চয় তিনি বলছেন, নিশ্চয় তা হবে হলুদ রঙের গাভী, তার রঙ উজ্বল, দর্শকদেরকে যা আনন্দ দেবে।’
ব্যাখ্যা: ১. পূর্বের দুটি আয়াতের সাথে মিলিয়ে অধ্যয়ন করলে মর্মার্থ বুঝা সহজ হবে। গাভী সম্পর্কে বনী ইসরাঈলের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহ নিরসন চলছে।
৭০. তারা বলল, ‘তুমি আমাদের জন্য তোমার রবের নিকট দোআ কর, তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন, তা কেমন? নিশ্চয় গরুটি আমাদের জন্য সন্দেহপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আর নিশ্চয় আমরা আল্লাহ চাহে তো পথপ্রাপ্ত হব।’
৭১. সে বলল, ‘নিশ্চয় তিনি বলছেন, ‘নিশ্চয় তা এমন গাভী, যা ব্যবহৃত হয়নি জমি চাষ করায় আর না ক্ষেতে পানি দেয়ায়। সুস্থ, যাতে কোন খুঁত নেই।’ তারা বলল,‘এখন তুমি সত্য নিয়ে এসেছ।’ অতঃপর তারা তা যবেহ করল অথচ তারা যবেহ করার ছিল না।১
ব্যাখ্যা: ১. বনী ইসরাঈলের লোকেরা তৎকালীন মিশরের ফিরাউনের যুলুম ও অত্যাচার থেকে মহান আল্লাহর অসীম-অলৌকিক সাহায্যে মুক্তিলাভের পর সিনাই উপদ্বীপে অবস্থান নেয়। এসময় আশপাশের গো-পূজারী জাতিসমূহ থেকে তাদের মাঝে ‘গাভীর শ্রেষ্টত্ব ও পবিত্রতার’ ছোঁয়াচে রোগ ছড়িয়ে পড়ে; আর তারা শুরু করে দেয় গো-বৎস পূজা। ঐ গর্হিত কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে আল্লাহ তালা তাদেরকে গাভী কুরবানীর নির্দেশ দিলেন। এটি তাদের জন্যে ছিল ঈমানের এক কঠিন পরীক্ষা। তাই তারা এ আদেশ এড়িয়ে যেতে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করতে থাকে। কিন্তু তার জবাবে সেই ‘সোনালী বর্ণের বিশেষ ধরণের গাভী’ই তাদের সামনে এসে পড়ে, যাকে সে সময় তারা পূজা করতো!
বর্তমান বিকৃত বাইবেলের গণনা পুস্তকের ১৯ অধ্যায়ের ১-১০ শ্লোকগুলোতে এ ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে ।
৭২. আর স্মরণ কর, যখন তোমরা একজনকে হত্যা করলে অতঃপর সে ব্যাপারে একে অপরকে দোষারোপ করলে। আর আল্লাহ বের করে দিলেন তোমরা যা গোপন করছিলে।
৭৩. অতঃপর আমি বললাম, ‘তোমরা তাকে আঘাত কর গাভীটির (গোশ্তের) কিছু অংশ দিয়ে। এভাবে আল্লাহ জীবিত করেন মৃতদেরকে। আর তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান, যাতে তোমরা বুঝ।১
ব্যাখ্যা: ১. এটি ছিল বনী ইসরাঈলের সময়ের অসংখ্য মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনার একটি। এখানে নিহত ব্যক্তি শুধুমাত্র তার হত্যার পরিচয় বলতে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য মহান আল্লাহর নির্দেশে জীবন ফিরে পেয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *