হাদীসের আলোকে শাবান মাসে করণীয়

হাদীসের আলোকে শাবান মাসে করণীয়
হাদীসের আলোকে শাবান মাসে করণীয়

চান্দ্র মাসের অষ্টম মাস পবিত্র শা’বান মাস। এ মাস হাদীসের আলোকে একটি ফযীলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। মুসলিম উম্মাহর জন্য এ মাসে কিছু করণীয় রয়েছে; যা সংক্ষেপে নিচে আলোচনা কর হলোঃ
১. দুআ করা: অর্থাৎ শা’বান মাসে কিংবা তারো আগ থেকেই রমযানের বরকত পাওয়ার জন্য আল্লাহর সমীপে দোয়া করা, মহান আল্লাহ যেন আমাদেরকে রমযানের বরকত পাওয়ার তাওফীক দান করেন। সালফে সালেহীন বা পূর্বসূরীগণ রমযান মাস আগমনের ছয় মাস পূর্ব থেকে রমযানের বরকতের জন্য দোয়া করতেন, এবং রমযানের পরেও আরো ছয় মাস দোয়া করতেন, যেন রমযান মাসে কৃত আমল আল্লাহ কবুল করেন।
২. সাভাবিকভাবে সকল ইবাদতই করা: যেমন এর পূর্বের মাস গুলোতে করা হয়েছে, তেমনি তা এ মাসেও করাতে শরীয়তের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই  শুধুমাত্র মধ্য শা’বানের পর হতে সিয়াম পালন ব্যতীত।  কারণ রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “শা’বান মাস অধের্ক হয় গেলে তোমরা আর রোযা রেখ না।  (মুসনাদ আহমাদ (২/৪৪২), আবু দাউদ)
৩. হিজরী মাসের হিসাব রাখা: এই যুগে তো হিজরী মাসের হিসাব রাখার লোকের খুবই অভাব। ইংরেজি তারিখের হিসাব সকলেই জানি। কিন্তু স্মরণ রাখা দরকার যে, ইসলামের সকল আমলই হিজরী বা চান্দ্র মাসের হিসেবে হয়ে থাকে। তাই শা’বানের দিন, তারিখ গণনা করা দরকার, যেন রমযান মাসের শুরুটা সঠিকভাবে অনুধাবন করা যায়। এবং রমযানের বরকত হাসিল করা যায়। রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। রমযানে অধিক ইবাদতের জন্য সময়-সুযোগ বের করতেন। মানসিকভাবে তৈরি হতেন। আর এ কারণেই তিনি পবিত্র শা’বানের দিন, তারিখ গুরুত্বসহকারে হিসাব রাখতেন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন; রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শা’বানের (দিন, তারিখ হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন যা অন্য কোনো মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না। (সুনানে আবু দাউদ ১/৩১৮)
৪. বেশি বেশি নফল রোযা রাখা:  শা’বান মাসে অধিকহারে নফল রোযা রাখা উত্তম। এ প্রসঙ্গে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। উম্মে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; আমি নবী করিম সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শা’বান ও রমযান ব্যতীত দুই মাস একাধারে রোযা রাখতে দেখিনি। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন; আমি নবী করিম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শা’বান মাসের মত এত অধিক (নফল) রোযা রাখতে আর দেখিনি। এ মাসের অল্প কিছুদিন ব্যতীত বরং বলতে গেলে পুরো মাসটাই তিনি নফল রোযা রাখতেন। (জা‘মে তিরমিযী ১/১৫৫)।
তবে খুবই লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ১৫ই শা’বান দিনে রোযা ও পূর্বের রাতকে বিশেষ গুরুত দিয়ে আমল করার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায় না। তাই যারা অন্যান্য দিন বা রাতে নফল ইবাদত করেন না, তাদের জন্য শুধু এই রাতকে নির্দিষ্ট করে ইবাদত করা বিদআত হবে। কেননা রাসূল (সা.) হতে  মধ্য শা’বানের ফযীলত সম্পর্কে এবং একটি রোযা রাখার স্বপক্ষে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে  কোন সহীহ বা মারফু কিংবা মুত্তাসিল হাদীস বর্ণিত হয়নি।
৫. যারা প্রতি মাসে “আইয়ামে বীয” এর তিন দিন অর্থাৎ ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে নফল সিয়ামে অভ্যস্ত তারা এ মাসেও উক্ত নিয়তেই সিয়াম পালন করবেন।
৬. যারা প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল সিয়ামে অভ্যস্ত তারা এ মাসেও উক্ত দিনগুলিতে সিয়াম পালন করবেন  যদিও তা কখনও ভাগ্যক্রমে ১৫ শাবান হলেও তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে না, যদি তা শবে বরাতের নিয়তে পালন না করা হয়।
৭. মানতের সিয়াম: কেউ যদি বৈধ কোন কাজ সম্পাদনের জন্য মানত করেন, তিনি শা’বানের পনের তারিখে মানতের নিয়তে রোযা রাখতে পারবেন।
৮. ক্বাযা সিয়াম আদায় করা:  আবু সালামা রায়িযাল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছি, আমার রমযানের কিছু রোযা বাকি থাকত। সেগুলো আমি শা’বান ছাড়া কাযা করতে পারতাম না  (বুখারী, মুসলিম) ইয়াহইয়া বলেন: এর কারণ ছিল তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেবায় ব্যস্ত থাকতেন।)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে বিদয়াত মুক্ত ইবাদত করার তাওফীক দান করুন। আমীন ॥

দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব থেকে কোন মুমিন নর-নারী’ই মুক্ত নয়

দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব থেকে কোন মুমিন নর-নারী’ই মুক্ত নয়
দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব থেকে কোন মুমিন নর-নারী’ই মুক্ত নয়

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তা ও প্রতিপালকের, যিনি তাঁর স্বইচ্ছাতেই মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, এবং তাঁর জমিনে তাঁর’ই প্রতিনিধি হিসেবে সমস্ত মানব জাতিকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন।
অসংখ্য দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মহানায়ক আল্লাহর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি, তাঁর সহচরবৃন্দের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত সে সকল মু’মিন নর-নারী তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে উত্তমরূপে জীবন-যাপন করবেন, তাদের প্রতি।

সুমহান আল্লাহ ও দয়াময় প্রতিপালক সমস্ত মানবজাতিকে সৃষ্টি করে এক মহান উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। আর সে উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করা। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর ঘোষণা ছিলো এ রকমঃ
“এ পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সমস্ত কিছুই তিনি (পরম সৃষ্টিকর্তা) তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সপ্ত আকাশ সুবিন্যস্ত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী। এবং (তোমরা সকলেই সেই সময়ের কথা স্বরণ কর) যখন তোমার প্রভূ (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা) ফেরেশতাগণকে বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে (আমার) খলিফা (বা প্রতিনিধি) সৃষ্টি করবো।” (সূরা বাকারাঃ ২৯-৩০)

তারপর মানব জাতিকে সেই ঘোষণা অনুযায়ী সৃষ্টি করে তাদেরকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্যে দুনিয়াতে প্রেরণের পূর্বেই সমস্ত রূহ এর নিকট থেকে অঙ্গীকারও নিয়েছেন। আর সে ব্যপারে মহান আল্লাহ সকলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছেনঃ
“(হে মানবজাতি! তোমরা সেই সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক বানী আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরকে বের করলেন এবং তাদেরকেই (অর্থাৎ সমস্ত মানব রূহকেই) তাদের (পরস্পরকে পরস্পরের) উপর- সাক্ষী করে জিজ্ঞেস করলেন: আমি কী তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা (সমস্ত রূহই) সমস্বরে উত্তর দিলো: হ্যাঁ! আমরা (এ ব্যাপারে পরস্পরের) সাক্ষী থাকলাম। (আর এই স্বীকৃতি ও সাক্ষী বানানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে) যাতে তোমরা কিয়ামতের দিন (দুনিয়ার কৃতকর্মের হিসাব দেয়ার সময়) বলতে না পারো-আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত ছিলাম।” (সূরা আ’রাফঃ১৭২)

অতঃপর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’য়ালা বিশেষ একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই রূহগুলোকে এক এক করে মাতৃগর্ভের ভ্রুণের মধ্যে প্রেরণ করছেন। এবং এক নিরাপদ আঁধারে রূহসংযুক্ত সেই ভ্রুণটিকে লালন-পালন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাতৃগর্ভ হতে জমিনে পাঠিয়ে থাকেন। এ ব্যপারেই মহান আল্লাহ বলছেনঃ

“আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকা হতে; অতঃপর আমি ওকে শুক্রবিন্দু রূপে স্থাপন করেছি (মাতৃগর্ভে) নিরাপদ আঁধারে। পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে; অতঃপর রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি গোশত পিণ্ডে এবং গোশত পিণ্ডকে পরিনত করি অস্থিপঞ্জরে; অতঃপর অস্থিপঞ্জরকে ঢেকে দেই গোশত দ্বারা। অবশেষে ওকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে; অতএব সর্বোত্তম স্রোষ্টা আল্লাহ কত মহান।” (সূরা মু’মিনুনঃ১২-১৪)

এ ব্যপারে একটি হাদীসের বর্ণনাঃ “আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সত্যবাদী ও সত্যের বাহক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলে তার মাতৃগর্ভে চল্লিশদিন ধরে। অতঃপর সে শুক্রবিন্দু থেকে (চল্লিশ দিনে) জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ডে পরিনত হতে থাকে। অতঃপর রক্তপিণ্ড হতে (চল্লিশ দিন পর্যন্ত) গোশত পিণ্ডে পরিণত হতে থাকে। অতঃপর {ভ্রুণটির বয়স যখন ১২০ (একশত বিশ) দিন হয় তখনি} আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা একজন ফেরেশতা পঠিয়ে তাকে চারটি বিষয়ে লিপিবদ্ধ করতে বলেন। অতঃপর তার মধ্যে “রূহ” ফুকে দেয়া হয়।………”(সহিহ আল বুখারী)
তারপর মহান আল্লাহ সেই মাতৃগর্ভের ভ্রুণটিকে কখনও পুর্ণাঙ্গ মানব শিশুতে পরিণত করে নির্দিষ্ট সময়ে জীবিত অবস্থায় জমিনে প্রেরণ করেন। আবার কাউকে মৃত অবস্থায় মাতৃগর্ভ থেকে বের করেন। এ ব্যাপারেই মহান আল্লাহ বলছেনঃ
“হে মানব জাতি! পুনরুত্থান সম্বন্ধে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তবে অনুধাবন কর; আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকা হতে; অতঃপর শুক্র হতে; অতঃপর রক্তপিণ্ড হতে; অতঃপর পূর্ণাকৃতি বা অপূর্ণাকৃতি গোশতপিণ্ড হতে; তোমাদের নিকট (আমার বিধান) ব্যক্ত করবার জন্য। আমি যা ইচ্ছা করি তা এক নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে স্থিত রাখি। অতঃপর তোমাদেরকে শিশুরূপে (মাতৃগর্ভ হতে) বের করি। পরে যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনীত হও; তোমাদের মধ্যে কারো কারো (অল্প বয়সে) মৃত্যু ঘটানো হয়, এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে প্রত্যাবৃত্ত করা হয় অকর্মণ্য (বৃদ্ধ) বয়সে, যার ফলে তারা যা কিছু জানতো সে সম্বন্ধে তারা সজ্ঞান থাকে না।” (সূরা হাজ্জঃ ৫)

এভাবেই একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানব শিশুটি যখন একদিন ইসলামের ফিতরাতের উপর জমিনে পদার্পন করেন, একটি বয়সে এসে আল্লাহর হুকুমে শিশুটির জবান খুলে যায়। যখন সে কথা বলতে শিখে তখন তার পিতা-মাতা মুসলিম হলে শিশুটিকে সর্বপ্রথম আল্লাহর পবিত্র কালেমা পড়িয়ে মু’মিন বাহিনীতে ভর্তি করে দিয়ে তাকে মু’মিনের প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। কিন্তু তখন সেই শিশুটি কালেমা সম্পর্কে কোন কিছুর ধারণা না পেলেও একদিন সেই শিশুটি একটি পরিণত বয়সে উপনীত হয় এবং মু’মিনের বিধি-বিধান সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা লাভ করতে পারে। এবার সেই বালকটি কালেমার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে সেটাও বুঝতে পারেন। সে বুঝতে পারে যে, সে এক কঠিন শর্তে আল্লাহর সাথে একটি চুক্তিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আর সেই চুক্তিটি হচ্ছেঃ

“লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ দাহু লা-শারীকালাহ, ওয়াআসহাদু আন্না-মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”

অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি এক ও একক, তার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল”।

এই অঙ্গীকারটা একজন মু’মিনের জন্য দ্বিতীয় চুত্তি। যার প্রথম চুক্তিটি ছিলো দুনিয়াতে আসার পূর্বে। সর্বশেষ কালেমার মাধ্যমে যে চুক্তিটি সম্পাদিত হলো, এটি সেনা বাহিনীতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ শেষে শপথ গ্রহণের মতই আর একটি চুক্তি বা অঙ্গীকার।

আমাদের দেশে একজন সাধারণ কিশোর সেনাবাহিনীতে ভর্তি হয়ে কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যখন প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষ করেন, তখন তাকে যে উদ্দেশ্যে ভর্তি করা হয়ে থাকে, সেই কর্মসম্পাদন করার জন্য তারা স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে কলিজা ফাঁটা গগন বিদারী চিৎকারের মাধ্যমে প্রকাশ্য জনসন্মুখে শপথ নিয়ে বলতে থাকেনঃ
**“আমি, (এ স্থানে নিজের সৈনিক নং পদবী / পেশা নাম এবং পিতার নাম উল্লেখ পূর্বক) সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে, সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে,

**আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব;

**আমি আমার অপরিহার্য কর্তব্য মনে করিয়া আমার উপর ন্যস্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্তব্য, আমি সততা ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; এবং আমার প্রতি জ্বল স্থল ও আকাশ পথে যেখানেই যাইবার আদেশ করা হইবে, সেখানেই যাইব;

**আমার জীবন বিপন্ন করিয়াও আমার উপর নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কর্তব্যরত যে কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ পালন ও মান্য করিব।”

এই পবিত্র শপথ রক্ষার জন্য একজন সৈনিক অবর্ণনীয় কষ্ট স্বীকার করে নিজের পিঠের উপর ৪০/৫০ কেজি ওজনের ভারী বোঝা বহন করে দিনের পর রাত, রাতের পর দিন এবং মাসের পর বছর ধরে উঁচু-নিচু দুর্গম পাহাড়ী পথ অতিক্রম করে। মাইলের পর মাইল পাথারের পর পাথার, ঝোপ-জঙ্গল, গিরীপথ ও বন্ধুরপথ অতিক্রম করে। এই শপথ রক্ষার জন্য নিজের পিঠে ভারী বোঝা বহন করে আকাশ যানের উপর থেকে লম্ফ দিয়ে জমিনে পরে, সাগরের হিংস্র জন্তু জানোয়ারের তোয়াক্কা না করে গভীর সাগরে ডুব দেয়। প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি ও কলিজা ফাঁটা রোদ্রের প্রখর তাপদাহ উপেক্ষা করে, নিজের জীবনের নিশ্চিত মৃত্যু ঝুকি নিয়েও শত্রু সৈন্যের বুহ্য অভ্যন্তরে ঢুকে পরে। সৈনিকরা এই সমস্ত কষ্ট করার উদ্দেশ্য, শুধু মাত্র একটি কারণে। আর তা হচ্ছে: তারা যে দেশ-জাতি তথা সরকার এবং রাষ্ট্রীয় সংবিধানের উপর আনুগত্যের জন্য ওয়াদাবদ্ধ, সেই ওয়াদা পালন করা।

এই যদি সাধারণ একজন সৈনিকের বেলায় হতে পারে, তাহলে যিনি সমস্ত মানব জাতির সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিযিকদাতা এবং মানুষের যাবতীয় কল্যাণের পথ দ্রোষ্টা। সেই মহান প্রভূর নিকট যে অঙ্গীকার বা চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো পালনের জন্য আমরা মু’মিনরা কে কতটুকু কাজ করছি? সকলেই একবার নিজে নিজে চিন্তা করে দেখুন তো?

অনেকেই হয়তো বলতে পারেন যে, মু’মিনরা কার আনুগত্য করবে? সে সম্পর্কে হয়তো কোন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তাই বলছিঃ একজন মানুষ যখন কালেমা পড়ে ঈমান গ্রহণ করে ইসলামে প্রবিষ্ট হন, তখন তারাও কারো না কারো আনুগত্যের কাছে দায়বদ্ধ হন। তা নাহলে তিনি মু’মিন থাকতে পারবেন না। আর সে ব্যাপারেই মহান আল্লাহ আনুগত্যের নির্দেশ দিয়ে বলছেনঃ
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও ও রাসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের মধ্যে (কুর’আন সুন্নাহর আলোকে) আদেশদাতাগণের। অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তীত কর, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো; এটাই কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতম অবস্থান।” (সূরা নিসাঃ ৬৯)

আবার অনেকেই ভাবতে পারেন যে, মু’মিনদের আবার আলাদা সংবিধান কি? যে মু’মিন যে রাষ্ট্রে বসবাস করেন, সেই রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিগণ যে সংবিধান তৈরী করেন সেটাই তো তাদেরও সংবিধান। তাই মু’মিনরা কোন সংবিধানের অনুগত থাকবে বা অনুসরণ করবে, সে সম্পর্কেও মহান আল্লাহ বলছেনঃ
“আর (এমনিভাবে) আমি এই কিতাব (আল-কুরআনকে সংবিধান হিসেবে) অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময় ও কল্যাণময়! সুতরাং তোমরা এটাকে অনুসরণ করে চলো। এবং এর বিরোধিতা হতে বেঁচে থাকো। হয়তো (এই কুরআন অনুসরণের মাধ্যমে) তোমাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করা হবে।” (সূরা আন’আমঃ১৫৫)।

আর যে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা মু’মিনদেরকে দুনিয়ায় পঠিয়ে থাকেন, আর তা হচ্ছে, আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মানব সমাজে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানব কল্যাণ সাধন করা। আর এ ব্যাপারেই মহান আল্লাহ বলছেনঃ
“(হে মু’মিনগণ!) তোমরাই মানবমন্ডলীর জন্যে শ্রেষ্ঠতম সম্প্রদায়রূপে সমুদ্ভূত হয়েছো; তোমরা (মানবজাতিকে) ভালো কাজের আদেশ কর ও মন্দ কাজের নিষেধ কর এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো…… (সুরা আল-ইমরানঃ১১০)
আর এই কাজের জন্য মু’মিন নর-নারী সমভাবেই দায়ী। এ ব্যপারেই মহান আল্লাহ বলছেনঃ
“আর মুমিন পুরুষরা ও মু’মিনা নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা (যার যার সামাজিক ভূবনে মানব জাতিকে) সৎ বিষয়ের আদেশ দেয় এবং অসৎ বিষয় হতে নিষেধ করে, আর নামাযের পাবন্ধি করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে। এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, হিকমতওয়ালা।” (সূরা আত তাওবাঃ ৭১)

সৈনিকরা দেশ ও মানব সেবার জন্য কাজ করলে দেশের সরকার তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন, যেমনঃ যার যার পদমর্যাদা অনুযায়ী মাসের শেষে নির্দিষ্ট পরিমানের একটা পারিশ্রমিক, বিনা পয়সায় থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধা, অকর্মন্ন বয়সে পেনশন সুবিধা ইত্যাদি।

তদ্রুপ মু’মিন নর-নারীরা মহান আল্লাহর নির্দেশ মত কাজ করলে, তাদের জন্যেও রয়েছে প্রচুর সুযোগ সুবিধা। এ ব্যাপারেই মহান আল্লাহ বলছেনঃ
“আল্লাহ (সৎকর্মশীল) মু’মিন পুরুষ ও মুমিনা নারীদেরকে (তাদের সৎ কর্মের পুরস্কার হিসেবে) এমন উদ্যানসমূহের ওয়াদা দিয়ে রেখেছেন, যেগুলোর নিম্নদেশে বইতে থাকবে নহরসমূহ, যে (উদ্যান) গুলোর মধ্যে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে, আরও (ওয়াদা দিয়েছেন) ঐ উত্তম বাসস্থানসমূহের যা চিরস্থায়ী উদ্যানসমূহে অবস্থিত হবে, আর (এগুলোর চেয়েও) আল্লাহর সন্তুষ্টি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় (নিয়ামত), এটা হচ্ছে অতি বড় সফলতা।” (সূরা আত তাওবাঃ ৭২)

সৈনিকরা যেমনিভাবে তাদের দায়িত্ব পালন না করলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হন, এছাড়াও ওয়াদা খেলাপের কারণে কঠিন শস্তি পেয়ে থাকেন। তদ্রুপ কোন ব্যক্তি মু’মিন হওয়ার পরেও যদি তিনি আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানব কল্যাণ সাধনের জন্য চেষ্টা না করেন, তাহলে তিনিও কোনক্রমেই আল্লাহর ঘোষিত পুরস্কার প্রাপ্তির যোগ্য হতে পারবেন না। বরংচ দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ওয়াদা খেলাপকারী বা শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে অবশ্যই তাকেও কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

সুতরাং হে আমার প্রাণ প্রিয় মু’মিন ভাই ও বোনগণ! আসুন আমরা পবিত্র কুর’আনুল কারীম এবং সহীহ হাদীস থেকে আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো ভাবে জানার চেষ্টা করি. এবং জানার পর থেকেই আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়ে মহান আল্লাহর অনুগত বান্দা-বান্দী হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করি।

দয়াময় প্রতিপালক ও সুমহান আল্লাহ আমাদের সমস্ত দুনিয়ার মু’মিন নর-নারীকেই তাঁর দেয়া দায়িত্ব পালনের পথ সহজ করে দিন এবং আমাদের সকলকেই দ্বীনের সৈনিক হিসেবে কবুল করে নিয়ে গোটা দুনিয়ার জমিনে তাঁর দ্বীন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানব কল্যাণ সাধন করার তাওফীক দান করুন। আমিন॥

কুরআন ও হাদীসের আলোকে সাংবাদিকতা

app_sphere_news

সংবাদ বলতে মুদ্রণজগৎ, সম্প্রচার কেন্দ্র, ইন্টারনেট অথবা তৃতীয় পক্ষের মুখপাত্র কিংবা গণমাধ্যমে উপস্থাপিত বর্তমান ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। আর ইসলামী সংবাদ হলো; মানবিক ও মনের কুপ্রবিত্তির বশীভূত না হয়ে মানব কল্যাণের জন্য সত্য সংবাদ পৌঁছে দেওয়া। এই মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন;

 ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِّنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاء الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ

তারপর আমি তোমাকে দ্বীনের এক বিশেষ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং তুমি তার অনুসরণ কর এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করো না।(সূরা জাসিয়া: ১৮)

মহান আল্লাহ অন্যত্র বলছেন:

فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ

এ কারণে তুমি আহবান কর এবং দৃঢ় থাক যেমন তুমি আদিষ্ট হয়েছ। আর তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না (সূরা শুরা: ১৫)

সংবাদ সংগ্রহের সময় দৃষ্টিশক্তি প্রখর রাখতে হবে। যেনতেন লোক থেকে সংবাদ গ্রহণ করা যাবে। এই মর্মে  আল্লাহ তায়ালা বলেন:

 إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ (6﴾   الحجرات

মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত: তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (সূরা হুজুরাত: ৬)

আল্লাহর রাসূল বলেন:

  عن أبي هريرة عن النبي  كفى بالمرء كذباً أن يحدث بكل ما سمع “

فالحديث رواه مسلم في  “مقدمة صحيحه ” ( 1 / 107  نووي ) ، وأبوداود ( 4 / 298 / 4992 ) ، ابن حبان

মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য ইহাই যথেষ্ট, যা শুনবে তা যাচাই ছাড়া বর্ণনা করা। মুসলিম শরীফের ভূমিকা আবু দাউদ ৪/২৯৮ ইবনে হিব্বান, ১/২১৩ )

 

সংবাদের রোকনসমূহ

১। দর্শক বা শ্রতা 

২। সংবাদ

৩।সাংবাদিক

৪। মাধ্যম, (কাগজ, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ইত্যাদি।

 

উৎপত্তি রহস্য

একটি সূত্র দাবী করছে যে,চতুর্দশ শতাব্দীতে নিউ শব্দের বহুবচন হিসেবে নিউজ বা সংবাদ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহার করা হতো। মধ্যযুগীয় ইংরেজী হিসেবে নিউজ শব্দটির সমার্থক ছিল নিউইজ (newes), ফরাসী শব্দ নোভেলেজ (nouvelles) এবং জার্মান শব্দ নিউয়েজ (neues)

লোকমুখে‘নিউজ’শব্দটিকে বিশ্লেষণ করা হয়-এন (নর্থ) উত্তর, ই (ইষ্ট) পূর্ব, ডব্লিউ (ওয়েস্ট) পশ্চিম এবং এস (সাউথ) দক্ষিণ।

 

ইতিহাস

সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে সংবাদপত্রের সূচনা ঘটে। এর পূর্বে সংক্ষিপ্ত সরকারী ঘোষণা বা ইস্তেহার এবং রাজার আজ্ঞা প্রধান-প্রধান নগরগুলোতে প্রকাশিত হতো। প্রথম লিখিতভাবে সংবাদ বা খবরের ব্যবহার মিশরে সু-সংগঠিতভাবে প্রবর্তন হয়েছিল। খ্রীষ্ট-পূর্ব ২৪০০ বছর পূর্বে ফারাও শাসন আমলে বর্তমানকালের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম কুরিয়ার সার্ভিসের আদলে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রসারনের উদ্দেশ্যে ডিক্রী বা আদেশনামা প্রচারের ব্যবস্থা করা হতো।

 

আধুনিক ইউরোপের শুরুর দিকে আন্তঃসীমান্ত এলাকায় পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিকল্পে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে হস্তলিখিত সংবাদের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৫৫৬ সালে ভেনিস প্রজাতন্ত্রীয় সরকার প্রথমবারের মতো মাসিক নটিজি স্ক্রিট প্রকাশ করে।

১৮৪৭ সালের আগস্টের শেষভাগে রংপুর থেকে প্রকাশিত হয় সংবাদপত্র রঙ্গপুর বার্তাবহ। কুণ্ডির জমিদার কালী চন্দ্র রায় চৌধুরীর অর্থায়নে প্রকাশিত হয় এই পত্রিকা। সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ রায়। এটাই বাংলাদেশের বর্তমান প্রথম সংবাদপত্র। ১৮৫৭ সালের ১৩ জুন গভর্নর লর্ড ক্যানিং জারি করেন ১৫নং আইন। মুদ্রণ যন্ত্রের স্বাধীনতানাশক এ আইনে ১৮৫৯ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় রঙ্গপুর বার্তাবহ। প্রকাশিত হওয়ার সময় থেকে পরের একযুগ সময় রঙ্গপুর বার্তাবহ মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলতা সত্যিই গর্ব করার মতো।

বিশ্বের প্রথম সংবাদ পত্র

১৬০৫ সালে প্রকাশিত রিলেশন অলার ফুর্নেমেন আণ্ড গেডেনঙ্কুরডিগেন হিস্টোরিয়েনকে বিশ্বের ১ম সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

 

 

সংবাদ চার প্রকার

১। ব্যক্তি নিজেই নিজের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবে। এটাকে ইত্তেসালে জাতি বলা হয়। যেমন

ويتفكرون في خلق السماوات والأرض ربنا ما خلقت هذا باطلا سبحانك فقنا عذاب النار

আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর।

و في أنفسكم أفلا تبصرون

তোমাদের নিজদের মধ্যেও। তোমরা কি চক্ষুষ্মান হবে না?

سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ

বিশ্বজগতে ও তাদের নিজদের মধ্যে আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, এটি (কুরআন) সত্য;

فلينظر الإنسان مم خلق

অতএব মানুষের চিন্তা করে দেখা উচিৎ, তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে ?

أفلا يتدبرون القرآن

তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না?

 

২। ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করবে। এটাকে ইত্তেসালে শাখসী বলা হয়। যেমন

و تعاونوا على البر و التقوى و لا تعاونوا على الإثم و العدوان

 

সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না।

يا أيها الذين آمنوا قوا أنفسكم و أهليكم نارا و قودها الناس و الحجارة *

হে ঈমানদারগণতোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর;

كلكم راع و كلكم مسؤول عن رعيته

৩।আমরা সকলেই জানি যখন আল্লাহ তায়ালা  وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ অবতীর্ণ করলেন,তখনই রাসূল (সা.) হযরত খাদিজা, আলী, যায়েদ ইবনে হারেসা, ও আবু বরকরের নিকট সংবাদটি পৌঁছায়ে দিলেন। এমন সংবাদকে ইত্তেসালে জামঈ বলা হয়।

 

 ৪। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা অবতীর্ণ  করলেন  وأعرض عن المشركين فاصدع بما تؤمر  সুতরাং তোমাকে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা ব্যাপকভাবে প্রচার কর এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। তখন রাসূল (সা.) সাফা পর্বতেচড়ে মক্কার কাফেরদের দাওয়াত দেন।বাজারে বাজারে ঘুরে ঘুরে দাওয়াত দেন। তায়েফের ময়দানে দাওয়াত দেন। বাইয়াতে আকাবাতে দাওয়াত দেন। মক্কা-মদীনায় সারা জীবন দাওয়াত দেন। এমন দাওয়াত বা সংবাদকে ইত্তেসালে জামাহীর বলা হয়।

 

মিথ্যা সংবাদ প্রচারের পরিণতি:

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ [النور : 4

আর যারা সচ্চরিত্র নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করেতারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে নাতবে তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং তোমরা কখনই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর এরাই হলো ফাসিক।

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ) [الحج: من الآية 30

সুতরাং মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বিরত থাক এবং মিথ্যা কথা পরিহার কর।

  وَلا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ )(البقرة/283)

আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না এবং যে কেউ তা গোপন করেঅবশ্যই তার অন্তর পাপী।

 

وقال تعالى في صفات المؤمنين:وَالَّذِينَ لا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَاماً[الفرقان:72].

আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য দেয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়।

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ”ألا أنبئكم بأكبر الكبائر –ثلاثاً- قلنا: بلى يا رسول الله. قال : “الإشراك بالله وعقوق الوالدين” وكان متكئاً فجلس فقال: “ألا وقول الزور، ألا وشهادة الزور فما زال يكررها حتى قلنا: ليته سكت. يعني قال الصحابة: ليته سكت”. رواه البخاري ومسلم

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? (কথাটি রাসূল (সা.) তিনবার বলেছেন) সাবাহায়ে কেরামগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! বলুন, তিনি বললেন: আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, মাতা পিতার অবাধ্য হওয়া, কথাগুলো বসার সময় রাসূল (সা.) হেলান দিয়ে বসেছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। কথাগুলো বারবার বলতেছিলেন। আমরা (সাহাবাগণ) মনে মনে বলতেছিলাম, হায়! যদি তিনি চুপ হতেন। (বুখারী ও মুসলিম)

 

من قال علّيَّ ما لم أقل ، فلْيتبوَّأ مقعده من النار (مسلم)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: নিজে বলে, এ কথা বলা যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নিলো। (মুসলিম)

মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারীর ঠিকানা জাহান্নাম:

  شهادة الزور توجب لصاحبها النار

সহীহ সনদে ইমাম হাকেম বর্ণনা করেন: মিথ্যা সংবাদ পরিবেশণকারীর ঠিাকানা জাহান্নাম।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা ও শুনা থেকে হিফাযত করুন। আমীন

বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

উপক্রমণিকা: ঈসায়ী ৭ম শতকের পৃথিবী। সর্বত্র যুদ্ধ রক্তপাত আর হানাহানি। ব্যক্তি পরিবার সমাজ রাষ্ট্র সর্ব ক্ষেত্রেই ছিল নৈরাজ্য আর অশান্তি। শান্তির দূরতম লক্ষণ কোথাও দৃষ্টিগোচর ছিলোনা। মানবতার ও সভ্যতার এহেন অশান্তিময় দুরবস্থায় এলেন মহানবী (সা.)।পেশ করলেন শান্তির বাণী। মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে তিনি তদানীন্তন আরবে এক শান্তিময় রাষ্ট্র স্থাপন করলেন। প্রশস্ত করে দিলেন মানবতার শান্তির স্বর্গীয় অনুপম পথ। সমগ্র মানবজাতি খুঁজে পেয়েছিলো শান্তির দিকনির্দেশনা। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে যুগ যুগ ধরে চলে আসা যুদ্ধের অবসান ঘটে ছিলো আরবে। চরম অশান্তির বদলে স্থাপিত হয়েছিলো সুখের আবাস। নিষ্পেষিত শোষিত মানবতা খুঁজে পেয়েছিলো শান্তির অমিয়ধারা। আর প্রত্যক্ষ করেছিলো শান্তিময় সুশীল সমাজরাষ্ট্র। বিশ্ববাসী লাভ করেছিলো শান্তির পরশ। স্বর্গীয় শান্তির ফল্গুধারা নেমে এসেছিলো ধূলির এধরায়। শান্তিময় হয়ে ওঠেছিলো সবকিছু। শান্তির সুবাতাস বয়ে চলছিলো বিশ্বজুড়ে। এভাবে মহানবীর শিক্ষা সংস্কার ও সমাজ বিনির্মাণে মূর্ত হয়ে ওঠেছিলো সে দিন।

একি শুধু অতীতের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের এক দ্যুতিময় অধ্যায় ? নাকি আজকের সংকট সমস্যা জর্জরিত পৃথিবীতে এর কোন উপযোগিতা আছে ? আদর্শিক শূন্যতা হতাশা ও নিশ্চয়তার অতল গহবরে নিক্ষিপ্ত মানবতার মুক্তির সাধনে মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ কী অতীতের মতোই দিক নির্দেশনা দিতে সক্ষম ? যুদ্ধে জর্জরিত পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায়ের নিশ্চয়তা দানে সে আদর্শ আজোকী সমক্ষ ?
এজন্যে আজ মহানবীর (সা.) আদর্শকে বিশেষভাবে অনুশীলন ও চর্চা একান্ত প্রয়োজন। প্রয়োজন আজকের সংকটাপন্ন পৃথিবীতে তাঁর আদর্শের সক্ষমতাদানের বিচার-বিশ্লেষণ। কারণ তিনি বিশ্ব মানবের জন্য ছিলেন শান্তির অগ্রদূত। বিরাজমান সংকট দূরীকরণে তাঁর আর্দশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে আলোচনার প্রয়াস মাত্র।
আল্লাহ বলেন; আমার সৃষ্টিকুলের সবার জন্য আপনাকে শান্তির অগ্রদূত হিসাবে প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া: ১০৭)
হাদীস অধ্যয়ন করলে জানা যায়, যে মহানবী (সা.) সকলের জন্যই শান্তির অগ্রদূত ছিলেন।
জনৈক সাহাবী রাসূলকে (সাঃ) মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করার জন্য বললে নবীজী উত্তরে বলেন ; আমাকে এ জন্য প্রেরণ করা হয়নি যে আমি কাউকে অভিশাপ দেবো, বরং আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে রহমত (শান্তির অগ্রদূত) স্বরূপ। মুসলিম আবু হুরায়রাহ থেকে।
নবীজী ছিলেন দয়ার সাগর এবং উম্মতকেও দয়া ও কোমলতা শিক্ষা দিয়েছেন, স্বয়ং আল্লাহই নবীজীকে তাঁর সাহাবাদের সাথে কোমলতার কথা তোলে ধরেছেন এ ভাবে; মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর যেসব লোক তাঁর সঙ্গে রয়েছে তাঁরা কাফেরদের প্রতি শক্ত কঠোর, এবং পরস্পর পূর্ণদয়াশীল। (সূরা ফাতহ: ২৯)
মূলত নবীজীর এই কোমলতাই মুশরিকদের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছে। যদি তিনি কঠোরমনা হতেন তাহলে লোকেরা তাঁর কাছেই ঘেঁষতো না। আল্লাহ বলেন; হে নবী এটা আল্লাহর বড়ই অনুগ্রহের বিষয়, যে তুমি লোকদের জন্য খুবই নম্র স্বভাবে হয়েছো। অন্যথায় যদি তুমি উগ্র-স্বভাব ও পাষাণ হৃদয়ের অধিকারী হতে , তাহলে এসব লোক তোমার কাছেই ঘেঁষতো না। ( সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)
আর এই মর্মে নবীজী বলেন; যেব্যক্তি কোমল স্বভাব থেকে বঞ্চিত সে কল্যাণ থেকেও বঞ্চিত। রাসূলে (সা.) সাহাবাদের শান্তির দিকে উৎসাহ দিতে গিয়ে বলেন; মহান দয়ালু আল্লাহ দয়াকারীদের প্রতি দয়া করে থাকেন, সুতরাং তোমরা দুনিয়াবাসীদের প্রতি দয়া কর , তাহলে যিনি আকাশে আছেন তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।
সুতরাং আমাদের উচিত নবীজীর আদর্শকে আঁকড়ে ধরা আর দয়া ও স্নেহ মায়া-মমতা দিয়ে সকলকে আপন করে নেওয়া। এই কাজটি আমরা দুভাবে আমাদের জীবনে প্রকাশ করতে পারি। ১. ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন , আর ২. বড়দেরকে সম্মান দিয়ে।
মহানবী ছিলেন পরমসহিষ্ণু। সামাজিক যে কোন কাজে তিনি সাহাবায়ে কেরামদের পরামর্শ চাইতেন। নিজের মতের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য দেখা দিলেও তিনি অধিকাংশের মতের প্রধান্য দিতেন। আল্লাহর বাণী প্রচার করতে গিয়ে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ অকথ্য জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁরা সেজন্য নিজ নিজ স¤প্রদায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকট বদদোয়া করেছেন। নবীগণের বদদোয়ায় আল্লাহ সেসব স¤প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছেন। মহানবী (সা.) তায়েফের প্রান্তরে প্রস্তরাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। মালায়েকা তাঁর নিকট পাহাড় চাপা দিয়ে তায়েফবাসীদের ধ্বংস করে দেওয়ার অনুমতি চয়েছেন। অহুদের যুদ্ধে নবীজী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাঁর পবিত্র দাঁত ভাংগা গেছে। লৌহ শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে মাথায় ঢুকে গেছে। নবীজীর দুঃখে অহুদ পাহাড় আরজ করলো আপনি অনুমতি দিন আমি কাফিরকুলকে গ্রাস করে ফেলি। মহানবী (সা.) এ অনুমতি দেননি। তিনি আল্লাহর কাছে বিনয়াবনত মস্তকে আরজ করলেন; হে আল্লাহ আমার স¤প্রদায়ের লোকেরা অবুঝ! ওদের হেদায়েত দিন।
তিনি ছিলেন ধৈর্যের প্রতীক। শান্তির পতাকাবাহী, ও মহানায়ক। এক কথায় তিনি ছিলেন আদর্শ বালক , আদর্শ যুবক, আদর্শ সেবক, আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, আদর্শ মহাবিজ্ঞানী, পৃথিবীর যে কোন মানুষের জন্য তিনি ছিলেন আদর্শ শিক্ষক, তিনি ছিলেন সকল বিষয়েরই আদর্শ নমুনা বা মডেল। তাঁকে নিয়ে পৃথিবীতে যুগ যুগ ধরে আলোচনা গবেষণা হয়েছে , হচ্ছে এবং হতে থাকবে। তিনি বহুল আলোচিত ব্যক্তি। সর্বকালে সকল বিষয়ে তিনি শীর্ষে স্থান পেয়েছেন এবং পেতে থাকবেন। তিনি সর্বজন বরেণ্য। এজন্যই তাঁর পদাংক অনুসরণ সকলের জন্য ফরজ। আল্লাহ বলেন; আর রাসূল তোমাদের যে বিষয়ে আদেশ করেন, তা পালন করবে, এবং যে সব বিষয়ে বারণ করবেন অবশ্যই তা থেকে বিরত থাকবে। (সূরা হাশর: ৭)
নবীজী তাঁর গোটা জিন্দেগীতে যে সব কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেন তা সংক্ষেপে নিম্মে পেশ করছি।
* কর্মধারাঃ তাঁর আচরণে মুগ্ধ সবাই। সচ্চরিত্রের অধিকারী “আল-আমীন” বলে ডাকতে বাধ্য সবাই। প্রায় যৌবনে পদার্পণ। সুশীল সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে মক্কায় বর্ণ-গোত্রের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে গড়ে তুলেন সামাজিক সংগঠন “হিলফুল ফুযুল”।
* সমাজ গঠনঃ হিযরতের পর মহানবী (সা.) প্রথমে মক্কা থেকে আগত মুহাজির এবং মদীনার আনসারদের মধ্যে স্থাপন করলেন ভালোবাসার ভরপুর ভ্রাতৃত্ব যা ইতি পূর্বে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রত্যক্ষ করা যায়নি। কিছু দিনের মধ্যে মদীনার সমাজকে রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিলেন মহানবী (সা.)।
* সংখ্যালঘুর অধিকার : তদানীন্তন মদীনাতে তথা সমগ্র পৃথিবীতে সংখ্যালঘুদের কোন অধিকার কার্যত ছিলো না। কিন্তু মহানবী (সা.) এমন আদর্শ স্থাপন করেছিলেন যা আজো মনবতা পুরোপুরি আত্মস্থ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে তিনি কয়েকটি মূলনীতি পেশ করেছিলেন। তা হচ্ছে;
১. নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস।
২. বিবেকের স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া।
৩. ধর্মীয় ব্যাপারে কারো মনে কষ্ট দেওয়া যাবে না।
৪. ব্যক্তি অপরাধে সমাজের অপরাধ নয়।
৫. আইনের চোখে সবাই সমান।
প্রেক্ষিতে আজকের বিশ্ব : হাজারো সমস্যা আবর্তে আজকের বিশ্ব মানবতা আজ নিষ্পেষিত। জাতিতে জাতিতে সংঘর্শ আজ সর্বত্র। সাম্রাজ্যবাদের ছোবলে পড়ে ছোট ও গরীব রাষ্ট্রগুলো আজ দিশেহারা। সর্বত্র চলছে আজ ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত, জাতিগত প্রধান্যের তীব্র প্রতিযোগিতা। ফলশ্র“তিতে সংঘাত , অসাম্য, ঘৃণা, প্রতিশোধ, আজ প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুসলিম দুনিয়ার অবস্থা আরো ভয়াবহ। অব্যবস্থা, দারিদ্র, স্বৈরাচারী শাসন মুসলিম বিশ্বের আজ বৈশিষ্ট। মুসলমানরা আজ সাম্রাজ্যবাদ ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্রের কবলে নিপতিত। সর্বত্র মুসলমানেরা নির্যাতিত, বঞ্চিত, নিগৃহিত। কসোভা, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আরাকান, বসনিয়া, সর্বত্রই মুসলমানের রক্তের হোলিখেলা চলছে। অনৈক্য, বিভেদ মুসলিম বিশ্বের শক্তিকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। আবার এই অনৈক্য বিভেদে ইন্ধন যোগাচ্ছে পাশ্চাত্য।
উপসংহার
তাই এহেন দূরবস্থা থেকে গোটা বিশ্ব আজ মুক্তি পেতে চায়। কিন্ত সে বাঁচার পথ কোনটি ? আজ বিশ্বমানবতার সামনে মুক্তির পথ উম্মুক্ত নয়। তাই আজকের প্রেক্ষিতে মহানবীর জীবনাদর্শের চর্চা ও অনুশীলন যত বেশী হবে ততই মানবতার মুক্তির পথ উম্মুক্ত ও সুগম হবে। আমাদের ব্যষ্টিক সামাজিক জীবনকে করবে শোষণ মুক্ত সমৃদ্ধিশালী। রাষ্ট্রকে করবে শক্তিশালী, পরিবারকে করবে প্রেমময়। গোটা মানবতাকে দেখাবে মহা ঐক্যের মহাভ্রাতৃত্বের সন্ধান। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব পতনের পথ থেকে মুক্তি পাবে। অতীতের সোনালী যুগ আবার তারা উদ্ধার করবে,বিশ্ব মুসলিম জাগরণের পথ হবে প্রশস্ত।
بلغ العلى بكماله * كشف الدجى بجماله
حسنت جميع خصاله * صلوا عليه و آله
اللهم صل و سلم دائماً أبداَ